লক্ষ্মীপুর জেলা

আয়তন

লক্ষ্মীপুর জেলার মোট আয়তন ১৩৬৭.৫৯ বর্গ কিলোমিটার।[২]

জনসংখ্যা

২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী লক্ষ্মীপুর জেলার মোট জনসংখ্যা ১৭,২৯,১৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮,৬৬,৮৬৮ জন এবং মহিলা ৮,৬২,৩২০ জন।[১]

লক্ষীপুর জেলায় ধর্মবিশ্বাস-২০১১

  ইসলাম (৯৫.৩১%)

ধর্মবিশ্বাস অনুসারে এ জেলার মোট জনসংখ্যার ৯৫.৩১% মুসলিম, ৪.৬৬% হিন্দু এবং ০.০৩% বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারী।[১]

অবস্থান ও সীমানা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে ২২°৩০´ থেকে ২৩°১০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৩৮´ থেকে ৯০°০১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে লক্ষ্মীপুর জেলার অবস্থান।[২] রাজধানী ঢাকা থেকে এ জেলার দূরত্ব প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর থেকে প্রায় ১৫৭ কিলোমিটার। এ জেলার উত্তরে চাঁদপুর জেলা; পূর্বে ও দক্ষিণে নোয়াখালী জেলা এবং পশ্চিমে মেঘনা নদী, ভোলা জেলাবরিশাল জেলা অবস্থিত। লক্ষ্মীপুর শহর রহমতখালি নদীর তীরে অবস্থিত।

ইতিহাস

প্রতিষ্ঠাকাল

লক্ষ্মীপুর নামে সর্বপ্রথম থানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬০ সালে। এরপর ১৯৭৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ৫নং বাঞ্চানগর ইউনিয়ন লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় রূপান্তরিত হয়। পরে এই পৌরসভাটির বিস্তৃতি ঘটে। রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নিয়ে ১৯৭৯ সালের ১৯ জুলাই লক্ষ্মীপুর মহকুমা এবং একই এলাকা নিয়ে ১৯৮৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় লক্ষ্মীপুর জেলা।[৩]

নামকরণ

লক্ষ্মীপুর জেলার নামকরণ নিয়ে কয়েকটি মত প্রচলিত রয়েছে।

লক্ষ্মী, হিন্দু ধর্মানুসারে ধন-সম্পদ ও সৌভাগ্যের দেবী (দুর্গা কন্যা ও বিষ্ণু পত্নী) এবং পুর হল শহর বা নগর। এ হিসাবে লক্ষ্মীপুর এর সাধারণ অর্থ দাঁড়ায় সম্পদ সমৃদ্ধ শহর বা সৌভাগ্যের নগরী। ঐতিহাসিক কৈলাশ চন্দ্র সিংহ রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস লিখতে গিয়ে তৎকালীন নোয়াখালীর পরগণা ও মহালগুলোর নাম উল্লেখ করেছেন। এতে দেখা যায়, বাঞ্চানগর ও সমসেরাবাদ মৌজার পশ্চিমে লক্ষ্মীপুর নামে একটি মৌজা ছিল। আজকের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর মৌজাই তৎকালীন লক্ষ্মীপুর মৌজা।

আবার অন্যমতে, সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজা আরাকান পলায়নের সময় ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দের ৬ মে ঢাকা ত্যাগ করেন। তিনি ধাপা ও শ্রীপুর হয়ে ৯ মে লক্ষ্মীদাহ পরগনা ত্যাগ করে ভুলুয়া দুর্গের ৮ মাইলের মধ্যে আসেন। ১২ মে ভুলুয়া দুর্গ জয় করতে না পেরে আরাকান চলে যান। সেই লক্ষ্মীদাহ পরগনা থেকে লক্ষ্মীপুর নামকরণ করা হয়েছে বলে কেউ কেউ ধারণ করেন। লক্ষ্মীপুর শহরের পূর্ব পাশে শাহ সুজার নামানুসারে একটি সড়কের নামকরণ করা হয় সুজা বাদশা সড়ক। বিখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক সানাউল্লাহ নূরী সুজা বাদশা সড়ক নামে একটি ইতিহাস গ্রন্থও রচনা করেছেন।

১৬১৪ খ্রিষ্টাব্দে মগ ও ফিরিঙ্গীদের মিলিত বাহিনী ভুলুয়া, ভবানীগঞ্জ ও ইসলামাবাদ আগুন দিয়ে পুড়ে দেয়। স্যার যদুনাথ সরকার এ সংক্রান্ত বর্ণনায় লিখেছেন, ইসলামাবাদ চাটগাঁ শহর নয়। ভুলুয়ার পশ্চিমে একটি দুর্গ সমৃদ্ধ শহর। ঐতিহাসিক ড. বোরাহ ইসলামাবাদকে লক্ষ্মীপুর বলে ধারণা করেছেন। এভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় যে, তৎকালীন লক্ষ্মীপুর মৌজার অংশ মেঘনা পাড়ের দুর্গ সমৃদ্ধ কামানখোলাই ইসলামাবাদ নামের মগ ও ফিরিঙ্গীদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল।

শ্রী সুরেশ চন্দ্রনাথ মুজমদার রাজপুরুষ যোগীবংশ নামক গবেষণামূলক গ্রন্থে লিখেছেন দালাল বাজারের জমিদার রাজা গৌর কিশোর রায় চৌধুরী ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী থেকে রাজা উপাধি পেয়েছেন। তার পূর্বপুরুষরা ১৬২৯ থেকে ১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে দালাল বাজার আসেন। তার বংশের প্রথম পুরুষের নাম লক্ষ্মী নারায়ণ রায় (বৈষ্ণব) এবং রাজা গৌর কিশোরের স্ত্রীর নাম লক্ষ্মী প্রিয়া। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, লক্ষ্মী নারায়ণ রায় বা লক্ষ্মী প্রিয়ার নাম অনুসারে লক্ষ্মীপুরের নামকরণ করা হয়।[৩]

সাধারণ ইতিহাস

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে লক্ষ্মীপুর ভুলুয়া রাজ্যের অধীন ছিল। মুঘল ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে লক্ষ্মীপুরে একটি সামরিক স্থাপনা ছিল। ষোড়শ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত এ এলাকায় প্রচুর পরিমাণে লবণ উৎপন্ন হত এবং বাইরে রপ্তানি হত। লবণের কারণে এখানে লবণ বিপ্লব ঘটে। স্বদেশী আন্দোলনে লক্ষ্মীপুরবাসী স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ করে। এ সময় মহাত্মা গান্ধি এ অঞ্চল ভ্রমণ করেন। তিনি তখন প্রায়ই কাফিলাতলি আখড়া ও রামগঞ্জের শ্রীরামপুর রাজবাড়ীতে অবস্থান করতেন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৬ সালের জুন মাসে লক্ষ্মীপুর সফরে আসেন।[৩]

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি

১৯৭১ সালের ৬ জুলাই মুক্তিযোদ্ধারা লক্ষ্মীপুর শহরের রহমতখালি সেতুর কাছে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৭২ জন পাকসেনাকে হত্যা করে। ২৫ অক্টোবর সদরের মীরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা ও পাকসেনাদের এক সম্মুখ লড়াইয়ে পাকবাহিনীর মেজরসহ ৭০ জন সৈন্য ও ৪১ জন রেঞ্জার নিহত হয়। রামগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর দীঘির পাড়ে পাকসেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের এক লড়াই সংঘটিত হয়। এ লড়াইয়ে বহুসংখ্যক পাকসেনা নিহত হয়। পরবর্তীতে পাকসেনারা ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে আটক করে রামগঞ্জ ক্যাম্পে এনে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রামগতি উপজেলার জমিদার হাটের বাঁকে পাকসেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ে কয়েকজন রাজাকারসহ ১৭ জন পাকসেনা নিহত হয়।[২]

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন
  • গণকবর: ৪টি
  • বধ্যভূমি: ২টি
  • স্মৃতিস্তম্ভ ৩টি[২]

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

লক্ষ্মীপুর জেলা ৫টি উপজেলা, ৬টি থানা, ৪টি পৌরসভা, ৪টি ইউনিয়ন, ৪৪৫টি মৌজা, ৫৩৬টি গ্রাম ও ৪টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।

উপজেলাসমূহ

লক্ষ্মীপুর জেলায় মোট ৫টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হল:[৪]

ক্রম নং উপজেলা আয়তন[২]
(বর্গ কিলোমিটারে)
প্রশাসনিক থানা আওতাধীন এলাকাসমূহ
০১ কমলনগর ১৪৪.২৮ কমলনগর ইউনিয়ন (৯টি): চর কালকিনি, সাহেবেরহাট, চর লরেন্স, চর মার্টিন, চর ফলকন, পাটারীরহাট, হাজিরহাট, চর কাদিরা এবং তোরাবগঞ্জ
০২ রামগঞ্জ ১৬৯.৩১ রামগঞ্জ পৌরসভা (১টি): রামগঞ্জ
ইউনিয়ন (১০টি): কাঞ্চনপুর, নোয়াগাঁও, ভাদুর, ইছাপুর, চণ্ডিপুর, লামচর, দরবেশপুর, করপাড়া, ভোলাকোট এবং ভাটরা
০৩ রামগতি ২৯১.৮২ রামগতি পৌরসভা (১টি): রামগতি
ইউনিয়ন (৮টি): চর বাদাম, চর পোড়াগাছা, আলেকজান্ডার, চর আবদুল্যাহ, চর আলগী, চর রমিজ, বড়খেড়ী এবং চর গাজী
০৪ রায়পুর ২৪৭.৪০ রায়পুর পৌরসভা (১টি): রায়পুর
ইউনিয়ন (১০টি): উত্তর চর আবাবিল, উত্তর চর বংশী, চর মোহনা, সোনাপুর, চর পাতা, কেরোয়া, বামনী, দক্ষিণ চর বংশী, দক্ষিণ চর আবাবিল এবং রায়পুর
০৫ লক্ষ্মীপুর সদর ৫১৪.৭৮ লক্ষ্মীপুর সদর পৌরসভা (১টি): লক্ষ্মীপুর
ইউনিয়ন (১২টি): উত্তর হামছাদী, দক্ষিণ হামছাদী, দালাল বাজার, চর রুহিতা, পার্বতীনগর, বাঙ্গাখাঁ, লাহারকান্দি, শাকচর, ভবানীগঞ্জ, তেওয়ারীগঞ্জ, চর রমণীমোহন এবং টুমচর
চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন (৯টি): বশিকপুর, দত্তপাড়া, উত্তর জয়পুর, চন্দ্রগঞ্জ, হাজিরপাড়া, চর শাহী, দিঘলী, মান্দারী এবং কুশাখালী

সংসদীয় আসন

সংসদীয় আসন জাতীয় নির্বাচনী এলাকা[৫] সংসদ সদস্য[৬][৭][৮][৯][১০] রাজনৈতিক দল
২৭৪ লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ উপজেলা আনোয়ার হোসেন খান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২৭৫ লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর উপজেলা এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী, দক্ষিণ হামছাদী, দালাল বাজার, চর রুহিতা, পার্বতীনগর, বশিকপুর, শাকচর, চর রমণীমোহনটুমচর ইউনিয়ন মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম স্বতন্ত্র
২৭৬ লক্ষ্মীপুর-৩ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর পৌরসভা, বাঙ্গাখাঁ, দত্তপাড়া, উত্তর জয়পুর, চন্দ্রগঞ্জ, হাজিরপাড়া, চর শাহী, দিঘলী, মান্দারী, লাহারকান্দি, ভবানীগঞ্জ, কুশাখালীতেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়ন এ. কে. এম. শাহজাহান কামাল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২৭৭ লক্ষ্মীপুর-৪ কমলনগর উপজেলা এবং রামগতি উপজেলা আবদুল মান্নান বিকল্পধারা বাংলাদেশ

শিক্ষা ব্যবস্থা

লক্ষ্মীপুর জেলার সাক্ষরতার হার ৪২.৯০%।[২] এ জেলায় রয়েছে:[১]

  • কামিল মাদ্রাসা : ৮টি
  • আইন কলেজ : ১টি
  • হোমিও কলেজ : ১টি
  • ফাজিল মাদ্রাসা : ১৯টি
  • কলেজ : ২৮টি (৫টি সরকারি)
  • আলিম মাদ্রাসা : ২২টি
  • স্কুল এন্ড কলেজ : ৪টি
  • দাখিল মাদ্রাসা : ৮৫টি
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয় : ১৫৭টি (৩টি সরকারি)
  • কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : ৪টি
  • ভোকেশনাল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট : ১টি
  • নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় : ১৪টি
  • প্রাথমিক বিদ্যালয় : ৯৪৯টি
  • এবতেদায়ী মাদ্রাসা : ৬১টি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

অর্থনীতি

কৃষি

লক্ষ্মীপুর জেলার অর্থনীতি প্রধানত কৃষি নির্ভর। এ জেলার প্রধান উৎপাদিত ফসলগুলোর মধ্যে রয়েছে ধান, গম, সরিষা, পাট, মরিচ, আলু, ডাল, ভুট্টা, সয়াবিন, আখ, চীনাবাদাম। প্রধান ফলগুলো হল আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, তাল, লেবু, নারিকেল, সুপারি, আমড়া, জাম। এছাড়া এ জেলায় ৫৮টি মৎস্যখামার, ১৬টি নার্সারি, ১০২টি দুগ্ধ খামার, ২২২টি মুরগীর খামার ও ৩টি হ্যাচারি রয়েছে।

নৌ-বন্দর

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজু চৌধুরীর হাটে অবস্থিত বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ লক্ষ্মীপুর নৌ-বন্দর

শিল্প-কারখানা

লক্ষ্মীপুর জেলার প্রধান প্রধান শিল্প-কারখানার মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল মিল, ধানের কল, ময়দার কল, বরফের কল, অ্যালুমিনিয়াম কারখানা, বিড়ি কারখানা, মোম কারখানা, সাবানের কারখানা, নারিকেলের তন্তু প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, ছাপাখানা, তেলের মিল, ব্যাটারি কারখানা, বেকারি।

কুটির শিল্প

বাঁশ ও বেতের কাজ, কাঠের কাজ, সেলাই, কামার, কুমার, মুচি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির মেকানিক ইত্যাদি।

প্রধান রপ্তানি পণ্য

নারিকেল, মাছ, মরিচ, কাঠ বাদাম, সুপারি, সয়াবিন

যোগাযোগ ব্যবস্থা

লক্ষ্মীপুর জেলায় যোগাযোগের প্রধান সড়ক হল ঢাকা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক। সব ধরনের যানবাহনে যোগাযোগ করা যায়।

নদ-নদী

লক্ষ্মীপুর জেলার প্রধান নদীগুলো হল মেঘনা নদী, ডাকাতিয়া নদী, কাটাখালী নদী, রহমতখালি নদী চন্দনা ও ভুলুয়া নদী।

পত্র-পত্রিকা

  • দৈনিক : লক্ষ্মীপুর কণ্ঠ (১৯৯৫), আল-চিশত (১৯৯৫)
  • সাপ্তাহিক : নতুন সমাজ, নতুন দেশ (১৯৭৩), সমবায় বার্তা (বাংলাদেশ বার্তা, ১৯৭৩), মুক্তিবাণী (১৯২৮, অবলুপ্ত), গণমুখ (১৯৭৩, অবলুপ্ত), এলান (১৯৮২), নতুন পথ (১৯৮৭), দামামা (১৯৯২), আনন্দ আকাশ (১৯৯৫, অবলুপ্ত), রামগঞ্জ বার্তা (১৯৯১), রোজনামচা (অবলুপ্ত)।
  • পাক্ষিক : অবসর।
  • মাসিক : রেনেসাঁ, জাগরণ (২০০০), বাংলা আওয়াজ, ডাকাতিয়া।
  • ত্রৈমাসিক : রায়পুর দর্পণ (১৯৯৮)।
  • সাময়িকী : চেতনা (১৯৬৯), প্রচ্ছদ (১৯৮৪), ছায়াপথ, কবিতা বার্তা, রামগতি দর্পণ, লক্ষ্মীপুর বার্তা (১৯৮৯), রামগতি বার্তা (১৯৯৮), অগ্রজ (১৯৯৯), বিচিত্রিতা (১৯৯৪), দূরদিগন্ত (২০০২), অশরীরী (২০০০), উল্কা (২০০৩), চন্দ্রাবতী (২০০৪), প্রয়াস নিউজ (২০১০)

দর্শনীয় স্থান

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

  • আ স ম আবদুর রব –– বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলনকারী, বঙ্গবন্ধুকে জাতীর পিতা উপাধি দানকারী, ডাকসুর সাবেক ভিপি, সাবেক মন্ত্রী এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ।
  • মোহাম্মদ উল্লাহ –– বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এবং গণপরিষদের প্রথম স্পিকার।
  • আবুল আহসান –– বিশিষ্ট কূটনীতিক এবং সার্ক এর প্রথম মহাসচিব।
  • আবদুর রশিদ — ১৯৬২ সালে কেন্দীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৬২ সালে এমপি, ১৯৭০, ১৯৭৩ সালে এমপি ও ১৯৭৫ সালে লক্ষ্মীপুরের গভর্নর নিযুক্ত। রামগঞ্জ।
  • জিয়াউল হক জিয়া –– রাজনীতিবিদ এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন & সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী।

রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিমান চলাচল শুরু, যাত্রী কম

রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিমান চলাচল শুরু, যাত্রী কম 
দীর্ঘ চার মাস পর আজ মঙ্গলবার থেকে রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিমান চলাচল শুরু হয়েচ।

ইউএস বাংলার প্রথম ফ্লাইট সকাল ১০ টায় ঢাকা থেকে ছাড়ার কথা থাকলেও তা বাতিল হয়। ইউএস বাংলার রাজশাহীর স্টেশন ম্যানেজার মোশারফ হোসেন জানান, ১৭ জন যাত্রী নিয়ে আসার কথা ছিলো। সেটাই বিকেলে আসবে। তবে সকাল সোয়া ১১ টায় ১৩ জন যাত্রী নিয়ে নভোএয়ারের বিমানটি এসেছে যথা সময়েই।বিমানটি দুপুরে ফিরে যাবে। ১২ টা পর্যন্ত যাত্রী ছিলো ৫ জন।

নভোএয়ারের রাজশাহী স্টেশন ম্যানেজার আতিকুর রহমান জানান, বিমানে যাত্রী বাড়বে। প্রথমদিন হওয়ায় যাত্রী  কম হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ বিমানের কোন বিমান এখনো চালু হয়নি। রাজশাহী জেলা ব্যবস্থাপক হেলাল উদ্দীন জানান, গত ১৪ই মার্চ তাদের বিমান চলাচল বন্ধ হয়। আগামী সেপ্টেম্বরের আগে চালুর সম্ভাবনা নেই।

রাজশাহীর বিমান বন্দরের স্টেশন ম্যানেজার সেতাফুর রহমান জানান, বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে যাত্রী কম হচ্ছে।

সবাই যেন আবেদনের সুযোগ পায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি

আপডেট: ২১ জুলাই ২০২০, ১১:০১
প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাকালেও মানুষের জীবন থেমে থাকতে পারে না, থেমে থাকতে পারে না শিক্ষা কার্যক্রমও। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষিত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালাকে বিবেচনা করতে হবে।

প্রতিবছর এপ্রিলে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই সরকারি-বেসরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। করোনা সংকটের কারণে এবার মার্চের শেষ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। তাই ফল প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌক্তিক কারণেই ভর্তি পরীক্ষা শুরু করতে কিছুটা সময় নিয়েছে।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা মোটামুটি আগের মতোই আছে। অনলাইনে আবেদন করতে হবে। ৯ আগস্ট থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। কয়েক বছর ধরে এসএসসি কিংবা এর সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়ে থাকে। এবারও সেই নীতিই বহাল থাকছে। তবে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে না। কেবল অনলাইনে করতে হবে। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আবেদন করতে পারবে।

সেশন ফিসহ শিক্ষার্থীদের ভর্তির ফি নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে মফস্বল বা পৌর (উপজেলা) এলাকায় এক হাজার, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় দুই হাজার, ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকা। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঁচ হাজার টাকা। কিন্তু সমস্যা হলো করোনাকালে শহর ও গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজ হারিয়েছেন। এই মুহূর্তে কোনো রোজগার নেই। ফলে তাঁদের পক্ষে উল্লিখিত ফি জমা দিয়ে সন্তানকে ভর্তি করানো সম্ভব না–ও হতে পারে।

দরিদ্র, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ফি যত দূর সম্ভব মওকুফের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় বলা হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো করোনাকালে বেশির ভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে আছে, সে ক্ষেত্রে তাদের পক্ষে ভর্তি ফি কম নেওয়া সম্ভব কি না, তা ভেবে দেখার বিষয়। এ ক্ষেত্রে সরকার শিক্ষাঋণের ব্যবস্থা করতে পারে। ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের বিপরীতে স্বল্প সুদে কিংবা বিনা সুদে ঋণ দিতে পারে।

আরেকটি বিষয় কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রাখতে হবে। অনেক শিক্ষার্থীর অনলাইন সুবিধা নেই। এ সুযোগে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী সেন্টারগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে। এ ক্ষেত্রেও সরকার ফি নির্দিষ্ট করে দিতে পারে। অথবা শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আবেদনের বিষয়ে সহায়তাও করতে পারে। সর্বোপরি কোনো শিক্ষার্থী যাতে ভর্তির আবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয় এবং আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কারও যাতে পড়াশোনা ব্যাহত না হয়, সেটি সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।

ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো চুক্তি করিনি: জাকারবার্গ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: রয়টার্সমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: রয়টার্সঅনেকেই ধারণা করেন, ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গোপন চুক্তি করেছেন। কিন্তু মানুষের এসব ধারণা ভুল এবং চুক্তির বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন জাকারবার্গ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাকারবার্গ ওই গোপন চুক্তির বিষয়টি উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘আমি মানুষের ওই অনুমানের বিষয়ে শুনেছি। বিষয়টি আমি পরিষ্কার করে বলছি, এ ধরনের কোনো চুক্তি হয়নি। আসলে চুক্তিসংক্রান্ত সমস্ত ধারণাই বেশ হাস্যকর।’

অন্য সামাজিক প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প বিধি লঙ্ঘনের জন্য ক্রমবর্ধমান তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে টুইটার প্রেসিডেন্টের কার্যক্রম তাদের প্ল্যাটফর্মে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। ফেসবুক অন্যদিকে ট্রাম্পের পোস্টে হাত দিচ্ছে না। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে হোয়াইট হাউসে অনির্ধারিত এক নৈশভোজে যান মার্ক জাকারবার্গ। সেখানে প্রেসিডেন্টসহ ফেসবুকের বোর্ড সদস্য ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র পিটার থিয়েল উপস্থিত ছিলেন। ওই নৈশভোজ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন জাকারবার্গ।

গত সপ্তাহে ফেসবুকের কর্মীরাও জাকারবার্গকে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান কর্মীদের কাছে তুলে ধরেন জাকারবার্গ। তিনি বলেন, ওই সময় নৈশভোজের আমন্ত্রণ তিনি গ্রহণ করেছিলেন। কারণ, জাকারবার্গ শহরেই ছিলেন ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ তিনি ফেলতে পারেননি। তিনি বারাক ওবামার শাসনামলেও নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন। আসল ঘটনা হচ্ছে, রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে আশ্চর্যের কিছু নেই। এর অর্থ তাঁর সঙ্গে কোনো চুক্তি করা নয়।

জাকারবার্গ বলেন, ‘একটি বিশেষ সমালোচনা আমি দেখছি যে অনেক মানুষ বলছে, আমরা ট্রাম্পের প্রতি বেশি দয়া দেখাচ্ছি বা ট্রাম্পের প্রশাসনের বেশি ঘনিষ্ঠ। কিছু মানুষকে বেশি জায়গা দেওয়া মানে তাদের মতের সঙ্গে একমত নই।’

জাকারবার্গের সমালোচনা থেমে নেই। অনেকেই বলছেন, অ্যান্ট্রিটাস্ট শুনানি থেকে বাঁচতে জাকারবার্গ হোয়াইট হাউস ঘনিষ্ঠতা বেশি করে দেখাচ্ছেন।

ট্রাম্পের সচরাচর কোনো সমালোচনা করেন না জাকারবার্গ। বিষয়টিও এখন সবার জানা। তবে ইদানীং এ নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউসির সঙ্গে এক ভার্চ্যুয়াল আলাপচারিতায় তিনি ট্রাম্পের সরাসরি নাম না নিয়ে মহামারি মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার কথা বলেন। এ ছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাস্ক পরার বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ার জাকারবার্গ সমালোচনা করেন।

শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস ও ইন্টারনেট অপরিহার্য: মোস্তাফা জব্বার

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ডিজিটাল ডিভাইস ও ইন্টারনেট ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অপরিহার্য। ইন্টারনেট খরচ নয়, এটা শিক্ষার্থীদের জন্য বিনিয়োগ। তিনি ডিজিটাল অবকাঠামোর বিদ্যমান সুযোগ কাজে লাগিয়ে মেধাভিত্তিক উদ্যোক্তা উন্নয়নের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তরুণ শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী গতকাল শনিবার রাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস আয়োজিত ‘স্টার্টআপ অপরচুনিটিস ইন আইসিটি অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন্স’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, অতীতের তিনটি শিল্প বিপ্লবে পিছিয়ে থাকা কৃষিভিত্তিক একটা দেশকে ডিজিটাল করাটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রযুক্তিতে শত শত বছরের পশ্চাৎপদতা অতিক্রম করে ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের নেতৃত্বের জায়গায় উপনীত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত এগারো বছরের বাংলাদেশ বিশ্বের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী দেশ হিসেবে গৌরব অর্জন করেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার জন্মভূমি কেনিয়া বাসীকে উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে অনুসরণের জন্য রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।’

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবায় বাংলাদেশকে পৃথিবীর দ্বিতীয়তম উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জনগণের জন্য অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সেবা ডিজিটাল করা হয়েছে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ডিজিটাল রূপান্তরের কথা বলেছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের কথা বলেছে ২০১৬ সালে। ইংল্যান্ড আমাদের এক বছর পর, ভারত ২০১৪ সালে, মালদ্বীপ ২০১৫ সালে তাদের দেশকে ডিজিটাল ঘোষণা করেছে এবং পাকিস্তান ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ডিজিটাল পাকিস্তান ঘোষণা করেছে।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, করোনায় পৃথিবীতে যে পরিবর্তন এসেছে এরপর বিশ্ব আগের জায়গায় ফিরে যাবে না। আমাদের সম্ভাবনাময় প্রতিভাকে কাজে লাগাতে হবে ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের দিক থেকে বাংলাদেশ খুবই সুবিধাজনক অবস্থানে আছে এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬৫ ভাগ তরুণ জনগোষ্ঠী আমাদের বড় শক্তি। এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতেই হবে। উন্নত দেশগুলোর সবচেয়ে বড় সংকটের নাম মানব সম্পদ। তাদের শতকরা ৬৫ ভাগ বৃদ্ধ জনগোষ্ঠী। এই সুযোগটা আমাদের কোনো অবস্থাতেই হাত ছাড়া করা যাবে না।’

অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নারী উদ্যোক্তা রুবাবা দৌলা।

ফ্রি ফেসবুক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বিটিআরসির

ফ্রি ফেসবুক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বিটিআরসির
বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করছে এমন অজুহাত তুলে বিনামূল্যে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে ইন্টারনেট প্যাকেজের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ইন্টারনেট সরবরাহকারীদের কাছে বিটিআরসি এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়ে বুধবার থেকে কার্যকরের নির্দেশ দেয়।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক পত্রের প্রেক্ষিতে দেয়া বিটিআরসির উপ-পরিচালক সাবিনা ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী অপারেটরসমূহ তাদের গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়া–সম্পর্কিত সেবা আংশিক বা কোনো ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করতে বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করছে। এসব ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া–সম্পর্কিত সেবা গ্রহণ করে কিছু অসাধু ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন মুহাম্মদ হাসান বলেন, ফেসবুক সংক্রান্ত ফ্রি অফার বন্ধে বিটিআরসি’র নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটারের মতো সাইটগুলো ব্যবহারে বিনা কিংবা অল্প মূল্যে ব্যবহারের প্যাকেজ দেয় অপারেটরগুলো। বিটিআরসি’র এ নির্দেশনার পর তাদের আর সেই সুযোগ আর থাকছে না।

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র জন্মবার্ষিকী

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ'র জন্মবার্ষিকী
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র জন্মবার্ষিকী আজ।  

১৯৫৬ সালের এই দিনে জন্ম নেন প্রতিভাবান এই কবি। আশির দশকে যে ক’জন কবি তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ‘প্রতিবাদী রোমান্টিক’ হিসাবে খ্যাত রুদ্র তাঁদের অন্যতম।

পিতার কর্মস্থল বরিশালে জন্ম নিলেও তার দাদার বাড়ি বাগেরহাটের মিঠেখালি গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ১৯৮৩ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন রুদ্র।

১৯৭৫ সালের পর স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন প্রতিবাদী এই কবি। তাঁর কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ ও অসাম্প্রদায়িকতা বলিষ্ঠভাবে উপস্থিত।

তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ৩৪ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকোর’ মতো অর্ধশতাধিক গান রচনা করেন।

‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই উপহার পেলো ২১শ শিক্ষার্থী

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে নরসিংদী চেম্বার অব কমার্সের ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্যদিয়ে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই পেলো নরসিংদীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২১০০ শিক্ষার্থী।

রবিবার (১লা মার্চ) দুপুরে, নরসিংদীর মোসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে এ বই বিতরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এমপি। নরসিংদী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনের সভাপতিত্বে বই বিতরণ অনুষ্টানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন, নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন ভূঁইয়া, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আলী হোসেন শীশিরসহ অন্যান্য বইপ্রেমী ও সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্যদিয়ে বই উপহার পাওয়া শিক্ষার্থীরা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানায়।

পশুর হাটে ক্রেতা কম, দুঃচিন্তায় বিক্রেতারা

পশুর হাটে ক্রেতা কম, দুঃচিন্তায় বিক্রেতারা
ঈদ সামনে রেখে বিভিন্ন জেলায় বসেছে পশুর হাট। তবে ক্রেতা না থাকায় পশু বিক্রি নিয়ে দুঃচিন্তায় বিক্রেতারা। এছাড়া, হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি।   

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছোট-বড় মিলে এবার প্রায় ২৩টি পশুর হাট বসেছে।  তবে, ঈদ এগিয়ে আসলেও এখনো বেচাবিক্রি নেই হাটে।

স্থানীয় বা বাইরে থেকেও কোন ক্রেতা আসছেন না হাটে। বিক্রি কম হওয়ায় হতাশ বিক্রেতারা।

করোনার কারণে বাজার না থাকার বিক্রেতারা বিপদে আছেন বলে জানান মনাকা পশুহাটের ইজারাদার মোজাম্মেল হোসেন।

এদিকে, হাটে মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি। ফলে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, জনগণকে সচেতন করার জন্য কিছু মোবাইল কোর্ট রয়েছে। তবে সচেতনতা না থাকলে করোনা সংক্রমণ বেরে যাবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী পশুহাটে এবার ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম।  ক্রেতা না থাকায় বিপাকে খামারী ও মৌসুমী পশু ব্যবসায়ীরা। হাতে গোনা কয়েকজন ক্রেতা হাটে আসলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ তারা। আর ক্রেতা সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশিল্ষ্টরা।

হাটে এলে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিলেন ভূঞাপুরের ভেটেরিনারি সার্জন টিএম মহিবুর রহমান।

পদত্যাগ করলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

পদত্যাগ করলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদ পদত্যাগ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যার পর জনপ্রশাসন সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন আবুল কালাম আজাদ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. আবদুল মান্নান।

করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই নানা কারণেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে ব্যর্থতার পাশাপাশি কেনাকাটা ও নিয়োগে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি সামাল দিতে না পারাসহ নানা অব্যবস্থাপনার দায়ে ডা. আজাদকে নিয়ে সরকারি মহলসহ দেশব্যাপী সমালোচনা চলছিলো। এর মধ্যেই আগামী বছরের ১৫ এপ্রিল মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন ডা. আজাদ।

বিস্তারিত আসছে…