আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল না করা হলে জাতীয় সংসদ ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।শুক্রবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের এক বিক্ষোভ সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।নুরুল হক নুর বলেন, আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে এই কালো আইন বাতিল করা না হলে কালো আইন তৈরির কারখানা সংসদ ভবন ঘেরাও করা হবে।
এছাড়া ২৬ মার্চের পর ‘সারা দেশের মানুষকে নিয়ে’ সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নামার হুমকিও দেন তিনি।
সংসদ ঘেরাও করা হবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা না হলে : নুর
নোয়াখালী চালাই বললেন :একরামুল করিম চৌধুরী
নোয়াখালীর ৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাংসদ মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী বলেছেন, সারা নোয়াখালীতে আমার জনপ্রিয়তা দেখে ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের ভাই মির্জা কাদের সারা দিনরাত বক বক করছিলো। সে প্রথম আমাকে দিয়ে শুরু করেছে। যেতে যেতে তার ভাবি এবং ওবায়দুল কাদেরসহ বাংলাদেশের কোনো নেতাকে বাদ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত নেত্রীকে নিয়েও বলেছে। সেই পাগলকে সামলাতে গিয়ে কারণবসত; কারো কারো সাথে টেলিফোনে কথা হতেই পারে। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত ছয় দিন আমি ঢাকাতে ছিলাম। আমি নেত্রীকে কতগুলো ম্যাসেজ পাঠিয়েছি উনি ম্যাসেজগুলো দেখছেন। নেত্রীর সাথে যিনি সব সময় থাকেন। তিনি আমাকে
- বললেন
, ‘নেত্রী আপনাকে এতো ভালো জানেন। আপনি কেন ঢাকায় ঘুরছেন?’ এসময় আমি ‘আমাদের কমিটি টা দরকার বলে জানাই’। এরপর উনি বলেন ‘নোয়াখালী চালায় কে? এবার আমি বললাম ‘নোয়াখালী চালাই আমি।’ নেত্রী কি আপনাকে না চালাতে বলছে? আমি বলি ‘না।’ নেত্রী জানে যে আপনিই চালাবেন নোয়াখালী। আপনি গিয়ে নোয়াখালী চালাতে থাকেন।’
এসময় তিনি বলেন, বিএনপি যেহেতু ভোটে আসবে না, যারা অর্থের বিনিময়ে নমিনেশনের আশা করছেন, এদিক-ওদিক যদি নৌকা চলেও যায়, আমি কিন্তু বেঠিক লোককে আমার জনগণকে ভোট দিতে দেব না। আমি সত্যের পক্ষে থাকবো। সত্য কথা বলবো। খারাপ লোক অর্থের বিনিময়ে নমিনেশন পাবে, তাকে ভোট দিবে এরকম কোন দরকার নেই। যারা সঠিক লোক তাদের পক্ষে আমার অবস্থান থাকবে।
তিনি আরো বলেন, কারা মানুষের সাথে দুর্বব্যহার করেছিল এটা মানুষ ভুলে যায়নি। দুর্বব্যহারকারীদের ভোট দিক, এটা এমপি হিসেবে আমি হতে দিতে পারিনা। আমাদের দরকার জনগণের চেয়ারম্যান। আমাদের দরকার যে জনগণের পাশে থেকে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে পারবে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে আপন করে নিতে পারবে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ওমর ফারুক, চর আমান উল্যাহ ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন, চর ক্লার্ক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাসার আজাদ, সুবর্ণচর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আমিরুল ইসলাম রাজীব, উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন জাবেদ প্রমূখ।
নিজের মেয়েকে ধর্ষণ, বাবার যাবজ্জীবন
নিজের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবা শামশুল আলম (৪৫) কে যাবজ্জীন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থ দণ্ডাদেশ এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেবুন্নাহার আয়েশা। আদালত গতকাল বুধবার এ আদেশ প্রদান করেন।
মামলার রাষ্ট্র পক্ষে নিয়োজিত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান জানিয়েছেন, দণ্ডিত আসামি রামু উপজেলার রশিদ নগর ইউনিয়নের ধলিরছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। ২০১৮ সালের ৬ জুলাই দণ্ডিত আসামির স্ত্রী রাজিয়া বেগম বাদী হয়ে রামু থানায় নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন।
ভারতে স্বর্ণের টানা দরপতন, ১০ মাসে সর্বনিম্ন দামের রেকর্ড
বিশ্ব বাজারের রেশ ধরে ভারতেও স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। গত ছয় দিন ধরে টানা দরপতন হয়ে আজ বুধবার এমসিএক্স সূচকে ১০ গ্রাম সোনার দাম ১.১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫,১০০ রুপি।জানা গেছে, ভারতে আপাতত সোনার দর ১১,০০০ রুপি কমে গেছে। অর্থাৎ প্রায় ১০ মাসের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে সোনার দাম। গত বছর ৭ আগস্ট ১০ গ্রাম সোনার দর রেকর্ড ৫৬,১৯১ রুপিতে পৌঁছেছিল। তারপর থেকে ক্রমশ সোনার দাম অনেকটা নিচে নেমেছে। এমনকি আজ বুধবার শেষে এমসিএক্স সূচকে আরো কমেছে সোনার দাম।
এদিকে, বিশ্ব বাজারেও কমেছে সোনার দাম। এক আউন্স স্পট গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১,৭৩২.৫১ ডলার। গতকাল মঙ্গলবার দর যা কমে তাতে গত বছরের ১৫ জুনের পর এটিই সর্বনিম্ন। একইভাবে মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সের দর ০.৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১,৭২৮.৯ ডলার।
টিকা নিতে নিবন্ধন করেছেন সাড়ে ৪৬ লাখ মানুষ
দেশে এ পর্যন্ত ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার ৪৬৪ জন করোনা টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ৩৪ লাখ ৬০ হাজার ১৫৯ জন মানুষ টিকা গ্রহণ করেছেন। টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে ২২ লাখ ২১ হাজার ২৬৯ জন পুরুষ এবং ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯০ জন নারী।
আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৪ জন করোনা টিকা গ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে পুরুষ ৭০ হাজার ৯১৪ এবং নারী ৪৭ হাজার ৭৪০ জন। এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে টিকা গ্রহণ করেছেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৩৯১ জন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ৫ লাখ ১৮ হাজার ৮০৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৮৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৭৪৯, রাজশাহী বিভাগে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪১, রংপুর বিভাগে ৩ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৫, খুলনা বিভাগে ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৪৮৫, বরিশাল বিভাগে ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭১ এবং সিলেট বিভাগে ২ লাখ ৬ হাজার ৪০২ জন করোনা টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৭ জানুয়ারি করোনার টিকা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ওই দিন ২১ জনকে টিকা দেওয়া হয়। পরদিন রাজধানীর ৫টি হাসপাতালে ৫৪৬ জনকে পর্যবেক্ষণমূলক টিকা দেওয়া হয়েছিল। এরপর গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। টিকা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে এখনো তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
পারটেক্স স্টার গ্রুপের ডিএমডি ফাবিয়ানা আজিজ
দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান পারটেক্স স্টার গ্রুপের নতুন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হিসেবে নিযুক্ত হলেন ফাবিয়ানা আজিজ। যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টমিনস্টার থেকে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় স্নাতক এবং মার্কেটিং ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিপ্রাপ্ত ফাবিয়ানা আজিজ প্রতিষ্ঠানটিকে আরো উন্নতির দিকে এগিয়ে নিতে এবং যুগোপযোগী করে তুলতে বদ্ধপরিকর। ফাবিয়ানা আজিজ কম্পানিটির এমডি আজিজ আল মাহমুদের বড় মেয়ে এবং পারটেক্সে গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সদ্যঃপ্রয়াত এম এ হাশেমের বড় নাতনি।
সিন্ডিকেটের হাতে দুই যুগ জিম্মি বাংলাদেশিরা

দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল। সড়কপথে আমদানি করা পণ্যের প্রায় ৮০ ভাগ পণ্য এই বন্দর দিয়ে আমদানি করে থাকেন আমদানিকারকরা। দেশের চলমান ১২টি স্থলবন্দরের ভেতর সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয় এই বন্দর দিয়ে। বেনাপোল বন্দরের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার আমদানি-বাণিজ্য হয়, যা থেকে সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে থাকে। তবে ভারত অংশে নানা অব্যবস্থাপনা আর অনিয়মে দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে এখানকার আমদানি-বাণিজ্য। বেনাপোল বন্দরের বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের বনগাঁওয়ে ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেটের হাতে প্রায় দুই যুগ ধরে জিম্মি বাংলাদেশি আমদানিকারকরা। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে ট্রাকযোগে আমদানিপণ্য নিয়ে পেট্রাপোল বন্দরে ঢোকার আগেই ‘অর্থ বাণিজ্যে’ মেতে ওঠে একটি পক্ষ। সিরিয়ালের নামে পার্কিংয়ে জোর করে প্রতিটি ট্রাককে ২০ থেকে ২৫ দিন পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। প্রতিদিন বাংলাদেশি আমদানিকারকদের ট্রাকপ্রতি গুনতে হয় ২ হাজার টাকা। ফলে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় প্রায় পাঁচ হাজার পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে আছে। এ ছাড়া দীর্ঘ সময়ে যেমন পণ্য চালান আটকা পড়ছে, তেমনি পণ্যের গুণগত মানও নষ্ট হচ্ছে। সময়মতো পণ্য সরবরাহের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে শিল্প ও কল-কারখানায়। এতে বাণিজ্য স¤প্রসারণ যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি লোকসানের মুখে পড়ে বেনাপোল বন্দর ছাড়ছেন ব্যবসায়ীরা। বিগত প্রায় দুই যুগ ধরে এ অনিয়ম চলে এলেও সিন্ডিকেটের হাত থেকে কোনোভাবে মুক্তি মিলছে না ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেক চেষ্টা করেও সিন্ডিকেট থেকে মুক্ত হতে পারেননি তারা। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, বনগাঁও পার্কিংয়ে চাঁদাবাজির কারণে অনেক ব্যবসায়ী এ পথে আমদানি বন্ধ করেছেন।এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পাশাপাশি সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব। বিভিন্ন সময় এ নিয়ে অভিযোগ তুললেও আজ পর্যন্ত পরিত্রাণ পাননি আমদানিকারকরা।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, প্রায় দুই যুগ ধরে ভারতীয় ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেটের হাতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ভারতীয় হাইকমিশনারসহ বিভিন্ন দফতরে আবেদন জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আবদুল জলিল জানান, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে বনগাঁও পার্কিংয়ের অনিয়মের ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনেকবার কথা বলা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই এর সমাধান হবে।
এশিয়ায় বিস্ময়কর ‘ডিজিটাল লিডার’ বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি প্রবন্ধ বুধবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘নিউজউইক’ এ ছাপা হয়েছে।
‘বাংলাদেশ: এ সারপ্রাইজ ডিজিটাল লিডার ইন এশিয়া’ শিরোনামে প্রকাশিত এই প্রবন্ধটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
এক দশকেরও বেশি আগে বাংলাদেশ ঘোষণা করেছিল, প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী বা ২০২১ সালের মধ্যে প্রযুক্তিতে অগ্রগামী দেশ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে।
আমরা যে এটা করতে পারব তা খুব বেশি মানুষ বিশ্বাস করেনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে যখন দায়িত্ব নিলেন তখন দেশের মাত্র ২ কোটি মানুষের হাতে মোবাইল ফোন ছিল। অথচ এখন কমপক্ষে ১২ কোটির বেশি বাংলাদেশির হাতে মোবাইল ফোন এবং লাখ লাখ মানুষের কাছে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ আছে, এমনকি প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত। ফলে জীবন উন্নত ও নিরাপদ হয়েছে দেশের অগণিত মানুষের।
২০০৯ সালে উচ্চাভিলাষী ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয় দ্রুত সেবা দেওয়া, কাগজভিত্তিক সরকারি সেবাকে ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনভিত্তিক প্রোগ্রাম ব্যবহার করে সহজ করে তোলার লক্ষ্যে। ই-সিগনেচার এবং ইলেকট্রনিক ফাইলিং ব্যাপকভাবে চালু করা হয়।
সরকার সারা দেশে ৮৫০০ ডিজিটাল সেন্টারের একটি নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করেছে, যার মাধ্যমে জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত সব ধরনের সেবা অনলাইনে দেয়া হচ্ছে। জন্ম নিবন্ধন, চাকরি প্রাপ্তি এবং অনলাইনে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি অনেক সহজ হয়েছে। অনেক জাতীয় কর্মসূচি এখন অনলাইনে চলে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত বছর লকডাউন দেয়া হয় তখনও সরকারি সেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
নতুন একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আদালতের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। কৃষিভিত্তিক একটি পোর্টাল থেকে কৃষকরা আবহাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ আপডেট এবং অন্যান্য তথ্য পাচ্ছেন। কোভিড-১৯ সম্পর্কিত তথ্য সাধারণ নাগরিকদের মোবাইলের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে।
বাংলাদেশে চালু করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম সরকারি পোর্টাল, যার মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের সরকারি সেবা পাওয়া যায়। বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো- সরকারি শতকরা ৮৫ সেবা স্মার্টফোনের মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেয়া। শতকরা ১০ ভাগ সেবা পৌঁছে যাবে তাদের ঘরের দরজায়। আর বাকি শতকরা সেবা পেতে মানুষকে সরকারি অফিসগুলোতে যেতে হবে।
পাসপোর্ট পাওয়া থেকে শুরু করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনসহ সবকিছুই পাওয়া যায় অনলাইনে। এ সফলতার একটি মূল উপাদান মোবাইল ফোন। বাংলাদেশে চালু করা হয়েছে টোল-ফ্রি জাতীয় জরুরি সেবা হেল্পলাইন ৯৯৯- দুর্ঘটনা, সাইবারক্রাইমসহ যে কোনো অপরাধ, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, অগ্নিকাণ্ড এবং জরুরি চিকিৎসা সেবায় নাগরিকরা এটি ব্যবহার করেন।
ধন্যবাদ সম্মিলিত জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য কৌশলের প্রতি। টেলিমেডিসিন এখন শুধু সম্ভবই নয়, একটি সাধারণ বিষয়, বিশেষ করে অনগ্রসর গ্রামীণ এলাকায়। এ কর্মসূচি মৌলিক স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে থাকে, যা একটি সুস্থ জাতি গঠনে নেতৃত্ব দেয়। এছাড়া সরকার আরও বেশি জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠেছে। সরকারি সেবা বা পণ্য সম্পর্কে অনলাইনে অভিযোগ জমা দেয়া যায় সহজেই।
ব্যাপক সংযুক্তি দেশের অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করছে। দক্ষ ও ডিজিটাল জ্ঞানসম্পন্ন কর্মশক্তি গড়ে তোলার জন্য নেয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে এবং প্রতি বছর ৫ লাখ গ্রাজুয়েট কর্মী তৈরি হচ্ছে। শুধুমাত্র গত বছর তথ্যপ্রযুক্তি পেশায় এসেছেন কমপক্ষে ৬৫ হাজার মানুষ।
ডিজিটাল সেন্টারগুলোই কর্ম সৃষ্টির নিয়ামক। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনটি পদের মধ্যে কমপক্ষে একজন নারী। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বয়স ২৫ বছরের নিচে। ফলে বাংলাদেশ হলো সাইবার কর্মীদের জন্য এক উর্বর ক্ষেত্র। এই সুযোগ নিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে যুব সমাজ। অতীতে এদের বেশিরভাগই নিজেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে জীবন বেছে নেয়ার কথা কল্পনাও করতেন না। কিন্তু বর্তমানে তরুণ বাংলাদেশিরা ক্রমবর্ধমান হারে শহরমুখো, গতিশীল এবং নতুন অর্থনীতিতে প্রবেশ করতে প্রস্তুত।
ডিজিটালাইজেশন থেকে দারুণ সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রবর্তনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩ লাখের বেশি প্রযুক্তি পেশাদার কাজে যুক্ত হয়েছে। আছেন ১০ হাজারের বেশি প্রযুক্তিবিষয়ক উদ্যোক্তা। সবমিলে, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সেবা থেকে প্রতি বছর কমপক্ষে ১০০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনছেন। এছাড়া সাশ্রয় হচ্ছে ২০০ কোটি ঘন্টা সময়, ৮০০ কোটি ডলার এবং সরকারি অফিসে ১০০ কোটি বার যাওয়া।
আক্ষরিক অর্থেই বাংলাদেশ ঊর্ধ্বপানে ছুটে চলেছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ প্রথম যোগাযোগবিষয়ক স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করে। এই স্যাটেলাইট নানাবিধ টেলিযোগাযোগ সেবা দেয়ার মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।
এক বিস্ময়কর আরোহণ!
২০০৮ সালে বাংলাদেশের বার্ষিক অভ্যন্তরীণ জাতীয় প্রবৃদ্ধির (জিডিপি) হার ছিল শতকরা প্রায় ৫ ভাগ। কিন্তু বর্তমানে এটা শতকরা ৮ ভাগের ওপরে। সহজলভ্য উচ্চমাত্রার যোগাযোগ ব্যবস্থা এই প্রবৃদ্ধিতে বড় অবদান রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী হাসিনার অধীনে বাংলাদেশ অনেক কিছু অর্জন করেছে। তবে তার কোনোটিই বাংলাদেশের ইন্টারনেট যুগের নাটকীয় অগ্রগতির চেয়ে বেশি চমকপ্রদ নয়। এমনকি এখন আমরা আমাদের ডিজিটাল বিশেষজ্ঞদের রপ্তানি করছি।
এশিয়ায় আমাদের প্রতিবেশী মালদ্বীপ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কায় ডিজিটালাইজেশনের কাজে সহায়তা করছেন বাংলাদেশি প্রশিক্ষকরা। এটা যে সম্ভব মাত্র এক দশক আগে কেউ তা চিন্তাও করতে পারতেন না।
কাদের মির্জাকে ফের বহিষ্কারের সুপারিশ আওয়ামী লীগের ৪২ নেতার
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ৪২ নেতা বসুরহাট পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল কাদের মির্জাকে ফের দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছেন।
দলীয় গঠনতন্ত্রের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বক্তব্য রাখার অভিযোগে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত দলীয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করে। এছাড়াও একই সভায় উপস্থিত ৪২ নেতা আবদুল কাদের মির্জার সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো প্রকারে দল করবেন না বলে শপথ নেন।
এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি কাদের মির্জাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের ২ ঘণ্টার মধ্যে ফের সেই আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াতের সভাপতিত্বে চরকাঁকড়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে দলীয় ওই সভায় বক্তব্য রাখেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাগ্নে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু, ফখরুল ইসলাম রাহাত, সাবেক ছাত্রনেতা আলাল, চরহাজারী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, চরএলাহী ইউপি চেয়ারমান আবদুর রাজ্জাকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান বলেন, বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে গণমাধ্যমকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
তবে তিনি আবদুল কাদের মির্জার সঙ্গে ভবিষ্যতে রাজনীতি না করার বিষয়ে এবং তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ কেন্দ্র ও জেলায় পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
একই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী জানান, আবদুল কাদের মির্জাকে বহিষ্কারের বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ৭১ সদস্যের মধ্যে ৪২ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বিগত দুই মাস যাবৎ কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সমালোচনা করে আসছিলেন।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মেয়র কাদের মির্জা ও তার প্রতিপক্ষ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল গ্রুপের সংঘর্ষে সাংবাদিক মুজাক্কির খুন হওয়ার ঘটনাসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা আসায় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করে দেয়।
তবে জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়ন বিষয়ে মঙ্গলবারের সভাটি হয়।
পাপনের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি, আইনি পদক্ষেপে বিসিবি
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের নামে একের পর এক ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলা হচ্ছে। আইপিএল খেলতে সাকিব আল হাসানের ছুটি নেওয়া, নাসির হোসেনের বিয়েসহ সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় তার নামে খোলা ভুয়া আইডি থেকে নানা রকম স্ট্যাটাস, মন্তব্য পোস্ট করা হয়।
বিষয়টি নজরে এসেছে বিসিবির। ফলে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড। বেশ কিছু ভুয়া আইডি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছি। এর মধ্যে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। দু-তিনটি আইডি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিছু আইডি দেশের বাইরে থেকে খোলা হয়েছে। সেগুলোও বন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই বলেও জানান তিনি।