আমেরিকার গোয়েন্দা বিমানকে বাধা দিয়েছে রাশিয়া

আমেরিকার গোয়েন্দা বিমানকে বাধা দিয়েছে রাশিয়া
কৃষ্ণ সাগরের আকাশে আমেরিকার আরো একটি গোয়েন্দা বিমানকে বাধা দিয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী।

রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে এই নিয়ে তিন দফা মার্কিন গোয়েন্দা বিমানকে কৃষ্ণসাগরের আকাশের বাধা দেয়া হলো।

রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্ত থেকে মার্কিন গোয়েন্দা বিমান সনাক্ত করার পর সেটিকে বাধা দেয়ার জন্য একটি এসইউ-২৭ যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়।

রাশিয়ান মন্ত্রণালয় বলছে, আমেরিকা পি-৮ পজিডোন বিমান পাঠিয়েছিল তবে রুশ বিমানের বাধার মুখে সেটি তার গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, দেশের সীমান্ত লঙ্ঘনের কোন সুযোগ শত্রুপক্ষকে দেয়া হবে না।

এর আগে, গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার আমেরিকার গোয়েন্দা বিমান রাশিয়ার আকাশে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদেরকে বাধা দেয়া হয়।

আমেরিকার বোমারু ও গোয়েন্দা বিমান প্রায়ই রাশিয়ার সীমান্তের কাছে শনাক্ত করা হয়ে থাকে। রাশিয়া এসব ঘটনাকে উসকানিমূলক বলে মনে করে।

‘খাদ্য ঘাটতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার’

'খাদ্য ঘাটতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার'
করোনা সংকটে দেশে যেন খাদ্য ঘাটতি না হয় সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকের সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা অনেকটা পিছিয়ে দিলেও কৃষির যে অগ্রগতি এটা ধরে রাখতে হবে। আমাদের মানুষের আর যাই হোক তাদের খাদ্যের অভাবটা যেন না হয় সেটা আমাদের দেখতে হবে। খাবারের ব্যবস্থাটা যদি আমরা ঘরে রাখতে পারি তাহলে অন্য কোনদিকে খুব একটা সমস্যা হবে না। আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো। নগদ অর্থসহায়তা, কৃষকদের সার, উন্নতমানের বীজসহ অন্য কৃষি উপকরণ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকারগুলোকে স্বাবলম্বী হতে হবে। এসডিজি অর্জনে স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ যেসব লক্ষ্য বাংলাদেশের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি।

এসময় একনেক সভায় ৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় ২ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থারও অনুমোদন দেয়া হয়।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মৃত্যু

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মৃত্যু
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু মারা গেছেন। ভোর চারটার দিকে রাজধানীল এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

সোমবার বেলা এগারটার দিকে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।  তীব্র শ্বাসকষ্ট থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়। গত রাত দেড়টার দিকে তাকে আনোয়ার খান মেডিক্যাল থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে মৃত্যু হয় তার।

শফিউল বারী বাবুর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনর নেতারা।  সকাল দশটায় নয়পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জানাজা শেষে তাকে নেয়া হবে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে।  সেখানে বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে।

ডিজিটাল হাটে চলছে কোরবানির পশুর কেনাবেচা

ডিজিটাল হাটে চলছে কোরবানির পশুর কেনাবেচা

মো. মিন্টু হোসেন, ঢাকা
২৭ জুলাই ২০২০, ১৩:০১
আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২০, ১৩:০৯

8ddf4f039c3d9fea7c2a96d04ad8f66a-5d4680574eb94করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মাথায় রেখে কোরবানির পশু কিনতে অনলাইনে আস্থা রাখছেন মানুষ। এবার তাঁরা কোরবানির গরু কিনছেন ‘ডিজিটাল হাটে’। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সহযোগিতায় ‘ডিজিটাল হাট’ এখন জমজমাট।

গত ১১ জুলাই এই হাটের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। উদ্বোধনের দিনই ‘ডিজিটাল হাট’ থেকে গরু কিনেছিলেন তিন মন্ত্রী। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইন আহমেদ গরু কেনার পর থেকে এই প্ল্যাটফর্মে অনলাইন ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ে।

ই-ক্যাব সূত্রে জানা গেছে, তাদের ডিজিটাল হাটে শুধু পশুই কেনা নয়, রয়েছে দক্ষ কসাই দিয়ে কোরবানি করিয়ে বাসায় মাংস পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা। তবে তার জন্য দিতে হবে বাড়তি চার্জ। পশু জবাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় গরুর মূল দামের সঙ্গে আরও ২৩ শতাংশ ও বাসায় পৌঁছানোর জন্য ঢাকার মধ্যে ১ হাজার ৫০০ টাকা চার্জ দিতে হবে। যেকেউ যেকোনো সময় https://digitalhaat.net এই ঠিকানা থেকে কোরবানির পশু কিনতে পারবেন।

করোনাভাইরাসের কারণে এবার আগে থেকেই গরুর হাটে যেতে অনেকের অনীহা আছে। সরকারের পক্ষ থেকেও ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে যাতে কোনো ধরনের পশুর হাট বসানো না হয়, সে জন্য তাগিদ দেওয়া হয়।

অনলাইনে গরু বিক্রি করার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ‘ডিজিটাল হাট’ নামের প্ল্যাটফর্মটি চালু করে। এতে সহযোগিতা করছে সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন।

ডিজিটাল হাট থেকে গরু কেনা সহজ। ওয়েবসাইটে ঢুকে ক্রেতারা বিভিন্ন আকার ও দামের গরুর ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে পছন্দ করতে পারছেন। এরপর প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। ক্রেতা চাইলে ভিডিও কলের মাধ্যমে গরুর ভিডিও দেখতে পারছেন। এবং গরুর পালনকারীর সঙ্গে কথাও বলতে পারছেন।

ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্রেতারা ডিজিটাল হাট থেকে ন্যায্যমূল্যে ক্রয়কৃত কোরবানির পশু ঢাকার পাঁচটি এলাকা থেকে মাংস প্রক্রিয়াকরণ করে নিজ নিজ ঠিকানায় ডেলিভারি নিতে পারবেন। ডিজিটাল হাটের আওতায় গরু বিক্রি ছাড়াও প্রায় দুই হাজার গরু জবাই করে এবং মাংস প্রক্রিয়া করে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

ই-ক্যাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে আস্থা তৈরি ও ঘরে বসে অনলাইনে পশু কেনাকাটার ব্যাপারে মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল হাট থেকে নিরাপদে পশু কেনা যাবে।

কোরবানির গরু বাছাই থেকে শুরু করে অনলাইনে দাম পরিশোধ বা পেমেন্টের সুবিধা পাওয়া যাবে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে। ফলে, দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীরাও অনলাইনে কোরবানির পশু কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। বিকাশ, নগদ, রকেটসহ মোবাইল ফোনভিত্তিক বিভিন্ন লেনদেন সেবা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ই-কমার্স সাইটগুলোয় পশুর দাম পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে।

অনলাইনে শুধু পশু কেনা নয়, কোরবানি করা বা মাংস প্রক্রিয়াকরণ—সব ধরনের সেবা মিলবে। ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ বলেন, অনলাইনে কোরবানির গরু কেনাকাটা করে কেউ যেন প্রতারিত না হয় এবং করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘরে বসে কোরবানির ব্যবস্থাপনা সেবা সহজ করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বিভিন্ন অনলাইন প্রতিষ্ঠান। ডিজিটাল হাটের মাধ্যমে পশু কেনাকাটা, পশু কোরবানির ব্যবস্থা করে মাংস পৌঁছে দেওয়াসহ বিভিন্ন সেবা দেবে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। অনলাইনে কেনা গরু-ছাগলের পরিচর্যা এবং কোরবানির ব্যবস্থার পাশাপাশি ঘরে বসে অনলাইনে নিজের পশু কোরবানি দেখার জন্য লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা করেছে ডিজিটাল হাট।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মঙ্গল অভিযান শুরু

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মঙ্গল অভিযান শুরু
মঙ্গলগ্রহে প্রথমবারের মতো সফলভাবে মহাকাশযান পাঠিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সোমবার (২০ জুলাই) জাপানের তানেগাশিমা মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ইউএই এর হোপ নামের মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

কোনো আরব দেশের মঙ্গলের উদ্দেশ্যে পাঠানো প্রথম মিশন এটি। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গলের কক্ষপথে ঢুকবে হোপ। তারপর দুই বছর ধরে লাল গ্রহটির চারপাশে ঘুরবে এবং মঙ্গলের আবহমণ্ডল সম্পর্কে পৃথিবীতে তথ্য পাঠাবে।

আমিরাতের দাবি, তাদের এই মঙ্গল অভিযানের ফলে বিভিন্ন ঋতুতে লাল গ্রহের আবহাওয়া কেমন থাকে তা জানা যাবে। এই মঙ্গল মিশনে ২০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। গত ১৪ জুলাই হোপের মহাকাশে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার জন্য দুইবার উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দিতে হয়।

ওবামা, বিল গেটসসহ বহু প্রভাবশালীর টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের টুইটার হ্যাকের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে মার্কিন গোয়েন্দ সংস্থা এফবিআই।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, মাইক্রোসফটের সহ প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও বিলিয়নিয়ার এলন মাস্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক বিশিষ্ট জনদের টুইটার হ্যাক হয়েছে।

এছাড়াও, হ্যাক হয়েছে আমাজন সিইও জেফ বেজস, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন ও কেনি ওয়েস্টেরও টুইটার। তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে ইন্টারন্যাল সিস্টেম ও টুল ব্যবহার করে।

এটি আপাত দৃষ্টিতে বিটকয়েন স্ক্যামেরই কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে টুইটার এটিকে সমন্বিত আক্রমণ বলেছে।

কাজী নজরুল ইসলামের ১২১ তম জন্ম জয়ন্তি

কাজী নজরুল ইসলামের ১২১ তম জন্ম জয়ন্তি
করোনা মহামারির কারণে হচ্ছে না কবি নজরুলের জন্মদিনের আয়োজন।

কাজী নজরুল ইসলামের ১২১ তম জন্মজয়ন্তি আজ। প্রেম ও দ্রোহের কবি তিনি। এ হাতে ছিলো তার বাঁকা বাশেঁর বাঁশি, অন্য হাতে রণতুর্য।  ভীষণ প্রতিকুলতার মধ্যে বেড়ে উঠেও সৃষ্টিশীল এই মানুষটি জয় করেছিলেন বাঙালির হৃদয়। তার সাম্যবাদী চেতনা আজও উজ্জীবিত করে তরুণ সমাজকে।

প্রতিবছর নানান আচার, অনুষ্ঠানে বিদ্রোহী কবির জন্মদিন পালিত হলেও মহামারির কারণে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। নেই জন্মদিনের অনুষ্ঠান, নেই কোন আয়োজন।

১৮৯৯ সালের ২৫শে মে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে। বাংলা ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে। আনুষ্ঠানিক পড়াশুনা এগোয়নি কবি নজরুলের। কৈশোরে তিনি যোগ দেন লেটো গানের দলে। ১ম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি যোগ দেন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে। সেখান থেকে ফিরে মুসলিম ভারত পত্রিকায় লেখা শুরু করেন ,তাতেই প্রকাশিত হয় কবির যুগান্তকারী কবিতা বিদ্রোহী।

১৯২২ সালে কাজী নজরুল নিজেই প্রকাশ করেন ধূমকেতু পত্রিকা। তৎকালীন ব্রিটিশ শাসন শোষণের বিরুদ্ধে লেখনীতে বলিষ্ঠ হাতিয়ার হয়ে ওঠে এই ধুমকেতু। এতেই কবি প্রকাশ করেন তার ধুমকেতু কবিতা।

এই কবিতার জন্যই ব্রিটিশ সরকারের হাতে গ্রেপ্তার হোন কবি। ১৯২২ সালে ব্রিটিশ সরকার নজরুলের ধুমকেতু পত্রিকা বন্ধ করে দেন। ১ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয় কবিকে। তবে সেই কারাগারে বসেই নজরুল লেখেন, সৃষ্টি সুখের উল্লাস,শিকল পড়ার গান। যেই গানগুলো আজও নবীনদের  উদ্দীপ্ত করে।

আলীপুরের সেই সেন্ট্রাল জেলে অবরুদ্ধ কবি ফাসির মঞ্চ দেখেই লিখেন দুর্গম গিরি কান্তার কবিতাটি।

কারাগারে দুর্বব্যবহারের কারণে কবি যখন অনশন করেন তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার অনশন ভঙ্গের অনুরোধ জানিয়ে টেলিগ্রাম পাঠান। তাকে উৎসর্গ করেন গীতিনাট্য বসন্ত। ব্রিটিশ সরকারের নানা শোষণ জুলুমের মধ্যে বিভিন্ন ভাবে দারিদ্রের শিকার হোন কবি। ১৯৫৬ সালে কয়েকজন সাহিত্যিক বন্ধুদের উপস্থীতিতে ঘরোয়াভাবে উতযাপিত হয় তাঁর জন্মদিন।

অসাম্প্রদায়িক চেতনার নজরুল ধর্মের ভেদাভেদ মানতেন না, তাইতো দূর্গার অশুর নিধন শক্তির আধারে লেখেন আনন্দময়ীর আগমনে, লেখেন প্রলোউল্লাস। একই সাথে নজরুল তার গানে আরবি ও ফারসি মিলে নতুন মাত্রা এনেছিলেন এবং তিনিই প্রথম বাংলা গজল গানের প্রবর্তক।

মানবিকতাই ছিলো নজরুলের কাছে সবচেয়ে বড় ধর্ম, তিনি কখনই ধনী দরিদ্রের ভেদাভেদ মানেননি। যে কারণে এই সময়েও নজরুলকে প্রাসঙ্গিক মনে করেন নজরুল ভক্তরা।

অনেকদিন রোগে ভুগেছেন কবি নজরুল। ১৯৭৬ সালে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশেই রচিত হয়েছে কবির সমাধি।

ভাল লেখক হতে চাইলে যে ৭টি টিপস জরুরী

ভাল লেখক হতে চাইলে যে ৭টি টিপস জরুরী
ভাল লেখক হতে চাইলে কিছু নির্দেশনা মেনে চলতেই হয়। সাবেক আর্টস সম্পাদক এবং কলামিস্ট এবং দ্য ইকনোমিস্ট সাময়িকীর ভাষা গুরু হিসেবে পরিচিত লেন গ্রিন ভাল লেখক হওয়ার সাতটি টিপস দিয়েছেন।

১. উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুরু করুন

আপনি যে বিষয়ে যুক্তি দিতে চান বা যে বিষয়টি নিয়ে গল্পটি বলতে চান তার মোদ্দা কথাটি আপাতত ভুলে যান। শুরু করুন কোন একটি বর্ণনা বা উদাহরণ দিয়ে যা পাঠককে আপনার লেখা পড়তে সঠিক মেজাজটি এনে দেবে।

“অনেক বছর পর, যখন তাকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখে পড়তে হলো….” এভাবে নিজের বিখ্যাত রচনা ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অব সলিটিউড’ বা ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ শুরু করেছিলেন লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ। এক্ষেত্রে ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখে কে রয়েছে এবং কেনই বা রয়েছে? – এটি একটি শক্তিশালী জিজ্ঞাসা।

২. বাক্য সংক্ষিপ্ত রাখুন

সংক্ষিপ্ত বাক্যে লিখলে তা আসলে পাঠকের মেধাকে ছোট করা বোঝায় না। কাজটা অতটা সোজা না হলেও গুরুত্বপূর্ণ। এটা কোন স্টাইল নয়, কিন্তু মানুষের জৈবিক বৈশিষ্ট্য মাত্র। কারণ এভাবেই আমাদের মস্তিষ্ক কাজ করে।

দীর্ঘ একটি বাক্য, বিশেষ করে যেসব বাক্যে একাধিক অধীনস্থ বাক্যাংশ থাকে, সে ধরণের বাক্য বুঝতে হলে পাঠককে ব্যাকরণের পাশাপাশি মূল বিষয়টিকে মাথায় একসাথে রাখতে হয়। যা অনেক বেশি কঠিন এবং পাঠককে আপনার লেখার ব্যাকরণ নিয়ে ব্যস্ত রাখারও কোন মানে হয় না। এর চেয়ে বরং লেখার মূল আধেয় বা বিষয় বস্তুর উপরই গুরুত্ব দেয়া উচিত।

৩. একই সাথে, বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের বাক্যও লিখতে হবে

আপনি হয়তো শুনে থাকবেন: “সব কিছুরই পরিমিতি বোধ থাকা উচিত, এমনকি পরিমিতিরও পরিমিতি বোধ থাকা জরুরি।” যেখানে ছোট ছোট বাক্যে লেখাটাই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা উচিত, তবে সব বাক্যই যদি ছোট লেখা হয় এবং আর কোন ধরণের বাক্য যদি না থাকে তাহলে তা আপনার লেখায় এক ধরণের কাটা কাটা ভাব অর্থাৎ রসহীন করে তুলবে।

এক ধরণের র‍্যাট-টাট-টাট অনুভূতি দিবে পাঠককে যা হয়তো আপনি বাস্তবে দিতে চাননি এবং এটা পাঠকের জন্য বিরক্তির কারণও হতে পারে। তাই সব ধরণের বাক্যই লিখতে হবে।

৪. সঠিক শব্দ ব্যবহার করুন

সঠিক শব্দের ব্যবহার পাঠককে দেখা, গন্ধ নেয়া, স্বাদ নেয়া কিংবা পায়ের আঙুল দিয়ে স্পর্শ করার মতো অনুভূতি দেয়। এটা পাঠককে এমন কিছু দেয় যা দিয়ে তারা তাদের মনের চোখ দিয়ে এক ধরণের ছবি আঁকে। এই ছবি এবং শব্দ মিলে, আপনার বার্তাকে স্মরণীয় এবং আকর্ষণীয় করে তুলবে পাঠকের কাছে।

৫. বিমূর্ত শব্দ এড়িয়ে চলুন

লেখার সময় শব্দ চয়নের দিকে খেয়াল রাখুন। এটি আপনার লেখাকে ক্লাসিক করে তুলতে পারে। ….বিশেষ করে এগুলোকে মাঝে মাঝে বলা হয়ে থাকে “মনোনীত করণ” বা আরো ভাল ভাবে বললে- “জম্বি নাউন বা ভৌতিক বিশেষ্য” বলা যায়।

এগুলো অনেক বেশি প্রাণহীন শব্দ যেমন “ঘটনা”, “ফেনোমেনা”, “স্তর” বা “পর্যবেক্ষণ”। ফেনোমেনা শুনতে আসলে কেমন শোনায়? পর্যবেক্ষণকে কিভাবে অনুভব করা যায়? প্রাতিষ্ঠানিক, আমলাতান্ত্রিক এবং অন্যান্য প্রাচীন লেখার ধরণে এমন শব্দের প্রাচুর্য থাকে। এর পরিবর্তে স্পষ্টভাবে কল্পনা করা যায় এবং নির্দিষ্টভাবে বিষয় বস্তুকে তুলে ধরে এমন শব্দ বাছাই করা উচিত।

৬. নিজের লেখাটি জোরে জোরে পড়ুন

শুধু নিজে নিজে লেখা, পুনরায় লেখা এবং সম্পাদনাই যথেষ্ট নয়, বরং জোরে জোরে পড়ুন। যখন আপনি পড়বেন তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে, লেখার সময় আসলে আপনি কোন ধরণের শব্দটি ভুলে গেছেন বা মিস করেছেন।

যদি এটা বলতে কষ্ট হয়, তাহলে এটা পড়তেও কষ্ট হবে। এছাড়া কোথায় ছন্দপতন হয়েছে সেটিও আপনি সহজেই ধরে ফেলতে পারবেন।

৭. দৃঢ় ভাবে শেষ করুন

শেষের জন্য আপনার জানা সবচেয়ে শক্তিশালী শব্দ বা বাক্য গুচ্ছ ব্যবহার করুন। আপনি কি ধরনে র শব্দ বাছাই করছেন সেদিকে খেয়াল রাখুন। এমনকি শক্তিশালী, বা জোর রয়েছে এমন সিলেবল দিয়ে শেষ করার চেষ্টা করুন। শেষের শব্দগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

অনুমোদনহীনদের বিরুদ্ধে দেড় মাসের মধ্যে ব্যবস্থা; স্বাস্থ্যের নতুন ডিজি

অনুমোদনহীনদের বিরুদ্ধে দেড় মাসের মধ্যে ব্যবস্থা; স্বাস্থ্যের নতুন ডিজি
অনুমোদনহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আগামী দেড় মাসের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক।

অনুমোদনহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিষয়ে একমাসের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর সোমবার (২৭ জুলাই) প্রথমবার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘মহামারি সামাল দেয়া বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম কাজ হবে মহামারি সামাল দেয়া। কারণ আগে তো বাঁচি, তারপর অন্যকিছু। বাঁচলে দুর্নীতি দূর করতে কাজ করা যাবে।’

এ সময় বাইরের দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক চক্র দেশের স্বাস্থ্যখাতকে প্রতিনিয়ত বির্তকিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক।

দায়িত্ব গ্রহণের কয়েকদিনের মাথায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৮ কর্মকর্তাকে বদলির বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রুটিন কাজ বলে জানান মহাপরিচালক। এর সাথে দুর্নীতি বা অনিয়মের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি।

মার্কিন কূটনীতিকরা চেংডু কনস্যুলেট ছাড়ছেন

মার্কিন কূটনীতিকরা চেংডু কনস্যুলেট ছাড়ছেন
বেইজিংয়ের বেধে দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার আগেই চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংডু কনস্যুলেট ছাড়তে শুরু করেছেন আমেরিকান কূটনীতিকরা।

সোমবার সকালের আগে এই কনস্যুলেট খালি করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছিল বেইজিং। এর আগেই সেখানকার কর্মীদের ফাইলের বক্স এবং আবর্জনার স্তূপ বহন করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। বিবিসি জানায়।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চেংডুর কনস্যুলেট বন্ধ করার নির্দেশ দেয় বেইজিং।

বাণিজ্য যুদ্ধ, দক্ষিণ চীন সাগরের নিয়ন্ত্রণ, হংকংয়ে চীনের নিরাপত্তা আইন জারিসহ নানা বিষয় নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বিরোধ চরমে উঠেছে।

গুপ্তচরবৃত্তি ও দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানোর অভিযোগ তুলে হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় হোয়াইট হাউস। কনস্যুলেট খালি করতে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পার হওয়ার সময়সীমা শেষ হয় গত শুক্রবার। এরপর রিপোর্টারদের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ভবনের দরজা ভেঙে সেখানে প্রবেশ করেন।

চেংডুতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট প্রাঙ্গণের বাইরে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে এবং সেটির সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, মার্কিন কনস্যুলেট থেকে ট্রাক বেরিয়ে যাচ্ছে এবং কর্মীরা ভবন থেকে কূটনীতিক প্রতীকগুলো সরিয়ে ফেলছেন।

স্থানীয় মানুষজন কনস্যুলেটের বাইরে জড়ো হয়ে চীনের পতাকা নাড়াচ্ছেন, অনেকে সেলফি তুলছেন। পুলিশ দর্শনার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং যেকোনো ধরনের উস্কানি ঠেকাতে চেষ্টা করছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৫ সালে চেংডুর এই কনস্যুলেটটি স্থাপিত হয়েছিল, যেখানে থেকে তিব্বতসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা হতো।

এই কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার পর বেইজিংয়ে দূতাবাসের বাইরে মেইনল্যান্ড চীনে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি কনস্যুলেট থাকছে। পাশাপাশি হংকংয়েও একটি কনস্যুলেট রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রেরও ওয়াশিংটনে দূতাবাসের পাশাপাশি চীনের আরও চারটি কনস্যুলেট রয়েছে।

জর্ডানের পেত্রা নগরীতে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক

জর্ডানের পেত্রা নগরীতে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক
পর্যটকদের কাছে জর্ডানের প্রাচীন নগরী পেত্রার রয়েছে বিশেষ কদর।ঐতিহাসিক এই নগরীতে এ বছর রেকর্ড সংখ্যক দর্শণার্থীর আনাগোনা হয়েছে।

দশ লাখতম টিকেট ক্রেতাকে নিয়ে আয়োজনের পাশাপাশি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উপলক্ষ্যটি উদযাপন করেছে জর্ডানের পর্যটন বিভাগ।

জর্ডানের দুর্গম মরুপ্রান্তরের পাহাড়ঘেরা অঞ্চলে অবস্থান পেত্রা নগরীর।  পাথুরে খাড়া পাহাড়ের গায়ে খোদাই করে নির্মাণ করা হয় রহস্যময় এই নগরী।

১৯৮৫ সালে একে বিশ্ব ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে ঘোষণা করে ইউনেস্কো।

পেত্রা নগরীর উত্থান মূলত দুই হাজার বছর আগে।  নাবাতিয়ান রাজ্যের রাজধানী পেত্রাকে নিয়ে যেমন ইতিহাসবিদদের আগ্রহের শেষ নেই, তেমনি প্রতি বছর এখানে দর্শণার্থীদের ভিড়ও লেগেই থাকে।

এবছর পেত্রায় আসেন ১০ লাখ পর্যটক, যা আগের সব বছরের রেকর্ড ভেঙেছে।  এ উপলক্ষ্যে পেত্রায় প্রবেশের দশ লাখতম টিকিটের ক্রেতাকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করেছে জর্ডানের পর্যটন বিভাগ।  জীবনের যেকোন সময়ে প্রাচীন এই নগরীতে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয়েছে তাকে।

বিশেষ সুযোগ বিজয়ী এই পর্যটক উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, “জীবনে অন্তত একবার হলেও এখানে আসা উচিত। এর ঐতিহ্য আর ইতিহাস মুগ্ধ করার মত। পেত্রায় আজীবন প্রবেশের টিকিট পাওয়ায় আমার নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।”

জর্ডানের মোট আয়ের ১৩ শতাংশই আসে পর্যটন খাত থেকে।  দেশটির সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং নির্বিঘ্ন নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই বিপুল সংখ্যক দর্শণার্থীর কারণ হিসেবে ধারণা করা হয়।

নানা সমস্যায় পর্যটকশূন্য হরিণঘাটা-লালদিয়া

নানা সমস্যায় পর্যটকশূন্য হরিণঘাটা-লালদিয়া

অবকাঠামোগত সমস্যা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আবাসনের অভাবে প্রায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে বরগুনার হরিণঘাটা ও লালদিয়া পর্যটনকেন্দ্র। ভ্রমণে এসে নানা ভোগান্তির শিকার হয়ে অনেকটা হতাশা হয়ে ফিরে যাচ্ছেন পর্যটকরা।

একদিকে সমুদ্র অন্যদিকে সুন্দরবনের কোলঘেঁষা হরিণঘাটা বন। আবার বনের মাঝে আকাঁবাকা ওয়াক ওয়ে পেরিয়ে দেখা মেলে গভীর অরণ্যের। সেখান থেকে ট্রলারে যাওয়া যায় তিন নদীর মোহনা লালদিয়ার চরে। কুয়াকাটার মতো এখানেও একই জায়গা থেকে দেখা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত।

শুধু তাই নয়, বনের সৌন্দর্য্য ও পশুপাখির বিচরণ দেখার জন্য রয়েছে টাওয়ার।

কিন্তু, এখানে বেড়াতে এসে পর্যটকদের পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়।  যাতায়াতে রয়েছে সমস্যা, নেই মানসম্মত থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও। ওয়াক ওয়ে সংস্কার না করায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় পর্যটকদের।

সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেন বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।

২০১৫ সালে জীব বৈচিত্র সংরক্ষণের পাশাপাশি ইকোটুরিজম প্রসারে লালদিয়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটন কেন্দ্রটি নির্মাণ করে বন বিভাগ।

বিলুপ্তির পথে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন নওগাঁর হলুদ বিহার

বিলুপ্তির পথে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন নওগাঁর হলুদ বিহার
নওগাঁর বদলগাছীতে বিলুপ্তির পথে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন হলুদ বিহার। ঐতিহাসিক হলুদ বিহার প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এখন গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।

নওগাঁর বদলগাছীতে বিলুপ্তির পথে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন হলুদ বিহার। ঐতিহাসিক হলুদ বিহার প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এখন গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। ফলে বিহারের চতুরধার দ্রুত ভেঙ্গে পড়ছে। এতে বিলুপ্ত হতে চলেছে ইতিহাস ঐতিহ্যের এই নিদর্শন। প্রাচীন এই বিহারটির উপর কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো নজর নেই বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের পাশাপাশি হলুদ বিহারেও দেশের বিভিন্ন এলকা থেকে পর্যটক দেখার জন্য আসে। এছাড়া শিক্ষা সফরে দেশি বিদেশি শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যটকরা আসেন। বিহারটিকে সংস্কার করে এর ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার দাবি এই এলাকার মানুষের। বিহারটির চতুর দিকে বাউন্ডারী ওয়াল না থাকায় গরু-ছাগল অনায়াসে প্রবেশ করে এতে বিহারের সৌন্দর্য বিকৃত হয়ে পড়েছে। যা এখানে দেখার কেউ নেই।

সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে জানা যায়, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের নিভৃতপল্লী হলুদ বিহার গ্রামের এক প্রান্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এই দ্বীপ। ইতিহাস ও প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন এই দ্বীপে নজর পড়লেই দর্শকরা আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। আসলে এটি একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ, এটি ছিলো এক সময় গাছ-গাছড়া ও ঝোপ-জঙ্গলে পরিপূর্ণ উচু একটি দ্বীপ। দ্বীপের মাথায় ছিলো একটি বড়ই গাছ, যার নিচে ছিলো একটি গভীর কূপ। দ্বীপটির মাথায় পাটকূপ সম্পর্কে এই এলাকাবাসীর সকলেই জানাশুনা আছে। দ্বীপের ঝোপ-জঙ্গল গাছপালা কেটে ফেলার আগেই কূপটি ভরাট হয়ে যায়।

পরবর্তীতে দ্বীপটি সংস্কারকালে এই কূপের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। আশেপাশের লোকজন দ্বীপের চারদিকে মাটি কেটে বাড়িঘর নির্মাণ করেন। মাটি কাটার এক পর্যায়ে দ্বীপের পূর্ব দিকে ইটের সিঁড়ি বের হয়। তখন এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তার পরেই এই দ্বীপটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে নেয়া হয়। হলুদ বিহার গ্রামে ছিলো অনেকগুলো বিক্ষিপ্ত ঢিপি তাতে ছড়িয়ে ছিটিয়েছিল পুরনো ইট, ভাঙ্গা মৃৎশিল্পের বিভিন্ন নিদর্শন। এ থেকেই এখানে বৌদ্ধ বসতির প্রমান মিলে। ১৯৭৬ খ্রীস্টাব্দে এই দ্বীপটি সংরক্ষিত করা হয়।

১৯৮৪ খ্রীঃ বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১ম বারের মত খনন কাজ শুরু করে। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে ২য় বার খননকালে দ্বীপের অভ্যন্তরে ১টি মন্দির আবিষ্কৃত হয়। এটি খননকালে বেশ কিছু প্রাচীন নিদের্শন সামগ্রী মানুষের মূর্তি সম্বলিত ভাঙ্গা, পোড়া মাটির ফলক, পাথর সামগ্রী, মূর্তির স্তম্ভ, মূল অলংকারের ঢালাই ছাচ এবং চুর্ণ যন্ত্র উদ্ধার করা হয়। প্রশাসনিক উদাসীনতা ও সংরক্ষণের অভাবে এই প্রাচীনতম নিদর্শন আজ প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে।

এ বিষয়ে হলুদবিহার গ্রামের শাহিনুর ইসলাম শাহিন, রোস্তম আলী, বলরামপুর গ্রামের নাজমুল, রকিসহ আরও অনেকে জানান বিহারটির চারদিকে দ্রুত বাউন্ডারি, সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়াসহ সংস্কার ও সংরক্ষণের আশু প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাষ্টডিয়ান আবু সাঈদ ইনাম তানভিরুল এর সংগে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, বিহারটি নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে আরও খননের প্রয়োজন আছে। চতুর্দিকে তারকাটা দিয়ে ঘিরতে হবে। যাতে করে বাইরে থেকে বিহারটি সাধারণ লোকজন দেখতে পায়। এছাড়াও এই বিহারটি ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা আছে। বিহারটি সর্বাক্ষনিক দেখাশুনার জন্য আবু বক্কর নামে এক কর্মী নিয়োজিত আছে।

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৬ লাখ ৫২ হাজার ছাড়াল

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৬ লাখ ৫২ হাজার ছাড়াল
বিশ্বে করোনাভাইরাসে ( কোভিড-১৯) মৃতের সংখ্যা ৬ লাখ ৫২ হাজার ছাড়িয়েছে। এতে শনাক্ত হয়েছেন এক কোটি ৬৪ লাখের বেশি মানুষ।

এক কোটিরও বেশি মানুষ করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। রবিবার মেক্সিকোতে সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।  দেশটিতে মারা গেছে ৭২৯ জন।  প্রাণহানির দিক থেকে এর পরেই রয়েছে ভারতের অবস্থান।  দেশটিতে ৭১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েকদিনের তুলনায় শনাক্ত ও প্রাণহানি কিছুটা কমেছে।  সেখানে মারা গেছে ৪৪৭ জন এবং শনাক্ত ৫৫ হাজারের বেশি।  ব্রাজিলে নতুন করে ২৩ হাজারের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে।  মারা গেছে ৫৫৬ জন।

সন্দেহভাজন এক করোনা (কোভিড -১৯) রোগী শনাক্ত হওয়ায় উত্তর কোরিয়া জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে উত্তর কোরিয়া। এ বিষয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উন।  করোনাভাইরাস  (কোভিড-১৯) ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

এরইমধ্যে দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী শহর কায়সং-এ লকডাউন জারি করা হয়েছে। তিন বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় পালিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তি গত সপ্তাহে আবারও দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করেন। তার শরীরে করোনার উপসর্গ ধরা পড়ে।

এর আগে কোন করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) রোগী নেই বলে দাবি করে দেশটি। এদিকে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কিম।

আগস্টেই অনুশীলনে ফিরছেন সাকিব আল হাসান

আগস্টেই অনুশীলনে ফিরছেন সাকিব আল হাসান। ফিটনেস ফিরে পেতে তিন মাসই যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন দেশ সেরা অলরাউন্ডার। ব্যক্তিত্বের ধরণে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পান সাকিব। দুই কন্যার জন্ম অনেকটাই বদলে দিয়েছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে।

সাকিব আল হাসান। টাইগার ক্রিকেটের পোস্টার বয়। ২০১৯ সালটা সাকিবের ক্যারিয়ারের সেরা উদাহরণ। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য পারফম্যান্স। বছরের প্রথমভাগে দুর্দান্ত সাকিব ক্রিকেট দুনিয়ার নয়নের মণি। কদিন বাদেই ক্রিকেটারদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আবার আন্দোলন থামতে না থামতেই আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী আইনের নিয়ম সঠিকভাবে না মানায় এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

ইএসপিএন ক্রিকইনফোর নতুন ক্রিকেটবাজি সিরিজে এসে দীপ দাশগুপ্তর সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘২১ বছর বয়সে আমি অধিনায়ক হয়েছিলাম। অনেক ভুল করেছি। আমি এখন বুঝতে পারি, কিছু ক্ষেত্রে আমার ভুল ছিলো। আবার কিছু ক্ষেত্রে আমাকে ভুল বোঝা হয়েছে। উপমহাদেশে এটা খেলার অংশ।’

নিষিদ্ধ হওয়ার আগে আবারও বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব পেয়েছিলেন সাকিব। আগের তুলনায় নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে। আর তাই প্রথমবারের মতো এবার আর ভুল করতেন না বলে মনে করেন টাইগার অলরাউন্ডার। সাকিব আল হাসান আরও বলেন, ‘আমি এর মাঝে বিয়ে করেছি। দুটো বাচ্চা আছে। এখন আমি খেলা ও জীবনটা আরও ভালো বুঝি। বিশ বছরের আমি যেমন ছিলাম, তার তুলনায় অনেক শান্ত বানিয়েছে এ বিষয়গুলো। আমাকে এখন আর অত ভুল করতে দেখে না মানুষ। আমার দুই কন্যা আমার জীবনটা একদম বদলে দিয়েছে।’

মাঠের ভেতর তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া, মাঠের বাইরে স্পষ্টবাদী, ব্যক্তিত্বের ধরনে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গেই নিজের মিল খুঁজে পান সাকিব আল হাসান। তবে রোনালদো নয়, প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসি সে কথা জানাতে মোটেই ভুল করেননি টাইগার অলরাউন্ডার। সাকিব জানান, ‘আমার মনে হয়, ব্যক্তিত্বের ধরণ অনুযায়ী আমি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো, তবে পছন্দ করি মেসিকে। তার মানে এই নয় যে রোনালদোকে অপছন্দ করি, সেও অসাধারণ। মেসি যেভাবে খেলেন, তা পছন্দ করি আমি। কিন্তু আমার ধরণ রোনালাদোর মতোই বেশি।’

সাকিবের নিষেধাজ্ঞা মুক্তির আর একশো দিনও বাকি নেই। মাঠে ফেরার উষ্ণতা এখনি টের পাচ্ছেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার। দুই সপ্তাহ পরেই অনুশীলনে ফেরার কথা জানিয়েছেন সাকিব। এই অলরাউন্ডার আরও জানান, ‘আগামী দুই সপ্তাহ আমার বাচ্চাদের দিতে চাই। তারপরেই অনুশীলনে ফিরবো। হাতে এখনো তিন মাসের মত সময় আছে। নিজেকে শেইপে আনতে এই সময় যথেষ্ট বলেই মনে করি।’

পম্পেও আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী: সিএনএন

পম্পেও আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী: সিএনএন
মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএন মাইক পম্পেওকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছে। সিএনএনের বিশ্লেষক ডেভিড মিলার এক সংবাদভাষ্যে পম্পেওকে তার উগ্র আচরণের কারণে এই উপাধি দিয়েছেন।

কার্নেগি ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সদস্য ডেভিড মিলার মনে করেন, পম্পেও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অতিমাত্রায় রাজনীতিকরণ করে ফেলেছেন। তিনি এই মন্ত্রণালয়কে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত করার পাশাপাশি একের পর এক আইন লঙ্ঘনের মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জবাবদিহীতার হাত থেকে রক্ষা করে যাচ্ছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন পম্পেও। গত কয়েক মাসে করোনাভাইরাস ও হংকং পরিস্থিতি নিয়ে চীনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গত সপ্তাহে হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করার নির্দেশ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন যেখানে পম্পেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে চীন পাল্টা একটি মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধ করে দিলে বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বুমেরাং হয়ে যায়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভের লক্ষ্যে চীন ও রাশিয়াবিরোধী নীতিঅবস্থান নিলেও পম্পেও সে নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা করে ফেলেছেন বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

শাকিব খান ও রবি’র বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে অভিযোগ দায়ের

শাকিব খান ও রবি'র বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে অভিযোগ দায়ের
বিনা অনুমতিতে গান ব্যবহার করায় চিত্রনায়ক শাকিব খান ও টেলিকম অপারেটর রবি’র বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযোগ দায়ের করেছেন দিলরুবা খান।

শিল্পী দিলরুবা খানের ‘পাগল মন’ গানটি বিনা অনুমতিতে ‘পাসওয়ার্ড’ শিরোনামে সিনেমায় ব্যবহার এবং বাণিজ্যিকভাবে বিপণনের অভিযোগ এনে চিত্রনায়ক শাকিব খান ও মোবাইল টেলিকম কোম্পানি রবি’র বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ দাখিল করেছেন ব্যারিস্টার ওলোরা আফরিন। দিলরুবা খানের পক্ষে ব্যারিস্টার ওলোরা আফরিন অভিযোগ দায়ের করেন।

বিনা অনুমতিতে গান ব্যবহারের অভিযোগে শাকিব খানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের অভিযোগ দায়ের করেছেন শিল্পী দিলরুবা খান। রবিবার (২৮ জুন) সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এডিসি এস এম নাজমুল হকের কাছে এ অভিযোগ দেয়া হয়।

এর আগে, ৭ মার্চ শাকিব খান এবং গানটির বিপণন প্রতিষ্ঠান রবি’র কাছে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিস পাঠানো হয়। তার কোনো উত্তর না দেয়ায় এবার সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ দাখিল করা হলো।

অভিযোগ উঠেছে শাকিব খান গানটি ‘পাসওয়ার্ড’ সিনেমায় বিনা অনুমতিতে রিমেক করে ব্যবহার করেছেন। পরে, সেটি রবির কাছে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করেছেন। গানটি এসকে মুভিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক কোটি ৯০ বার লাখ দেখা হয়েছে।

‘পাগল মন’ গানের স্রষ্টা প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী দিলরুবা খান জানান, ‘শাকিব খান গানটি অনুমতি ছাড়াই সিনেমায় ব্যবহার করে সেটি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করেছেন। তাই আমরা তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করছি। ব্যারিস্টার ওলোরা আফরিন আমাদের পক্ষ থেকে অভিযোগটি দাখিল করেছেন।’

বিশ্বের সবচেয়ে বড় উভচর বিমানের সফল উড্ডয়ন

বিশ্বের সবচেয়ে বড় উভচর বিমানের সফল উড্ডয়ন
দক্ষিন চীন সাগরসহ একাধিক অংশ নিয়ে চীনের বেশ বড় কয়েকটি রাজনৈতিক সমস্যা রয়েছে। তাই উন্নততর সামরিক অস্ত্র ও যুদ্ধযান বানানোয় মন দিয়েছে বেইজিং।

এর অংশ হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উভচর বিমানের সফল উড্ডয়ন করেছে এশিয়ার এই সুপার পাওয়ার। স্বতন্ত্রভাবে বিকশিত এজি-৬০০ বৃহত উভচর বিমানটি পূর্ব চীনের শানডং প্রদেশের কিংডাওতে রবিবার সকালে সমুদ্রের ওপরে সফলভাবে উড়ে গেছে। এই বিমান সমানভাবে পানি ও স্থলে চলতে পারে। বিমানটি তৈরি করতে আট বছর সময় লেগেছে চীনের।

বিমানটির পাল্লা সর্বোচ্চ চার হাজার ৫শ’ কিলোমিটার এবং দাবানল নেভানো ও সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে সক্ষম। এটি আকারে একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমানের কাছাকাছি। সমুদ্র থেকে উঠা-নামা করার জন্য নির্মিত অন্যান্য বিমানের চেয়ে এটি অনেক বড় বলে জানিয়েছে-বেইজিংয়ের অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়না

সিনহুয়ার রিপোর্টে বলা হয়, চীনের এ বিমান নৌ-সম্পদ বিকশিত ও কাজে লাগাতে খুবই উপকারি হবে এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষেণ, সম্পদ চিহ্নিতকরণ ও পরিবহন কাজে এটি ব্যবহার করা যাবে।

বিমানটি দক্ষিণ চীন সাগরে নজরদারির ক্ষেত্রে দেশটির সক্ষমতা আরো বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৮৬ বছর পর হায়া সোফিয়ায় জুমা নামাজ আদায়, উপস্থিত ছিলেন এরদোগান

৮৬ বছর পর হায়া সোফিয়ায় জুমা নামাজ আদায়, উপস্থিত ছিলেন এরদোগান 
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ঐতিহাসিক হায়া সোফিয়া মসজিদে দীর্ঘ ৮৬ বছর পর আজ প্রথম জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোগানসহ কয়েক হাজার মুসল্লি অংশ নেন।

তুরস্কের সরকারি দৈনিক ডেইলি সাবাহ’র অনলাইন সংস্করণে বলা হয়েছে, জুমা নামাজ আদায়ের জন্য আজ (শুক্রবার) সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ হায়া সোফিয়ায় আসতে শুরু করেন। ১১টি চেকপোস্ট দিয়ে মুখে মাস্ক এবং আলাদা জায়নামাজসহ মুসল্লিদের হায়া সোফিয়ার চত্বরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। মসজিদ চত্বরে ১৭টি স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হয় যেখানে ৭৩৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী ১০১টি গাড়ি ও একটি হেলিকপ্টারের সমন্বিত একটি অ্যাম্বুলেন্স ইউনিটের সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করে।

জুমা নামাজের আগে ইস্তাম্বুলের গভর্নর আলি ইয়েরলিকায়া ঘোষণা দেন, ‘হায়া সোফিয়ার আশেপাশে সব জায়গায় মুসল্লিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্বের বিধি নিষেধ মানতে নতুন কোনো মুসল্লিকে জুমার নামাজের সুযোগ দেয়া হবে না।’

গত ১০ই জুলাই তুর্কি আদালত এক রায়ে- ১৯৩৪ সালের তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদের জাদুঘরে রূপান্তরিত করার আদেশটি রহিত করে। এরপর ১৬ই জুলাই তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক অধিদপ্তর হায়া সোফিয়া পরিচালনার জন্য সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির অধীনে দেশটির সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় হায়া সোফিয়ার সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজ তদারকি করবে এবং ধর্ম বিষয়ক অধিদপ্তর ধর্মীয় সেবা তদারকি করবে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সূত্র ধরে দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান ঘোষণা দেন, বিশ্বখ্যাত এই স্থাপনাটি মসজিদ হিসেবে খুলে দেয়া হবে ২৪ জুলাই।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৫ সালে জাদুঘর থাকাকালে হায়া সোফিয়াকে বিশ্ব-ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইউনেস্কো। ইস্তাম্বুল বিজয়ের আগে ৯১৬ বছর আয়া সোফিয়া গির্জা ছিল।১৯৩৪ সালে কামাল আতাতুর্কের শাসনামলে মসজিদটিকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। এ সময় স্থাপনাটিতে বেশকিছু পরিবর্তন আনা হয়।

রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বুয়েট

রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বুয়েট
ছাত্রদলের কমিটির ঘোষণার বিষয়ে আইন অমান্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বুয়েট।

অনুমোদিত ক্লাব ছাড়া যে কোন ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, শনিবার পুনরায় বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট।

বুয়েট আইন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘বুয়েটে ছাত্রদলের কমিটি গঠনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কমিটির সদস্যদের তালিকা সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। আবরার হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘এর পরও যদি কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালায় তবে তাই আইনবিরোধী কাজ বলে বিবেচিত হবে। আমরা জানতে পেরেছি, নতুন কমিটির কারো কারো ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে। তবে যারা এখনো নিয়মিত ছাত্রছাত্রী, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন বলেছেন, ‘আবরার হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ছাত্রলীগ। অথচ ক্যাম্পাসে তাদের কার্যক্রম হরহামেশাই চলছে। কিন্তু সাধারণ ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলার কার্যক্রম বুয়েটে চলছে না। তাই সাধারণ ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলতেই আমাদের এ কমিটি। আমরা কখনোই ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে নই।’

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসিফ হোসেন রচিকে আহ্বায়ক এবং আলী আহমদকে সদস্য সচিব করে বুয়েট শাখা ছাত্রদলের ৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়।

ফেসবুকে দেয়া একটি স্ট্যাটাসের জের ধরে গত বছরের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। সেখানে নির্যাতনের পর ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দুইতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই ঘটনার পর উত্তাল হয়ে ওঠে বুয়েটে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ও ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।

টানা পাঁচ দিন ধরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ১১ অক্টোবর বুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়। সেদিন বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বুয়েটে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বলেছিলেন, ‘আমার নিজ ক্ষমতায় বুয়েটের সব রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি। এখন থেকে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

যদিও অন্য সব ছাত্র সংগঠন বুয়েট প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা না করে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম তখনই তুলে নিয়েছিল।