১২বছর নেই ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন, অব্যবস্থাপনায় চলছে বিদ্যালয়

0
98

নিজস্ব প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুর স্কুল এন্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন হচ্ছে না দীর্ঘ ১২বছর। নিজস্ব ব্যক্তিকে সিলেকশন করে মনগড়া কমিটি করার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এছাড়াও নানান অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। উপেক্ষিত বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য সহ অভিভাবকবৃন্দ। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৭নং বশিকপুর ইউনিয়নের বশিকপুর বাজারে ১৯৭১সালে বশিকপুর স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালিন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল কালাম। যা সদরের উত্তর অঞ্চলের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিলো। কিন্তু সময়ের ¯্রােতে সে ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারে নি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। নানান অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারনে হারাচ্ছে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, কমছে শিক্ষার্থী। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কুমিল্লা বোর্ডে লিখিত অভিযোগও করেছে দাতা সদস্য ও অভিভাবকরা। এছাড়াও বিদ্যালয়ের নথিপত্র গায়েবের ঘটনাও ঘটেছে এ প্রতিষ্ঠানে।
বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ উল্যাহ পাটোয়ারী বলেন, দীর্ঘ দিন এ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠান প্রধান নুরুল হুদা বকুল সিলেকশনের মাধ্যমে গোপনে কমিটির করে আসছেন। সম্প্রতি কমিটির মেয়াদ শেষ হলে গত তিন মাস আগেও সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন মিজানের পছন্দের ব্যক্তিকে এডহক কমিটির সভাপতি করেন। অথচ এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য, অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানেন না। এ দিকে বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদে তিনটি মোবাইল ফোনের টাওয়ার স্থাপন করেছে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সহ শিক্ষকরা। এতে যে কোন সময় দুর্ঘটনা সহ শিক্ষার্থীদের শারীরিক ক্ষতির আশংকা রয়েছে। এছাড়া নানান অব্যবস্থাপনার কারনে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাচ্ছে। গত বছর বিদ্যালয়ে ৬শত শিক্ষার্থী থাকলেও এ বছর দু’শ কমে তা ৪’শতে এসেছে। এসব বিষয়ে আমরা কুমিল্লা বোর্ডে লিখিত অভিযোগও করেছে। তা তদন্তধীন রয়েছে। তবে প্রতিবাদ করায় স্কুলের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুল বাসেদ সম্প্রতি স্থানীয়দের নামে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে হয়রানি করেন। পরে স্থানীয়দের ঐক্যবদ্ধতায় সে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এছাড়া অধ্যক্ষ নুরুল হুদা বকুল বিদ্যালয়ের নিয়মিত আসেন না। তার অবর্তমানে বিদ্যালয়ের সকল বিষয় দেখা শোনা করেন ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুল বাসেদ।
এসব বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল হুদা বকুলকে না পাওয়া গেলেও ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুল বাসেদকে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের ১২বছর নির্বাচন হচ্ছে না তা সঠিক। সিলেকশনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন কমিটি করা হচ্ছে। আমরাও চাই নির্বাচনে মাধ্যমে কমিটি হোক। এছাড়া বিদ্যালয় ভবনে মোবাইল ফোনে টাওয়ার করেছে সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন মিজান। যার থেকে প্রতি বছর প্রতিষ্ঠান ২লাখ ৬০হাজার টাকা পায়। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কমে গেছে তাও ঠিক। পাশ্ববর্তি একটি নতুন মাদরাসা হওয়ায় শিক্ষার্থী কমেছে বলে তার ধারনা।
সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন মিজানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এসব বিষয়ে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।

আপনার মন্তব্য জানান