চেনা মানুষঃ এস কে সুলতানা।

0
260

চেনা মানুষ
লেখকঃ এস কে সুলতানা

সময়ের সাথে আমাদের চেনা মানুষগুলো বদলে যায়। কখনো সাথে কথা বললে মনে হয় কখনো সে আমাকে চিনত না। কেন এই মানুষগুলো জীবনের রঙিন স্বপ্নগুলো কে বদলে দেয়।

ইশু‍। আয়ান তাকে আদর করে ডাকত।মেয়েটির আসল নাম ছিল ইশিকা।ছেলেবেলা থেকেই তাদের মধ্যে অনেক ভাব ছিল। ইশু আয়ানকে সবসময় ভালো কাজে উৎসাহ দিত। আয়ান যদিও একটু দুষ্টুমি করতো তারপরও সে ইশুর কোন কথা ফেলত না। ইশু ওকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে। আস্তে আস্তে ওরা ছেলেবেলার দিনগুলো কাটিয়ে বড় হতে লাগল। ইশু গান শুনতে ও গাইতে ভালোবাসত। সায়েন্স স্টুডেন্ট হিসেবে ইশু অনেক দিকে পারফেক্ট ছিল। আর আয়ান ও তো অনেক কিছুতে যোগ দিতে লাগল। বিশেষ ব্লাড ডোনেট ক্লাব, সরকারি অনেক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে শুনেছি। এত কিছুর মধ্যে কোন দিন দূরত্ব সৃষ্টি হয় নি। হাসিখুশি ভাবে তারা তাদের ফ্রেন্ডশিপটা চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মাঝখানে ইশু একটা রিলেশনে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সেটা ফ্যামিলিতে জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে ইশু ভয় পেয়ে যায়। খুব সরল ছিল বলে কোন ঝামেলায় না জড়িয়ে সবকিছু ছেড়ে দেয়। তবে আয়ানের সাথে তার সবকিছু ঠিকই ছিল। তারপর থেকে ইশু একটু একটু করে বদলে যেতে থাকে। নিজেকে সবসময় একা করে রাখে। আয়ানের তাতে কোন আপত্তি ছিল না। কারণ সে ইশুর সমস্যা টা বুঝতে পারছে। ইশু আর আয়ান এবার কলেজ জীবনে পা দিল। দুজনে কলেজে আসত আবার একসাথেই বাড়ি ফিরত। আয়ান তার শতকাজের মাঝেও ইশুর সবদিকের খবর রাখত। সাজেশন গুলো কিনে দিত। কিন্তু,ইশু এবার ইসলামিক জীবনে ঢুকতে শুরু করল। আয়ান খুশি ছিল। সে সবসময় বলত, ইশু তাকে তার জীবনের সবটুকু দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছে। এদিকে, ইশু একদিন হঠাৎ করে আয়ান তার সাথে যেতে নিষেধ করল। আয়ান তার কারণ জানতে চাইলে ইশু বলে,আমি বড় হয়েছি। একা চলতে পারি। তাছাড়া এলাকার ছেলেগুলো তোকে আমার সাথে দেখলে কতকিছু ভাবে। আয়ান রাজি হলো। কারণ সে বরাবরই ইশুর সমস্যাগুলো বুঝার চেষ্টা করত। এভাবে চলতে চলতে ইশু একদিন তার সাথে কথা বন্ধ করে দিল। সে আয়ানকে তার ফোন, ম্যাসেজ, ম্যাসেঞ্জার, ইমু সবকিছুতে ব্লক করে দেয়। আয়ান ভীষণ কষ্ট পেতে থাকে। তার চেনা ইশু এখন তার কাছে অচেনা। যে আয়ান তার মায়ের কাছে তার সবকিছু শেয়ার করতো সেই আয়ান এখন তার মা, বন্ধু কারো সাথেই তেমন কিছু শেয়ার করে না। আয়ান এখন আর তার অন্য বন্ধুদের সাথে তেমন কথা বলে না। সবসময় একা থাকে। ক্লাসে বসে আয়ান মাঝে মাঝে কেঁদে উঠত। ইশুকে চোখের সামনে দেখেও সে নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করত। ক্লাসে টিচাররা প্রশ্ন করলে আয়ানের কোন রেসপন্স থাকতো না। একদিন পৌরনীতির টিচার আয়ানকে জিজ্ঞেস করে কি ব্যাপার তুমি তো ভালো পড়া বল। এ কদিন কি হয়েছে তোমার? আয়ান শুধু মাথা নিচু করে বলল, কিছু না। স্যার! ইশুর হয়তো ব্যাপারটি দেখে মায়া হয়েছিল। সে গোপনে আয়ানের সাথে কিছু কিছু কথা বলতে শুরু করল। আয়ানের কিছুটা স্বস্তি ফিরে এল। এবার সে নিজে নয় তার একটা বোন কে দিয়ে ইশুকে সাজেশন পাঠাতো। প্রয়োজনে সে তাদের হেল্প করার চেষ্টা করত। ভালোই চলছিল সব। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় তাদের কলেজ। ইশু আস্তে আস্তে আবার দূরে সরে যায়। কোন কারনের অপেক্ষা না করে ভেঙে যায় তাদের ফ্রেন্ডশিপ। আজও আয়ান ইশুর অপেক্ষায় অপেক্ষিত।

লেখকঃ এস কে সুলতানা

আপনার মন্তব্য জানান