মিয়ানমারে জেনারেলদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

0
67

মিয়ানমারে সেনাশাসনবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত আছে। বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ দিনেও রাজধানী নেপিদোসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময় প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। এদিন ইয়াঙ্গুনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাস্তায় নামেন অভিনেতা-অভিনেত্রী, মডেল ও শিল্পীরা। এদিকে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া জেনারেলদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বুধবার রাতে মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিয়াও টিন্ট সুইসহ আরও চার শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। খবর বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মিয়ানমারের রাজপথে নামেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী। এ সময় তাদের হাতে ছিল ‘সেনাশাসন মানি না’, ‘সেনাকে নয় মিয়ানমারকে সমর্থন দাও’ ইত্যাদি লেখা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড। ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভে যোগ দেন দেশটির প্রখ্যাত অভিনেতা পাইং তাখোনসহ অনেক মডেল ও অভিনেতা-অভিনেত্রী। গিটার হাতে রাস্তায় নামেন শিল্পীরা। প্রতিবাদী গান গেয়ে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। বিভিন্ন শহরে বৈদ্যুতিক মোমবাতি হাতে রাতেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আন্দোলনকারীর। অনেকে বাসাবাড়ি থেকেও তিন আঙুল দেখিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় বিভিন্ন রাস্তায় পুলিশকে ব্যারিকেড দিতে দেখা গেছে।

১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের ক্ষমতার দখল নেয় সেনাবাহিনী। অভ্যুত্থান রক্তপাতহীন হলেও এখন গণবিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগ শুরু করেছে জান্তা। মঙ্গলবার নেপিদোয় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে মিয়ানমার পুলিশ প্রথমে জলকামান এবং পরে রাবার বুলেট ব্যবহার করে। নেপিদোর বিক্ষোভে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক নারী।

এদিকে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্বাহী আদেশ ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাইডেন এই প্রথম নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ প্রয়োগ করলেন। বাইডেন ঘোষিত এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সামরিক কর্মকর্তা, তাদের পরিবারের সদস্য ও সেনাবাহিনীসংশ্লিষ্ট ব্যবসা। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক বিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যাতে ব্যবহার করতে না-পারে, সে জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাইডেন জানান, তার প্রশাসন এ সপ্তাহেই নিষেধাজ্ঞার প্রথম লক্ষ্যগুলো ঠিক করবে।

বাইডেন বলেন, আমরা মিয়ানমারের ওপর কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে যাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্রে মিয়ানমার সরকারের সম্পদ জব্দ করতে যাচ্ছি। তবে স্বাস্থ্যসেবা, সুশীল সমাজসহ যেসব ক্ষেত্রের সঙ্গে মিয়ানমারের জনসাধারণের প্রত্যক্ষ সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার বিষয় জড়িত রয়েছে, সেগুলোর প্রতি আমরা সমর্থন জানাব।

বাইডেন বলেন, মিয়ানমারের জনগণ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাদের এ প্রতিবাদ পুরো বিশ্ব দেখছে। এ বিক্ষোভ-প্রতিবাদ বাড়ছে। যারা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছে, তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়। সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান বাইডেন।

সু চির চার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গ্রেফতার : বুধবার রাতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিয়াও টিন্ট সুইসহ আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। কিয়াও সু চির মন্ত্রী ছিলেন। সামরিক সরকারের কাছে গণতান্ত্রিক শাসন ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমারে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের প্রতিবাদ দমনেই ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। এমনটা মনে করছে সু চির দল এনএলডির নেতারা। এর আগে সু চিসহ মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও সরকারের মন্ত্রীদের আটক করা হয়। বর্তমানে তারা গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন।

আপনার মন্তব্য জানান