নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?

1
1400

লেখকঃ মোঃ মেশকাতুল ইসলাম সিয়াম

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার আজ ৪৯ বছর। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও আমরা পূর্ণ স্বাধীন নই। স্বাধীনতার পর থেকেই আমরা নানা ভাবে স্বাধীনতা হীনতায় ভুগতেছি। আজ আমার দেশের কৃষক শ্রমিক, নারী পুরুষ সবাই কোন না কোন ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পায় না। আজ আমি সবার বিষয় নিয়ে লিখবো না। লিখবো নারীর স্বাধীনতা নিয়ে। স্বাধীনতার পর থেকেই আমাদের নারীরা নানা ভাবে নির্যাতিত নিপীড়িত। নারীর কাজ করার স্বাধীনতা থাকলেও তারা তাদের ইজ্জত রক্ষার স্বাধীনতা পায় না।

বাংলাদেশের আজকের এই অগ্রগতির পিছনে নারীর অবদান কোন অংশেই কম নয়। তারা আজ অনেক শিক্ষিত ও কর্মঠ। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় নারীরা প্রতিনিয়ত কর্মক্ষেত্রে, রাস্তায় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। ব্যাক্তিত্ব হীন কিছু পুরুষের কাছে আজ নারীরা নিরাপদ নয়।

প্রতিনিয়ত ই আমাদের দেশে নারীরা ধর্ষণের শিকার হয়। বাংলাদেশ পুলিশ এর মতে গত বছর ২০১৯ সালে প্রতিদিন ১৪ জন নারী ও ২ জন শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র এর (আসক) ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, সারা দেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার ১ হাজার ৪১৩ নারী ও শিশু।
অফিসে, গণপরিবহনে, বাসায় সব জায়গায় তারা আজ নিরাপত্তা হীন। এমনকি যেখানে প্রতিটি নাগরিক এর নিরাপদ স্থান সেই আইনের দায়িত্বশীল ব্যাক্তির হাতে ধর্ষিত। যদি এই দায়িত্বশীল ব্যাক্তিরা ধর্ষণ করে তাহলে নারীর নিরাপত্তা দিবে কে?

আজকে দেশের অধিকাংশ নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিচার হয় না। আমরা দেখেছি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এর মতো স্থানে সামরিক বেষ্টনীর মধ্যে তনু নামে একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করে। সেই তনুর অপরাধীরা এখনো গ্রেফতার হয় নি। সিলেটের খাদিজা কে কুপিয়ে জখম করে বদরুল নামে এক নেতা। তাকে গ্রেফতার করা হলেও তার কোন বিচার হতে দেখিনি। রিশাকে হত্যাকারী সেই মানুষটির রায় হয়েছে তবে এখনো বিচার কার্যকর হয় নি। আদৌ হবে কিনা তাও অনিশ্চিত। ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত কে ধর্ষণ হত্যা করে অধক্ষ্য সিরাজ। তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে রায়ও হয়েছে তবে এখনো বিচার কার্যকর হয় নি। অনেক সময় অপরাধী গ্রেফতার হলেও তারা টাকা দিয়ে,ক্ষমতার অপব্যবহার করে পার পেয়ে যায়। আইনের অধিকাংশ দায়িত্বশীলই এখন টাকা ও ক্ষমতার কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। যদি ওরা এভাবে বিক্রি হয়ে যায় তাহলে অবশ্যই বিকল্প কোন গোষ্ঠী বের হতে হবে যাদের কাছে নারী নিরাপদে থাকবে।

আজ একটি নারী তার বাবা,ভাই এর কাছে নিরাপদ নয়। আজকে আমরা প্রায় সময় দেখি বাবা মেয়েকে ধর্ষণ করে। ভাই বোনকে ধর্ষণ করে। আজ যেখানে তার বাবা ভাই এর কাছে নিরাপদ নয় সেখানে বাইরের মানুষের কাছে কিভাবে নিরাপদ হবে?

আজকের সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে যে শিক্ষার প্রয়োজন সেই শিক্ষা পায় না যুব সমাজ। যুব সমাজ কে নৈতিকতা সম্পন্ন করতে হবে। যদি তারা নৈতিকতা সম্পন্ন না হয় তাহলে তারা তো এসব নীতি নৈতিকতা হীন কাজ জড়িয়ে পড়বে। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে যদি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা দেয়া যায় তাহলে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। নারী নির্যাতন আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। নারী নির্যাতন রোধে বিভিন্ন সভা সেমিনারের আয়োজন করা। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া দরকার। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সরকারকে উদ্যোগে নিতে হবে। তাহলেই নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। আসুন নারীকে সম্মান করি। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করি।।
লেখকঃ
মোঃ মেশকাতুল ইসলাম সিয়াম
সহঃ প্রচার সম্পাদক-
রাধাপুর উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ও
সাংগঠনিকসম্পাদক-
রেড ড্রপস বাংলাদেশ।

1 COMMENT

আপনার মন্তব্য জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here