লক্ষ্মীপুর টিভি| করোনা আপডেট, ২১/১০/২০২০, রিপোর্টঃ মেশকাতুল ইসলাম সিয়াম।বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ১হাজার ৫৪৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।এই নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৯৪ হাজার ১৩১ জন। এইদিকে গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু বরণ করেন ২৪ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫ হাজার ৭২৩ জনে।
গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৭০৪ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৮ হাজার ৮৪৫ জন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ ই মার্চ। আর প্রথম করোনায় মৃত্যু বরণ করেন ১৮ ই মার্চ।
অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের ৯৮টি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদে কর্মরত অধ্যাপকদের চাকরি তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত হচ্ছে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক পদে কর্মরত এসব কর্মকর্তা বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেলের চতুর্থ গ্রেডভুক্ত। তাদের তৃতীয় গ্রেডভুক্ত করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের কাছে প্রস্তাব চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের ৯৮টি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদে কর্মরত অধ্যাপকদের চাকরি তৃতীয় গ্রেডভুক্ত করার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক পদে কর্মরত এসব কর্মকর্তা জাতীয় বেতন স্কেলের চতুর্থ গ্রেডভুক্ত। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর থেকে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়ে।
তবে, গত ৬ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে খসড়া নিয়োগবিধিসহ পুনরায় প্রস্তাবটি চাওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষের পদ তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত করতে প্রস্তাবিত ৯৮ কলেজের তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতির খসড়া নিয়োগবিধিসহ প্রস্তাব পুনরায় পাঠানোর জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরকে বলা হয়েছে।গত ১৮ অক্টোবর অধিদফতরের মহাপরিচালককে এ নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়।
আরও জানা গেছে, ২০১৯ সালের মার্চে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক পদমর্যাদার (চতুর্থ গ্রেড) সরকারি কলেজের ২৭২টি অধ্যক্ষ ও ১৫৭টি উপাধ্যক্ষ পদ তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের ছয়টি পরিচালক পদ এবং নির্বাচিত নয়টি কলেজের অধ্যক্ষ পদসহ শিক্ষা ক্যাডারের ১৫টি পদ দ্বিতীয় গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।
লক্ষ্মীপুর টিভি। লেখকঃ মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম,প্রকাশিত-২০/১০/২০২০ইং বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ অক্টোবর দেশে বিদ্যমান ব্যাংকে কর্মরত সকল কর্মকর্তাদের পদোন্নতির নীতিমালায় ব্যাংকিং ডিপ্লোমা, ১ম পর্ব ও ২য় পত্রের জন্য নির্দিষ্ট নম্বর অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে- দি ইন্সটিটিউট অব ব্যাংকারস, বাংলাদেশ (আইবিবি) কর্তৃক ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তাদের জন্য দুই পর্বে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা আয়োজন করা হয়। উক্ত পরীক্ষার মুল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট মৌলিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ব্যাংকারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি ব্যাংক কর্মকর্তাদের পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনেও ব্যাংকিং ডিপ্লোমা সহায়ক ভুমিকা পালন করে থাকে বলে বলা হয়েছে। এসব বিষয়গুলি বিবেচনায় রেখে ব্যাংকিং খাতে অধিকতর দক্ষ ও প্রায়োগিক জ্ঞান সম্পন্ন কর্মকর্তা তৈরির লক্ষ্যে ব্যাংকের বিদ্যমান পদোন্নতি নীতিমালায় কিছু নির্দেশনায়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধিত পদোন্নতি নীতিমালা প্রনয়ণের জন্য পরামর্শ প্রদাণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, অফিসার বা সমমানের পদ থেকে মহাব্যবস্থাপক ও সমমানের পদ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে পদোন্নতির ক্ষেত্র বরাদ্দকৃত মোট নম্বরের মধ্যে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা ১ম পর্ব (JAIBB) ও ব্যাংকিং ডিপ্লোমা ২য় পর্ব (DAIBB) পরীক্ষার জন্য একটি নির্দিষ্ট নম্বর বরাদ্দ রাখতে হবে। তবে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা ২য় পর্ব (DAIBB) পরীক্ষার নির্ধারিত নম্বর কোনভাবেই ব্যাংকিং ডিপ্লোমা ১ম পর্ব (JAIBB) এর নির্ধারিত নম্বরের চেয়ে কম হতে পারবে না বলে হয়েছে। তবে, উল্লেখিত শর্তাবলী কিছু টেকনিক্যাল পদ যেমন আইটি, কর্মকর্তা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইন কর্মকর্তা এবং ক্যাশ এ কর্মরত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে শিথিল করা যাবে। এ সংক্রান্ত নীতিমালা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। নির্দেশনাটি ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারা ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে যা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বলা হয়েছে।
উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেকে সামনে রেখে ১৯৭৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দি ইন্সটিটিউট অব ব্যাংকারস, বাংলাদেশ গঠিত হয়।
ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষার উদ্দেশ্য মহৎ হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বাংলাদেশে এমন অনেক বড় বড় এমডি, এএমডি, ডিএমডি কিংবা খ্যাতনামা ব্যবস্থাপক আছেন যারা ডিপ্লোমা না দিয়েও ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি শাসন করতেছেন। তারা কি ব্যাংক পরিচালনা করতেছে না? ব্যবসায় আনতেছে না? তারা কি প্রায়োগিক জ্ঞান বা অভিজ্ঞতালব্দ জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারেন না? ডিপ্লোমা না করলে কি চৌকষ ব্যবস্থাপক হওয়া যায় না? তারপরও কেন ডিপ্লোমা নামক বস্তা পঁচা একটা পরীক্ষা পদ্ধতি ব্যাংকারদের ঘাড়ে চাঁপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? দিন রাত ব্যাংকে গাঁধার মতো খাটুনি করে শুধু সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়াশোনা করে প্রস্তুতি নেয়া সকলের পক্ষে সম্ভব হয় না। তার উপর ব্যাংকাররা নানারকম টার্গেটের ভারে জর্জড়িত। নো কস্ট, লো কস্ট ডিপোজিট আনা। রিকোভারি করা। কাস্টমার ধরে রাখা বা ফলোয়াপ করা। এসব কাজ করে ঘরে ফিরে পরিবারকে সময় দিবে দূরের কথা ছোটবেলার মত বই,কলম আর খাতা নিয়ে বসা যেন মাথায় কুড়াল মারা। তারউপর অনেকের হয়তো পাঁচ বছর, একযুগ হয়ে গেছে বই ছেড়ে এসেছে। বুড়ো বয়সে এসে কি লিখবে তাই বাধ্য হয়েই অনেকের মধ্যে হয়তো নকলের প্রবণতা দেখা যায়। সে কারণেই আইবিবি পরীক্ষায় ব্যাংকাররা নকল করে পরীক্ষা দেয় এই ধারণা প্রচলিত আছে। যদিও আজকাল অনেক কমে গেছে। তবে নকল করেই হোক আর না করেই হোক কোনভাবেই পাশ করার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। অনেকেই বলেন ব্যাংকিং ডিপ্লোমা (আইবিবি’র) পরীক্ষায় পাশ করা অনেকটা লটারির মত। ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষার খাতা দেখা হয় না। ভালো লিখেও অনেকে ফেল করে, ভালো না লিখেও অনেকে পাশ করে। এই ধারণার সত্যতা কতটুকু তা কেবল আইবিবি কর্তৃপক্ষই ভাল জানেন। অনেকে এখানে বাণিজ্যের নগ্নতাকেও খুঁজে পান।
এমনও দেখা গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা আইবিএ কিংবা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ব্যবসায় শাখায় বিবিএ, এমবিএ বা অনার্স, মাস্টার্স করেও অনেক ব্যাংকারই ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় নিজ বিষয়ে প্রথমবারে পাশ করতে পারেন না। তাছাড়া যারা ব্যবসায় শিক্ষা ছাড়া অন্য কোন বিভাগের শিক্ষার্থী তাদের জন্য প্রস্তুতি নেয়াটা আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং। আবার ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থী হলেও কি হবে এদেশের শিক্ষা পদ্ধতির সাথে চাকুরী জীবনে প্রবেশের পরীক্ষা পদ্ধতি সাংঘর্ষিক। চাকুরীর প্রস্তুতি নিতেই ছাত্রজীবনে কি পড়ে আসছে তা অনেকেই বেমালুম ভুলে যায়। সেক্ষেত্রে ব্যাংকিং ডিপ্লোমার পরীক্ষায় যারা যে বিভাগ থেকে আসুক না কেন সবার জন্যই একটি চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। যদিও ব্যাংকাররা অনেকেই ব্যাংকিং ডিপ্লোমার বিষয়গুলো আগেই পড়ে এসেছে। তারপরও তাদেরকে পঠিত বিষয়গুলোই আবার পরীক্ষা দিতে হয়। পাশ ফেলের টেনশন করতে হয়। আবার প্রত্যেক বছর ফলাফল প্রকাশের পর অনেক ব্যাংকার ফলাফল রিভিউ করার জন্য আবেদন করলেও ফলাফল পরিবর্তন হয় এমন ব্যক্তির সংখ্যা খুবই নগন্য। উল্টো অর্থের অপচয় হয় মাত্র।
আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। পরীক্ষার সিট যে কেন্দ্র স্কুল বা কলেজে পরে সেখানকার শিক্ষক বা ম্যাডামরা ব্যাংকারদের সাথে যা ইচ্ছা তাই আচরন করেন। খাতা টেনে নিয়ে যায়। কখনও নানা রকম কটু কথা বলে। হল থেকে বের করে দেয়। বলতে গেলে মানুষই মনে করে না ব্যাংকারদের। তারপরও ভদ্রতা আর ধৈর্যের খাতিরে ব্যাংকাররা চুপ করে থাকেন। ব্যাংকিং ডিপ্লোমা বা আইবিবি মূল্যহীন একটা পরীক্ষা বর্তমান সময়ে যার কোন গ্রহণযোগ্যতা নাই বলে অনেকেই বলে থাকেন। বরং এ পরীক্ষাটির কারণে সকল ব্যাংকারকেই পরীক্ষার হলে হেনস্থার স্বীকার হতে হয়। এই ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাকালীন দেশে এখনকার মতো বিবিএ এমবিএ বা অন্যকোন প্রফেশনাল ডিগ্রি ছিল না। শ্রদ্ধা নিয়েই বলছি অনেকে হয়তো তৎকালীন সময়ে সাধারণ এসএসসি বা এইচএসসি পাশ করেই ব্যাংকে জয়েন্ট করেছেন। কর্মকর্তারা ততবেশি ব্যাংকিং সহায়ক পড়াশুনারও সুযোগ পেতেন না। তাই এসব বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে ব্যাংকিং খাতে অধিকতর দক্ষ ও প্রায়োগিক জ্ঞান সম্পন্ন কর্মকর্তা তৈরির লক্ষ্যে এবং ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট মৌলিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ব্যাংকারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে সে সময়ে ব্যাংকিং ডিপ্লোমার ব্যবস্থা করা হয়।
গত একযুগ বা তারও বেশি বছর ধরে এদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সাথে সমন্বয় রেখে এবং প্রতিযোগিতা আর সময়ের চাহিদায় নতুন নতুন বিষয় বা প্রফেশনাল ডিগ্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজ যারা দেশের বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন তারা এসব বিষয়গুলোই (যা আইবিবি’র সিলেবাস অন্তর্ভুক্ত আছে) পড়াশুনা করে তারপর প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লড়াই করেই চাকুরী পেয়েছে। তারপরও আবার পঠিত বিষয়গুলোকেই ব্যাংকিং ডিপ্লোমায় রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অবাক লাগে বর্তমান যুগেও বিবিএ, এমবিএ বা এমন প্রফেশনাল ডিগ্রিকে গুরুত্ব না দিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ব্যাংকিং ডিপ্লোমাকে। যার অবস্থানকে আরও বেশি সুসংহত করল বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩ অক্টোবরের আকস্মিক সার্কুলার। যেখানে ব্যাংক কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে ব্যাংকিং ডিপ্লোমায় নির্ধারিত নম্বর রাখার জন্য ব্যাংকগুলিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অথচ এই ডিপ্লোমা নিয়ে সকল ব্যাংকারদের নানা অভিযোগের কমতি নাই। সেখানে সকল ব্যাংকারদের আশ্রয়স্থল বা বিপদের কান্ডারী বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সার্কুলার সবাইকে আহত করেছে বলে অনেকেই মনে করেন। আরেকটি কথা না বললেই নয় যে, বর্তমানে এমবিএ প্রফেশনাল কোর্সটি ব্যবসায়ের শিক্ষার্থীর পাশাপাশি কলা আর বিজ্ঞানের বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ডিগ্রিটি নিয়ে থাকেন। এতকিছুর পরেও ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পাশ করতে হবে। তারপর পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন। ফেল করলে বছরের পর ঝুলে থাকতে হবে। ব্যাপারটি দুঃখজনক।
বাংলাদেশে ব্যাংকিং সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দি ইন্সটিটিউট অব ব্যাংকারস, বাংলাদেশ (আইবিবি) কতটুকু কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে তা এদেশের ব্যাংকিং পাইওনিয়ররাই মুল্যায়ন করবেন। অন্যদিকে ব্যাংকারদের পদোন্নতিতে নির্ধারিত নম্বর রাখার অনভিপ্রেত নির্দেশনা পুর্ণবিবেচনা করে ব্যাংকারদের গলার কাঁটা নামক ব্যাংকিং ডিপ্লোমার পরীক্ষার সিলেবাস সংশোধণ, আধুনিকায়ণ ও দুই পর্বের পরীক্ষা পদ্ধতিকে ঢেলে সাঁজিয়ে আরও যুগোপযোগী করা হউক দেশের সকল ব্যাংক কর্মকর্তাদের এটাই প্রত্যাশা।
নতুন করে বিপত্তিতে পড়েছেন অভিবাসী শ্রমিকেরা।
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর মহামারীর মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসী শ্রমিককে পুনরায় ভিসা দিতে নতুন করে কাগজপত্র জমা দিতে বলেছে সৌদি আরব। মহামারীর আগে ভিসা পেলেও প্রাদুর্ভাবের কারণে যারা যেতে পারেননি তাদের নতুন করে কাগজপত্রের সঙ্গে মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন এই খাতে সংশ্লিষ্টরা।
প্রবাসে‘লাভজনক’ চাকরির আশায় এরই মধ্যে এই অভিবাসী শ্রমিকরা ঋন করে কিংবা কষ্টার্জিত আয়ের পুরো অর্থই খরচ করে ফেলেছেন কাজ এবং ভিসা পেতে। করোনা মহামারীর মধ্যে যেতে না পারায় এমনিতেই কঠিন দিন পার করছেন তারা। তার মধ্যে নতুন করে সব কাগজপত্র চাওয়া মানে তাদের পুনরায় আর্থিক সংকটে ফেলে দেয়া।
পুনরায় ভিসা দেয়ার বিষয়টি সৌদি নিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করবে। করোনার আগে তারা শ্রমিক নিয়োগের জন্য স্থানীয় নিয়োগকারীদের ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ দিয়েছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে তৈরি অর্থনৈতিক মন্দায় তারা এখন শ্রমিক নিয়োগ দেবেন কিনা তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এর তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মার্চ পর্যন্ত সৌদি নিয়োগকারীরা বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক লাখ ৩৩ হাজার কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন। করোনা মহামারীর কারণে মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে শ্রমিক নেয়া বন্ধ হয়ে যায়।
বায়রার সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ জানান, মহামারীর আগে নিয়োগকর্তারা নির্দিষ্ট কিছু প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগের জন্য বাংলাদেশি নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে ডিমান্ড লেটার পাঠিয়েছিলেন। সেই প্রকল্পে কর্মী নিয়োগে তারা এখন কতটা সক্ষম সে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার তাদের রয়েছে।
বিএমইটির মহাপরিচালক শামসুল আলম জানান, বিএমইটিতে স্মার্ট কার্ডধারীদের নতুন করে কিছু করতে হবে না। বায়রার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে ৮৬ হাজার শ্রমিক পাঠানোর যে ভিসা অ্যাডভাইস কপি রয়েছে তার মেয়াদ মার্চে শেষের দিকে ছিল।
করোনা আপডেট- ২০/১০/২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মেশকাতুল ইসলাম সিয়াম-
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ১হাজার ৩৮০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।এই নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৯১ হাজার ৫৮৬ জন। এইদিকে গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু বরণ করেন ১৮ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫ হাজার ৬৯৯ জনে।
গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫৪২ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৭ হাজার ১৪১ জন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ ই মার্চ। আর প্রথম করোনায় মৃত্যু বরণ করেন ১৮ ই মার্চ।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৯০ হাজার ২৬০ জন। গত ৮ মাসে দেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু বরণ করেন ৫ হাজার ৬৮১ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৫ হাজার ৫৯৮ জন।
দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ ই মার্চ। আর প্রথম করোনায় মৃত্যু বরণ করেন ১৮ ই মার্চ।
এই দিকে করোনা ভাইরাসে সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৪ কোটি মানুষ। আর এখন পর্যন্ত মৃত্যু বরণ করেন ১১ লাখ ৪ হাজার মানুষ। করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চীনে সর্বপ্রথম করোনা শনাক্ত হয়। বর্তমানে এটি বিশ্বের ২১৪ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত মার্চ মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে ঘোষণা করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চলতি বছরের মধ্যে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অগ্রগতিতে বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ অর্থনীতির দেশ ভারতকে পেছনে ফেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।
সংস্থাটির সাম্প্রতিক ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশের সম্ভাব্য মাথাপিছু জিডিপি চার শতাংশ বেড়ে হতে পারে ১ হাজার ৮৮৮ ডলার। সেখানে ভারতের সম্ভাব্য মাথাপিছু জিডিপি ১০ দশমিক পাঁচ শতাংশ কমে হতে পারে ১৮৭৭ ডলার। অর্থাৎ এই প্রথম মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে ১১ ডলার এগিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। বিশ্ব জিডিপিতে ভারতের অংশ যেখানে ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ সেখানে বাংলাদেশের অংশ মাত্র দশমিক ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের অর্থনীতির আকার ১০ গুণ বড়। তারপরও ভারতকে টপকে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের এই পিছিয়ে পড়া নিয়ে ভারতেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু লিখেছেন, যে কোনও বিকাশমান অর্থনীতির দেশের অগ্রগতির খবর অবশ্যই ভালো। কিন্তু এ খবরটি ভারতের জন্য বিরাট একটি ধাক্কা। পাঁচ বছর আগেও যে দেশের চেয়ে ২৫ শতাংশ এগিয়ে ছিল ভারত, এখন সেই দেশের পেছনে।
আইএমএফ বলছে, ১৯৯০-এর দশকে অর্থনীতি উন্মুক্ত করার পর থেকেই চীনের দ্রুত সম্প্রসারণকে ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে ভারত। তিন দশক এই লক্ষ্যে চলার পর বাংলাদেশের পেছনে পড়ায় ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। চীনকে মোকাবিলায় কার্যকর অংশীদারত্ব চায় পশ্চিমারা। কিন্তু তারা চায় না সেই অংশীদার ভারত নিম্নমধ্যম আয়ের ফাঁদে আটকে পড়ুক।
ভারতের জনসংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে আটগুণ বেশি হলেও করোনায় মৃতের সংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে ২০ গুণ বেশি। সবচেয়ে ক্ষতি হলো করোনা মোকাবিলা করতে গিয়ে লকডাউন কার্যকর করায় ভারতের প্রবৃদ্ধি ১০.৩ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে বলে মনে করে আইএমএফ। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে করোনার প্রভাবে যে ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে সেটির তুলনায় এই প্রায় ২ দশমিক ৫ গুণ বেশি।
সৌমিত্র ও অরবিন্দ লিখেছেন, ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্বল্প-দক্ষতার টেক্সটাইল পোশাক খাতে উৎপাদন ঘাটতি ১৪০ বিলিয়ন ডলার। যা ভারতের জিডিপির ৫ শতাংশ।
যদি ভারতের ২০১৯ সালের কম্পিউটার সফটওয়্যার রপ্তানির অর্ধেক বাতিল হতো তাহলে উন্মোদনা ছড়িয়ে পড়তো। কিন্তু ওই ৬০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি তেমন, যেমন প্রতি বছর স্বল্প-দক্ষতার পণ্য উৎপাদনে হয়। এটিই প্রকৃত অবস্থা কিন্তু কেউ তা নিয়ে কথা বলতে চায় না। নীতিনির্ধারকরা কখনও স্বীকার করতে চান না যে জুতো ও পোশাক কারখানা কখনও গড়ে উঠেনি বা জোর করে বন্ধ করা হয়েছে। এগুলো থেকেও ডলার উপার্জন করা এবং সাধারণের কর্মসংস্থান সম্ভব। এই খাত গ্রাম থেকে নগরে অভিবাসনের স্থায়ী পথ দেখাতে পারে, যা উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের দরকার হয় এমন চাকরিতে এতো সহজে সম্ভব না। বাংলাদেশে কর্মক্ষম শ্রমশক্তির মধ্যে প্রতি ৫ জনের মধ্যে ২ জন নারী রয়েছেন। এই হার ভারতের চেয়ে দ্বিগুণ। ভারতে এই হার ২১ শতাংশ।
আর্থিক সংকট, পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকা আর্থিক ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ভীতি ভারতের কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে আরও বিলম্বিত করবে। আরও খারাপ খবর হল, এমনকি করোনা মহামারি ছাড়াও ভারত হয়তো বাংলাদেশের পেছনে চলে যেত। এই পিছিয়ে পড়ার সম্ভাব্য কারণ উঠে এসেছে পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ সৌমিত্র চ্যাটার্জি ও ভারতের সাবেক প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রামানিয়ানের একটি নতুন গবেষণায়। তারা এই গবেষণার নাম দিয়েছেন, ইন্ডিয়া’স ইক্সপোর্ট-লেড গ্রোথ: এক্সেমপ্লার অ্যান্ড এক্সেপশন (ভারতের রফতানি-নির্ভর প্রবৃদ্ধি: উদাহরণ ও ব্যতিক্রম)।
আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দেশরত্ন শেখ হাসিনার আনুগত্যের নির্ভিক নেতা বিশিষ্ট সমাজসেবক, দানশীল ব্যাক্তি এবং লক্ষ্মীপুর জেলার কৃতি সন্তান জনাব হিজবুল বাহার রানা।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি বরাবর প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিলে আজ ১৯ অক্টোবর ২০২০ রোজ সোমবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি স্বাক্ষরিত পত্রে ১১১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের পুর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা।বাংলাদেশ কৃষকলীগের নবনির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক “জনাব হিজবুল বাহার রানা”- লক্ষ্মীপুর টিভি ফাইল ফটো।
সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানাই। আমাকে নব গঠিত বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সন্মানীত সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, সাধারন সম্পাদক জননেতা ওবায়দুল কাদের এমপি, শ্রদ্ধেয় নেতা বাংলাদেশ কৃষক লীগের বিপ্লবী সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ ও সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপির প্রতি চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
দেশে কৃষির উন্নয়ন এবং কৃষকের স্বার্থরক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল “কৃষক বাঁচাও ,দেশ বাঁচাও” শ্লোগানে বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। আবদুর রব সেরনিয়াবাদ ছিলেন সংগঠনটির প্রথম সভাপতি।
উল্লেখ্যঃ গত বছর ৬ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে (আইইবি) সম্মেলনে সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দকে এবং উম্মে কুলসুম স্মৃতি কে সাধারণ সম্পাদক করে কৃষক লীগের দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি (সিয়াম)- লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোহাম্মদ মাসুম এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে লক্ষ্মীপুর জেলার অন্যতম সেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন অগ্রযাত্রা ফাউন্ডেশন ও অগ্রযাত্রা ব্লাড ডোনেট ক্লাব। ১৯ অক্টোবর (সোমবার) সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কার্যালয় এ সৌজন্য সাক্ষাৎ এ উপস্থিত ছিলেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুম, অগ্রযাত্রা ফাউন্ডেশন এর সভাপতি ও অগ্রযাত্রা ব্লাড ডোনেট ক্লাব এর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ নূর হোসেন ফাহাদ, অগ্রযাত্রা ব্লাড ডোনেট ক্লাব এর সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ তারেক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেশকাতুল ইসলাম সিয়াম, প্রচার সম্পাদক আবুল বায়ান, সদস্য রাকিব, তানভীর হোসেন রনি, সোরাভ হোসেন রাকিব, মারুফ হোসেন, তারভীর হোসেন সিফাত প্রমুখ।
১৮ অক্টোবর, ২০২০ (বাসস) : জাতির পিতার কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নির্মম হত্যাকান্ডের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা আর যাতে না ঘটে সেজন্য তাঁর সরকার শিশুদের জন্য একটি ভবিষ্যত রচনায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটুক সেটাই আমরা চাই।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়ে গেছেন। এই স্বাধীনতার সুফল প্রত্যেক ঘরে পৌঁছাবে এবং প্রতিটি শিশু লেখাপড়া শিখে আগামী দিনে এদেশের কর্ণধার হবে, সুন্দরভাবে বাঁচবে সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে জাতির পিতার কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বাষ্পরুদ্ধ কন্ঠে বলেন, ‘আজকে রাসেলের জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর রাসেলের জন্ম। কিন্তু তাঁর জীবন শেষ হয়ে যায়, একটি ফুল কুড়িতেই শেষ হয়ে যায়, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে তাঁকে নির্মমভাবে চিরবিদায় নিতে হয়।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে তাঁর (রাসেলের) বিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ রাসেলের ‘ম্যুরাল’ উন্মোচন করেন এবং ‘শহীদ শেখ রাসেল ভবন’ উদ্বোধন করেন।
ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে তিনি শহীদ শেখ রাসেলের ওপর নির্মিত এনিমেটেড ডকুমেন্টারি ‘বুবুর দেশ’-এর প্রদর্শনী এবং শেখ রাসেলের জীবনীর ওপর প্রকাশিত বই ‘শেখ রাসেল আমাদের আবেগ’ এবং ‘স্মৃতির পাতায় শেখ রাসেল’ শীর্ষক দু’টি বইয়ের মোড়কও উন্মোচন করেন।
শেখ রাসেল শিশু-কিশোর সংসদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে প্রচারিত ‘শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের কার্যক্রম সংক্রান্ত ভিডিও চিত্র অবলোকন, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণসহ অন্যান্য কার্যক্রমে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটির সঙ্গে একাধারে প্রধানমন্ত্রীর গণভবন, শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণ এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সংযুক্ত ছিল।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রান্তে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদান করেন। শেখ রাসেল অনলাইন দাবা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার এবং সংগঠনটির সাংগঠনিক কর্মকান্ডে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তিনি ল্যাপটপও বিতরণ করেন।
শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. রকিবুর রহমান, মাহমুদুস সামাদ এমপি, কে এম শহীদুল্লাহসহ সংগঠনটির শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আজকে তাঁর (শেখ রাসেল) স্কুলের সব শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা যে উদ্যোগটা নিয়েছেন, সেখানে রাসেল আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী যুগ যুগ ধরে যারা পড়াশোনা করবে তারা এটুকু শিখবে, এইটুকু জানবে যে, একটি ছোট্ট শিশু ছিল এই স্কুলে যে শিশুটিকে বাঁচতে দেয়া হয়নি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি শিশুদের জন্য বলবো-আমাদের শিশুরা দেশপ্রেমিক হবে, মানুষের মত মানুষ হবে, মানুষের সেবা করবে এবং নিজেদেরকে উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। আধুনিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত হবে।’
তিনি এ সময় করোনাভাইরাসকালীন সতর্কতা হিসেবে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করা এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে স্কুল খুললেই সকলে আবার শ্রেণী কার্যক্রমে যথাযথভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি অভিভাবকদেরকে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি তাদের মধ্যকার সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং খেলাধুলার সুযোগ করে দেয়ারও আহ্বান জানান।
‘মুজিববর্ষে’ ৫৬তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠিত হচ্ছে শেখ রাসেলের। ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল ঢাকার বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়িতে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর) জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অন্য সকলের সঙ্গে ঘাতকের বুলেটে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে অন্য সবার সঙ্গে না ফেরার দেশে চলে যায় সে।