চেনা মানুষঃ এস কে সুলতানা।

চেনা মানুষ
লেখকঃ এস কে সুলতানা

সময়ের সাথে আমাদের চেনা মানুষগুলো বদলে যায়। কখনো সাথে কথা বললে মনে হয় কখনো সে আমাকে চিনত না। কেন এই মানুষগুলো জীবনের রঙিন স্বপ্নগুলো কে বদলে দেয়।

ইশু‍। আয়ান তাকে আদর করে ডাকত।মেয়েটির আসল নাম ছিল ইশিকা।ছেলেবেলা থেকেই তাদের মধ্যে অনেক ভাব ছিল। ইশু আয়ানকে সবসময় ভালো কাজে উৎসাহ দিত। আয়ান যদিও একটু দুষ্টুমি করতো তারপরও সে ইশুর কোন কথা ফেলত না। ইশু ওকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে। আস্তে আস্তে ওরা ছেলেবেলার দিনগুলো কাটিয়ে বড় হতে লাগল। ইশু গান শুনতে ও গাইতে ভালোবাসত। সায়েন্স স্টুডেন্ট হিসেবে ইশু অনেক দিকে পারফেক্ট ছিল। আর আয়ান ও তো অনেক কিছুতে যোগ দিতে লাগল। বিশেষ ব্লাড ডোনেট ক্লাব, সরকারি অনেক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে শুনেছি। এত কিছুর মধ্যে কোন দিন দূরত্ব সৃষ্টি হয় নি। হাসিখুশি ভাবে তারা তাদের ফ্রেন্ডশিপটা চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মাঝখানে ইশু একটা রিলেশনে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সেটা ফ্যামিলিতে জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে ইশু ভয় পেয়ে যায়। খুব সরল ছিল বলে কোন ঝামেলায় না জড়িয়ে সবকিছু ছেড়ে দেয়। তবে আয়ানের সাথে তার সবকিছু ঠিকই ছিল। তারপর থেকে ইশু একটু একটু করে বদলে যেতে থাকে। নিজেকে সবসময় একা করে রাখে। আয়ানের তাতে কোন আপত্তি ছিল না। কারণ সে ইশুর সমস্যা টা বুঝতে পারছে। ইশু আর আয়ান এবার কলেজ জীবনে পা দিল। দুজনে কলেজে আসত আবার একসাথেই বাড়ি ফিরত। আয়ান তার শতকাজের মাঝেও ইশুর সবদিকের খবর রাখত। সাজেশন গুলো কিনে দিত। কিন্তু,ইশু এবার ইসলামিক জীবনে ঢুকতে শুরু করল। আয়ান খুশি ছিল। সে সবসময় বলত, ইশু তাকে তার জীবনের সবটুকু দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছে। এদিকে, ইশু একদিন হঠাৎ করে আয়ান তার সাথে যেতে নিষেধ করল। আয়ান তার কারণ জানতে চাইলে ইশু বলে,আমি বড় হয়েছি। একা চলতে পারি। তাছাড়া এলাকার ছেলেগুলো তোকে আমার সাথে দেখলে কতকিছু ভাবে। আয়ান রাজি হলো। কারণ সে বরাবরই ইশুর সমস্যাগুলো বুঝার চেষ্টা করত। এভাবে চলতে চলতে ইশু একদিন তার সাথে কথা বন্ধ করে দিল। সে আয়ানকে তার ফোন, ম্যাসেজ, ম্যাসেঞ্জার, ইমু সবকিছুতে ব্লক করে দেয়। আয়ান ভীষণ কষ্ট পেতে থাকে। তার চেনা ইশু এখন তার কাছে অচেনা। যে আয়ান তার মায়ের কাছে তার সবকিছু শেয়ার করতো সেই আয়ান এখন তার মা, বন্ধু কারো সাথেই তেমন কিছু শেয়ার করে না। আয়ান এখন আর তার অন্য বন্ধুদের সাথে তেমন কথা বলে না। সবসময় একা থাকে। ক্লাসে বসে আয়ান মাঝে মাঝে কেঁদে উঠত। ইশুকে চোখের সামনে দেখেও সে নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করত। ক্লাসে টিচাররা প্রশ্ন করলে আয়ানের কোন রেসপন্স থাকতো না। একদিন পৌরনীতির টিচার আয়ানকে জিজ্ঞেস করে কি ব্যাপার তুমি তো ভালো পড়া বল। এ কদিন কি হয়েছে তোমার? আয়ান শুধু মাথা নিচু করে বলল, কিছু না। স্যার! ইশুর হয়তো ব্যাপারটি দেখে মায়া হয়েছিল। সে গোপনে আয়ানের সাথে কিছু কিছু কথা বলতে শুরু করল। আয়ানের কিছুটা স্বস্তি ফিরে এল। এবার সে নিজে নয় তার একটা বোন কে দিয়ে ইশুকে সাজেশন পাঠাতো। প্রয়োজনে সে তাদের হেল্প করার চেষ্টা করত। ভালোই চলছিল সব। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় তাদের কলেজ। ইশু আস্তে আস্তে আবার দূরে সরে যায়। কোন কারনের অপেক্ষা না করে ভেঙে যায় তাদের ফ্রেন্ডশিপ। আজও আয়ান ইশুর অপেক্ষায় অপেক্ষিত।

লেখকঃ এস কে সুলতানা

রাসূল সাঃ এর প্রতি অবমাননাঃ নোবিপ্রবির ২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

প্রতিবেদকঃ মেশকাতুল ইসলাম সিয়াম
রাসূল সাঃ এর প্রতি অবমাননার কারণে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার ও হল সিট বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মুহাম্মদ সাঃ এবং ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ই এম ডি এস বিভাগের শিক্ষার্থী প্রতীক মজুমদার ও ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী দীপ্ত পাল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে তারা তাদের সাময়িক বহিষ্কার করে।

বুধবার (২৮ শে অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. আবুল হোসেনের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রাসূল সাঃ ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত যা বাংলাদেশ সরকারের আইনে একটি দন্ডনীয় অপরাধ। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত উপরোক্ত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ক্রমে সাময়িক বহিষ্কার ও হল সিট বাতিল করা হয়েছে। এবং তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে তাদের কে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না।”

বিভিন্ন মহলে ফ্রান্সকে বয়কট

লক্ষ্মীপুর টিভি। প্রতিবেদকঃ মেশকাতুল ইসলাম সিয়াম
মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাঃ এর প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারে ফ্রান্সকে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন মুসলিম সম্প্রদায়। তারা হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে (#Boycott_French_Products
#Boycott_French
#We_Love_Mohammad_(S.A.)
#We_Follow_Mohammad_(S.A)
#we_are_ummate_mohammadi) প্রতিবাদ করছেন।

গত ১৬ অক্টোবর ফ্রান্সের প্যারিসের শহরতলী এলাকায় এক স্কুলশিক্ষককে গলা কেটে হত্যা করা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, হামলাকারীর বয়স ১৮ বছর। তিনি চেচেন জাতিগোষ্ঠীর এবং জন্ম রাশিয়ার মস্কোতে। নিহত ওই শিক্ষক রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়াতেন। ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ ক্লাসে তিনি শিক্ষার্থীদের মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন দেখিয়ে ছিলেন। তারপর তাকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনার পর ফ্রান্সের পুলিশ দেশটির অন্তত ৫০টি মসজিদ ও মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় ভয়াবহ অভিযান চালায়।

সাড়ে পাঁচ বছর আগে হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিতর্কিত কার্টুন ছাপানোর পর ফ্রান্সের ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন শার্লি এবদোতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। আবারও সেটি ছাপিয়েছে ম্যাগাজিনটি। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলেও এর পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

এইদিকে ফ্রান্সের সকল প্রোডাক্ট বয়কট করেছেন কুয়েত ও পাকিস্তান সরকার। তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এর সমালোচনা করে বলেন তাকে মানসিক চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মুসলিম বিশ্বের সকল নেতাদের আহবান জানান ফ্রান্সের সকল পন্য তাদের দেশে বয়কট করতে।

এইদিকে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় পগবা ফ্রান্সের হয়ে আর ফুটবল খেলবেন না বলে জানান। তিনি বলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাঃ এর প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

এইদিকে ফ্রান্সের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এর ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে বাংলাদেশের হ্যকাররা। সাইবার ৭১ নামে একটি গ্রুপ এই হামলা চালান। তারা বলেন রাসূল সাঃ এর প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে মুসলিম হ্যাকার রা এই হামলা চালান। ফ্রান্সের গণমাধ্যম বলেন হ্যাকার দের কারণে ফ্রান্সের বিশাল একটা ক্ষতি হয়েছে।

৭ বাংলাদেশিসহ ৮ জন পেলেন বৃটেনের রানীর বিশেষ সম্মাননা

lakshmipurtv.com.bdযুক্তরাজ্যের রানির জন্মদিনে এবার ৭ বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ নাগরিক ও এক বাংলাদেশি নাগরিক খেতাব পেয়েছেন। এদের মধ্যে চারজনকে অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (ওবিই), তিনজনকে মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (এমবিই) এবং একজনকে মেডালিস্ট অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (বিইএম) খেতাব দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ব্রিটিশ হাই কমিশনে কর্মরত একজন বাংলাদেশিকেও এমবিই খেতাব দেওয়া হয়। এই ৮ জনের মধ্যে ৭ জনই সিলেটের বাসিন্দা।

এবারই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এ বিশেষ সম্মাননা পেলেন। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় শনিবার খেতাবপ্রাপ্ত মোট এক হাজার ৪৯৫ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। সাধারণত প্রতিবছর জুন মাসে রানির জন্মদিনে সমাজের নানা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য দেশব্যাপী ও বিদেশে কর্মরত ব্রিটিশ নাগরিকদের বিভিন্ন খেতাব দেওয়া হলেও চলতি বছর কোভিড-১৯ মহামারীর ১০ অক্টোবর এ খেতাবের ঘোষণা দেওয়া হলো।
এবার কোভিড-১৯ এর সময় অবদান রাখায় ৪১৪ জনকে খেতাব দেওয়া হয়। এছাড়া মোট খেতাবপ্রাপ্তদের মধ্যে ৭৪০ জন অর্থাৎ ৪৯ শতাংশ নারী এবং ১৩ শতাংশ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। প্রথমবারের মতো বিপুল সংখ্যক এশিয় ও কৃষ্ণাঙ্গ রানির খেতাব পেয়েছেন।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ নাগরিক খেতাব প্রাপ্তদের মধ্যে সবার আগেই নাম আসে দবিরুল ইসলাম চৌধুরীর। তিনি দেশে-বিদেশে করোনাভাইরাস সংকটকালে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের জন্য চার লাখ ২০ হাজার পাউন্ড তহবিল সংগ্রহ করেন। ওবিই খেতাবপ্রাপ্ত দবিরুল নিজ বাসস্থানের সামনের গার্ডেনে রোজায় একমাসব্যাপি হেঁটে এ তহবিল সংগ্রহ করেন।

ওবিই খেতাবপ্রাপ্তরা হলেন- শতবর্ষী ব্রিটিশ বাংলাদেশি দবিরুল ইসলাম চৌধুরী, ব্রিটিশ হোম অফিসে কর্মরত আবু আহমদ, রাজনীতিবিদ লুৎফুর রহমান ও প্রিন্সেস ট্রাস্ট চ্যারিটিতে কর্মরত মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন। এমবিই খেতাবপ্রাপ্তরা হলেন- শিক্ষক সৈয়দ আফসার উদ্দিন, ব্যবসায়ী ও শেফ ওলি খান এবং ব্রিকলেনের মসজিদের চেয়ার সাজ্জাদ মিয়া।

এছাড়া বিইএম খেতাব পেয়েছেন নিলীমা রহমান। ওবিই খেতাবপ্রাপ্ত লুৎফুর রহমান মানচেস্টার সিটি কাউন্সিলে লেবার দলীয় নিবা‍র্চিত কাউন্সিলর। বর্তমানে তিনি ম্যানচেস্টার সিটি কাউন্সিলের কালচার অ্যান্ড লেজারের নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত। জনপ্রতিনিধি হিসেবে স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য লুৎফুর এ সম্মাননায় ভূষিত হন। তিনি ২০০৮ সালে প্রথম কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ২০১২, ২০১৬ এবং ২০১৮-তে ম্যানচেস্টারের লংসাইট ওয়ার্ড থেকে বার বার নির্বাচিত হয়েছেন।

লুৎফর রহমান ১৯৮০ সালে তার পরিবারের সাথে বাংলাদেশ থেকে ম্যানচেস্টারে আসেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি ম্যানচেস্টারের বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক এবং কমিউনিটির বিভিন্ন খাতে সফলতার সাথে কাজ করেন । বিশেষত যুবসমাজের উন্নয়নে, লাইব্রেরির উন্নতি, ক্রীড়া এবং বিনোদনে তিনি বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। ব্রিটিশ বাংলাদেশি নিজাম উদ্দিন প্রিন্সেস ট্রাস্ট চ্যারিটিতে সিনিয়র হেড অব মোজাইক অ্যান্ড কমিউনিটি ইন্টেগ্রেশন। সোশ্যাল মোবিলিটি অর্থাৎ সামাজিক গতিশীলতা এবং কমিউনিটি সম্প্রীতিতে অবদানের জন্য তিনি ওবিই খেতাব পান।

ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের স্টুডেন্ট ইউনিয়নের নিবা‍র্চিত সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন তরুণ-তরুণীদের জন্য কাজ করেন। কম বয়সী তরুণ-তরুণী তাদের সম্ভাবনা বিকশিত করার ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন তা দূরীকরণে তিনি নানাভাবে সহায়তা করে আসছেন। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পাবলিক পলিসিতে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী নিজাম উদ্দিন লন্ডন মেয়রের দক্ষতা সম্পর্কিত স্টেকহোল্ডার অ্যাডভাইসরি গ্রুপের সদস্য এবং মালবেরী অ্যাকাডেমি শর্ডিচের একজন গভর্নর।ব্রিটিশ বাংলাদেশি আবু আহমদ যুক্তরাজ্যে হোম অফিসে কাউন্টার টেরোরিজম কমিউনিকেশন অ্যান্ড এনগেইজমেন্ট ইউনিটের প্রধান। পাবলিক সার্ভিসে অবদানের জন্য তাকে ওবিই খেতাব দেওয়া হয়।
সৈয়দ আফসার উদ্দিন লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের ওকল্যান্ড সেকেন্ডারি স্কুলের একজন শিক্ষক। ১৯৯৫ সাল থেকে ওই স্কুলে পূর্ণকালীন বাংলা শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। । পাশাপাশি তিনি বাংলা ভাষার পরীক্ষক হিসেবে প্রায় ১৯ বছর দায়িত্ব পালন করেন। বারায় শিক্ষা ও কমিউনিটি সেবার জন্য তাকে এমবিই খেতাব প্রদান করা হয়। সৈয়দ আফসার উদ্দিন বর্তমানে লন্ডনের চ্যানেল এস টিভির একজন সংবাদ পাঠক । এর আগে তিনি লন্ডনে বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকার জন্যও কাজ করেছেন।

পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসে অবস্থিত ব্রিকলেন মসজিদ ট্রাস্টের সভাপতি সাজ্জাদ মিয়া। কমিউনিটিতে সেবা দেওয়ার জন্য তাকে এমবিই খেতাব দেওয়া হয়।
lakshmipurtv.com.bd

বাংলাদেশের মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি – ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন

ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেছেন, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি অনেক ভালো। এদেশের মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। করোনা ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্তের হিসেবে সুস্থতার হার অনেক বেশি। এদেশে থেকে আমি করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত হইনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজা মন্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় ডেপুটি হাইকমিশনার জাবেদ প্যাটেল উপস্থিত ছিলেন।তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। চমৎকার পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালনই তার বড় প্রমাণ। এদেশের মানুষ তাদের ধর্মীয় উৎসবটি সুন্দরভাবে অনুশীলন করছে। এদেশের হিন্দু মুসলমান একে অপরকে সহযোগিতা ও সম্প্রীতিতে বসবাস করে।

রোহিঙ্গা সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় সমস্যা। নিজেদেরই এ সমস্যা সমাধান করতে হবে। সমস্যা সমাধানে ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশকে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

লন্ডনে কাজ করার জন্য যেভাবে খুব সহজে পেতে পারেন “ওয়ার্ক পারমিট” ভিসা

একটি সময়ে পৃথিবীর যেকোনো দেশের নাগরিকদের যেকোনো রাষ্ট্রে অবাধে প্রবেশাধিকারের সুযোগ বিদ্যমান ছিলো। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় নিজ দেশের বাইরে গমন করা বেশ জটিল হতে থাকে। বর্তমান সময়ে নানাবিধ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে হয়। এসব প্রক্রিয়া রাষ্ট্র অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত মানুষ উচ্চশিক্ষা অর্জন ও কর্মজীবন শুরু করার জন্য বিদেশে গমন করে থাকে। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া যতটা সহজ, বরং কর্মজীবন শুরু করা তারচেয়ে বেশ কঠিন।

আপনি যদি দেশের বাইরে কর্মজীবন শুরু করতে চান, তবে আপনার শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দক্ষতা থাকলেই হবে না, বরং যে দেশে ক্যারিয়ার গড়তে চান, সে দেশে কীভাবে বাহিরের রাষ্ট্রের নাগরিকরা কাজ করার সুযোগ পেতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে এবং তদানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবেই আপনি সে দেশে কাজ করার সুযোগ পাবেন, অন্যথায় আপনার দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আপনি ক্যারিয়ার গড়তে ব্যর্থ হবেন।

বিশ্বের বেশ কিছু রাষ্ট্র রয়েছে, যেসব দেশে সাধারণত মানুষ ক্যারিয়ার গড়তে ইচ্ছা পোষণ করে থাকে। তেমনি একটি রাষ্ট্র হলো যুক্তরাজ্য। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী অনেক মানুষই যুক্তরাজ্যে তাদের ক্যারিয়ার শুরু করার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু কীভাবে যুক্তরাজ্যে কাজের সুযোগ পেতে হয়, কিংবা আদৌ সেখানে কাজ করার জন্য উপযুক্ত ও অনুমতিপ্রাপ্ত কি না, তা অনেকেই জানেন না।

যুক্তরাজ্যের নিয়ম নীতি অনুযায়ী, পৃথিবীর বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রের নাগরিকেরা এ দেশে কাজ করার জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করে থাকে। আপনি যদি যুক্তরাজ্যে ক্যারিয়ার শুরু করতে চান; তবে পূর্বেই জেনে নিন, আপনি যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ নাগরিকদের মতো সরাসরি কাজ করার জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত কি না। আর যদি আপনার সরাসরি ক্যারিয়ার শুরু করার অধিকার না থাকে, তবে কোন প্রক্রিয়ায় সেখানে কাজ করার জন্য অনুমতি গ্রহণ করবেন। এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এই আর্টিকেলটি পড়ুন।

আপনি কি যুক্তরাজ্যে কাজ করার যোগ্য?
ব্রিটিশ নাগরিক ছাড়াও পৃথিবীর বেশ কিছু দেশের নাগরিকরা যুক্তরাজ্যে সরাসরি কাজ করার জন্য যোগ্য হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে এদের কাজ শুরু করার জন্য কাজের অনুমতি পত্র সংগ্রহ করার প্রয়োজন হয় না। কীভাবে নিশ্চিত হবেন, আপনি যুক্তরাজ্যে সরাসরি ক্যারিয়ার শুরু করতে পারবেন কি না? আপনি যদি ব্রিটিশ নাগরিক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহের অধিবাসী ও সুইস জাতীয়তাধারী ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তবে আপনি কাজের অনুমতি পত্র ছাড়াই, যুক্তরাজ্যে সরাসরি কাজ শুরু করতে পারবেন।

সরাসরি কাজ করার জন্য অধিকার না থাকলে কী করবেন?
আপনি যদি ব্রিটিশ নাগরিক কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহের নাগরিক না হয়ে থাকেন, তবে যুক্তরাজ্যে কাজ পেতে আপনাকে একটি ভিসা এবং কাজের অনুমতি পত্র সংগ্রহ করতে হবে।

ভিসা
আপনি আপনার দেশের ব্রিটিশ বৈদেশিক মিশন ও ব্রিটিশ দূতাবাসের মাধ্যমে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। মনে রাখবেন, শুধুমাত্র ভিসা হলেই আপনি যুক্তরাজ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন না, বরং কাজ শুরু করতে হলে আপনাকে অবশ্যই কাজের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

কাজের অনুমতিপত্র
আপনি যদি যুক্তরাজ্যে একটি চাকরি পেয়ে থাকেন এবং আপনার ভিসাও থাকে, তবুও আপনাকে একটি কাজের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে।আপনি সরাসরিভাবে কাজের অনুমতি পত্রের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। আপনার নিয়োগকর্তাকে আপনার পক্ষ থেকে আবেদন করতে হবে, তবেই আপনি খুব সহজেই কাজের অনুমতি পত্র পেয়ে যাবেন।

ভিসার আবেদন করতে স্পন্সর প্রয়োজন হবে কী?
সাধারণত আপনি যদি যুক্তরাজ্যে কাজের জন্য ভিসার আবেদন করতে চান, তবে আপনাকে যুক্তরাজ্যের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে থেকে চাকরির অফারসহ স্পন্সরশিপ পেতে হবে। আবার আপনি যদি ২ বছরের অধিক সময় যুক্তরাজ্যে বসবাস ও কাজ করতে আগ্রহী থাকেন, আপনার বয়স আঠারো থেকে ত্রিশের মধ্যে হয় এবং আপনার নিকটে প্রায় ২ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ২ লাখ টাকা সঞ্চয় থাকে, তবে স্পন্সরশিপ ছাড়াই ইয়ুথ মোবিলিটি স্কিম ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আপনার সঙ্গে কিংবা আপনার অধীনে কোনো শিশু যুক্তরাজ্যে রাখতে চাইলে, এই ভিসা আবেদন করার জন্য আপনি অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। মোটামুটিভাবে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের নাগরিকদেরই ইয়ুথ মোবিলিটি স্কিম ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

কোন ধরনের চাকরির জন্য আপনি যোগ্য?
চাকরির যোগ্যতা মূলত ব্যক্তির নিজস্ব দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও কোয়ালিফিকেশনের উপরে নির্ভর করে থাকে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ বাহিরের দেশের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অস্থায়ীভাবে নিয়োগ ও স্পন্সরশিপ দিয়ে থাকে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবেও স্পন্সরশিপ দিতে পারে। আপনাকে অনলাইনে বিভিন্ন চাকরির বিজ্ঞপ্তিগুলো খোঁজ করতে হবে।
তারপর আপনারা যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী আবেদন পত্র জমা দিয়ে কাজ করার সুযোগ অর্জন করতে হবে। আপনি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকর্তাদের কাছে যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হলে, খুব সহজেই যুক্তরাজ্যে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারবেন।আপনি যুক্তরাজ্যে কর্মজীবন শুরু করতে চাইলে, এসব বিষয়ের প্রতি খেয়াল রেখে কর্মপন্থা গ্রহণ করুন, তবে খুব সহজেই আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হবেন

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রতি অবমাননাঃ সকল মাধ্যমে নিন্দার ঝড়

ফ্রান্সে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাঃ এর ব্যঙ্গচিত্র তৈরি করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

ফ্রান্সের সকল পন্য বর্জনের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে ফ্রান্সের সকল পন্য বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন কুয়েত সরকার। মুসলিম সম্প্রদায় এর অনুসারীরা ফেসবুক, টুইটার সহ বিভিন্ন মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ (#Boycott_French_Products) ব্যাবহার করে ফ্রান্সের সকল পন্য বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

গত ১৬ অক্টোবর ফ্রান্সের প্যারিসের শহরতলী এলাকায় এক স্কুলশিক্ষককে গলা কেটে হত্যা করা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, হামলাকারীর বয়স ১৮ বছর। তিনি চেচেন জাতিগোষ্ঠীর এবং জন্ম রাশিয়ার মস্কোতে। নিহত ওই শিক্ষক রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়াতেন। ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ ক্লাসে তিনি শিক্ষার্থীদের মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন দেখিয়ে ছিলেন। তারপর তাকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনার পর ফ্রান্সের পুলিশ দেশটির অন্তত ৫০টি মসজিদ ও মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় ভয়াবহ অভিযান চালায়।

সাড়ে পাঁচ বছর আগে হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিতর্কিত কার্টুন ছাপানোর পর ফ্রান্সের ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন শার্লি এবদোতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। আবারও সেটি ছাপিয়েছে ম্যাগাজিনটি। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলেও এর পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

সুত্রঃ ডেইলি সাবেহ।

সাবেক এটর্নি জেনারেল রফিক উল হক এর ইন্তেকাল

ব্যারিষ্টার রফিক উল হক, প্রতিবেদকঃ মেশকাতুল ইসলাম সিয়াম
সাবেক এটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।।

শনিবার সকালে রাজধানীর আদ দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাকে গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। জানা গেছে, রক্তশূন্যতা, ইউরিন সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

তিনি ১৯৩৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যুক্ত হন এবং ১৯৯০ সালে তিনি এটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পান।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, জামায়াতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান।

আজ জাতিসংঘ দিবস

প্রতিবেদকঃ মেশকাতুল ইসলাম সিয়াম
আজ ২৪ শে অক্টোবর জাতিসংঘের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৪৫ সালের ২৪ শে অক্টোবর বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় গঠিত হয় জাতিসংঘ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৎকালীন বিশ্ব নেতারা একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সংগঠন এর উদ্যোগ নেয়। ১৯৪৩ সালে তেহরানে তৎকালীন ৪ টি প্রধান শক্তিধর রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে বিশ্বনেতারা জাতিসংঘ গঠনের উদ্যোগ নেয়। অবশেষে ১৯৪৫ সালের ২৪ শে অক্টোবর জাতিসংঘ নামে এটি আত্মপ্রকাশ করে।

বিশ্বের সকল স্বাধীন রাষ্ট্র এর সদস্য। শুরুতে জাতিসংঘের সদস্য ছিল ৫০ টি রাষ্ট্র। বর্তমানে বিশ্বের ১৯৩ টি স্বাধীন রাষ্ট্র এর সদস্য। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ ই সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করেন।

জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে। এই সংস্থার পতাকা হচ্ছে হালকা নীল রঙের। মাঝখানে সাদা জমিনের মতো বিশ্বের মানচিত্র রয়েছে।

জাতিসংঘের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হচ্ছেন মহাসচিব। জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব হচ্ছেন নরওয়ের নাগরিক ট্রিগভেলি। বর্তমানে এর মহাসচিব হচ্ছেন পর্তুগালের নাগরিক আ্যন্টনিও গুতেরেস।

ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা, বিশ্ব মানবাধিকার কমিশন জাতিসংঘের অন্যতম সহযোগী সংস্থা। বিশ্ব মানবতার কল্যাণে এই সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির মায়ের মৃত্যু

প্রতিবেদকঃ মেশকাতুল ইসলাম সিয়াম
সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শরীফ মা সহিদা বেগম মৃত্যু বরণ করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

বৃহস্পতিবার রাত ৩ টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন। জানা যায় গতকাল বুধবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর এর বাসা থেকে তিনি তার নাতিন কে সাথে নিয়ে তাদের পুরাতন বাড়ি দেখা শুনা করতে বের হন। পথে জকসিন বাজার থেকে আসা পিকআপ তাদের ধাক্কা দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে লক্ষ্মীপুর ওয়েলকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে ডাক্তার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠান। রাত ৩ টার সময় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন।

এইদিকে তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর ৩ আসনের সাংসদ একেএম শাহজাহান কামাল এমপি, লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, সাধারণ সম্পাদক নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিজবুল বাহার রানা, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল করিম নিশান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব ইমাম, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জাকির হোসেন আজাদ প্রমুখ।

করোনা আপডেটঃ ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত ১৫৪৫, মৃত্যু ২৪

লক্ষ্মীপুর টিভি| করোনা আপডেট, ২১/১০/২০২০, রিপোর্টঃ মেশকাতুল ইসলাম সিয়াম।
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ১হাজার ৫৪৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।এই নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৯৪ হাজার ১৩১ জন। এইদিকে গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু বরণ করেন ২৪ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫ হাজার ৭২৩ জনে।

গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৭০৪ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৮ হাজার ৮৪৫ জন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ ই মার্চ। আর প্রথম করোনায় মৃত্যু বরণ করেন ১৮ ই মার্চ।

তৃতীয় গ্রেড উণ্নীত হচ্ছে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদ

অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের ৯৮টি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদে কর্মরত অধ্যাপকদের চাকরি তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত হচ্ছে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক পদে কর্মরত এসব কর্মকর্তা বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেলের চতুর্থ গ্রেডভুক্ত। তাদের তৃতীয় গ্রেডভুক্ত করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের কাছে প্রস্তাব চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের ৯৮টি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদে কর্মরত অধ্যাপকদের চাকরি তৃতীয় গ্রেডভুক্ত করার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক পদে কর্মরত এসব কর্মকর্তা জাতীয় বেতন স্কেলের চতুর্থ গ্রেডভুক্ত। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর থেকে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়ে।
তবে, গত ৬ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে খসড়া নিয়োগবিধিসহ পুনরায় প্রস্তাবটি চাওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষের পদ তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত করতে প্রস্তাবিত ৯৮ কলেজের তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতির খসড়া নিয়োগবিধিসহ প্রস্তাব পুনরায় পাঠানোর জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরকে বলা হয়েছে।গত ১৮ অক্টোবর অধিদফতরের মহাপরিচালককে এ নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়।
আরও জানা গেছে, ২০১৯ সালের মার্চে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক পদমর্যাদার (চতুর্থ গ্রেড) সরকারি কলেজের ২৭২টি অধ্যক্ষ ও ১৫৭টি উপাধ্যক্ষ পদ তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের ছয়টি পরিচালক পদ এবং নির্বাচিত নয়টি কলেজের অধ্যক্ষ পদসহ শিক্ষা ক্যাডারের ১৫টি পদ দ্বিতীয় গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

ব্যাংকিং ডিপ্লোমা বর্তমানে ব্যাংকারদের জন্য কতটুকু কার্যকরী

লক্ষ্মীপুর টিভি। লেখকঃ মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম,প্রকাশিত-২০/১০/২০২০ইং
বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ অক্টোবর দেশে বিদ্যমান ব্যাংকে কর্মরত সকল কর্মকর্তাদের পদোন্নতির নীতিমালায় ব্যাংকিং ডিপ্লোমা, ১ম পর্ব ও ২য় পত্রের জন্য নির্দিষ্ট নম্বর অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে- দি ইন্সটিটিউট অব ব্যাংকারস, বাংলাদেশ (আইবিবি) কর্তৃক ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তাদের জন্য দুই পর্বে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা আয়োজন করা হয়। উক্ত পরীক্ষার মুল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট মৌলিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ব্যাংকারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি ব্যাংক কর্মকর্তাদের পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনেও ব্যাংকিং ডিপ্লোমা সহায়ক ভুমিকা পালন করে থাকে বলে বলা হয়েছে। এসব বিষয়গুলি বিবেচনায় রেখে ব্যাংকিং খাতে অধিকতর দক্ষ ও প্রায়োগিক জ্ঞান সম্পন্ন কর্মকর্তা তৈরির লক্ষ্যে ব্যাংকের বিদ্যমান পদোন্নতি নীতিমালায় কিছু নির্দেশনায়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধিত পদোন্নতি নীতিমালা প্রনয়ণের জন্য পরামর্শ প্রদাণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, অফিসার বা সমমানের পদ থেকে মহাব্যবস্থাপক ও সমমানের পদ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে পদোন্নতির ক্ষেত্র বরাদ্দকৃত মোট নম্বরের মধ্যে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা ১ম পর্ব (JAIBB) ও ব্যাংকিং ডিপ্লোমা ২য় পর্ব (DAIBB) পরীক্ষার জন্য একটি নির্দিষ্ট নম্বর বরাদ্দ রাখতে হবে। তবে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা ২য় পর্ব (DAIBB) পরীক্ষার নির্ধারিত নম্বর কোনভাবেই ব্যাংকিং ডিপ্লোমা ১ম পর্ব (JAIBB) এর নির্ধারিত নম্বরের চেয়ে কম হতে পারবে না বলে হয়েছে। তবে, উল্লেখিত শর্তাবলী কিছু টেকনিক্যাল পদ যেমন আইটি, কর্মকর্তা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইন কর্মকর্তা এবং ক্যাশ এ কর্মরত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে শিথিল করা যাবে। এ সংক্রান্ত নীতিমালা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। নির্দেশনাটি ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারা ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে যা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বলা হয়েছে।

উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেকে সামনে রেখে ১৯৭৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দি ইন্সটিটিউট অব ব্যাংকারস, বাংলাদেশ গঠিত হয়।

ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষার উদ্দেশ্য মহৎ হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বাংলাদেশে এমন অনেক বড় বড় এমডি, এএমডি, ডিএমডি কিংবা খ্যাতনামা ব্যবস্থাপক আছেন যারা ডিপ্লোমা না দিয়েও ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি শাসন করতেছেন। তারা কি ব্যাংক পরিচালনা করতেছে না? ব্যবসায় আনতেছে না? তারা কি প্রায়োগিক জ্ঞান বা অভিজ্ঞতালব্দ জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারেন না? ডিপ্লোমা না করলে কি চৌকষ ব্যবস্থাপক হওয়া যায় না? তারপরও কেন ডিপ্লোমা নামক বস্তা পঁচা একটা পরীক্ষা পদ্ধতি ব্যাংকারদের ঘাড়ে চাঁপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? দিন রাত ব্যাংকে গাঁধার মতো খাটুনি করে শুধু সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়াশোনা করে প্রস্তুতি নেয়া সকলের পক্ষে সম্ভব হয় না। তার উপর ব্যাংকাররা নানারকম টার্গেটের ভারে জর্জড়িত। নো কস্ট, লো কস্ট ডিপোজিট আনা। রিকোভারি করা। কাস্টমার ধরে রাখা বা ফলোয়াপ করা। এসব কাজ করে ঘরে ফিরে পরিবারকে সময় দিবে দূরের কথা ছোটবেলার মত বই,কলম আর খাতা নিয়ে বসা যেন মাথায় কুড়াল মারা। তারউপর অনেকের হয়তো পাঁচ বছর, একযুগ হয়ে গেছে বই ছেড়ে এসেছে। বুড়ো বয়সে এসে কি লিখবে তাই বাধ্য হয়েই অনেকের মধ্যে হয়তো নকলের প্রবণতা দেখা যায়। সে কারণেই আইবিবি পরীক্ষায় ব্যাংকাররা নকল করে পরীক্ষা দেয় এই ধারণা প্রচলিত আছে। যদিও আজকাল অনেক কমে গেছে। তবে নকল করেই হোক আর না করেই হোক কোনভাবেই পাশ করার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। অনেকেই বলেন ব্যাংকিং ডিপ্লোমা (আইবিবি’র) পরীক্ষায় পাশ করা অনেকটা লটারির মত। ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষার খাতা দেখা হয় না। ভালো লিখেও অনেকে ফেল করে, ভালো না লিখেও অনেকে পাশ করে। এই ধারণার সত্যতা কতটুকু তা কেবল আইবিবি কর্তৃপক্ষই ভাল জানেন। অনেকে এখানে বাণিজ্যের নগ্নতাকেও খুঁজে পান।

এমনও দেখা গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা আইবিএ কিংবা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ব্যবসায় শাখায় বিবিএ, এমবিএ বা অনার্স, মাস্টার্স করেও অনেক ব্যাংকারই ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় নিজ বিষয়ে প্রথমবারে পাশ করতে পারেন না। তাছাড়া যারা ব্যবসায় শিক্ষা ছাড়া অন্য কোন বিভাগের শিক্ষার্থী তাদের জন্য প্রস্তুতি নেয়াটা আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং। আবার ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থী হলেও কি হবে এদেশের শিক্ষা পদ্ধতির সাথে চাকুরী জীবনে প্রবেশের পরীক্ষা পদ্ধতি সাংঘর্ষিক। চাকুরীর প্রস্তুতি নিতেই ছাত্রজীবনে কি পড়ে আসছে তা অনেকেই বেমালুম ভুলে যায়। সেক্ষেত্রে ব্যাংকিং ডিপ্লোমার পরীক্ষায় যারা যে বিভাগ থেকে আসুক না কেন সবার জন্যই একটি চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। যদিও ব্যাংকাররা অনেকেই ব্যাংকিং ডিপ্লোমার বিষয়গুলো আগেই পড়ে এসেছে। তারপরও তাদেরকে পঠিত বিষয়গুলোই আবার পরীক্ষা দিতে হয়। পাশ ফেলের টেনশন করতে হয়। আবার প্রত্যেক বছর ফলাফল প্রকাশের পর অনেক ব্যাংকার ফলাফল রিভিউ করার জন্য আবেদন করলেও ফলাফল পরিবর্তন হয় এমন ব্যক্তির সংখ্যা খুবই নগন্য। উল্টো অর্থের অপচয় হয় মাত্র।

আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। পরীক্ষার সিট যে কেন্দ্র স্কুল বা কলেজে পরে সেখানকার শিক্ষক বা ম্যাডামরা ব্যাংকারদের সাথে যা ইচ্ছা তাই আচরন করেন। খাতা টেনে নিয়ে যায়। কখনও নানা রকম কটু কথা বলে। হল থেকে বের করে দেয়। বলতে গেলে মানুষই মনে করে না ব্যাংকারদের। তারপরও ভদ্রতা আর ধৈর্যের খাতিরে ব্যাংকাররা চুপ করে থাকেন। ব্যাংকিং ডিপ্লোমা বা আইবিবি মূল্যহীন একটা পরীক্ষা বর্তমান সময়ে যার কোন গ্রহণযোগ্যতা নাই বলে অনেকেই বলে থাকেন। বরং এ পরীক্ষাটির কারণে সকল ব্যাংকারকেই পরীক্ষার হলে হেনস্থার স্বীকার হতে হয়। এই ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাকালীন দেশে এখনকার মতো বিবিএ এমবিএ বা অন্যকোন প্রফেশনাল ডিগ্রি ছিল না। শ্রদ্ধা নিয়েই বলছি অনেকে হয়তো তৎকালীন সময়ে সাধারণ এসএসসি বা এইচএসসি পাশ করেই ব্যাংকে জয়েন্ট করেছেন। কর্মকর্তারা ততবেশি ব্যাংকিং সহায়ক পড়াশুনারও সুযোগ পেতেন না। তাই এসব বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে ব্যাংকিং খাতে অধিকতর দক্ষ ও প্রায়োগিক জ্ঞান সম্পন্ন কর্মকর্তা তৈরির লক্ষ্যে এবং ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট মৌলিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ব্যাংকারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে সে সময়ে ব্যাংকিং ডিপ্লোমার ব্যবস্থা করা হয়।

গত একযুগ বা তারও বেশি বছর ধরে এদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সাথে সমন্বয় রেখে এবং প্রতিযোগিতা আর সময়ের চাহিদায় নতুন নতুন বিষয় বা প্রফেশনাল ডিগ্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজ যারা দেশের বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন তারা এসব বিষয়গুলোই (যা আইবিবি’র সিলেবাস অন্তর্ভুক্ত আছে) পড়াশুনা করে তারপর প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লড়াই করেই চাকুরী পেয়েছে। তারপরও আবার পঠিত বিষয়গুলোকেই ব্যাংকিং ডিপ্লোমায় রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অবাক লাগে বর্তমান যুগেও বিবিএ, এমবিএ বা এমন প্রফেশনাল ডিগ্রিকে গুরুত্ব না দিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ব্যাংকিং ডিপ্লোমাকে। যার অবস্থানকে আরও বেশি সুসংহত করল বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩ অক্টোবরের আকস্মিক সার্কুলার। যেখানে ব্যাংক কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে ব্যাংকিং ডিপ্লোমায় নির্ধারিত নম্বর রাখার জন্য ব্যাংকগুলিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অথচ এই ডিপ্লোমা নিয়ে সকল ব্যাংকারদের নানা অভিযোগের কমতি নাই। সেখানে সকল ব্যাংকারদের আশ্রয়স্থল বা বিপদের কান্ডারী বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সার্কুলার সবাইকে আহত করেছে বলে অনেকেই মনে করেন। আরেকটি কথা না বললেই নয় যে, বর্তমানে এমবিএ প্রফেশনাল কোর্সটি ব্যবসায়ের শিক্ষার্থীর পাশাপাশি কলা আর বিজ্ঞানের বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ডিগ্রিটি নিয়ে থাকেন। এতকিছুর পরেও ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পাশ করতে হবে। তারপর পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন। ফেল করলে বছরের পর ঝুলে থাকতে হবে। ব্যাপারটি দুঃখজনক।

বাংলাদেশে ব্যাংকিং সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দি ইন্সটিটিউট অব ব্যাংকারস, বাংলাদেশ (আইবিবি) কতটুকু কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে তা এদেশের ব্যাংকিং পাইওনিয়ররাই মুল্যায়ন করবেন। অন্যদিকে ব্যাংকারদের পদোন্নতিতে নির্ধারিত নম্বর রাখার অনভিপ্রেত নির্দেশনা পুর্ণবিবেচনা করে ব্যাংকারদের গলার কাঁটা নামক ব্যাংকিং ডিপ্লোমার পরীক্ষার সিলেবাস সংশোধণ, আধুনিকায়ণ ও দুই পর্বের পরীক্ষা পদ্ধতিকে ঢেলে সাঁজিয়ে আরও যুগোপযোগী করা হউক দেশের সকল ব্যাংক কর্মকর্তাদের এটাই প্রত্যাশা।

লেখকঃ মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, ব্যাংকার

সৌদি আরব যেতে অভিবাসী শ্রমিকেরা নতুন বিপত্তিতে

নতুন করে বিপত্তিতে পড়েছেন অভিবাসী শ্রমিকেরা।
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর মহামারীর মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসী শ্রমিককে পুনরায় ভিসা দিতে নতুন করে কাগজপত্র জমা দিতে বলেছে সৌদি আরব। মহামারীর আগে ভিসা পেলেও প্রাদুর্ভাবের কারণে যারা যেতে পারেননি তাদের নতুন করে কাগজপত্রের সঙ্গে মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন এই খাতে সংশ্লিষ্টরা।
প্রবাসে‘লাভজনক’ চাকরির আশায় এরই মধ্যে এই অভিবাসী শ্রমিকরা ঋন করে কিংবা কষ্টার্জিত আয়ের পুরো অর্থই খরচ করে ফেলেছেন কাজ এবং ভিসা পেতে। করোনা মহামারীর মধ্যে যেতে না পারায় এমনিতেই কঠিন দিন পার করছেন তারা। তার মধ্যে নতুন করে সব কাগজপত্র চাওয়া মানে তাদের পুনরায় আর্থিক সংকটে ফেলে দেয়া।
পুনরায় ভিসা দেয়ার বিষয়টি সৌদি নিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করবে। করোনার আগে তারা শ্রমিক নিয়োগের জন্য স্থানীয় নিয়োগকারীদের ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ দিয়েছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে তৈরি অর্থনৈতিক মন্দায় তারা এখন শ্রমিক নিয়োগ দেবেন কিনা তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এর তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মার্চ পর্যন্ত সৌদি নিয়োগকারীরা বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক লাখ ৩৩ হাজার কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন। করোনা মহামারীর কারণে মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে শ্রমিক নেয়া বন্ধ হয়ে যায়।

বায়রার সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ জানান, মহামারীর আগে নিয়োগকর্তারা নির্দিষ্ট কিছু প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগের জন্য বাংলাদেশি নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে ডিমান্ড লেটার পাঠিয়েছিলেন। সেই প্রকল্পে কর্মী নিয়োগে তারা এখন কতটা সক্ষম সে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার তাদের রয়েছে।

বিএমইটির মহাপরিচালক শামসুল আলম জানান, বিএমইটিতে স্মার্ট কার্ডধারীদের নতুন করে কিছু করতে হবে না। বায়রার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে ৮৬ হাজার শ্রমিক পাঠানোর যে ভিসা অ্যাডভাইস কপি রয়েছে তার মেয়াদ মার্চে শেষের দিকে ছিল।

করোনা আপডেট- ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত ১৩৮০ মৃত্যু ১৮

করোনা আপডেট- ২০/১০/২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মেশকাতুল ইসলাম সিয়াম-
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ১হাজার ৩৮০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।এই নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৯১ হাজার ৫৮৬ জন। এইদিকে গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু বরণ করেন ১৮ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫ হাজার ৬৯৯ জনে।
গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫৪২ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৭ হাজার ১৪১ জন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ ই মার্চ। আর প্রথম করোনায় মৃত্যু বরণ করেন ১৮ ই মার্চ।

করোনা খবর- দেশে করোনায় মোট আক্রান্ত প্রায় ৪ লাখ

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৯০ হাজার ২৬০ জন। গত ৮ মাসে দেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু বরণ করেন ৫ হাজার ৬৮১ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৫ হাজার ৫৯৮ জন।

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ ই মার্চ। আর প্রথম করোনায় মৃত্যু বরণ করেন ১৮ ই মার্চ।

এই দিকে করোনা ভাইরাসে সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৪ কোটি মানুষ। আর এখন পর্যন্ত মৃত্যু বরণ করেন ১১ লাখ ৪ হাজার মানুষ। করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চীনে সর্বপ্রথম করোনা শনাক্ত হয়। বর্তমানে এটি বিশ্বের ২১৪ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত মার্চ মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে ঘোষণা করেন।

জিডিপিতে ভারতকে পেছনে ফেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ: আইএমএফ


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চলতি বছরের মধ্যে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অগ্রগতিতে বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ অর্থনীতির দেশ ভারতকে পেছনে ফেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

সংস্থাটির সাম্প্রতিক ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশের সম্ভাব্য মাথাপিছু জিডিপি চার শতাংশ বেড়ে হতে পারে ১ হাজার ৮৮৮ ডলার। সেখানে ভারতের সম্ভাব্য মাথাপিছু জিডিপি ১০ দশমিক পাঁচ শতাংশ কমে হতে পারে ১৮৭৭ ডলার। অর্থাৎ এই প্রথম মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে ১১ ডলার এগিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। বিশ্ব জিডিপিতে ভারতের অংশ যেখানে ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ সেখানে বাংলাদেশের অংশ মাত্র দশমিক ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের অর্থনীতির আকার ১০ গুণ বড়। তারপরও ভারতকে টপকে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের এই পিছিয়ে পড়া নিয়ে ভারতেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু লিখেছেন, যে কোনও বিকাশমান অর্থনীতির দেশের অগ্রগতির খবর অবশ্যই ভালো। কিন্তু এ খবরটি ভারতের জন্য বিরাট একটি ধাক্কা। পাঁচ বছর আগেও যে দেশের চেয়ে ২৫ শতাংশ এগিয়ে ছিল ভারত, এখন সেই দেশের পেছনে।

আইএমএফ বলছে, ১৯৯০-এর দশকে অর্থনীতি উন্মুক্ত করার পর থেকেই চীনের দ্রুত সম্প্রসারণকে ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে ভারত। তিন দশক এই লক্ষ্যে চলার পর বাংলাদেশের পেছনে পড়ায় ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। চীনকে মোকাবিলায় কার্যকর অংশীদারত্ব চায় পশ্চিমারা। কিন্তু তারা চায় না সেই অংশীদার ভারত নিম্নমধ্যম আয়ের ফাঁদে আটকে পড়ুক।

ভারতের জনসংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে আটগুণ বেশি হলেও করোনায় মৃতের সংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে ২০ গুণ বেশি। সবচেয়ে ক্ষতি হলো করোনা মোকাবিলা করতে গিয়ে লকডাউন কার্যকর করায় ভারতের প্রবৃদ্ধি ১০.৩ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে বলে মনে করে আইএমএফ। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে করোনার প্রভাবে যে ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে সেটির তুলনায় এই প্রায় ২ দশমিক ৫ গুণ বেশি।
সৌমিত্র ও অরবিন্দ লিখেছেন, ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্বল্প-দক্ষতার টেক্সটাইল পোশাক খাতে উৎপাদন ঘাটতি ১৪০ বিলিয়ন ডলার। যা ভারতের জিডিপির ৫ শতাংশ।

যদি ভারতের ২০১৯ সালের কম্পিউটার সফটওয়্যার রপ্তানির অর্ধেক বাতিল হতো তাহলে উন্মোদনা ছড়িয়ে পড়তো। কিন্তু ওই ৬০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি তেমন, যেমন প্রতি বছর স্বল্প-দক্ষতার পণ্য উৎপাদনে হয়। এটিই প্রকৃত অবস্থা কিন্তু কেউ তা নিয়ে কথা বলতে চায় না। নীতিনির্ধারকরা কখনও স্বীকার করতে চান না যে জুতো ও পোশাক কারখানা কখনও গড়ে উঠেনি বা জোর করে বন্ধ করা হয়েছে। এগুলো থেকেও ডলার উপার্জন করা এবং সাধারণের কর্মসংস্থান সম্ভব। এই খাত গ্রাম থেকে নগরে অভিবাসনের স্থায়ী পথ দেখাতে পারে, যা উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের দরকার হয় এমন চাকরিতে এতো সহজে সম্ভব না। বাংলাদেশে কর্মক্ষম শ্রমশক্তির মধ্যে প্রতি ৫ জনের মধ্যে ২ জন নারী রয়েছেন। এই হার ভারতের চেয়ে দ্বিগুণ। ভারতে এই হার ২১ শতাংশ।

আর্থিক সংকট, পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকা আর্থিক ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ভীতি ভারতের কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে আরও বিলম্বিত করবে। আরও খারাপ খবর হল, এমনকি করোনা মহামারি ছাড়াও ভারত হয়তো বাংলাদেশের পেছনে চলে যেত। এই পিছিয়ে পড়ার সম্ভাব্য কারণ উঠে এসেছে পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ সৌমিত্র চ্যাটার্জি ও ভারতের সাবেক প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রামানিয়ানের একটি নতুন গবেষণায়। তারা এই গবেষণার নাম দিয়েছেন, ইন্ডিয়া’স ইক্সপোর্ট-লেড গ্রোথ: এক্সেমপ্লার অ্যান্ড এক্সেপশন (ভারতের রফতানি-নির্ভর প্রবৃদ্ধি: উদাহরণ ও ব্যতিক্রম)।

“লক্ষ্মীপুরের কৃতি সন্তান হিজবুল বাহার রানা বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হলেন”

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দেশরত্ন শেখ হাসিনার আনুগত্যের নির্ভিক নেতা বিশিষ্ট সমাজসেবক, দানশীল ব্যাক্তি এবং লক্ষ্মীপুর জেলার কৃতি সন্তান জনাব হিজবুল বাহার রানা।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি বরাবর প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিলে আজ ১৯ অক্টোবর ২০২০ রোজ সোমবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি স্বাক্ষরিত পত্রে ১১১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের পুর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা।

বাংলাদেশ কৃষকলীগের নবনির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক “জনাব হিজবুল বাহার রানা”- লক্ষ্মীপুর টিভি ফাইল ফটো।

সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানাই। আমাকে নব গঠিত বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সন্মানীত সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, সাধারন সম্পাদক জননেতা ওবায়দুল কাদের এমপি, শ্রদ্ধেয় নেতা বাংলাদেশ কৃষক লীগের বিপ্লবী সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ ও সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপির প্রতি চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দেশে কৃষির উন্নয়ন এবং কৃষকের স্বার্থরক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল “কৃষক বাঁচাও ,দেশ বাঁচাও” শ্লোগানে বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। আবদুর রব সেরনিয়াবাদ ছিলেন সংগঠনটির প্রথম সভাপতি।
উল্লেখ্যঃ গত বছর ৬ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে (আইইবি) সম্মেলনে সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দকে এবং উম্মে কুলসুম স্মৃতি কে সাধারণ সম্পাদক করে কৃষক লীগের দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নবাগত ইউএনও এর সাথে অগ্রযাত্রা ফাউন্ডেশন এর সৌজন্যে সাক্ষাৎ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি (সিয়াম)- লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোহাম্মদ মাসুম এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে লক্ষ্মীপুর জেলার অন্যতম সেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন অগ্রযাত্রা ফাউন্ডেশন ও অগ্রযাত্রা ব্লাড ডোনেট ক্লাব। ১৯ অক্টোবর (সোমবার) সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কার্যালয় এ সৌজন্য সাক্ষাৎ এ উপস্থিত ছিলেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুম, অগ্রযাত্রা ফাউন্ডেশন এর সভাপতি ও অগ্রযাত্রা ব্লাড ডোনেট ক্লাব এর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ নূর হোসেন ফাহাদ, অগ্রযাত্রা ব্লাড ডোনেট ক্লাব এর সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ তারেক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেশকাতুল ইসলাম সিয়াম, প্রচার সম্পাদক আবুল বায়ান, সদস্য রাকিব, তানভীর হোসেন রনি, সোরাভ হোসেন রাকিব, মারুফ হোসেন, তারভীর হোসেন সিফাত প্রমুখ।

সরকার শিশুদের ভবিষ্যত রচনায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে : শেখ রাসেলের জন্মদিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

১৮ অক্টোবর, ২০২০ (বাসস) : জাতির পিতার কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নির্মম হত্যাকান্ডের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা আর যাতে না ঘটে সেজন্য তাঁর সরকার শিশুদের জন্য একটি ভবিষ্যত রচনায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটুক সেটাই আমরা চাই।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়ে গেছেন। এই স্বাধীনতার সুফল প্রত্যেক ঘরে পৌঁছাবে এবং প্রতিটি শিশু লেখাপড়া শিখে আগামী দিনে এদেশের কর্ণধার হবে, সুন্দরভাবে বাঁচবে সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে জাতির পিতার কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বাষ্পরুদ্ধ কন্ঠে বলেন, ‘আজকে রাসেলের জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর রাসেলের জন্ম। কিন্তু তাঁর জীবন শেষ হয়ে যায়, একটি ফুল কুড়িতেই শেষ হয়ে যায়, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে তাঁকে নির্মমভাবে চিরবিদায় নিতে হয়।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে তাঁর (রাসেলের) বিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ রাসেলের ‘ম্যুরাল’ উন্মোচন করেন এবং ‘শহীদ শেখ রাসেল ভবন’ উদ্বোধন করেন।
ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে তিনি শহীদ শেখ রাসেলের ওপর নির্মিত এনিমেটেড ডকুমেন্টারি ‘বুবুর দেশ’-এর প্রদর্শনী এবং শেখ রাসেলের জীবনীর ওপর প্রকাশিত বই ‘শেখ রাসেল আমাদের আবেগ’ এবং ‘স্মৃতির পাতায় শেখ রাসেল’ শীর্ষক দু’টি বইয়ের মোড়কও উন্মোচন করেন।
শেখ রাসেল শিশু-কিশোর সংসদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে প্রচারিত ‘শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের কার্যক্রম সংক্রান্ত ভিডিও চিত্র অবলোকন, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণসহ অন্যান্য কার্যক্রমে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটির সঙ্গে একাধারে প্রধানমন্ত্রীর গণভবন, শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণ এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সংযুক্ত ছিল।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রান্তে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদান করেন। শেখ রাসেল অনলাইন দাবা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার এবং সংগঠনটির সাংগঠনিক কর্মকান্ডে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তিনি ল্যাপটপও বিতরণ করেন।
শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. রকিবুর রহমান, মাহমুদুস সামাদ এমপি, কে এম শহীদুল্লাহসহ সংগঠনটির শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আজকে তাঁর (শেখ রাসেল) স্কুলের সব শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা যে উদ্যোগটা নিয়েছেন, সেখানে রাসেল আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী যুগ যুগ ধরে যারা পড়াশোনা করবে তারা এটুকু শিখবে, এইটুকু জানবে যে, একটি ছোট্ট শিশু ছিল এই স্কুলে যে শিশুটিকে বাঁচতে দেয়া হয়নি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি শিশুদের জন্য বলবো-আমাদের শিশুরা দেশপ্রেমিক হবে, মানুষের মত মানুষ হবে, মানুষের সেবা করবে এবং নিজেদেরকে উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। আধুনিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত হবে।’
তিনি এ সময় করোনাভাইরাসকালীন সতর্কতা হিসেবে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করা এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে স্কুল খুললেই সকলে আবার শ্রেণী কার্যক্রমে যথাযথভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি অভিভাবকদেরকে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি তাদের মধ্যকার সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং খেলাধুলার সুযোগ করে দেয়ারও আহ্বান জানান।
‘মুজিববর্ষে’ ৫৬তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠিত হচ্ছে শেখ রাসেলের। ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল ঢাকার বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়িতে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর) জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অন্য সকলের সঙ্গে ঘাতকের বুলেটে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে অন্য সবার সঙ্গে না ফেরার দেশে চলে যায় সে।