আমেরিকার গোয়েন্দা বিমানকে বাধা দিয়েছে রাশিয়া

আমেরিকার গোয়েন্দা বিমানকে বাধা দিয়েছে রাশিয়া
কৃষ্ণ সাগরের আকাশে আমেরিকার আরো একটি গোয়েন্দা বিমানকে বাধা দিয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী।

রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে এই নিয়ে তিন দফা মার্কিন গোয়েন্দা বিমানকে কৃষ্ণসাগরের আকাশের বাধা দেয়া হলো।

রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্ত থেকে মার্কিন গোয়েন্দা বিমান সনাক্ত করার পর সেটিকে বাধা দেয়ার জন্য একটি এসইউ-২৭ যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়।

রাশিয়ান মন্ত্রণালয় বলছে, আমেরিকা পি-৮ পজিডোন বিমান পাঠিয়েছিল তবে রুশ বিমানের বাধার মুখে সেটি তার গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, দেশের সীমান্ত লঙ্ঘনের কোন সুযোগ শত্রুপক্ষকে দেয়া হবে না।

এর আগে, গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার আমেরিকার গোয়েন্দা বিমান রাশিয়ার আকাশে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদেরকে বাধা দেয়া হয়।

আমেরিকার বোমারু ও গোয়েন্দা বিমান প্রায়ই রাশিয়ার সীমান্তের কাছে শনাক্ত করা হয়ে থাকে। রাশিয়া এসব ঘটনাকে উসকানিমূলক বলে মনে করে।

‘খাদ্য ঘাটতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার’

'খাদ্য ঘাটতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার'
করোনা সংকটে দেশে যেন খাদ্য ঘাটতি না হয় সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকের সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা অনেকটা পিছিয়ে দিলেও কৃষির যে অগ্রগতি এটা ধরে রাখতে হবে। আমাদের মানুষের আর যাই হোক তাদের খাদ্যের অভাবটা যেন না হয় সেটা আমাদের দেখতে হবে। খাবারের ব্যবস্থাটা যদি আমরা ঘরে রাখতে পারি তাহলে অন্য কোনদিকে খুব একটা সমস্যা হবে না। আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো। নগদ অর্থসহায়তা, কৃষকদের সার, উন্নতমানের বীজসহ অন্য কৃষি উপকরণ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকারগুলোকে স্বাবলম্বী হতে হবে। এসডিজি অর্জনে স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ যেসব লক্ষ্য বাংলাদেশের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি।

এসময় একনেক সভায় ৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় ২ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থারও অনুমোদন দেয়া হয়।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মৃত্যু

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মৃত্যু
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু মারা গেছেন। ভোর চারটার দিকে রাজধানীল এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

সোমবার বেলা এগারটার দিকে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।  তীব্র শ্বাসকষ্ট থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়। গত রাত দেড়টার দিকে তাকে আনোয়ার খান মেডিক্যাল থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে মৃত্যু হয় তার।

শফিউল বারী বাবুর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনর নেতারা।  সকাল দশটায় নয়পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জানাজা শেষে তাকে নেয়া হবে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে।  সেখানে বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে।

ডিজিটাল হাটে চলছে কোরবানির পশুর কেনাবেচা

ডিজিটাল হাটে চলছে কোরবানির পশুর কেনাবেচা

মো. মিন্টু হোসেন, ঢাকা
২৭ জুলাই ২০২০, ১৩:০১
আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২০, ১৩:০৯

8ddf4f039c3d9fea7c2a96d04ad8f66a-5d4680574eb94করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মাথায় রেখে কোরবানির পশু কিনতে অনলাইনে আস্থা রাখছেন মানুষ। এবার তাঁরা কোরবানির গরু কিনছেন ‘ডিজিটাল হাটে’। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সহযোগিতায় ‘ডিজিটাল হাট’ এখন জমজমাট।

গত ১১ জুলাই এই হাটের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। উদ্বোধনের দিনই ‘ডিজিটাল হাট’ থেকে গরু কিনেছিলেন তিন মন্ত্রী। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইন আহমেদ গরু কেনার পর থেকে এই প্ল্যাটফর্মে অনলাইন ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ে।

ই-ক্যাব সূত্রে জানা গেছে, তাদের ডিজিটাল হাটে শুধু পশুই কেনা নয়, রয়েছে দক্ষ কসাই দিয়ে কোরবানি করিয়ে বাসায় মাংস পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা। তবে তার জন্য দিতে হবে বাড়তি চার্জ। পশু জবাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় গরুর মূল দামের সঙ্গে আরও ২৩ শতাংশ ও বাসায় পৌঁছানোর জন্য ঢাকার মধ্যে ১ হাজার ৫০০ টাকা চার্জ দিতে হবে। যেকেউ যেকোনো সময় https://digitalhaat.net এই ঠিকানা থেকে কোরবানির পশু কিনতে পারবেন।

করোনাভাইরাসের কারণে এবার আগে থেকেই গরুর হাটে যেতে অনেকের অনীহা আছে। সরকারের পক্ষ থেকেও ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে যাতে কোনো ধরনের পশুর হাট বসানো না হয়, সে জন্য তাগিদ দেওয়া হয়।

অনলাইনে গরু বিক্রি করার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ‘ডিজিটাল হাট’ নামের প্ল্যাটফর্মটি চালু করে। এতে সহযোগিতা করছে সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন।

ডিজিটাল হাট থেকে গরু কেনা সহজ। ওয়েবসাইটে ঢুকে ক্রেতারা বিভিন্ন আকার ও দামের গরুর ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে পছন্দ করতে পারছেন। এরপর প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। ক্রেতা চাইলে ভিডিও কলের মাধ্যমে গরুর ভিডিও দেখতে পারছেন। এবং গরুর পালনকারীর সঙ্গে কথাও বলতে পারছেন।

ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্রেতারা ডিজিটাল হাট থেকে ন্যায্যমূল্যে ক্রয়কৃত কোরবানির পশু ঢাকার পাঁচটি এলাকা থেকে মাংস প্রক্রিয়াকরণ করে নিজ নিজ ঠিকানায় ডেলিভারি নিতে পারবেন। ডিজিটাল হাটের আওতায় গরু বিক্রি ছাড়াও প্রায় দুই হাজার গরু জবাই করে এবং মাংস প্রক্রিয়া করে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

ই-ক্যাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে আস্থা তৈরি ও ঘরে বসে অনলাইনে পশু কেনাকাটার ব্যাপারে মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল হাট থেকে নিরাপদে পশু কেনা যাবে।

কোরবানির গরু বাছাই থেকে শুরু করে অনলাইনে দাম পরিশোধ বা পেমেন্টের সুবিধা পাওয়া যাবে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে। ফলে, দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীরাও অনলাইনে কোরবানির পশু কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। বিকাশ, নগদ, রকেটসহ মোবাইল ফোনভিত্তিক বিভিন্ন লেনদেন সেবা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ই-কমার্স সাইটগুলোয় পশুর দাম পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে।

অনলাইনে শুধু পশু কেনা নয়, কোরবানি করা বা মাংস প্রক্রিয়াকরণ—সব ধরনের সেবা মিলবে। ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ বলেন, অনলাইনে কোরবানির গরু কেনাকাটা করে কেউ যেন প্রতারিত না হয় এবং করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘরে বসে কোরবানির ব্যবস্থাপনা সেবা সহজ করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বিভিন্ন অনলাইন প্রতিষ্ঠান। ডিজিটাল হাটের মাধ্যমে পশু কেনাকাটা, পশু কোরবানির ব্যবস্থা করে মাংস পৌঁছে দেওয়াসহ বিভিন্ন সেবা দেবে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। অনলাইনে কেনা গরু-ছাগলের পরিচর্যা এবং কোরবানির ব্যবস্থার পাশাপাশি ঘরে বসে অনলাইনে নিজের পশু কোরবানি দেখার জন্য লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা করেছে ডিজিটাল হাট।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মঙ্গল অভিযান শুরু

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মঙ্গল অভিযান শুরু
মঙ্গলগ্রহে প্রথমবারের মতো সফলভাবে মহাকাশযান পাঠিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সোমবার (২০ জুলাই) জাপানের তানেগাশিমা মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ইউএই এর হোপ নামের মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

কোনো আরব দেশের মঙ্গলের উদ্দেশ্যে পাঠানো প্রথম মিশন এটি। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গলের কক্ষপথে ঢুকবে হোপ। তারপর দুই বছর ধরে লাল গ্রহটির চারপাশে ঘুরবে এবং মঙ্গলের আবহমণ্ডল সম্পর্কে পৃথিবীতে তথ্য পাঠাবে।

আমিরাতের দাবি, তাদের এই মঙ্গল অভিযানের ফলে বিভিন্ন ঋতুতে লাল গ্রহের আবহাওয়া কেমন থাকে তা জানা যাবে। এই মঙ্গল মিশনে ২০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। গত ১৪ জুলাই হোপের মহাকাশে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার জন্য দুইবার উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দিতে হয়।

ওবামা, বিল গেটসসহ বহু প্রভাবশালীর টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের টুইটার হ্যাকের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে মার্কিন গোয়েন্দ সংস্থা এফবিআই।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, মাইক্রোসফটের সহ প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও বিলিয়নিয়ার এলন মাস্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক বিশিষ্ট জনদের টুইটার হ্যাক হয়েছে।

এছাড়াও, হ্যাক হয়েছে আমাজন সিইও জেফ বেজস, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন ও কেনি ওয়েস্টেরও টুইটার। তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে ইন্টারন্যাল সিস্টেম ও টুল ব্যবহার করে।

এটি আপাত দৃষ্টিতে বিটকয়েন স্ক্যামেরই কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে টুইটার এটিকে সমন্বিত আক্রমণ বলেছে।

কাজী নজরুল ইসলামের ১২১ তম জন্ম জয়ন্তি

কাজী নজরুল ইসলামের ১২১ তম জন্ম জয়ন্তি
করোনা মহামারির কারণে হচ্ছে না কবি নজরুলের জন্মদিনের আয়োজন।

কাজী নজরুল ইসলামের ১২১ তম জন্মজয়ন্তি আজ। প্রেম ও দ্রোহের কবি তিনি। এ হাতে ছিলো তার বাঁকা বাশেঁর বাঁশি, অন্য হাতে রণতুর্য।  ভীষণ প্রতিকুলতার মধ্যে বেড়ে উঠেও সৃষ্টিশীল এই মানুষটি জয় করেছিলেন বাঙালির হৃদয়। তার সাম্যবাদী চেতনা আজও উজ্জীবিত করে তরুণ সমাজকে।

প্রতিবছর নানান আচার, অনুষ্ঠানে বিদ্রোহী কবির জন্মদিন পালিত হলেও মহামারির কারণে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। নেই জন্মদিনের অনুষ্ঠান, নেই কোন আয়োজন।

১৮৯৯ সালের ২৫শে মে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে। বাংলা ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে। আনুষ্ঠানিক পড়াশুনা এগোয়নি কবি নজরুলের। কৈশোরে তিনি যোগ দেন লেটো গানের দলে। ১ম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি যোগ দেন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে। সেখান থেকে ফিরে মুসলিম ভারত পত্রিকায় লেখা শুরু করেন ,তাতেই প্রকাশিত হয় কবির যুগান্তকারী কবিতা বিদ্রোহী।

১৯২২ সালে কাজী নজরুল নিজেই প্রকাশ করেন ধূমকেতু পত্রিকা। তৎকালীন ব্রিটিশ শাসন শোষণের বিরুদ্ধে লেখনীতে বলিষ্ঠ হাতিয়ার হয়ে ওঠে এই ধুমকেতু। এতেই কবি প্রকাশ করেন তার ধুমকেতু কবিতা।

এই কবিতার জন্যই ব্রিটিশ সরকারের হাতে গ্রেপ্তার হোন কবি। ১৯২২ সালে ব্রিটিশ সরকার নজরুলের ধুমকেতু পত্রিকা বন্ধ করে দেন। ১ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয় কবিকে। তবে সেই কারাগারে বসেই নজরুল লেখেন, সৃষ্টি সুখের উল্লাস,শিকল পড়ার গান। যেই গানগুলো আজও নবীনদের  উদ্দীপ্ত করে।

আলীপুরের সেই সেন্ট্রাল জেলে অবরুদ্ধ কবি ফাসির মঞ্চ দেখেই লিখেন দুর্গম গিরি কান্তার কবিতাটি।

কারাগারে দুর্বব্যবহারের কারণে কবি যখন অনশন করেন তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার অনশন ভঙ্গের অনুরোধ জানিয়ে টেলিগ্রাম পাঠান। তাকে উৎসর্গ করেন গীতিনাট্য বসন্ত। ব্রিটিশ সরকারের নানা শোষণ জুলুমের মধ্যে বিভিন্ন ভাবে দারিদ্রের শিকার হোন কবি। ১৯৫৬ সালে কয়েকজন সাহিত্যিক বন্ধুদের উপস্থীতিতে ঘরোয়াভাবে উতযাপিত হয় তাঁর জন্মদিন।

অসাম্প্রদায়িক চেতনার নজরুল ধর্মের ভেদাভেদ মানতেন না, তাইতো দূর্গার অশুর নিধন শক্তির আধারে লেখেন আনন্দময়ীর আগমনে, লেখেন প্রলোউল্লাস। একই সাথে নজরুল তার গানে আরবি ও ফারসি মিলে নতুন মাত্রা এনেছিলেন এবং তিনিই প্রথম বাংলা গজল গানের প্রবর্তক।

মানবিকতাই ছিলো নজরুলের কাছে সবচেয়ে বড় ধর্ম, তিনি কখনই ধনী দরিদ্রের ভেদাভেদ মানেননি। যে কারণে এই সময়েও নজরুলকে প্রাসঙ্গিক মনে করেন নজরুল ভক্তরা।

অনেকদিন রোগে ভুগেছেন কবি নজরুল। ১৯৭৬ সালে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশেই রচিত হয়েছে কবির সমাধি।

ভাল লেখক হতে চাইলে যে ৭টি টিপস জরুরী

ভাল লেখক হতে চাইলে যে ৭টি টিপস জরুরী
ভাল লেখক হতে চাইলে কিছু নির্দেশনা মেনে চলতেই হয়। সাবেক আর্টস সম্পাদক এবং কলামিস্ট এবং দ্য ইকনোমিস্ট সাময়িকীর ভাষা গুরু হিসেবে পরিচিত লেন গ্রিন ভাল লেখক হওয়ার সাতটি টিপস দিয়েছেন।

১. উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুরু করুন

আপনি যে বিষয়ে যুক্তি দিতে চান বা যে বিষয়টি নিয়ে গল্পটি বলতে চান তার মোদ্দা কথাটি আপাতত ভুলে যান। শুরু করুন কোন একটি বর্ণনা বা উদাহরণ দিয়ে যা পাঠককে আপনার লেখা পড়তে সঠিক মেজাজটি এনে দেবে।

“অনেক বছর পর, যখন তাকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখে পড়তে হলো….” এভাবে নিজের বিখ্যাত রচনা ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অব সলিটিউড’ বা ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ শুরু করেছিলেন লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ। এক্ষেত্রে ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখে কে রয়েছে এবং কেনই বা রয়েছে? – এটি একটি শক্তিশালী জিজ্ঞাসা।

২. বাক্য সংক্ষিপ্ত রাখুন

সংক্ষিপ্ত বাক্যে লিখলে তা আসলে পাঠকের মেধাকে ছোট করা বোঝায় না। কাজটা অতটা সোজা না হলেও গুরুত্বপূর্ণ। এটা কোন স্টাইল নয়, কিন্তু মানুষের জৈবিক বৈশিষ্ট্য মাত্র। কারণ এভাবেই আমাদের মস্তিষ্ক কাজ করে।

দীর্ঘ একটি বাক্য, বিশেষ করে যেসব বাক্যে একাধিক অধীনস্থ বাক্যাংশ থাকে, সে ধরণের বাক্য বুঝতে হলে পাঠককে ব্যাকরণের পাশাপাশি মূল বিষয়টিকে মাথায় একসাথে রাখতে হয়। যা অনেক বেশি কঠিন এবং পাঠককে আপনার লেখার ব্যাকরণ নিয়ে ব্যস্ত রাখারও কোন মানে হয় না। এর চেয়ে বরং লেখার মূল আধেয় বা বিষয় বস্তুর উপরই গুরুত্ব দেয়া উচিত।

৩. একই সাথে, বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের বাক্যও লিখতে হবে

আপনি হয়তো শুনে থাকবেন: “সব কিছুরই পরিমিতি বোধ থাকা উচিত, এমনকি পরিমিতিরও পরিমিতি বোধ থাকা জরুরি।” যেখানে ছোট ছোট বাক্যে লেখাটাই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা উচিত, তবে সব বাক্যই যদি ছোট লেখা হয় এবং আর কোন ধরণের বাক্য যদি না থাকে তাহলে তা আপনার লেখায় এক ধরণের কাটা কাটা ভাব অর্থাৎ রসহীন করে তুলবে।

এক ধরণের র‍্যাট-টাট-টাট অনুভূতি দিবে পাঠককে যা হয়তো আপনি বাস্তবে দিতে চাননি এবং এটা পাঠকের জন্য বিরক্তির কারণও হতে পারে। তাই সব ধরণের বাক্যই লিখতে হবে।

৪. সঠিক শব্দ ব্যবহার করুন

সঠিক শব্দের ব্যবহার পাঠককে দেখা, গন্ধ নেয়া, স্বাদ নেয়া কিংবা পায়ের আঙুল দিয়ে স্পর্শ করার মতো অনুভূতি দেয়। এটা পাঠককে এমন কিছু দেয় যা দিয়ে তারা তাদের মনের চোখ দিয়ে এক ধরণের ছবি আঁকে। এই ছবি এবং শব্দ মিলে, আপনার বার্তাকে স্মরণীয় এবং আকর্ষণীয় করে তুলবে পাঠকের কাছে।

৫. বিমূর্ত শব্দ এড়িয়ে চলুন

লেখার সময় শব্দ চয়নের দিকে খেয়াল রাখুন। এটি আপনার লেখাকে ক্লাসিক করে তুলতে পারে। ….বিশেষ করে এগুলোকে মাঝে মাঝে বলা হয়ে থাকে “মনোনীত করণ” বা আরো ভাল ভাবে বললে- “জম্বি নাউন বা ভৌতিক বিশেষ্য” বলা যায়।

এগুলো অনেক বেশি প্রাণহীন শব্দ যেমন “ঘটনা”, “ফেনোমেনা”, “স্তর” বা “পর্যবেক্ষণ”। ফেনোমেনা শুনতে আসলে কেমন শোনায়? পর্যবেক্ষণকে কিভাবে অনুভব করা যায়? প্রাতিষ্ঠানিক, আমলাতান্ত্রিক এবং অন্যান্য প্রাচীন লেখার ধরণে এমন শব্দের প্রাচুর্য থাকে। এর পরিবর্তে স্পষ্টভাবে কল্পনা করা যায় এবং নির্দিষ্টভাবে বিষয় বস্তুকে তুলে ধরে এমন শব্দ বাছাই করা উচিত।

৬. নিজের লেখাটি জোরে জোরে পড়ুন

শুধু নিজে নিজে লেখা, পুনরায় লেখা এবং সম্পাদনাই যথেষ্ট নয়, বরং জোরে জোরে পড়ুন। যখন আপনি পড়বেন তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে, লেখার সময় আসলে আপনি কোন ধরণের শব্দটি ভুলে গেছেন বা মিস করেছেন।

যদি এটা বলতে কষ্ট হয়, তাহলে এটা পড়তেও কষ্ট হবে। এছাড়া কোথায় ছন্দপতন হয়েছে সেটিও আপনি সহজেই ধরে ফেলতে পারবেন।

৭. দৃঢ় ভাবে শেষ করুন

শেষের জন্য আপনার জানা সবচেয়ে শক্তিশালী শব্দ বা বাক্য গুচ্ছ ব্যবহার করুন। আপনি কি ধরনে র শব্দ বাছাই করছেন সেদিকে খেয়াল রাখুন। এমনকি শক্তিশালী, বা জোর রয়েছে এমন সিলেবল দিয়ে শেষ করার চেষ্টা করুন। শেষের শব্দগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

অনুমোদনহীনদের বিরুদ্ধে দেড় মাসের মধ্যে ব্যবস্থা; স্বাস্থ্যের নতুন ডিজি

অনুমোদনহীনদের বিরুদ্ধে দেড় মাসের মধ্যে ব্যবস্থা; স্বাস্থ্যের নতুন ডিজি
অনুমোদনহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আগামী দেড় মাসের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক।

অনুমোদনহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিষয়ে একমাসের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর সোমবার (২৭ জুলাই) প্রথমবার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘মহামারি সামাল দেয়া বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম কাজ হবে মহামারি সামাল দেয়া। কারণ আগে তো বাঁচি, তারপর অন্যকিছু। বাঁচলে দুর্নীতি দূর করতে কাজ করা যাবে।’

এ সময় বাইরের দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক চক্র দেশের স্বাস্থ্যখাতকে প্রতিনিয়ত বির্তকিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক।

দায়িত্ব গ্রহণের কয়েকদিনের মাথায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৮ কর্মকর্তাকে বদলির বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রুটিন কাজ বলে জানান মহাপরিচালক। এর সাথে দুর্নীতি বা অনিয়মের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি।

মার্কিন কূটনীতিকরা চেংডু কনস্যুলেট ছাড়ছেন

মার্কিন কূটনীতিকরা চেংডু কনস্যুলেট ছাড়ছেন
বেইজিংয়ের বেধে দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার আগেই চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংডু কনস্যুলেট ছাড়তে শুরু করেছেন আমেরিকান কূটনীতিকরা।

সোমবার সকালের আগে এই কনস্যুলেট খালি করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছিল বেইজিং। এর আগেই সেখানকার কর্মীদের ফাইলের বক্স এবং আবর্জনার স্তূপ বহন করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। বিবিসি জানায়।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চেংডুর কনস্যুলেট বন্ধ করার নির্দেশ দেয় বেইজিং।

বাণিজ্য যুদ্ধ, দক্ষিণ চীন সাগরের নিয়ন্ত্রণ, হংকংয়ে চীনের নিরাপত্তা আইন জারিসহ নানা বিষয় নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বিরোধ চরমে উঠেছে।

গুপ্তচরবৃত্তি ও দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানোর অভিযোগ তুলে হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় হোয়াইট হাউস। কনস্যুলেট খালি করতে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পার হওয়ার সময়সীমা শেষ হয় গত শুক্রবার। এরপর রিপোর্টারদের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ভবনের দরজা ভেঙে সেখানে প্রবেশ করেন।

চেংডুতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট প্রাঙ্গণের বাইরে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে এবং সেটির সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, মার্কিন কনস্যুলেট থেকে ট্রাক বেরিয়ে যাচ্ছে এবং কর্মীরা ভবন থেকে কূটনীতিক প্রতীকগুলো সরিয়ে ফেলছেন।

স্থানীয় মানুষজন কনস্যুলেটের বাইরে জড়ো হয়ে চীনের পতাকা নাড়াচ্ছেন, অনেকে সেলফি তুলছেন। পুলিশ দর্শনার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং যেকোনো ধরনের উস্কানি ঠেকাতে চেষ্টা করছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৫ সালে চেংডুর এই কনস্যুলেটটি স্থাপিত হয়েছিল, যেখানে থেকে তিব্বতসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা হতো।

এই কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার পর বেইজিংয়ে দূতাবাসের বাইরে মেইনল্যান্ড চীনে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি কনস্যুলেট থাকছে। পাশাপাশি হংকংয়েও একটি কনস্যুলেট রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রেরও ওয়াশিংটনে দূতাবাসের পাশাপাশি চীনের আরও চারটি কনস্যুলেট রয়েছে।