অদ্য ইং ১৭-১২-২০২০ তারিখ সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় এই ছেলেটিকে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানাধীন রাজেন্দ্রপুর ফ্লাইওভার ব্রীজ এর উপর পাওয়া গিয়াছে । ছেলেটি তাহার নাম ও ঠিকানা কিছুই বলতে পারেনা। বর্তমানে ছেলেটি দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানায় আছে। যদি কেহ ছেলেটির পরিচয় জানেন তাহলে থানায় আসিয়া যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হইল
রাজেন্দ্রপুর ফ্লাইওভার ব্রীজ এর উপর ছেলে পাওয়া গিয়াছে
আত্মবিশ্বাসই আমার গডফাদার পরীমনি
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে পরীমনি অভিনীত ছবি ‘বিশ্বসুন্দরী’। যা দেখতে সিনেমা হলগুলোতে দর্শক ভিড় জমাচ্ছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশি হিসেবে ফোর্বসের ডিজিটাল তারকা’র তালিকায় স্থান পেয়েছেন পরী। সব মিলিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন হালের জনপ্রিয় এই চিত্রনায়িকা।এদিকে, গতকাল রাতে তানভীর তারেকের ‘জীবন যেখানে যেমন’ ভার্চুয়াল শোতে অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন পরীমনি। সেখানে সিনেমা ও ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। কথার প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন তার গডফাদার নিয়েও।
এমন প্রশ্নের উত্তরে পরী বলেন, ‘হ্যাঁ, আমিও শুনেছি সিনেমায় নাকি নায়ক-নায়িকাদের গডফাদার থাকে। আমারও আছে। কে তা কি জানেন? মূলত, আত্মবিশ্বাসই আমার গডফাদার। এই আত্মবিশ্বাসের বলেই আমি ছিলাম এবং থাকবো আশা করি।’
বিজয়ের সৌরভ আমরাই পৌঁছে দেব পৃথিবীর আনাচে কানাচে: শাকিব খান
১ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে লাল পাঞ্জাবীর সঙ্গে লাল সবুজ চাদরে দেখা গেছে তাকে। খালি পায়ে ধীর তালে এগিয়ে গেছেন স্মৃতিসৌধের দিকে। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন শাকিব খান।শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই বিজয় দিবসে আমাদের দৃঢ় শপথ হবে, নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে নিজেদের প্রতিটি সেক্টরে বিজয়ী হওয়া। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের হাতে যে বিজয় তুলে দিয়েছেন, সে বিজয়ের সৌরভ আমরাই পৌঁছে দিব পৃথিবীর আনাচে কানাচে। বাংলাদেশ নামের একটি ফুলের গন্ধে সুরভিত হোক গোটা পৃথিবী। সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।’
প্রকাশের পর ভিডিওটি লুফে নিয়েছে শাকিবিয়ানরা। ভার্চুয়াল বার্তায় বেশ প্রশংসা পেয়েছেন কিং খান। ভিডিওর কমেন্টস ঘর এবং নেট দুনিয়ার সিনেমা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। রোমান সরকার কমেন্টস ঘরে লিখেছেন, ‘আবারও প্রমাণ করলো কিং খান শাকিব খান সবদিক থেকে সেরা।’ সেলিম মিয়া লিখেছেন, ‘এতো সুন্দর ভাবে কেউ পারেনি আগে। যা করে দেখালো আমাদের শাকিব খান।’ সজীব খান নামে এক শাকিবিয়ান লিখেছেন, ‘লাভ ইউ বস। ভাইজানের জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা।’
গ্রাহকদের ৬ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সমবায় সমিতি
গ্রাহকদের ৬ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সমবায় সমিতি দ্বিগুণ মুনাফার প্রলোভনে কয়েকশ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে টাকা।
নীলফামারীতে গ্রাহকদের প্রায় ৬ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সমবায় সমিতি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা ফেরত পেতে কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করলেও, প্রশাসন থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
সাতক্ষীরার সালমা চৌধুরী। ডোমার উপজেলার শাহীপাড়ার বাসিন্দা। দ্বিগুণ মুনাফার আশায় ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন ডোমার বাজার ভোগ্যপণ্য সমবায় সমিতিতে।সালমার মতো ছয় শতাধিক গ্রাহক অধিক মুনাফার আশায় ১০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা দিয়েছেন সমিতিতে। তবে, টাকা নেয়ার পরই কার্যালয়ে তালা দিয়ে লাপাত্তা সমিতির কমকর্তা-কর্মচারীরা।
ভুক্তভোগীরা জানান, ৪৫ দিন ধরে বিভিন্ন প্রলোভনে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে সমিতির সভাপতি মামুন হাসান মালিক, কর্মকর্তা নূর আলমসহ কয়েকজন। তারা এমনভাবে আমাদের বুঝিয়ে টাকা নিয়েছে যে আমরা বুঝতেই পারি নি।প্রশাসনকে জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ প্রতারিত গ্রাহকদের। প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন অনেকে।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সুজনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম কুদ্দুস আইয়ুব বলেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় কোটি কোটি টাকা তারা আত্মসাত করে নিয়ে গেলো। ৪৫ দিন ধরে এভাবে তারা টাকা নিয়ে গেল প্রশাসন নিরব কেনো। এর নিশ্চয় রহস্য আছে।তবে, পুলিশ বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে নেয়া হবে ব্যবস্থা। ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ভুক্তযোগীরা যখনই অভিযোগ দিবে তাৎক্ষনিকভাবে যে যে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যায় আমরা নিব।আমাদের কাছে এখনো কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি।
টাকা ফেরতের দাবিতে কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছেন ভুক্তভোগীরা।
করোনাভাইরাসে বিশ্বে আরও প্রায় ১২ হাজার মানুষের মৃত্যু
করোনা ভাইরাসে বিশ্বে আরও প্রায় ১২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গেলো ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি।দিনে সর্বোচ্চ প্রায় আড়াই হাজার মানুষ মারা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। শনাক্ত হয়েছে ২ লাখের বেশি রোগী। এ নিয়ে দেশটিতে মোট প্রাণহানি ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৮শ’ মানুষের মৃত্যু হয়েছে জার্মানিতে। ব্রাজিলে মারা গেছে আরও ৮ শতাধিক। শুক্রবার ভারতে প্রাণহানি হয়েছে সাড়ে তিনশ’ জনের। এতে দেশটিতে মোট সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ কোটি।
এছাড়া ইতালি, রাশিয়া, মেক্সিকোতেও গেলো ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৬ শতাধিক করে মানুষ। এ নিয়ে বিশ্বে কোভিড নাইনটিনে মোট প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ১৬ লাখ ৭৯ হাজার। শনাক্ত ৭ কোটি ৫৯ লাখের বেশি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় ৩৯ দফা ঘোষণা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ভার্চ্যুয়ালি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় দুই প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসেন। এক ঘণ্টা ১৫ মিনিটের বৈঠকে তারা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ৩৯ দফা যৌথ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের পক্ষ থেকে আজ এই যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হয়।
এতে বলা হয়, উভয়পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
উভয় প্রধানমন্ত্রীই ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও অন্যান্য অভিন্নতার বন্ধনের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে গড়া এবং সার্বভৌমত্ব, সাম্য, আস্থা ও সমঝোতার একটি সর্বাত্মক অংশীদারিত্বের প্রতিফলন, যা কৌশলগত অংশীদারিত্বকে ছাড়িয়ে যায়। তারা একাত্তরের মহান আত্মত্যাগের জন্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জনগণের আকাক্সক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গণতন্ত্র ও সাম্যের লালিত মূল্যবোধকে সমুন্নত এবং সুরক্ষিত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
দুই নেতা ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরকালে নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষই ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত যৌথ পরামর্শক কমিশনের ষষ্ঠ বৈঠকের সফল আয়োজনের কথা স্মরণ করেন। উভয় পক্ষ নিজ নিজ দেশে চলমান কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এবং চলমান সংকটেও দু’দেশের মধ্যে যেভাবে টেকসই সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথমে’ নীতিমালার আওতায় বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বাস দেন যে, ভ্যাকসিন ভারতে তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের কাছে সরবরাহ করা হবে। উভয় নেতা এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের মধ্যে চলমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।
ভারত ভ্যাকসিন উৎপাদনে চিকিৎসা ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। চিকিৎসা পেশাজীবীদের জন্য বাংলা ভাষায় আয়োজিত ভারতের সক্ষমতা বাড়ানো কোর্সের প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলমান ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনে ভারতের আন্তরিকতার প্রশংসা করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে ভারত সরকার প্রদত্ত একটি স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে গান্ধীজির দেড়শতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মহাত্মা গান্ধীর সম্মানে ডাকটিকিট উন্মোচন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
এ উপলক্ষে বিংশ শতাব্দীর দুই মহান নেতা, মহাত্মা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধুর স্মরণে তৈরি করা ডিজিটাল প্রদর্শনীর একটি প্রাথমিক ভিডিও প্রদর্শিত হয়। উভয় নেতা আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন শহর, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং জাতিসংঘে প্রদর্শিতব্য এই প্রদর্শনীটি বিশেষত তরুণদের মধ্যে ন্যায় বিচার, সমতা ও অহিংসার মূল্যবোধ জাগ্রত করবে।উভয় পক্ষই উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিকের শুটিং ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হবে।
২০২১ সাল ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ঐতিহাসিক হয়ে উঠবে। কারণ, দুই দেশ মুক্তিযুদ্ধের পঞ্চাশতম বার্ষিকী এবং ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ককে স্মরণ করবে, এই ভাবনায় তারা এই দুই যুগান্তকারী অনুষ্ঠান স্মরণে যৌথভাবে ভারত, বাংলাদেশ ও তৃতীয় দেশগুলোতে বেশ কযয়েকটি কার্যক্রমের আয়োজন করার বিষয়ে সম্মত হয়।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মুজিবনগর থেকে নদিয়া পর্যন্ত সড়কটির মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ঐতিহাসিক তাৎপর্য স্মরণ করে সড়কটিকে ‘স্বাধীনতা সড়ক’ হিসেবে নামকরণে বাংলাদেশের প্রস্তাব বিবেচনা করার জন্য ভারতীয় পক্ষকে অনুরোধ করেন।
উভয় পক্ষ সংস্কৃতি, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যুব ও ক্রীড়া এবং গণমাধ্যম প্রচারের জন্য দুই দেশের গ্রুপগুলোর মধ্যে নিয়মিত বিনিময় অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।ড়ান্তকরণের লক্ষ্যে ইছামতি, কালিন্দী, রায়মঙ্গল ও হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর তীরে মেইন পিলার এক থেকে স্থল সীমান্তের শেষ সীমা পর্যন্ত নতুন স্ট্রিপ মানচিত্রের সেট প্রস্তুত করতে এবং স্থল সীমানা চূড়ান্তকরণে উভয় পক্ষই যৌথ সীমান্ত সম্মেলনের প্রথম বৈঠক করতে সম্মত হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী আন্তর্জাতিক সীমানাকে একটি নির্দিষ্ট সীমানায় রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।
বাংলাদেশ তার রাজশাহী জেলার নিকটবর্তী পদ্মানদীর তীরে নদীপথে ১.৩ কিলোমিটার ইনোসেন্ট প্যাসেজের অনুরোধটি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভারতীয় পক্ষ অনুরোধটি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে।উভয় নেতা ত্রিপুরা (ভারত)-বাংলাদেশ সেক্টরের শুরু থেকে দুই দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন সমাপ্তকরণে সম্মত হন। উভয় নেতা এ ব্যাপারেও একমত হয়েছেন যে সীমান্তে নাগরিকের প্রাণহানির বিষয়টি উদ্বেগের এবং এ ধরনের ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সীমান্ত বাহিনীকে নির্দেশনা দেন। নেতারা চলমান সমন্বিত সীমান্ত পরিচালনা পরিকল্পনার সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের উপর জোর দিয়েছেন। উভয় পক্ষই অস্ত্র, মাদক ও জাল মুদ্রা চোরাচালান এবং মহিলা ও শিশু পাচার রোধে দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে।
বাংলাদেশ ও ভারত ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির সম্মুখহীন হয় উল্লেখ করে দুই নেতা উভয়পক্ষের কর্মকর্তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা চুক্তিটি সম্পাদনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।সন্ত্রাসবাদকে বৈশ্বিক শান্তি ও সুরক্ষার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে উভয় পক্ষ সন্ত্রাসবাদের সব কার্যক্রম নির্মূল করার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে।
উভয়পক্ষই দু’দেশের মধ্যে জনগণের চলাচল সহজীকরণের উপর জোর দিয়েছে। আখাউড়া (ত্রিপুরা) এবং ঘোজাডাঙ্গা (পশ্চিমবঙ্গ) চেকপয়েন্ট থেকে শুরু করে বৈধ কাগজপত্রধারী বাংলাদেশিদের জন্য ভারতে প্রবেশ/বহির্গমন নিষেধাজ্ঞা অপসারণের প্রতিশ্রুতি শিগগিরই বাস্তবায়নের জন্য ভারতকে অনুরোধ করেছে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সাল থেকে সাফটার আওতায় ভারতে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত এবং কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের প্রশংসা করেছেন। উভয় প্রধানমন্ত্রী বন্দরের বিধিনিষেধ, প্রক্রিয়াগত বাধা ও কোয়ারেন্টিন বিধিনিষেধসহ অশুল্ক বাধা সমাধান ও বাণিজ্য সুবিধার উপর জোর দিয়েছেন, যাতে উভয় দেশ সাফটা নমনীয়তার পুরোপুরি সুবিধা নিতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল যে, যেহেতু ভারত থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য রপ্তানি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে প্রভাবিত করে, তাই ভারত সরকারের রপ্তানি নীতিতে যে কোনো সংশোধনী যেন আগাম জানানো হয়। ভারতীয় পক্ষ এই অনুরোধ বিবেচনায় নিয়েছিল।
উভয় নেতা কোভিড-১৯ মহামারিতে বিদ্যমান রেলরুটের মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজতর করা, সাইড-ডোর কনটেইনার এবং পার্সেল ট্রেন ব্যবহার করে সরবরাহ শৃঙ্খল অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বাণিজ্য ও রেল কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেন।
দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের অপরিসীম সম্ভাবনা চিহ্নিত করে উভয় প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের দ্বিপক্ষীয় ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (সিইপিএ)সম্ভাবনা নিয়ে চলমান যৌথ গবেষণাটি দ্রুততার সঙ্গে শেষ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বছরের শুরুর দিকে ভারত-বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি ফোরামের প্রথম বৈঠককে স্বাগত জানিয়ে নেতারা টেক্সটাইল সেক্টরে বর্ধিত সংযোগ ও সহযোগিতার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছিলেন এবং ভারত সরকারের বস্ত্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি বিষয়ে চলমান আলোচনা সমাপ্ত করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তারা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাটজাত পণ্য রপ্তানির জন্য চাপানো অ্যান্টি-ডাম্পিং/অ্যান্টি- সারকামভেনশন শুল্কের পরামর্শকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এডিডির সাথে সম্পর্কিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
উভয় প্রধানমন্ত্রী দু’দেশের মধ্যে ১৯৬৫ সাল পূর্ববর্তী রেলপথ পুনরুদ্ধারে অব্যাহত অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তারা যৌথভাবে হলদিবাড়ি (ভারত) এবং চিলাহাটির (বাংলাদেশ) মধ্যে পুনঃস্থাপিত নতুন রেলপথ উদ্বোধন করেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এই রেলপথটি দুই দেশের বাণিজ্য ও জনগণের সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। কোভিড পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনটি চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।দুই নেতা চলমান দ্বিপাক্ষিক সংযোগ ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং পিআইডব্লিওটিটির অধীনে কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আগরতলায় ভারতীয় পণ্যের পরীক্ষামূলক পরিবহন, সোনামুড়া-দাউদকান্দি প্রোটোকল রুট চালু এবং অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও বাণিজ্য (পিআইডব্লিওটিটি) প্রোটোকলে দ্বিতীয় সংযোজন স্বাক্ষরসহ সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানান। দুই নেতা শিগগিরই চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্য পরিবহন চালু করতে সম্মত হন।
দু’দেশের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন এবং যোগাযোগ সহজ করার জন্য, নেতারা বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহণের জন্য সমঝোতা স্মারক সক্রিয়করণের মাধ্যমে বিবিআইএন মোটর যান চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করার বিষয়ে একমত হন। এতে ভুটান পরবর্তীতে যোগদানের বিধান থাকবে।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চলমান ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিপক্ষীয় মহাসড়ক প্রকল্পের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অঞ্চলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এই প্রকল্পের সঙ্গে বাংলাদেশকে যুক্ত করতে ভারতের সমর্থন কামনা করেন। একইভাবে ভারত বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ (হিলি) থেকে মেঘালয় (মহেন্দ্রগঞ্জ) পর্যন্ত যোগাযোগের অনুমতি দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছিল।
ভারত আগরতলা-আখাউড়া থেকে শুরু করে ভারত এবং বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে ন্যূনতম নেতিবাচক তালিকাযুক্ত (মিনিমাল নেগেটিভ লিস্ট) কমপক্ষে একটি স্থলবন্দর থাকার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে তার অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছিল যে, চটগ্রাম বন্দর থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহণের জন্য বাংলাদেশি ট্রাকগুলো ফেনী সেতু (নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর) ব্যবহার করবে।
দু’দেশের মধ্যকার দৃশ্যমান উন্নয়ন অংশীদারিত্ব স্বীকার করে, উভয়পক্ষই নিয়মিতভাবে ঋণ প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বাংলাদেশ থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব এবং ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনারের নেতৃত্বে সদ্য গঠিত উচ্চ পর্যায়ের মনিটরিং কমিটির সক্রিয় পরিচালনার উপর জোর দিয়েছিলেন।কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন দু’দেশের যাত্রীদের জরুরি প্রয়োজনে উভয়পক্ষের মধ্যে অস্থায়ী এয়ার বাবল শুরুর বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ পক্ষও ভারতীয় পক্ষকে শিগগিরই স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে উভয় সরকারের সম্মতি অনুসারে তিস্তার পানিবণ্টনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষর করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাতে ভারতের সরকারের আন্তরিক প্রতিশ্রুতি এবং অব্যাহত প্রচেষ্টার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুই নেতা মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতি, ধরলা ও দুধকুমার- ছয়টি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন সংক্রান্ত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কাঠামোটির দ্রুত সমাপ্তির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছিলেন।বাংলাদেশ পক্ষ কুশিয়ারা নদীর পানিসেচের জন্য রহিমপুর খালের অবশিষ্ট অংশের খনন কাজ সম্পন্ন করার জন্য ভারতীয় পক্ষকে সংশ্লিষ্ট সীমান্ত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করেছে। কুশিয়ারা নদী থেকে দুই দেশের পানি প্রত্যাহার পর্যবেক্ষণের জন্য উভয় দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকটি সম্পর্কে দ্রুত সমঝোতার জন্য ভারতীয় পক্ষকেও অনুরোধ করা হয়েছিল। দুই নেতা যৌথ নদী কমিশনের ইতিবাচক অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং সচিব পর্যায়ের জেআরসি পরবর্তী বৈঠকের অপেক্ষা ব্যক্ত করেন।
বেসরকারি খাতসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে শক্তিশালী সহযোগিতা নিয়ে উভয়পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন, মৈত্রী সুপার তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি অন্যান্য প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। উভয়পক্ষই হাইড্রোকার্বন সেক্টরে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা কাঠামো স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছে যা বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং হাইড্রোকার্বন সংযোগের প্রচারকে আরও সহজলভ্য করে জ্বালানি সংযোগকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। জৈব জ্বালানিসহ জ্বালানি দক্ষতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতেও সম্মত হয়েছিল। পরিবেশবান্ধব, পরিষ্কার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উভয় দেশের প্রতিশ্রুতি অনুসারে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গেও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছিল। উভয়পক্ষ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতেও সম্মত হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১.১ মিলিয়ন মানুষকে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেছেন। উভয় প্রধানমন্ত্রী তাদের নিরাপদ, দ্রুত এবং টেকসই প্রত্যাবর্তনের গুরুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার জন্য ভারতকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে ভারতের সহায়তার প্রতি বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচনে ভারতকে সমর্থন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। উভয় দেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দ্রুত সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ও অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় একসাথে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। উভয় প্রধানমন্ত্রীই ২০৩০ সালের এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত এসডিজিগুলি বাস্তবায়নের উপায় নিশ্চিত করার জন্য গ্লোবাল পার্টনারশিপের আওতায় উন্নত দেশগুলির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
উভয় নেতা কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের পরে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সার্ক এবং বিমসটেকের মতো আঞ্চলিক সংস্থাগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের প্রতি আলোকপাত করেন। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের মার্চে সার্ক নেতাদের ভিডিও কনফারেন্স আহ্বানের জন্য ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও তিনি দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে বৈশ্বিক মহামারির প্রভাব মোকাবিলায় সার্ক জরুরি প্রতিক্রিয়া তহবিল তৈরির প্রস্তাব দেওয়ায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সার্ক মেডিক্যাল ও জনস্বাস্থ্য গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রস্তাবটিও পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এ ব্যাপারে সহায়তা চান। বাংলাদেশ ২০২১ সালে আইওআরএ’র সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে এবং বৃহত্তর সামুদ্রিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় কাজ করার জন্য ভারতের সহায়তা কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বর্তমান মেয়াদে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামে বাংলাদেশের সভাপতিত্বের প্রশংসা করেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কাজের প্রশংসা করেছেন এবং এই প্রতিষ্ঠানে যোগদানের জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি অবকাঠামো উন্নয়নসহ একাধিক খাতে ব্যাংকের কাজকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এই উদ্যোগের অংশ হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এই উপলক্ষে, ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারা নিম্নলিখিত দ্বিপাক্ষিক দলিলগুলি স্বাক্ষর ও বিনিময় করেছেন: হাইড্রোকার্বন সেক্টরে সহযোগিতা সম্পর্কিত সমঝোতা কাঠামো, আন্তঃসীমান্ত হাতি সংরক্ষণ সম্পর্কিত প্রটোকল, উচ্চ প্রভাব কমিউনিটি উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের কাঠামোগত চুক্তি, বরিশাল সিটি করপোরেশনে আবর্জনা/কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন স্থলের সরঞ্জাম সরবরাহ ও উন্নয়নের বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি, ভারত-বাংলাদেশ সিইও ফোরামের রেফারেন্সের শর্তাদি, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর, ঢাকা এবং ন্যাশনাল মিউজিয়াম, নয়াদিল্লির মধ্যে সমঝোতা চুক্তি এবং কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক।নিম্নলিখিত দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদারিত্ব প্রকল্পগুলিও উদ্বোধন করা হয়েছে রাজশাহী শহরে সৌন্দর্য ও নগর উন্নয়ন প্রকল্প ও খুলনায় খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুল নির্মাণ। উভয় প্রধানমন্ত্রী নতুন স্বাভাবিক ব্যবস্থায় (নিউ নর্মাল) এই সম্মেলন আয়োজন করার জন্য একে অপরকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী এবং বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০২১ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান। সূত্র: বাসস
দেশের উত্তরাঞ্চলে মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ
পৌষের শীতের পরশ এরই মধ্যে পেয়েছে দেশবাসী। তবে গতকাল শুক্রবার থেকে বাড়তে শুরু করেছে শীতের তীব্রতা, বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে। কারণ নীলফামারী, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, যা আগামী চার থেকে পাঁচ দিন স্থায়ী হতে পারে। এটিই এ মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ গতকাল বলেন, উত্তরাঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। ফলে তাপমাত্রা হ্রাস পেয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরো কমবে। শৈত্যপ্রবাহ দেশের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের সবখানে বিস্তার লাভ করতে পারে।গত কয়েক দিনের মতো গতকালও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে ঘন কুয়াশা ও উত্তুরে হাওয়ায় দেশের উত্তরের জেলাটিতে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। দ্রুত কমছে তাপমাত্রা। আবারও এই জনপদে তাপমাত্রা নেমে এসেছে এক অঙ্কে। ফলে শীতে কাঁপছে গোটা জেলা; স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
বিশেষ করে গরিব মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুণে। একে তো তারা কাজে যেতে পারছে না; দুই. পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে তারা কষ্ট পাচ্ছে। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে খুব কম মানুষই।বেশ কয়েক দিন ধরেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে এই জেলা। তাপমাত্রা কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। প্রায় প্রতিদিনই দুপুর পর্যস্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে পুরো জনপদ। দুপুরে খানিক সময়ের জন্য সূর্যের দেখায় উত্তাপ মিললেও বিকেল গড়াতেই তা হু হু করে কমতে থাকে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে উত্তুরে হাওয়ার সঙ্গে চারদিকে বিছিয়ে পড়ে ঘন কুয়াশা। কমে আসে তাপমাত্রাও। মাঝরাতে হাড় কাঁপা শীত অনুভূত হয়। এ অনুভূতি থাকে পরদিন সকাল ১০-১১টা পর্যন্ত।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আগের দিন বৃস্পতিবার ছিল তা ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বুধবার ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক জিতেন্দ্রনাথ রায় গতকাল বলেন, উত্তরে হিমালয় থেকে সরাসরি ঠাণ্ডা বাতাস পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তাই এখানে শীতের তীব্রতা একটু বেশি থাকে। তাপমাত্রা অনুযায়ী এখন পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। দিন দিন তাপমাত্রা আরো কমে আসবে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ বড় শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে বলে জানান তিনি।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার সারা দেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। পাশাপাশি নীলফামারী, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে এবং এটি দেশের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের সব জায়গায় বিস্তার লাভ করতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশের রাতের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি এবং দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি হ্রাস পেতে পারে।
স্বার্থসিদ্ধির জন্য দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির নীলনকশা করছে বিএনপি: কাদের
স্বার্থসিদ্ধির জন্য দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির নীলনকশা করছে বিএনপি। এমন অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।শুক্রবার সকালে রাজধানীর সেতু ভবনে বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা এবং বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ কর্ণারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির এসব অপচেষ্টা অতীতের মতো বুমেরাং হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্বের কথা বলে অথচ বিদেশিদের কাছে নালিশ দেওয়াই এখন তাদের প্রধান কাজ।
এছাড়া আলোচনা সভায় ২০২২ সালে পদ্মাসেতুর উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
১৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়লো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি
বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনার কারণে কাওমী মাদরাসা ব্যতীত দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ১৬ ই জানুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। শুক্রবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দেশে করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দফায় দফায় ছুটি বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জে নিখোঁজের তিনদিন পর পুকুর থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নিখোঁজের তিনদিন পর আরাফাত নামে নয় বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের লাওসার এলাকায় শিশুটির বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। আরাফত ওই এলাকার সাবেক ইউপি ওয়ার্ড সদস্য রফিকুল ইসলাম ওরফে মনা মেম্বারের ছেলে।
স্বজনরা জানান, গত মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত নয়টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় আরাফাত। রাতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে বন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এদিকে, শুক্রবার সকালে নিজেদের বাড়ির পাশে একটি বড় পুকুরে আরাফাতের লাশ ভেসে উঠলে এলাকাবাসী থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদরের জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জ-খ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম এবং স্থানীয় মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুস সালামসহ ধামগড় পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা ও সদস্যরা। এ সময় স্বজনরাসহ এলাকার শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে এসে ভীড় জমান। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আরাফাতের পরিবার ও নিকট আত্মীয় স্বজনরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই এলাকার তোফাজ্জলের ছেলে রাব্বিকে (২৩) আটক করে।
এ ব্যাপারে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ছেলেটি পুকুরে ডুবে মারা গেছে নাকি কেউ হত্যা করেছে তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টির তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত করে বলা যাবে।
লক্ষ্মীপুরের নতুন জেলা প্রশাসক মোঃ আনোয়ার হোসেন আকন্দ
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম আপন দুই ভাইয়ের দুটি জেলার প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ঘটনা। বড় ভাই কামরুল হাসান হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, তার পরের জন আনোয়ার হোসেন লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক।এক ভাই রাজধানীর নিউরো সায়েন্স ইন্সটিটিউটের সহকারী রেজিস্ট্রার (বিসিএস ২৮তম ব্যাচ)। এক বোন মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (এএসপি) দায়িত্বে আছেন (বিসিএস-৩১তম ব্যাচ)। আরো দুইজন বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক।তাঁদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদরে। জেলা প্রশাসকদ্বয়ের বাবার নাম কাশেম আলী। তিনি প্রথম জীবনে শিক্ষক ও পরবর্তীতে রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ছিলেন। মায়ের নাম সাজেদা খাতুন (রত্নগর্ভা)। তাঁরা ৫ ভাই ও ৪ বোন। তাদের মধ্যে ৬ জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। ভাই-বোনদের মধ্যে চারজনই সরকারি কর্মকর্তা (বিসিএস ক্যাডার)।দেশের ১১টি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নতুন নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে মোঃ আনোয়ার হোছাইন আকন্দ স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপ সচিব থেকে পদোন্নতি পেয়ে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক হয়েছেন। তার আপন বড় ভাই মোহাম্মদ কামরুল হাসানও হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত আছেন।বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) এক প্রজ্ঞাপনে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে উপসচিব পদমর্যাদার ১১ জন কর্মকর্তাকে পদায়ন করে আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে আনোয়ার হোছাইন আকন্দের নামও রয়েছে। বিসিএস-২২ ব্যাচের এই কর্মকর্তা সর্বশেষ স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপ সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বোকো হারামের থেকে মুক্ত হলো ৩ শতাধিক ছাত্র
নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বোকো হারামের হাতে অপহৃত তিন শতাধিক শিক্ষার্থী বাসে করে ক্যাটসিনা রাজ্যের কেন্দ্রীয় শহরে পৌঁছেছে। সরকারি কর্মকর্তারা তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে মুক্ত করার খবর দিলেও এটা নিশ্চিত করতে পারেনি যে, গোষ্ঠীটির হাতে এখনো কোনো শিক্ষার্থী আটক আছে কি না। শুক্রবার স্থানীয় মিডিয়ার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত এসব শিশু খালি পায়ে বাস থেকে নেমে আসছে। গত মঙ্গলবারও অন্তত ১৭ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। সে দিনের উদ্ধার অভিযানকালে দুই শিক্ষার্থী মারা যায়।
গত শুক্রবার রাতে ক্যাটসিনা রাজ্যের ক্যানকারা এলাকার গভর্নমেন্ট সায়েন্স সেকেন্ডারি স্কুল নামে ওই বিদ্যালয়ে অতর্কিতে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। এরপর কয়েকশ’ ছাত্রকে গুলির ভয় দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী রুগু জঙ্গলে নিয়ে যায়।সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বোকো হারাম এ ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। এর আগে ২০১৪ সালে অনুরূপ একটি ঘটনায় এই গোষ্ঠী ২৭৬ জন স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করেছিল।বৃহস্পতিবার বোকো হারামের প্রকাশ করা একটি ভিডিও বার্তায় অপহৃত এক শিক্ষার্থীকে বলতে শোনা যায়, ৫২০ জন শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছে।ক্যাটসিনা রাজ্যের গভর্নর আমিনু বেল্লো মাসারি বলেন, ৩৪৪ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফিরিয়ে দেওয়ার আগে উদ্ধার শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। নাইজেরিয়ার সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বোকো হারাম প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার বিরোধী।
দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে: খাদ্যমন্ত্রী
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। এবং কেউ ভাস্কর্য ভাঙ্গার উদ্দেশে হাত দিলে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।শুক্রবার বিকালে নওগাঁর মহাদেবপুরে জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, কেন পুলিশ বা সিসি ক্যামেরা দিয়ে ভাস্কর্য পাহারা দিতে হবে। এজন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আছে তারাই ভাস্কর্য পাহারা দেবেন। দেশে উগ্রবাদী গোষ্ঠী আবারও মাথা চাড়া দেয়ার চেষ্টা করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের সম্মানের জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রসায় বাধ্যতামূলকভাবে শহীদ মিনার তৈরি করা হবে। আমারা যদি সকলে একত্রিত থাকি কারও ক্ষমতা নেই এসব শহীদ মিনার ও ভাস্কর্য ভাঙ্গার। ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আদর্শিত হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গড়ে উঠতে হবে। ছাত্রলীগে কোন মাদকাসক্ত, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজের স্থান হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী।
সম্মেলনে উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মঞ্জুর মোর্শেদের সভাপতিত্বে এসময় সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান সরকার ও ছলিম উদ্দিন তরফদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব ভোদন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আপেল মাহমুদ, নওগাঁ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাব্বির রহমান রেজভী, সাধারণ সম্পাদক আমানুজ্জামান শিউল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মুজিব বর্ষের সময় বাড়ল আগামী বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের জন্য ঘোষিত মুজিব বর্ষের সময় আগামী বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ বিষয়ে গত সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের লক্ষ্যে সরকার চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে আগামী বছরের ২৬ মার্চ সময়কে মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির কারণে মুজিব বর্ষের জন্য নেওয়া কর্মসূচিগুলো নির্ধারিত সময়ে যথাযথভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে সরকার মুজিব বর্ষের সময় আগামী বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত ঘোষণা করল।
অন্যদিকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বর্ণাঢ্য ও যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে উদ্যাপনের জন্য একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে আহ্বায়ক করে ৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়েও ১৪ ডিসেম্বর পৃথক গেজেট জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।বিজ্ঞাপন কমিটির সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
এ ছাড়া কমিটিতে সহায়তাকারী হিসেবে রাখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং ১১ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবকে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।
এই কমিটি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের কর্মসূচি প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা গ্রহণ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা জাতীয় কর্মসূচি পর্যালোচনা, সংযোজন বা বিয়োজন এবং মাঠপর্যায়ে উদ্ভূত সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানের দিকনির্দেশনা দেবে। এ ছাড়া কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের বিষয়েও সুপারিশ করবে এই কমিটি।
ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কেউ কেউ কথা ওঠানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ নিয়ে চলবে। সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে মুক্তিযুদ্ধে রক্ত ঢেলে দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছে। কাজেই এ দেশের মাটিতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার নিয়েই বসবাস করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মাটিতে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সব ধর্ম আছে। অর্থাৎ আমরা এখন মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ আছি বলে অন্য ধর্মাবলম্বী যারা, তাদের অবহেলার চোখে দেখবো, তা নয়। মনে রাখতে হবে, সকলে এক হয়ে মুক্তিযুদ্ধে একইসঙ্গে রক্ত ঢেলে দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছে। কাজেই এ দেশের মাটিতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার নিয়েই বাস করবে। যার যার ধর্ম পালনের স্বাধীনতা তার থাকবে এবং সেই চেতনায় আমরা বিশ্বাস করি। ইসলাম আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়ে থাকে। নবী করিমও (সা.) আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়ে গেছেন।’তিনি আরও বলেন, ‘ঠিক বিজয়ের প্রাক্কালে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল। ঠিক যখন যুদ্ধটা শুরু, তারপর থেকে এই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা শুরু হয়। ৮ ও ৯ ডিসেম্বর থেকে তারা শুরু করেছিল এবং ১৪ তারিখ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করি।’
বাবা-মাসহ সব ভাইদের হারানোর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি হারানোর বেদনা কত কঠিন। অনেকে তো লাশও পাননি। আবার ৭৫-এর পর জাতির পিতাকে শুধু হত্যা করেনি, আমাদের আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের বহু নেতাকর্মীকেও নির্মমভাবে হত্যা করেছে। অনেকের লাশও পাওয়া যায়নি। এই নির্যাতন তো চলছে। অগ্নিসন্ত্রাস থেকে শুরু করে নানাভাবে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, সবকিছু আমরা দেখেছি।প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। অপর প্রান্তে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, কেন্দ্রীয় নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফীসহ দলীয় নেতারা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলীয় কার্যালয় থেকে বক্তব্য রাখেন। এ সময় দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।
শাহ জকি উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাএছাএী সমন্বয় ফোরামের উদ্যেগে আলোচনা, শীতবস্ত্র বিতরন ও চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান অনুষ্ঠান, প্রধান অতিথি, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব (অবঃ) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃকায়কোবাদ স্যার
ঐতিহ্যবাহী শাহ জকি উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাএছাএী সমন্বয় ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত মহান বিজয় দিবসের আলোচনা, শীতবস্ত্র বিতরন ও বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান অনুষ্ঠান প্রধান অতিথি, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব (অবঃ), বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃকায়কোবাদ, বিশেষ অতিথি তাপ্তি চাকমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার,রামগঞ্জ, বিশেষ অতিথি, মোঃহেদায়েত হোসেন, আহবায়ক, লক্ষীপুর জেলা উন্নয়ন বাস্তবায়ন পরিষদ সহ বীরমুক্তিযোদ্ধা নুর নবী খোকন, বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল অএ বিদ্যালয়েরপ্রধান শিক্ষক মনির হোসেন সহ সকল শিক্ষক বৃন্দ,
ম্যানেজিং কমিটির প্রাক্তন সভাপতি ও সদস্যগন আমিন পাটোয়ারী, অএ বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎসাহী সদস্য মো তছলিম হোসেন শ্যামপুর বাজার সভাপতি মো বাসু, মোতালেব কনট্রাকটর, অএ শাহজকি উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের ছাএছাএী সমন্বয় ফোরামের প্রতিষ্ঠার অন্যতম সদস্য সাবেক মেধাবী ছাএ কাজী গোলাম রসুল, আঃরাজজাক সময় মুরাদ, মো জকি উদ্দিন সবুজ, আবু জাফর রানা, সমন্বয় ফোরামের প্রচার সম্পাদক, মো ফরিদ পাটোয়ারী, দপ্তর সম্পাদক মো ফরিদ হোসেন , কামাল হোসেন জুয়েল, মো জুয়েল হোসেন মো ইউসুফ, মো শাহাদাৎ হোসেন আসিফ সহ আরো অনেকেই
2020 দুর্যোগ করোনা, করোনার আরেকটির নাম আওয়ামী লীগ: রিজভী
শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।এসময় তিনি বলেন, সরকার জবরদস্তিমূলকভাবে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে যতই নিজেদের সাফল্যগাঁথা প্রচার করুক, জনগণ এসব বিশ্বাস করে না। জনগণ অবশ্যই এই সরকারের পতন ঘটানোর জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রিজভী বলেন, আদালত কিংবা নির্বাচন কমিশন সব সরকারের আজ্ঞাবহ হওয়ার পরও প্রতিদিন কেন বিএনপির বিরুদ্ধে বলতে হচ্ছে? কেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে হচ্ছে? কেন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলছে অব্যাহত ষড়যন্ত্র? কেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চলছে প্রতিনিয়ত কুৎসা রটানো? কারণ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অর্জনে বিএনপির যে অবদান আছে, সেটি আওয়ামী লীগের নেই।
আওয়ামী লীগকে ভয়াবহ দুর্যোগ উল্লেখ্য করে রিজভী বলেন, দেশে দুইটা ভয়াবহ দুর্যোগ চলছে, একটা হচ্ছে আওয়ামী দুর্যোগ, আরেকটা হচ্ছে করোনা দুর্যোগ। এই দুই মহাদুর্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করছে এক অকল্পনীয় ক্রান্তিকাল। তবে এই সরকার বেশিদিন টিকে থাকবে না। জবরদস্তি করে জনগণের ঘাড়ে চেপে বসে থাকার দিন শেষ হবে অচিরেই।এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন প্রমুখ।
জামায়াতের আরেক রূপ হেফাজত: নিক্সন চৌধুরী
আজ (শনিবার) বিকালে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে প্রজন্ম চত্বরে ‘গৌরব৭১’ আয়োজিত জাগরণ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।নিক্সন চৌধুরী বলেন, মৌলবাদী শক্তিকে রুখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এছাড়া সারাদেশে মাদরাসাগুলোতে ছাত্রলীগের কমিটি এবং মাদরাসা পরিচালনা কমিটিতে জনপ্রতিনিধিদের রাখার দাবি জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।
তিনি বলেন, এটা শুধু বাংলাদেশের প্রতিবাদ নয়, এটা পাকিস্তানের পরাজিত শক্তির হাত রয়েছে। আমি একটি কথা বলতে পারি, আমরা স্বাধীনতার নতুন প্রজন্ম নেমেছি মৌলবাদীর বিরুদ্ধে। আজকে আমাদের এই প্রজন্মের সময় এসেছে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার। আমরা ৯ মাস নয় ছয় মাসের মধ্যে জয় ছিনিয়ে আনবো।
যুবলীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, মাদরাসায় ছোট ছোট শিশুদের ভর্তি করা হয় ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য। কিন্তু তাদের ব্যবহার করে মামুনুলরা। আমি সরকারকে অনুরোধ করবো দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি গ্রাম পর্যায়ের মাদরাসাগুলোতে ছাত্রলীগের কমিটি করে দেন এবং কমিটিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে স্থান দেন। তারা দেখবে কীভাবে মাদরাসাগুলোতে এত টাকা আসে। কীভাবে তারা টাকা পায় এবং বিদেশি অর্থ, পাকিস্তানি অর্থ কীভাবে আসে। আমরা বার বার আন্দোলনের উদ্যোগ নিই, কিন্তু থেমে যাই। এবার আমরা বাংলাদেশকে মৌলবাদীমুক্ত করে ছাড়বো।
সাবেক আইজিপি শহীদুল হক বলেন, হেফাজতে ইসলাম, আপনাদের ইসলাম হেফাজত করার দায়িত্ব কে দিয়েছে? ধর্মের ব্যবসার নামে তারা দেশে জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে দিয়েছে। দেশে তাণ্ডব করেছে। সাবেক এই আইজিপি আরো বলেন, হেফাজতের সাথে কিসের কম্প্রোমাইজ? তারা কি চেঞ্জ হবে? না তারা চেঞ্জ হবে না, তাদেরকে আইনের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। এই অশুভ শক্তির সঙ্গে কোনো সমঝোতা করা যাবে না।
জাগরণ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, ডা. নুজহাত চৌধুরী, যুব মহিলা লীগের সহ-সভাপতি কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি।এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সমাবেশে যোগ দেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গৌরব’ ৭১ এর সভাপতি এস এম মনিরুল ইসলাম মনি। সভা সঞ্চলনা করেন সংগঠনের সভাপতি এফ এম শাহীন।
বাবার জন্মদিনে সংবর্ধনাপেলেন যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা সাবেক মন্ত্রী মহসীন আলী কন্যা সৈয়দা সানজিদা শারমিন
শনিবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা শহরের সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর জন্ম বার্ষিকী পালন এবং তাঁর কন্যার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী মৌলভীবাজার।
মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাবেক এমপি ও সমাজকল্যান মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর ৭২ তম জন্ম বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। একইদিন কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা নির্বাচিত হওয়ায় মহসীন আলী কন্যা সৈয়দা সানজিদা শারমিনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এদিন অনুষ্ঠানে যুবলীগ নেতা ও তরুণ আইনজীবী এডভোকেট গৌছ উদ্দিন নিক্সনের সঞ্চলনায় সভাপতিত্ব করেন আমতৈল ইউনিয়নের সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সুজিত দাশ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মুহিবুর রহমান তরফদার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছাড়াও এদিন বক্তব্য রাখেন, সংবর্ধিত সৈয়দা সানজিদা শারমিন, জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মাসুদ আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক আবু সুফিয়ান, কনকপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান চৌধুরী, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহমদ চৌধুরী, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাকারিয়া, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম ও রাজনগর উপজেলা ছাত্রলীগের আব্দুল্লাহ আল মামুন শাম্মুসহ আরও অনেকে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন জানুয়ারির প্রথম দিকেই ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ
২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকেই ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রোজেনিকা টিকা আমদানি করা হবে। এই টিকা আনার জন্য অনেক আগেই চুক্তি করেছে সরকার। বিশ্বের অনেক দেশেরই চুক্তি না থাকায় টিকা নিতে বিলম্ব হবে। কিন্তু আমাদের দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে এবং দ্রুত অর্থনৈতিক যোগান দেয়ায় বিশ্বের অনেক দেশের আগেই টিকা চলে আসছে বাংলাদেশে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী বিসিপিএস ভবনে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২০ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বাংলাদেশকে কিছু টিকা দেবে। সেগুলোও সরকার সময় মতো হাতে পেয়ে যাবে। আশা করা হচ্ছে, এই টিকাগুলো থেকে ক্রমান্বয়ে দেশের প্রায় ২৭ ভাগ মানুষ টিকা পাবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী টিকাদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নানা সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন। সঠিক নিয়মে ও দক্ষতার সঙ্গে টিকা দেয়ার ফলে হাম-রুবেলা, পোলিওসহ ১০ প্রকারের কঠিন সংক্রমণ ব্যাধি দেশ থেকে নির্মূলের পথে রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান। স্বাস্থ্যখাতের সফলতায় দেশের প্রায় ৯০ ভাগ শিশুকে টিকা দেয়া সম্ভব হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

টিকাদান কর্মসূচি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে বেশ কয়েকবার দেশব্যাপী হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও বিগত কয়েক বছরে দেশে হাম ও রুবেলা রোগের প্রকোপ ও আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণকল্পে এবং ২০২৩ সাল নাগাদ দেশ থেকে হাম-রুবেলা দূরীকরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নিমিত্তে সরকার ১২ ডিসেম্বর থেকে আগামী ২৪ জানুয়ারি সারা দেশে আরও একটি হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে যাচ্ছে। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশব্যাপী ৯ মাস থেকে ১০ বছরের নিচের প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে এক ডোজ এমআর টিকা প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমএনসিঅ্যান্ডএইচ অপারেশনাল প্ল্যানের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাম্প্রতিক টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মওলা বকস চৌধুরী, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি তমু হজুমি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. ভুপিন্দর কাউল প্রমুখ।
