ক্ষিপ্ত হয়ে শাশুড়িকে খুন করে নাছমিন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার খাগরিয়ায় ছুরিকাঘাতে শাশুড়ি খুনের ঘটনা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন পুত্রবধূ নাছমিন আক্তার। শুক্রবার চট্টগ্রামের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহম্মেদ খন্দকারের আদালতে তিনি এই জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি পারিবারিক কলহের জের ধরে মনোমালিন্যের কারণে ছুরিকাঘাতে খুন করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আদালত সূত্র।সাতকানিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, খাগরিয়ায় শাশুড়ি হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার পুত্রবধূ নাছিমনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি খুনের কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
এর আগে গত ২১ জুন সোমবার সন্ধ্যায় পারিবারিক কলহের জের ধরে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে শাশুড়ি রোকেয়া বেগমকে ছুরিকাঘাত করেন পুত্রবধূ নাছমিন আক্তার। এতে গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিন পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘাতক পুত্রবধূ নাছমিন আক্তারকে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করে পুলিশ। পরদিন থানায় মামলা করে নাছমিন আক্তারকে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

মডার্নার সাড়ে ১২ লাখ ডোজ টিকা ঢাকায়

কোভ্যাক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে মডার্নার ২৫ লাখ টিকার প্রথম ডোজের সাড়ে ১২ লাখ ঢাকায় পৌঁছেছে। শুক্রবার রাত ১১টা ২২ মিনিটে মডার্নার সাড়ে ১২ লাখ টিকা বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।এদিকে আজ রাতেই চীনের সিনোফার্মের ১১ লাখ ডোজ ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। আর মডার্নার বাকি টিকা আসবে শনিবার।বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি জানান, ৩ জুলাই শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মডার্নার আরও ১৩ লাখ ডোজ টিকা পৌঁছাবে। সকাল ৫টার দিকে পৌঁছাবে সিনোফার্মের আরও ৯ লাখ ডোজ টিকা।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মডার্না ও সিনোফার্ম মিলে দেওয়া মোট ৪৫ লাখ ডোজ টিকা পাওয়ার পর ওই টিকাদান কর্মসূচি আমরা শুরু করে দিতে পারব।’

প্রশাসনের কড়াকড়ি ঘরবন্দি মানুষ বিধি ভঙ্গের অভিযোগে ঢাকায় গ্রেফতার ৫৫০ জন

সারা দেশে মাঠে ছিল ম্যাজিস্ট্রেটসহ সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি * বিধি ভঙ্গের অভিযোগে ঢাকায় গ্রেফতার ৫৫০ জনকরোনার ঊর্ধ্বগতি রোধে কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম দিন (বৃহস্পতিবার) সারা দেশের মানুষ কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। সড়ক মহাসড়ক ছিল একেবারেই ফাঁকা। তবে কোনো কোনো পাড়া-মহল্লায় মানুষের জটলা দেখা গেছে। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছে সব জরুরি সেবাসহ শিল্পকারখানা। বন্ধ ছিল সব ধরনের অফিস-আদালত, গণপরিবহণ, যন্ত্রচালিত যান, শপিংমল-মার্কেট ও দোকানপাট।এ সময় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির কঠোর তৎপরতা দেখা গেছে। পাশাপাশি ছিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১০৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত। যারাই ঘর থেকে বের হয়েছেন তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি হতে হয়েছে। আর অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়াদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে আইনানুগ ব্যবস্থা।

নির্দেশনা অমান্য করায় ঢাকায় ৫৫০ জনকে গ্রেফতার এবং ঢাকার বাইরে শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে। ঢাকার ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২১২ জনকে জরিমানা ও ৩৯১ জনের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। এদিকে বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকা হাসপাতাল, ফার্মেসি, শিল্পকলকারখানা ও গার্মেন্টস খোলা থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা চলাচলে অন্তহীন দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছেন। যেতে হয়েছে রিকশা ও ভ্যানগাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়ায়। প্রতিষ্ঠানের পরিচয় থাকলেও অনেককে পুলিশ কর্মক্ষেত্রে যেতে দেয়নি বলে অভিযোগ মিলেছে। কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে গাড়িচালকদের। চেকপোস্ট বসানোর কারণে রাজধানীর গাবতলীর প্রবেশমুখে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

কোভিড-১৯ এর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে কাবু হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার সাত দিনের (গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত) জন্য ২১ দফা বিধিনিষেধ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকার প্রধান সড়কগুলো বৃহস্পতিবার এক প্রকার ফাঁকাই ছিল। গুটিকয়েক রিকশা, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস চলাচল করতে দেখা গেছে। জরুরি সেবা কার্যক্রমে নিয়োজিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম কর্মীদের বাইরে চলাচল করতে দেখা গেছে। আর শহরের প্রবেশমুখ, মোড়গুলো, মার্কেট, জনসমাগমস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর টহল ছিল।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়া যারাই বের হবেন তাদেরই মামলার মুখোমুখি হতে হবে। গ্রেফতারকৃতদের বাইরে যারা আটক হয়েছেন তারা যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারলে তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। আর যদি যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারেন সে ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যত দিন লকডাউন চলবে তত দিন পুলিশের এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

সরেজমিন আরও দেখা গেছে-রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, ফার্মগেট, তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী, কুড়িল, গুলশান, মিরপুর, গুলিস্তান, নিউমার্কেট, মগবাজার এলাকার প্রধান সড়কগুলো ফাঁকা ছিল। তবে মহল্লার ভেতরের দোকানপাট খোলা ছিল। অলিগলিতে মানুষের আড্ডা, চলাফেরা ছিল স্বাভাবিক সময়ের মতো। খিলগাঁও, শাহজাহানপুর এলাকায় পুলিশের সামনে অলিগলিতে মানুষের অহেতুক চলাচল ও আড্ডা দিতে দেখা গেলেও পুলিশকে নির্বিকার থাকতে দেখা গেছে।

মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড বসিয়ে চলাচলকারী যানবাহনে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যারা ঘরের বাইরে বের হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে আইনগত ব্যবস্থা। তবে যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে রাজধানীতে মাস্ক বিতরণ করতেও দেখা গেছে। আর বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে কড়া নজরদারি ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। ঢাকায় ঢুকতে যানবাহনগুলোকে যৌক্তিকতা তুলে ধরতে হয়েছে পুলিশ-র‌্যাবের কাছে। এজন্য প্রবেশপথগুলোতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকাভেদে তদারকি কিছুটা কম পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় রাস্তাগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা। এ ছাড়া প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে তৎপরতা বেশি থাকলেও বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে সেভাবে তাদের তৎপরতা চোখে পড়েনি।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর শান্তিনগর মোড়ে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবির একটি টিমকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়।

সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, রাস্তায় কিছু প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস চলাচল করছে। কিছু রিকশাও আছে। সকল ১০টায় মিরপুরের আনসার ক্যাম্পের বউবাজারের সামনেই সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাজারটি বন্ধ থাকলেও রাস্তাতেই বাজার বসেছে। আর সেখানে কয়েকশ মানুষের জটলা। সবাই মিলে কাঁচাবাজার সারছেন। স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব মানার কোনো বালাই না থাকলেও বেশির ভাগ মানুষকেই মাস্ক পরতে দেখা গেছে। তবে মাস্ক পরেননি এমন মানুষের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। সেখানকার মাছের বিক্রেতা মিঠুনকে মাস্ক কেন পরেননি জানতে চাইলে উত্তর দেন, করোনারে আর কতদিন ডরামু! মানুষ আগে খাইয়্যা-পইরা বাঁচতে চায়। এরপর করোনা হইলে দেহা যাইব! উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাঁচাবাজার এবং নিত্যপণ্যের দোকান সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে বসার বিধান রয়েছে ঘোষিত বিধিনিষেধে।

উত্তরা আব্দুল্লাহপুর এলাকার রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, এতদিন তো রিকশা চালাতে পেরেছি। আজ (গতকাল) তো বাস্তায় কোনো মানুষ নেই। কী করে সংসার চালাব। উত্তরা জসীমউদ্দিন মোড় এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক রেজা করিম বলেন, রাস্তাঘাট ফাঁকা। কোনো যাত্রী নেই। সামনের দিনগুলো কেমন চলবে?

গতকাল রামপুরা সুপার মার্কেটের সামনে অসহায় দিনমজুরদের কাজের অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা গেছে। তাদের মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। আর সামাজিক দূরত্ব এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারেও তাদের বেখেয়াল দেখা গেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিয়মিত কাজ করতে না পারলে জীবন চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়বে। এজন্য কঠোর লকডাউন জেনেও তারা মাঠে নেমেছেন। তারা শুধু কাজের সন্ধান চান। লোকজন দেখলেই তারা এগিয়ে যাচ্ছেন। বলছেন, ভাই কোনো কাজ আছে?
রাজধানীর মিরপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মূল সড়কে যানবাহন ও মানুষের চলাচল অনেকটা কমেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অলিগলির সড়কে মানুষের চাপ বাড়তে শুরু হয়। সকাল সোয়া ১০টা থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত মিরপুর ১১, ৬ ও ২ নম্বর এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

আরও দেখা গেছে, মিরপুর ১১ নম্বরে অবস্থিত নান্নু মার্কেটের আশপাশের সড়কে লোকজন দাঁড়িয়ে গল্প করছেন। এ এলাকায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল দলকে দেখে তারা ছোটাছুটি করে আড়ালে চলে যান। আর টহল দল চলে যাওয়ার পর আবারও রাস্তার ফুটপাত অংশে এসে দাঁড়ান। সেখানে অবস্থানরত বাসিন্দাদের মধ্যে কেন সড়কে নেমেছে জানতে চাইলে আবুল কালাম নামের এক যুবক বলেন, পরিস্থিতি বোঝার জন্য রাস্তায় নেমেছেন তারা। মিরপুর ৬ নম্বরে চলন্তিকা বস্তি মোড়েও মানুষের জটলা লক্ষ করা গেছে। অলিগলির সড়কে লোকজন নেমে এসেছেন। মূল সড়কে যানবাহন এবং রাস্তায় নামার লোকের সংখ্যা তুলনামূলক কম। এরপর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের আশপাশ এলাকায় দেখা যায়, মূল সড়কে চলছে রিকশা ও মোটরসাইকেল। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়েও বের হয়েছেন কেউ কেউ। স্টেডিয়ামের দক্ষিণ পাশের সড়কে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। সেখানে একজন পুলিশ সদস্যকে কয়েকজনকে বের হওয়ার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা গেছে।

গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা দেওয়া গার্মেন্টসের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী যুগান্তরকে বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও নিজস্ব মোটরসাইকেল নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। ফলে অনেক অনুনয়-বিনয় করেও কোনো কাজ হয়নি। এজন্য শেষমেশ বাসায় ফিরে যাচ্ছি।
আরেক ভুক্তভোগী কমলা বেগম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমার ভাইয়ের শ্বশুরের মৃত্যুর খবর শুনে রওয়ানা হয়ে আব্দুল্লাহপুর এসে পুলিশের সহযোগিতা চাই। পুলিশ আমার ভাইকে ময়মনসিংহগামী একটা পণ্যবাহী ট্রাকে উঠিয়ে দিয়ে সহায়তা করে।
যুগান্তরের দনিয়া প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম দিন যৌক্তিক কারণ ছাড়াও অনেকে বাসার বাইরে বের হয়েছেন। গতকাল প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া এবং মাস্ক না পরার অপরাধে ৪০ জনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পথচারী, রিকশার যাত্রী ও রিকশাচালকদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে জরিমানাও আদায় করা হয়েছে। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে তাদের ফ্রি মাস্ক দেওয়া হয়। এই অভিযানে যাত্রাবাড়ী মোড়ে র‌্যাব-১০ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আক্তারুজ্জামান এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনার বাস্তবায়নে অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় কাজ শুরু করেছে নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টসমূহ। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনা নৌঅঞ্চল থেকে ২৩ কর্মকর্তাসহ ১৯৬ জন নৌসদস্যের ৮টি কন্টিনজেন্টসমূহ সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকাসমূহ টহল ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। চট্টগ্রাম নৌঅঞ্চল থেকে ১২ কর্মকর্তাসহ ১০৮ নৌসদস্যের ৬টি কন্টিনজেন্ট ভোলা সদর, বোরহান উদ্দিন, দৌলত খান, চরফ্যাশন, মনপুরা, লালমোহন, তজুমদ্দিন, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী এলাকায় কাজ করছে। অন্য দিকে, খুলনা নৌঅঞ্চল থেকে ১১ কর্মকর্তাসহ ৮৮ জন নৌসদস্যের ২টি কন্টিনজেন্ট মোংলা, বাগেরহাট, বরগুনা সদর, আমতলী, বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা এবং তালতলী উপজেলায় কাজ করছে।
সমুদ্র ও উপকূলীয় এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি করোনাভাইরাসজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধে দূরত্ব বজায় রাখা, কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করাসহ সংক্রমণ প্রতিরোধে গৃহীত সব কার্যক্রম অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করে যাচ্ছেন নৌসদস্যরা। এ ছাড়া যেকোনো প্রয়োজনে সার্বিক সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত রয়েছে নৌবাহিনী।

সারা দেশের চিত্র : ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

চট্টগ্রাম : নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদে লকডাউন কেমন চলছে তা দেখতে আসা ২১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অন্যদিকে লকডাউন দেখতে আসা এবং দোকান খোলায় ৩৭ জনকে জরিমানা করেছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাদের ১৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

কুমিল্লা : কুমিল্লায় ২৭১টি মামলা দেওয়া হয়েছে। এর বিপরীতে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়। মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, সিএনজি অটোরিকশাসহ ৪০টি যানবাহন জব্দ করা হয়। ৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বগুড়া : বগুড়ার ধুনটে কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালে দোকান ও মাদ্রাসা খোলা রাখা নিয়ে বিরোধে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি, ধাওয়া-পালটাধাওয়া এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত পাঁচজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলার সোনাহাটা বাজার এলাকায় জিনিয়াস মডার্ন মাদ্রাসা খোলা রাখায় মন্ডল স্টোরের মালিক আশিকুর রহমান মানিক এর প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে মাদ্রাসার পরিচালক মহসিন আলী ও গোলাম মোস্তফার সঙ্গে আশিকুর রহমান মানিকের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজনের মাঝে ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

নারায়ণগঞ্জ : অতি বৃষ্টি আর পরিবহণ সংকটে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে হাজার হাজার গার্মেন্ট শ্রমিককে। চাকরি বাঁচাতে হেঁটে মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়েছেন তারা, কেউ কেউ দশগুণ ভাড়া দিয়ে রিকশায় গন্তব্যে পৌঁছেছেন। গার্মেন্ট মালিকদের শ্রমিক পরিবহণে নিজস্ব ব্যবস্থা রাখার কথা থাকলেও সেই কথা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন ৯০ শতাংশ মালিক। বেশির ভাগ গার্মেন্টে শ্রমিক উপস্থিতির সংখ্যা স্বাভাবিক দিনের চেয়ে বেশি ছিল। অন্য শিল্পকারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু রাখা হয়েছিল।
গাজীপুর : চান্দনা-চৌরাস্তা ও ভোগড়া বাইপাস মোড়ে কাঁচাবাজার, কিছু খাবার দোকান, ওষুধের দোকান ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ ছিল। পোশাক শ্রমিকরা রিকশাযোগে ও হেঁটে কারখানায় কাজ করেছেন। সড়ক-মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়াও মাঝেমধ্যে শ্রমিকবাহী ছোট-বড় যানবাহনও চলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় স্টার লাইট পোশাক কারখানার এক শ্রমিক জানান, মহানগরের মালেকের বাড়ি এলাকা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূর থেকে হেঁটে আমাকে কারখানায় আসতে হয়েছে। গাড়ি সংকটের কারণে রিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে।

বরিশাল : বরিশাল সিটি এলাকাতেই কঠোর বিধিনিষেধ মানাতে মাঠে রয়েছে ২০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আওতায় ২০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত।
টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করেছে। এ ছাড়া খোলা ট্রাক ব্যবহার করে বৃষ্টিতে ভিজে নিম্ন আয়ের মানুষ যাতায়াত করেছে। মহাসড়কের টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও এলেঙ্গা হতে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত সড়কে বৃহস্পতিবার সকালে বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল করে।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ নগরীতে বিধিনিষেধ না মানাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায় বিকাল পর্যন্ত ২৫০টি মামলায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি : ৯টি উপজেলায় কাজ করছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আইন অমান্য করায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মানুষকে জরিমানা করা হয়েছে।
রাজবাড়ী : মহাসড়কে সচেতনতায় কাজ করেছেন গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম (ডিগ্রি) কলেজের স্কাউট দল ও গ্রামপুলিশের সদস্যরা।
গাইবান্ধা : গাইবান্ধা শহরের রাস্তায় ছিল যানবাহনের চাপ।
রাজশাহী : বৃষ্টির কারণে লোকজন বাইরে বের না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সে রকম বেগ পেতে হয়নি।
যশোর : যশোরে জেলা প্রশাসনের ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছেন।
ভোলা : কারণ ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ায় দুজনকে ৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ১০৪ জনকে জরিমানা করা হয়।
নবাবগঞ্জ : ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জের রাস্তাগুলো অন্যদিনের তুলনায় ছিল বেশ ফাঁকা। সড়কগুলোতে কোনো গণপরিবহণ চলতে দেখা যায়নি। এছাড়া বৃষ্টির কারণেও অধিকাংশ মানুষ তাদের নিজ বাড়িঘরে ছিলেন।
বান্দরবান : পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীও মাঠে রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মানতে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে।
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) : উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৮ জনকে আটক করা হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এদের মধ্যে ১৪ জনকে ৭ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৪ জনকে অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

শাকিব বলিউডে জন্মালে শাহরুখদের চেয়েও বেশি জনপ্রিয় হতেন

প্রত্যেক মানুষই কারো না দ্বারা কারো দ্বারা প্রভাবিত। কেউ তার বাবা কিংবা মায়ের প্রভাবে নিজের জীবনকে বিকশিত করেন।

কেউ বড় ভাইবোনের মতো হতে চাওয়ার চেষ্টাকেই জীবনের ব্রত করে নেন। কেউ আবার কোনো মনীষীকে করে নেন জীবনের উৎসাহ। প্রভাবিত হবার এ চর্চাকেও একরকম শিল্পের গুণ বলা যেতে পারে। তবে তাতে যদি নিজস্বতা ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা যায়।প্রভাবিত হবার এমন গল্পে দারুণ এক সংযোজন ঢাকাই ছবির চিত্রনায়ক শাকিব খান। তার ভক্তরা কখনো তাকে শাহরুখ

খান আবার কখনো সালমান খানের সঙ্গে তুলনা করেন। সম্প্রতি অপুকে ডিভোর্স কাণ্ডের পর নতুন করে আলোচনায়

এসেছে শাহরুখকে ‘নকল’ করে চলা শাকিবের এ প্রবণতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাকিব ভক্তদের সঙ্গে এ নিয়ে

সাধারণ সিনেমাপ্রেমীদের তর্ক চলছেই। ভক্তদের দাবি, শাকিব বলিউডে জন্মালে শাহরুখদের চেয়েও বেশি জনপ্রিয়

হতেন। আর বিপরীতমুখীরা বলছেন, যে নায়ক অন্য দেশের নায়কের সবকিছু কপি করে সে নায়ক কখনোই বলিউডের মতো ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে পারতেন না।

তর্ক-বিতর্ক যাই হোক, শাকিবের জীবনের কিছু বিষয় স্পষ্টই প্রমাণ দেয়, বলিউড বাদশাহ দ্বারা তুমুল প্রভাবিত তিনি। নিজের নাম থেকে শুরু করে ছেলের নামেও শাহরুখের প্রভাব দেখা যায় শাকিবের। তবে আদর্শ, মানবিকতা, মূল্যবোধে শাহরুখের সঙ্গে তার যোজন যোজন দূরত্ব।

দেখে নেয়া যেতে পারে শাকিব খান তার তারকাজীবনে শাহরুখকে কতোটা অনুসরণ করেছেন। এ বিষয়ে আলোচনার প্রথমেই কথা বলা যায় নাম নিয়ে। নারায়ণগঞ্জে জন্ম নেয়া গোপালগঞ্জের ছেলে শাকিব খানের নাম কিন্তু এটা ছিল না। তিনি মাসুদ রানা হিসেবেই বেড়ে উঠেছিলেন, এটাই তার পারিবারিক নাম।

এ নাম নিয়েই তিনি এফডিসিতে এসেছিলেন এবং ঘুরে বেড়িয়েছেন নাচের শিল্পী হিসেবে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালে তিনি নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালোবাসা’ ছবি দিয়ে। সেটি মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালের ২৮ মে। তখনই বদলে যায় নামখানা। মাসুদ রানা হয়ে উঠলেন শাকিব খান।

শাহরুখের খান থাকলো উপাধি হিসেবে আর নামের শুরুতে রইলো শাহরুখের প্রথম শব্দ ‘শা’। পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান দিয়েছিলেন শাকিবের এ নাম। এক সাক্ষাৎকারে শাকিব নিজেই জানিয়েছেন এ কথা।

মুসলিম হয়েও শাহরুখ ভালোবেসে বিয়ে করেছেন হিন্দু ধর্মের মেয়ে গৌরিকে। শাকিব খানও ভালোবেসে বিয়ে করেছেন অপু বিশ্বাসকে। তবে শাহরুখ তার স্ত্রীর ধর্ম পরিবর্তনের জন্য কোনো রকম চাপ বা উৎসাহ দেননি। কিন্তু শাকিব খান তার স্ত্রীকে ইসলাম গ্রহণ করতে পরামর্শ দেন এবং তার নাম রাখেন অপু ইসলাম খান। অপু নিজেই গণমাধ্যমে সে কথা জানিয়েছেন।

শাহরুখ তার বসবাসের জন্য মুম্বাইয়ে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন ‌‘মান্নাত’ নামে। শাকিব খানও গাজীপুরে পূবাইলে একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন ‘জান্নাত’ নামে। শাহরুখ তার বাড়িতে কখনোই সিনেমার শুটিং করেন না। আর শাকিব তার বাড়িটিকে শুটিং স্পট হিসেবে ভাড়া দেন নিয়মিতই।

শাহরুখ খানের কনিষ্ঠ ছেলের নাম রেখেছেন আব্রাম খান। শাকিব খানও তার একমাত্র ছেলের নাম রেখেছেন আব্রাম খান। তবে শাকিব ছেলের একটি ডাক নাম রয়েছে, জয়।

বলিউডে সালমান, আমির, ইরফান, সাঈফসহ আরও কয়েকজন নায়ক রয়েছেন যাদের নামের শেষে খান উপাধি যুক্ত। সবার থেকে শাহরুখকে আলাদা করতে ‘কিং খান’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় সেখানে। শাকিবও নিজেকে কিং খান হিসেবে পরিচিত করেছেন। সেই নামে সিনেমাও করেছেন তিনি।

শাহরুখ খানের ছবি আছে ‘মাই নেম ইজ খান’ নামে। শাকিবও একই নামে ছবি করেছেন। আফসোসের বিষয় হলো শাহরুখ খানের ‘মাই নেম ইজ খান’ ছবিটিতে ‘মুসলামান মানেই সন্ত্রাস নয়’ এ বিষয়টির উপস্থাপন ও ইউরোপ আমেরিকাতে মুসলমানদের প্রবেশ ও থাকার ভোগান্তির চিত্র দেখে দর্শক কেঁদেছে আর শাকিবের ‘মাই নেম ইজ খান’ ছবিটি দর্শককে স্বস্তা সংলাপ আর গল্পে বিরক্তি দিয়েছে।

শাহরুখ খান প্রযোজক হিসেবেও বলিউডে প্রতিষ্ঠিত। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড চিলিজ থেকে নিয়মিতই সিনেমা-ওয়েব সিরিজ নির্মাণ হচ্ছে। শাহরুখ ছাড়াও ইন্ডাস্ট্রির অন্য নায়কদের নিয়ে কাজ করে তার প্রতিষ্ঠানটি। শাকিবও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘এসকে ফিল্মস’র মালিক। তবে শুধুমাত্র নিজে নায়ক হয়েই নিজের পেছনে টাকা ঢালেন তিনি। নতুনদের উৎসাহ বা প্রতিষ্ঠিত করতে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

কিছুদিন আগে শাহরুখ খানকে নিয়ে ‘রংবাজ’ নামে একটি নতুন ছবির ঘোষণা আসে। শাকিবও শামীম আহমেদ রনির পরিচালনায় একই নামে একটি ছবি করেছেন। শাকিবের ছবিটি মুক্তি পেলেও শাহরুখের ছবিটি এখনো নির্মাণাধীন। শোনা যাচ্ছে ওই ছবির নাম বদলে যাচ্ছে।

এসব কিছু চিত্র দেখে বোঝাই যায় নিজের নায়ক জীবনের চারপাশে শাহরুখ খানকে জড়িয়ে রেখেছেন শাকিব খান। তবে শাহরুখের মতো একজন আদর্শ মানুষ, আদর্শ স্বামী, আদর্শ পিতা, গ্রহণযোগ্য মেন্টর, সব শ্রেণির কাছে গ্রহণযোগ্যতা, নতুন প্রজন্মের কাছে আইকন হওয়ার যোগ্যতা রপ্ত করতে পারেননি শাকিব। শাহরুখের ব্যক্তিত্ব ‍ও মানবীয় গুণাবলী থেকে তিনি নিজেকে প্রভাবিত করতে পারেননি।

শাহরুখের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনোই শোনা যায়নি কোনো বাজে স্ক্যান্ডাল। ‘ডন’ সিনেমা করতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে জড়িয়ে কিছু কথা ছড়ালেও শেষাবধি তা সিনেমার প্রচার হিসেবেই গ্রহণ করেছে দর্শক। কিন্তু শাকিব তার ছবির অনেক নায়িকা নিয়েই স্ক্যান্ডালের জন্ম দিয়েছেন।

সর্বশেষ নায়িকা বুবলীর সঙ্গে শাকিবের প্রেম নিয়ে তো আলোচনা-সমালোচনার শেষই নেই। বুবলীকে বিয়ে করেছেন, সে সংসারে এক মেয়ে জন্মেছে; এ কথাও ছড়ানো আছে চলচ্চিত্রপাড়ায়।

শাহরুখ খান দর্শকপ্রিয়তার পাশাপাশি জয় করেছেন তার অগ্রজ-অনুজ সহকর্মীদেরও মন। নতুন প্রজন্মের তারকারা তাকে আইকন হিসেবে শ্রদ্ধা করেন। নিজের অদৃশ্য মেন্টর হিসেবে দাবি করেন। কিন্তু পৌনে তিনশ ছবি করা শাকিব খানকে আইকন মেনে ইন্ডাস্ট্রিতে আসা নায়ক বা তারকার সংখ্যা দূরবীন দিয়েই খুঁজে বের করতে হবে।

শাহরুখ খানের হাত ধরে দীপিকা, আনুশকার মতো তারকরা বলিউড জয় করেছেন। কাজল, মাধুরী, রানি মুখার্জি, জুহি চাওলারা পেয়েছেন শাহরুখের নায়িকা হিসেবে বিশেষ জনপ্রিয়তা। কিন্তু শাকিব খানের বেলাতে তেমনটি দেখা গেছে কেবল অপু বিশ্বাস আর বুবলীর বেলাতে। এই দুই নায়িকা ইন্ডাস্ট্রিতে একটা অবস্থান করে নিতে পারলেও সেটা কেবলই শাকিবের নায়িকা হিসেবে। সেই বলয় ভেঙে তারা অন্য নায়কদের সঙ্গে সফল হতে পারেননি। দীপিকা-আনুশকাদের মতো সার্বজনীন হতে পারেননি। নায়িকাদের বগলবন্দী করে রাখা নিয়ে শাকিবের স্বভাবের সুনাম ও সমালোচনা দুই-ই প্রতিষ্ঠিত ইন্ডাস্ট্রিতে।

শাহরুখ খানকে নিয়েও অনেক সময় নানা রকম সমালোচনা শোনা যায়। কিন্তু তিনি কখনোই কোনোদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে বাজে আচরণ করেছেন এমনটা শোনা যায়নি। বরং সাংবাদিকদের যথাযোগ্য মূল্যায়ন, সময়মতো সংবাদ সম্মেলনে হাজির হওয়া নিয়ে শাহরুখের সঙ্গে কারো তুলনা চলে না। তিনি নিজে যেমন সাংবাদিকদের সম্মান করার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেন তেমনি বলিউডের সাংবাদিকরাও শাহরুখকে সবসময় প্রশংসা করে গেছেন তার ব্যবহারের। সিনিয়র শিল্পীদের সম্মান করার বেলাতেও শাহরুখ অনবদ্য এক অভিনেতার নাম। শুটিং স্পটে সময়মতো হাজির হওয়া নিয়েও কোনোদিন শাহরুখের সমালোচনা শুনতে পাওয়া যায়নি।

কিন্তু শাকিব খান মানেই ‘লেট’। সে হোক শুটিং স্পট কিংবা সংবাদ সম্মেলন। তিনি যেন ধরেই নিয়েছেন সবাইকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষায় বসিয়ে রাখতে পারাটাই স্টারডম। শুটিং স্পটে তিনি ‘নায়ক শাকিব’ মুডেই থাকেন সবসময়। এই স্টারডম থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষ হিসেবে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারেননি তিনি।

আর শুটিংয়ের শিডিউল দেয়া, শুটিং স্পটে আসা যাওয়ার অনেক নেতিবাচক খবরই গণমাধ্যমে এসেছে বহুবার। এরমধ্যে গত বছর একটি ছবির মহরতে সিনিয়র অভিনেত্রী আনোয়ারা ও একঝাঁক সাংবাদিককে প্রায় ৪ ঘণ্টা এফডিসিতে বসিয়ে রেখেও আসেননি শাকিব। এটা তিনি অহরহই করেন। একজন সফল নায়কের কাছে সময়জ্ঞান, সিনিয়রদের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান, সাংবাদিকদের যথাযোগ্য মূলায়ণ প্রত্যাশা করেন সবাই।

এখানে এ বিষয়টিও উল্লেখ করা যায়, শাহরুখ খান সিনেমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বিবাহিত বলে পরিচিত ছিলেন। ক্যারিয়ারের ভয়ে তাকে স্ত্রী-সংসার আড়ালে রাখতে হয়নি। বরং স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও সন্তানদের নিয়ে আদর-আহ্লাদ তিনি প্রকাশ করেছেন ঘটা করেই। আর শাকিব খান ক্যারিয়ারের ভয়ে আট বছর গোপন রেখেছেন বিয়ের খবর।

শাহরুখ খানের ব্যস্ততা নতুন করে বলার কিছু নেই। সিনেমা, নানারকম ব্যবসা নিয়ে দিন কাটে তার। এসবের মধ্যেও সময় পেলেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হন তিনি। স্ত্রী, পুত্র-কন্যাদের নিয়ে অবকাশ যাপন করেন সাধারণ একজন মানুষের মতোই।

আর শাকিব খান বিয়ের খবরটাই রেখেছিলেন গোপন। সিনেমার ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে সন্তান জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকেননি। প্রথমবারের মতো ছেলের মুখ দেখেছিলেন কয়েক মাস পর! নিজে শুটিংয়ের টানে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ালেও বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর কখনো শোনা যায়নি স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে বেড়িয়েছেন। চলতি বছরের দুটি ঈদের একটিতেও শাকিবকে দেখা যায়নি স্ত্রী-ছেলের সঙ্গে। ছেলের মার্কেট করে দিয়েই তিনি সাংসারিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

প্রায় সময়ই দেখা যায় শাহরুখ তার বাবা ও মাকে নিয়ে নানা রকম আবেগঘন মন্তব্য করেন। সেসব মন্তব্য নতুন প্রজন্মকে উৎসাহ দেয় মা-বাবা ও পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে। কিন্তু শাকিব খানের পরিবার সম্পর্কে তার ভক্তরা তেমন কোনো তথ্য জানে না বললেই চলে। তিনি জনপ্রিয়তা পেলেও তার পরিবার ও পরিবারের মানুষেরা থেকে গেছেন আড়ালেই। যার কারণে পারিবারিক বা সামাজিক মূল্যবোধের জায়গাটিতেও কখনো শাকিব প্রভাব ফেলতে পারেননি।

শাহরুখের প্রতি শাকিবের দুর্বলতা গোপন কিছু নয়, বেশ প্রকাশ্যই বলা চলে। তবে শাহরুখের মানবীয় গুণাবলী তিনি এড়িয়ে চলেছেন হতাশাজনকভাবে। শাহরুখের ব্যক্তিত্ব তিনি রপ্ত করতে পারেননি, হয়তো চেষ্টাও করেননি। শাহরুখের মতোই সেরা নায়ক আর সুপারস্টার হওয়ার ঘোরেই কেটে যাচ্ছে তার দিনগুলো। পরিণত হয়েছেন অভিনয়ে, বলিউড থেকে তামিল হিরোদের স্টাইল-ফ্যাশন আর লুক কপি করে; পরিণত হতে পারেননি জীবনবোধের ভাবনা ও দর্শনে।

প্রায়ই মনে হয়, নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তার যে চূড়ায় তিনি উঠেছেন তার সঙ্গে নিজের বিনয় ও মানবীয় গুণগুলোকেও শাকিব যদি নান্দনিকতার চূড়ায় নিয়ে যেতে পারতেন হয়তো বাংলাদেশ অসাধারণ কাউকে পেতো। হয়তো ঢাকাই ছবির ইন্ডাস্ট্রি একটা কালজয়ী নাম পেত। মাশরাফি বিন মর্তুজা বা সাকিব আল হাসানের মতো শাকিব খান হতে পারাটাও হয়তো নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন হতো।

ঠিক পথে চললে এক জীবনই যথেষ্ট: শ্রাবন্তী

তৃতীয় স্বামী রোশন সিং কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সংসার করতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে শ্রাবন্তী নতুন প্রেম। এসব আলোচনার মধ্যেই শ্রাবন্তী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে লিখলেন, ঠিক পথে চললে একটা জীবনই যথেষ্ট। ১ জুলাই বৃহস্পতিবার শ্রাবন্তী তার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করলেন সানগ্লাস পরা একটি …

বাংলাদেশি ছেলে কে বিয়ে করবেন মধুমিতা

অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। পাখি নামেই বেশ পরি’চিত। বেশ কয়েকমাস ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব। প্রতিদিনই একাধিক ‘আবেদনময়ী’ ছবি পোস্ট ক’রেন ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে। আর তাতেই দুই বাংলার তরুণরা বুঁদ হয়ে পড়েছেন!মধুমিতা সরকারের নতুন ছবি মানেই ভুরি-ভুরি রিয়্যাকশন, কমেন্ট এবং শেয়ার। তার ভক্তদের মধ্যে বড় একটা অংশ বাংলাদেশের।বিশেষ করে তরুণরাই এ নায়িকার বেশ বড় ফ্যান! এরইমধ্যে বাংলা’দেশি তরুণদের জন্য সুখবর দিলেন এ অভিনেত্রী। তিনি নাকি এদেশের কাউকে বিয়ে করতে চান!তবে বিষয়টি নিচকই মজা করে বলেছেন এ অভিনেত্রী! তবে এ কথা এ’কেবারেই ফেলে দেয়ার মতো না। ২০১৫ সালে বিবাহ বন্ধনীতে আবদ্ধ

হন মধুমিতা সরকার এবং পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতা সৌরভ চক্রবর্তী। টলিপাড়া’র অন্দরে নানা গুঞ্জনের পর তাদের বিচ্ছেদের খবরই সত্য হলো। মধুমিতা জানিয়েছেন, সৌরভ খুব ভাল মানুষ। তবে দু’জনের ভাবনাচিন্তা, দৃষ্টি’ভঙ্গি পুরোটা’ই আলাদা বলেই হাজারো সমস্যা হচ্ছিল।
আর সবচাইতে বড় কথা হল নতুন প্রাণ পৃথিবীতে আসার আগে আমরা আলাদা হয়ে গেছি সেটাই সবথেকে বড় বিষয়।

বাংলাদেশে আপনার অনেক ফলোয়ার; যদি নতুন সম্পর্ক ‘গড়ার’ ইচ্ছে’ হয় তাহলে’ সাড়া দেবেন? উত্তরে হাসিমুখে
মধুমিতা বলেন, মনের মানুষ পেলে সম্পর্ক তো গড়াই যায়। তবে দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি এক হওয়া চাই!
এদিকে ভারতীয় এ শিল্পী ২০১৬ সালে আগস্টে বাংলাদেশের একটি টেলিছবিতে কাজ করেছেন’। ভারতের মানালিতে এর কাজ হয়েছে; নাম ‘‌মেঘবালিকা’।এতে তিনি মোশাররফ করিমের বিপরীতে অভিনয় করেছেন। মহিউদ্দীন আহমেদের রচনায় এটি নির্মাণ করছেন পরিচালক পারভেজ আমিন।সম্প্রতি মৈনাক ভৌমিকের চলচ্চিত্র ‘চিনি’র কাজ শেষ করেছেন মধুমিতা। শিগগিরই হইচই সিরিজে ‘দেবদাস ও একটি খুনে;র গল্প’তে কাজ করবেন তিনি। এতে তার বিপরীতে থাকছেন অর্জুন। যার সঙ্গে চলছে নায়িকার প্রেমের গুঞ্জন।

পুরুষ সংকটে পড়েছে ৬ দেশ! আগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশীরা

ইউরোপের স্বনামধন্য কয়েকটা দেশ আছে যেগুলোতে নারী ও পু’রুষের শতকার হারের মধ্যে অনেক গ’রমিল রয়েছে। রাশিয়া, লাটভিয়া, বেলারুশ, লিথুনিয়া, আর্মেনিয়া, ই উক্রেন এই দেশগুলোতে পুরুষ থেকেও মহিলার সংখ্যা বেশি।

লাটভিয়ায় প্রতি ১০০ জন পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ১১৮.০। লিথুনিয়ায় প্রতি ১০০ জন পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ১১৭.২। আর্মেনিয়ায় প্রতি ১০০ জন পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ১১৫.৫।

রাশিয়ায় প্রতি ১০০ জন পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ১১৫.৩। বেলারুশে প্রতি ১০০ জন পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ১১৫.২। ইউক্রেনে প্রতি ১০০ জন পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ১১৫.৮৭।

এর মধ্যে বাল্টিক রাষ্ট্র লাটভিয়া সাবেক কমিউনিষ্ট সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে এসে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে প’রিণত হয়েছে প্রায় দুই দশক হতে চললো। কিন্তু, পুঁজিবাদি ব্যব’স্থায় লাটভিয় মহিলারা যতোটা এগিয়েছেন,

ততোটাই পিছিয়ে পড়ছেন সেখানকার পুরুষরা। পুরুষদের চেয়ে মেয়েরা সেখানে গড়ে এগারো বছর করে বেশী বাঁচছেন। ফলে, তৈরী হয়েছে নারী-পুরুষের মধ্যে এক সামাজিক ভারসা’ম্যহী’নতা।

নারী -পুরুষের এই ভারসাম্যহীনতার প্রকৃষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় লাটভিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে – এখানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা ৫০% বেশী। সমাজবিজ্ঞানী বাইবা বেলা বলছেন,

এইসব দেশগুলোতে মেয়েরা যে বয়সে সংসার গড়ার জন্য তৈরী হয় সেই বয়সে দেখা যায় ছেলেরা হয় মা’রা যাচ্ছে নয়তো আ’ত্মহ’ত্যা করছে। আর এই আ’ত্মহ’ত্যার সংখ্যা হচ্ছে তাদের স্বা’ভাবিক মৃ’ত্যুর চারগু’ণ।

নারী-পুরুষের ভার’সাম্যহী’নতা প্রথম বোঝা যায় ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়েসীদের মধ্যে – কারণ ঐ বয়সে যে‘কজন মেয়ে মা’রা যাচ্ছে – তার চেয়ে তিনগুণ বেশী মা’রা যাচ্ছে ছেলেরা।

এর অর্থ হচ্ছে, ঐ বয়েসীদের মধ্যে গাড়ী দুর্ঘ’টনা, মা’দকাস’ক্তি, ক’র্মস্থলে দু’র্ঘ’টনা ইত্যাদির ক্ষেত্রে মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের ঝুঁ’কি বেশী।

প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের আজ শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯২১ সালের এই দিনে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল এই প্রতিষ্ঠানের। তৎকালীন ব্রিটিশশাসিত বাংলায় এটিই ছিল একমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরাধীন দেশে এবং রাজকীয় ক্ষতিপূরণ হিসাবে পশ্চাৎপদ এ অঞ্চলের মানুষকে শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে নিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ১৬ মাস ধরে বন্ধ আছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ কারণে এমন দিনেও আজ জাঁকজমকপূর্ণ কোনো কর্মসূচি আয়োজন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সীমিত পরিসরে প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে শতবর্ষ পূর্তির মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে। এর নাম দেওয়া হয়েছে অগ্রবর্তী অনুষ্ঠান।

আগামী নভেম্বর মাসে শতবর্ষের আনুষ্ঠানিকতা উদযাপনের সিদ্ধান্ত আছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। ওইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শতবর্ষের মূল অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা আছে। রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনলগ্নে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। পাশাপাশি অভিনন্দন জানিয়েছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে। তিনি বলেন, জ্ঞান আহরণ ও বিতরণের গৌরবগাথা নিয়ে শতবর্ষ পাড়ি দিয়েছে প্রাণপ্রিয় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, চিরগৌরবময় মুক্তিযুদ্ধসহ গণমানুষের সব লড়াইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদা নেতৃত্ব দিয়েছে। জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশ সেবায় রেখেছে অনন্য অবদান।

দেশের প্রতি আমাদের মমত্ববোধ ও চিরকৃতজ্ঞ চিত্তই এগিয়ে চলার পাথেয়। তাই শতবর্ষে মাতৃভূমি ও গণমানুষের প্রতি আমাদের অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতা। শতবর্ষ উদ্্যাপনের বিরল সৌভাগ্য-প্রাপ্তির ক্ষণে আমরা দেশের শিক্ষা ও গবেষণার মানকে আরও উন্নত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। পাশাপাশি চলমান মহামারি পরিস্থিতি উত্তরণ হলে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি, সর্বোপরি ক্যাম্পাস আগের মতো প্রাণবন্ত ও মুখরিত হবে সেই প্রার্থনা করি।

দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা জানান, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই শিক্ষাদীক্ষায় উন্নত মান বজায় রাখার কারণেই প্রতিষ্ঠানটি অভিধা পেয়েছে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ হিসেবে। পাশাপাশি এটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দায়িত্বও পালন করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি চালুর ২৬ বছরের মধ্যে ব্রিটিশদের কবল থেকে উপমহাদেশ মুক্ত হয়। সৃষ্টি হয় পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি রাষ্ট্র। সেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র ২৪ বছরের মধ্যে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের। পাকিস্তান সৃষ্টির পরের বছর থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয় স্বতন্ত্র জাতিসত্তা সৃষ্টির আন্দোলনে নিবেদিত হয়। এক কথায় বলতে গেলে, দেশ স্বাধীন এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ গঠন ও পরিচালনায় যারা ভূমিকা রেখেছেন তাদের ৫০ বছর ধরে তৈরি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

পাকিস্তান সৃষ্টির পর ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালে শিক্ষাক্ষেত্রে গৃহীত পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির প্রতিবাদ, বাঙালির মুক্তির সনদখ্যাত ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি আদায়, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভূমিকা ছিল।

বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবরণের পর আশির দশকে জেনারেল জিয়াউর রহমান ও পরে এরশাদবিরোধী আন্দোলন সূচিত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। গণতান্ত্রিক সরকারগুলোকে সঠিকপথে রাখতে ছোটখাটো আন্দোলন আর একাডেমিক সমালোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। সর্বশেষ ২০০৭ সালে গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনের অগ্নিস্ফুলিঙ্গও বিচ্ছুরিত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এসব কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষায় অবদানের পাশাপাশি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা নিয়েও সমান আলোচনা হয়ে থাকে।

ইতিহাসের পাতার দিকে তাকালে দেখা যায়, বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ১৯০৫ সালে পূর্ববাংলা ও আসামকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ গঠন করেছিল ব্রিটিশরাজ। হিন্দু জমিদারসহ প্রভাবশালীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পরে সেই বঙ্গভঙ্গ রদ করতে হয়েছিল। তবে বঙ্গভঙ্গ বাতিলের রাজকীয় ক্ষতিপূরণ হিসাবে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইতিহাসে আরও দেখা যায়, প্রভাবশালীরা তখন এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বাধা দিয়েছিল।

কিন্তু ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ, ধনবাড়ীর নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরেবাংলা একে ফজলুল হকসহ তৎকালীন মুসলিম নেতারা ব্রিটিশ শাসকদের সঙ্গে এ নিয়ে দেনদরবার করেন। এ লক্ষ্যে তখনকার ভাইস রয় লর্ড হার্ডিঞ্জের সঙ্গে বিশিষ্ট নেতারা ১৯১২ সালের ৩১ জানুয়ারি সাক্ষাৎ করেন। এর তিন দিন পর ২ ফেব্রুয়ারি ভাইস রয়ের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা আকারে প্রকাশ পায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওই বছরই ২৭ মে নাথান কমিশন গঠন করা হয়।

এ অবস্থায় প্রথম মহাযুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কার্যক্রম থমকে যায়। যুদ্ধ শেষে ফের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন এ অঞ্চলের মুসলিম নেতারা। এ অবস্থায় ১৯১৭ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ সরকার ‘স্যাডলার কমিশন’ গঠন করে। দুই বছর পর ১৯১৯ সালের মার্চে স্যাডলার কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ পায়। এরপর ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ দি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট নামে ভারতীয় আইনসভায় পাশ হয়। সেই আইন অনুযায়ী ১৯২১ সালের ১ জুলাই ছাত্রছাত্রীদের জন্য দ্বারোন্মোচন হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের।

ঢাকায় ওই সময়ের সবচেয়ে অভিজাত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকা ছিল রমনা। ওই এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছিল এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাকালে তিনটি অনুষদ ও ১২টি বিভাগ ছিল। একটি পরিপূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। আবাসিক হলগুলো হচ্ছে- সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা হল-যা এখন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও জগন্নাথ হল। প্রথম শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন এবং শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ জন।

আর শতবর্ষ পরে আজকে এই বিশ্ববিদ্যালয় মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে অনুষদ ১৩টি, বিভাগ ৮৪টি, ইনস্টিটিউট ১৩টি, গবেষণা ব্যুরো ও কেন্দ্র ৬১টি। আবাসিক হল ১৯ এবং হোস্টেল ৪টি। আর শিক্ষার্থী ৪৬ হাজার ১৫০ জন ও শিক্ষক ২০০৮ জন। কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন ৪ হাজার ৪৫৫ জন। এমফিল গবেষক ১১৬১ ও ও পিএইচডি গবেষক আছেন ১০৪৩ জন। এখন পর্যন্ত এমফিল ডিগ্রি পেয়েছেন ১৭০৮ ও ও পিএইচডি ১৫৮৮ জন পেয়েছেন।

সম্প্রতি ডিবিএ (ডক্টর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) ডিগ্রিও প্রদান করা হচ্ছে। ৬০০ একরে ক্যাম্পাস যাত্রা করলেও বর্তমানে এর পরিধি ২৭৫ দশমিক ৮৩ একর। সম্প্রতি সরকার পূর্বাচলে ৫১.৯৯ একর জমি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বরাদ্দ দিয়েছে। কৃতী শিক্ষার্থীদের মেডেল, বৃত্তি ও সম্মাননা দিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ট্রাস্ট ফান্ড আছে ৩৪৭টি।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকেই দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। কখনো আর্থিকভাবে আবার কখনো সামরিক-সরকারি অভিযানের মুখে পড়েছে। সবমিলে দমনে মরিয়া ছিল সরকারগুলো। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে। বর্তমানেও অপ্রতুল বাজেটের বিপরীতে সক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তিসহ নানান সংকট নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

পাশাপাশি একাডেমিক দিক থেকেও পিছিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট নিয়েই দিন কাটাচ্ছে। মান্ধাতা আমলের শ্রেণিকক্ষে চলছে ক্লাস। গবেষণাগারেরও তথৈবচ অবস্থা। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের সেবাও আধুনিক নয়। উপরন্তু আবাসিক হলে ও ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা শারীরিক-মানসিক সংকটে পড়ছে। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে চলছে ভাটা। শিক্ষকদের একটি অংশের নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া এবং একাডেমিক কার্যক্রমের পরিবর্তে রাজনৈতিক ও ভিন্নদিকে মনোনিবেশ বেশি থাকার অভিযোগও আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সাম্প্রতিককালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান দুটি চাপ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে। এগুলো হচ্ছে, শিক্ষার্থী ভর্তি ও বাজেটের অপ্রতুলতা। আমাদের বাজেটের অপ্রতুলতার কারণ হচ্ছে, আমাদের জাতীয় বাজেটই শিক্ষাবান্ধব নয়। তিনি বলেন, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিমাণ সুবিধা আছে, তার সদ্ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

আজকের কর্মসূচি : আজকের প্রতীকী কর্মসূচির মধ্যে আছে-সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন। অনুষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইপি টেলিভিশনে সম্প্রচার এবং ওয়েবসাইট ও ফেসবুক লাইভে সম্প্রচার করা হবে। বিকাল ৪টায় প্রশাসনিক ভবনে অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আলোচনা সভা হবে। এতে ভাষাসৈনিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী সংযুক্ত হয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। সভাপতিত্ব করবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

লকডাউন দীর্ঘস্থায়ী হলে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হতে পারে বলেন জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেছেন, করোনার কারণে লকডাউন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশে দুর্ভিক্ষের অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। তাতেও জীবন বিপন্ন হবে। মহামারীর কারণে জীবিকা হারিয়েছে কোটি কোটি মানুষ। তাদের মধ্যে যারা হতদরিদ্র তাদের না খেয়ে থাকার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি আরও বলেন, জীবিকা হারিয়ে নতুন দরিদ্র সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ এবং এ সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে এসব দরিদ্র ও নব্য দরিদ্রকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা খাত থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত মানুষের মধ্যে ৪৬ শতাংশ সরকারি কোনো সাহায্য পাওয়ার উপযুক্ত নয়। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক প্রাপক অনিয়মের মাধ্যমে প্রকৃত প্রাপককে বঞ্চিত করে এ সুবিধা ভোগ করছে। জি এম কাদের বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রতিদিন কোনো না কোনো খবর প্রকাশিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে মাননীয় মন্ত্রীসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা দুর্নীতির বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন বলে মনে হয় না। ৪ টাকার মাস্ক ৩৫০ টাকায় কেনা হচ্ছে। এগুলো সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

জি এম কাদের আরও বলেন, যতই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হোক, সুশাসন না থাকলে দুর্নীতি, অপচয় ও সমন্বয়হীনতার কারণে বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। সুশাসন না থাকলে অর্থ বরাদ্দের সুফল যাদের উদ্দেশে বরাদ্দ দেওয়া হয় তারা লাভ করেন না। এক কথায় সুশাসন ছাড়া বাজেট তৈরি ও বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ অর্থহীন।
বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কভিড-১৯-এর টিকা প্রয়োগের কথা বলা হলেও আমদানির জন্য এ খাতে আলাদা কোনো অর্থ বরাদ্দের উল্লেখ নেই। টিকা সংগ্রহ এখন পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে সুনির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত বলা যায় না। ফলে টিকা দেওয়ার কাজ পুনরায় শুরু ও শেষ কীভাবে ও কবে হবে কেউ জানে বলে মনে হয় না। জি এম কাদের বলেন, ভ্যাকসিন, ওষুধ, ডাক্তার, নার্স, হাসপাতাল, টেস্টিং ল্যাবরেটরি, টেকনোলজিস্ট, পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইত্যাদির যথেষ্ট পরিমাণ প্রয়োজন জীবন রক্ষার জন্য। তিনি বাজেট প্রায় গতানুগতিক উল্লেখ করে আরও বলেন, জনগণ প্রত্যাশা করেছিল এ বাজেট হবে প্রাথমিকভাবে জীবন ও জীবিকা রক্ষার। বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দেশি ব্যাংকগুলোর বেশির ভাগ রুগ্ন। এগুলোর ওপর নির্ভরশীল হওয়া কতটা বাস্তবসম্মত? তা ছাড়া এতে ব্যাংকের তারল্য সংকট বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

জি এম কাদের বলেন, বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট গত পাঁচ বছরে ১ হাজার ২৪টি অর্থ পাচার ঘটনার প্রমাণ পেয়েছে। বিএফআইইউ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠিয়েছ। কিন্তু এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এমন কোনো তথ্য নেই। ২০১৯ সাল পর্যন্ত সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। গ্লোবাল ফাইন্যানশিয়াল ইনটিগ্রিটির মতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাণিজ্যের আড়ালে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে পাচার হয় প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা।

রায়পুরের উপ-নির্বাচন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির প্রার্থী

জাতীয় সংসদের-২৭৫, লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক) আসনের উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী মোঃ আবুল কালাম আজাদ বাবুল তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বুধবার বিকালে লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে তিনি তাঁর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন। রিটানিং অফিসার ও কুমিল্লা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ দুলাল তালুকদার মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ আসনে উপ নির্বাচনে এখন প্রতিদ্বন্ধিতায় রয়েছেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী এ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রাথী শেখ মোহাম্মদ ফায়িজ উল্যাহ শিপন।আগামী ১১ এপ্রিল এ আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-২ এ সংসদীয় আসনটি, সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন, রায়পুর পৌরসভা ও রায়পুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ১৩৬টি ভোট কেন্দ্রের মাধ্যমে চার লক্ষ দুই হাজার নয়শত তেষট্টি জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
গত ২৮ জানুয়ারি মানব পাচার ও ঘুষ কেলেংকারীর মামলায় কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলকে সাজা দেয় কুয়েতের একটি আদালত। এরপর ২২ ফেব্রুয়ারি পাপুলের সংসদ সদস্যপদ শুন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। গত ৩ মার্চ ওই আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী আজ ২৪ মার্চ মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের তারিখ ছিল।