ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে দত্তপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের ঈদ শুভেচ্ছা

ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে দত্তপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের ঈদ শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দত্তপাড়া ইউনিয়নের সফল চেয়ারম্যান আহছানুল কবির রিপন

তিনি এক বাণীতে বলেন, বছর ঘুরে মুসলিম উম্মাহ্ আনন্দময় দিন ঈদুল আযহা আমাদের মাঝে সমাগত। এবারের ঈদ-উল আযহা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যেই উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে, এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদ উদযাপনের আহবান জানাচ্ছি।

ইউপি চেয়ারম্যান আহছানুল কবির রিপন বলেন, পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে কোরবানী করা পশুর রক্ত বর্জ একটি নির্দিষ্ট স্থানে গর্ত করে ফুতে ফেলার জন্য ইউনিয়নবাসীকে বিনীত অনুরোধ জ্ঞাপন করছেন। নির্দিষ্ট কোন স্থানে সকলে একত্রিত হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানী পশু জবাই করার আহবান জানান।

ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে মান্দারী ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রাথী সোহরাব হোসেন রুবেল পাটোয়ারী পক্ষ থেকে ঈদ শুভেচ্ছা

ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে মান্দারী ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রাথী সোহরাব হোসেন রুবেল পাটোয়ারী পক্ষ থেকে ঈদ শুভেচ্ছা

তিনি এক বাণীতে বলেন, বছর ঘুরে মুসলিম উম্মাহ্ আনন্দময় দিন ঈদুল আযহা আমাদের মাঝে সমাগত। এবারের ঈদ-উল আযহা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যেই উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে, এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদ উদযাপনের আহবান জানাচ্ছি।

ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রাথী সোহরাব হোসেন রুবেল পাটোয়ারী বলেন , পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে কোরবানী করা পশুর রক্ত বর্জ একটি নির্দিষ্ট স্থানে গর্ত করে ফুতে ফেলার জন্য ইউনিয়নবাসীকে বিনীত অনুরোধ জ্ঞাপন করছেন। নির্দিষ্ট কোন স্থানে সকলে একত্রিত হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানী পশু জবাই করার আহবান জানান।

বাংলাদেশ পিপলস্ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে লক্ষ্মীপুরে ৭০টি সুবিধাবঞ্চিত পরিবার পেল গোস্ত উপহার

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে ৭০টি সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ১কেজি করে গরু গোস্ত উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ পিপলস্ ফাউন্ডেশন নামে একটি সামাজিক সংগঠন।

বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) দুপুরে কমলনগর উপজেলার উত্তর চরলরেঞ্চ গ্রামে এ গোস্ত বিতরণ করা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর (এনএসআই’র) উপ-পরিচালক শাহ্ আরমান, সাবেক লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন ভূঁইয়া আজাদ, সাবেক ছাত্রলীগ তোফায়েল আহম্মেদ, বাংলাদেশ পিপলস্ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাবিবুর রহমান রুবেল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেনসহ প্রমুখ।

জানতে চাইলে, সংগঠনের সভাপতি হাবিবুর রহমান রুবেল বলেন, দেখা যাচ্ছে বর্তমান সময় অসহায় মানুষ গুলো বিশেষ দিনেও পরিবার-পরিজন দিনে ভালো ভাবে রান্না করে খাবার খেতে পারে না। তাই এ ঈদে সংগঠনেরর পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়েছি জেনো সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ গুলো পরিবারের সদস্যদদের নিয়ে একবেলা খাবার ভালোভাবে খেতে পারে।

এছাড়াও এ সংগঠনটি করোনাভাইরাস শুরু থেকে খাদ্যসামগ্রী ও মানুষকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকতে সচেতনতা মূলক লিফলেট, মাক্স বিতরণ করেছে। এভাবে তারা সারাদেশব্যপী সামাজিক কাজ করে যাচ্ছে।

ব্রাজিল রাষ্ট্রপতি জাইর বলসোনেরো বলেছেন আর্জেন্টিনাকে ৫-০ গোলে হারাবে ব্রাজিল!

আগামী ১১ জুলাই কোপা আমেরিকার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বের নান্দনিক ফুটবলের দুই দেশ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর পর বড় কোনও টুর্নামেন্টের ফাইনালে দেখা হচ্ছে লাতিন আমেরিকার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দেশের।ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে কোপা আমেরিকার ফাইনাল।

ফাইনাল এমনিতেই রোমঞ্চকর, তারমধ্যে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ, নেইমার-মেসির শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। সবমিলিয়ে উত্তেজনা আর রোমাঞ্চের পারদ বেড়ে অসীম পর্যায়ে উঠেছে। কেবল লাতিন আমেরিকা নয়, উত্তেজনার পারদে ফুটছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
ফাইনাল যত কাছাকাছি হচ্ছে, ততই যেন আলোচনা জল্পনা-কল্পনা বেড়েই চলেছে। কেমন হবে কৌশল, একাদশে থাকবেন কে, ফলাফলই বা কেমন হবে তা নিয়েও আছে আলোচনা। এরই মধ্যে ব্রাজিল রাষ্ট্রপতি জাইর বলসোনেরো করে বসলেন এক ভবিষ্যদ্বাণী। জানালেন, কোপা আমেরিকার ফাইনালে তার দেশ ব্রাজিল আর্জেন্টিনাকে হারাবে ৫-০ গোলে!

দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার রাতে। সেখানে হাজির ছিলেন কোপা আমেরিকার ফাইনালে থাকা দুই দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দুই রাষ্ট্রপতিও। অবধারিতভাবেই সেখানে উঠে এল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের লড়াইয়ের প্রসঙ্গটি। তখন আর্জেন্টাইন রাষ্ট্রপতি অ্যালবার্তো ফের্নান্দেজের সামনেই বলসোনেরো এই ভবিষ্যদ্বাণী করে বসেন।

বলেছেন, ‘ব্রাজিল ম্যাচটা জিতবে ৫-০ ব্যবধানে।’ তবে এটাই হবে দুই দেশের একমাত্র মুখোমুখি লড়াই। এর বাইরে আর কোনও লড়াই নেই দুই দেশের মধ্যে, ইঙ্গিত দিয়ে বলসোনেরো বলেন, “একমাত্র যে লড়াইটা হবে আগামী রবিবার, তা হবে মারাকানায়, ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার মধ্যে; এর বাইরে কিছু নয়।”

এ কথা বলে এরপর তিনি রসিকতা করে পাঁচ আঙুলও দেখিয়েছেন আর্জেন্টাইন রাষ্ট্রপতিকে। ফের্নান্দেজ অবশ্য এর জবাবে কিছুই বলেননি, মুচকি হেসেছেন কেবল। তথ্যসূত্র: মার্কা

অনলাইনে ছয়দিনে ২০৬ কোটি টাকার কোরবানির পশু বিক্রি

করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে মাত্র ছয়দিনে অনলাইনে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ২০৬ কোটি টাকায় ২৬ হাজার ৩০৮টি কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ৭৪১টি অনলাইন বাজারের তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালের ২ জুলাই অনলাইনে পশুর হাটের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত ২৬ হাজার ৩০৮টি গবাদিপশু বিক্রি হয়েছে। যা দিনে গড়ে ৪ হাজার ৩৮৪টি পশু বিক্রি হয়েছে। ছয়দিনে ১ লাখ ৪১ হাজার গবাদিপশুর তথ্য অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে।

অধিদফতরের তথ্যমতে, অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রির কার্যক্রমের ছয় দিনে চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১১ কোটি টাকায় ১৫ হাজার ৭৫টি পশু কেনাবেচা হয়েছে। বিভাগটিতে ৫১ হাজার ৬৪৯টি গবাদিপশুর তথ্য অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রিতে দ্বিতীয় স্থানে ঢাকা, তৃতীয় স্থানে রাজশাহী বিভাগ রয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (খামার) জিনাত সুলতানা বলেন, গত বছর ৯৪ লাখ ৫০ হাজারের মতো পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে অনলাইনে প্রায় ৭০ হাজার পশু বিক্রি হয়। এবার এখন পর্যন্ত অনলাইন ২৬ হাজার ৩০৮টি গবাদিপশু বিক্রি হয়েছে। করোনার কারণে অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি বাড়বে।

ব্যাংকে সেবা নিয়ে ফেরার সময় জানালেন তিনি ‘করোনা পজিটিভ

দুপুরের দিকে মধ্যবয়স্ক এক ব্যক্তি ব্যাংকে সেবা নিতে যান। কাজ শেষ হলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের কাছে দোয়া চেয়ে ওই ব্যক্তি জানালেন, তিনি ‘করোনা পজিটিভ’, হাসপাতালে যাচ্ছেন। ঘটনাটি আজ বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা সদরের ডাকঘর সড়ক এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখায় ঘটে। ওই ব্যাংকের ব্যবস্থাপক রাত সোয়া আটটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে করোনাসংক্রমিত ওই গ্রাহকের পরিচয় উল্লেখ না করে ঘটনাটির বর্ণনা দেন।

স্ট্যাটাসটি নজরে পড়লে এই প্রতিবেদক মুঠোফোনে ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলেন। ব্যবস্থাপক বলেন, ওই গ্রাহক এটিএম বুথে টাকা তুলতে গেলে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে তাঁর চেম্বারে গিয়ে বিষয়টি জানান। এরপর গ্রাহকসহ ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তাকে নিয়ে বুথে যান। বেশ কিছু সময় চেষ্টা চালিয়ে বিষয়টির সমাধান হয়নি। পরে ব্যাংকে গিয়ে গ্রাহকের হাতে নগদ টাকা তুলে দেন। ফেরার সময় গ্রাহক তাঁকে বললেন, ‘স্যার খাস দিলে দোয়া কইরেন, আমি করোনা পজিটিভ। হাসপাতালে ভর্তি হতে যাচ্ছি।’ এরপর ওই গ্রাহক দ্রুত বেরিয়ে চলে যান। ব্যবস্থাপক বলেন, গ্রাহকের কথা শুনে তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বলেন, শহরের একটি ভাড়া বাসায় শুধু তিনি ও তাঁর স্ত্রী থাকেন। স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ওই গ্রাহক বলেন, সপ্তাহখানেক আগে জ্বরে আক্রান্ত হলে সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে নমুনা পরীক্ষা করান। তবে ফলাফল পজিটিভ নয় বলে দাবি করেন। ব্যবস্থাপকের সঙ্গে আলাপচারিতার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁর কিডনিতে কিছু সমস্যা ধরা পড়েছে। তাই, সিলেটে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) প্রিয়জ্যোতি ঘোষ বলেন, গত বছর করোনার সংক্রমণ শুরুর পর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার মোট ২১১ জন ব্যক্তি সংক্রমিত হয়েছেন। হোম আইসোলেশনে আছেন ৫১ জন। মারা গেছেন তিনজন। সংক্রমণ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

হঠাৎ হাটে হাজির ইউএনও, গরু-ছাগল রেখে পালালেন বিক্রেতারা

নওগাঁর রাণীনগরের আবাদপুকুর হাটে কঠোর বিধিনিষেধ অমান্য করে বসেছিল সা’প্তাহিক পশুর হাট। খবর পেয়ে পু’লিশ নিয়ে হাটে উপস্থিত হন উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা সুশান্ত কুমা’র মাহাতো। এ সময় ভ’য়ে গরু-ছাগল নিয়ে হাট থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান বিক্রেতারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহের বুধবার বিকেলে একদিন করে আবাদপুকুরে পশুর হাট বসে। সেখানে নওগাঁসহ আশেপাশের কয়েকটি জে’লা থেকে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ জমায়েত হয়। ক’রো’না সংক্রমণ রোধে বর্তমানে সারাদেশে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ চলছে।
উপজে’লার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের বি’রু’দ্ধে ভ্রাম্যমাণ আ’দা’লত পরিচালনা করে জ’রিমানা করা হচ্ছে। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বুধবার বিকেলে আবাদপুকুর পশুর হাটে হাজারো মানুষের সমাগম হয়।

হাটে আসা বেশির ভাগ মানুষের মুখে মাস্ক ছিল না। স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই ছিল না। খবর পেয়ে বিকেলে পু’লিশ নিয়ে হাটে উপস্থিত হন ইউএনও। এ সময় ভ’য়ে গরু-ছাগল নিয়ে হাট থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান বিক্রেতারা। এতে মুহূর্তেই হাট ফাঁকা হয়ে যায়।

উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা সুশান্ত কুমা’র মাহাতো বলেন, বিধিনিষেধের মধ্যে অন্যান্য বাজার শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চললেও পশুর হাট বন্ধ রাখতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করায় আবাদপুকুর হাটের ইজারাদারকে ২০হাজার টাকা জ’রিমানা করা হয়েছে। এমন অ’ভিযান কঠোর লকডাউন চলাকালীন সময়ে অব্যাহত রাখা হবে বলেও তিনি জানান।

লক্ষ্মীপুরে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া চাইলেন এমপি নয়ন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া ছেয়েছেন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি।

বুধবার (৭ জুলাই) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা এলাকার ৬ শতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য উপহার পৌঁছে দিয়ে শেখ হাসিনার জন্য দোয়া চান তিনি।

এসময় এমপি নয়ন বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা দেশ ও জনগণের কল্যানে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আপনারা সবাই আন্তরিকভাবে দোয়া করবেন মহান আল্লাহ যেন আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দীর্ঘ হায়াত দান করেন।

রায়পুর পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাটের আয়োজনে হত দরিদ্র পরিবারের মাঝে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ, ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট মারুফ বিন জাকারিয়া, প্যানেল মেয়র আইনুল কবির মনির ও শিশির পাঠান সহ পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারি প্রমূখ।

লক্ষ্মীপুরে এশিয়ার সর্ববৃহৎ মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র : অথচ ৮৩ পদের মধ্যে ৫৮ পদই শূন্য!

দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র (হ্যাচারি) জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় ডুবতে বসেছে।

রায়পুরের এ হ্যাচারিটিতে ৮৩ পদের মধ্যে ৫৮ পদই শূন্য। মাত্র ২৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী জোড়াতালি দিয়ে কাজ করছেন। তবে সম্ভাবনাময় এ হ্যাচারিকে উজ্জীবিত করতে তিন বছর আগে জনবলসহ ১৩টি সমস্যা চিহ্নিত করে সুপারিশ করেছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। এতে ৩৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ফাইল আটকে আছে মন্ত্রণালয়ে। এখনও আলোর মুখ দেখছে না।জানা যায়, হ্যাচারি নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি এখন চলছে জোড়াতালি দিয়ে। এ হ্যাচারি ঘিরে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে আসছে না। এতে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য।

এখানে উৎপাদিত রেণু-পোনার গুণগত মান ভালো থাকায় দেশের অন্তত ৩৫টি জেলায় তা সরবরাহ করা হয়। প্রতিবছর মৌসুমের সময় প্রতিযোগিতা দিয়ে চাষিরা তা সংগ্রহ করেন, কিন্তু চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহ করতে পারছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে খালি হাতে ফিরে যেতে হয় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৎস্য চাষিদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৮২ সালের জুনে ৫৪ একর জমিতে ও ২১.৮৩ হেক্টর আয়োতনের ৭৫টি পুকুর নিয়ে রায়পুর পৌরসভা পশ্চিম কাঞ্চনপুর গ্রামে হ্যাচারির নির্মাণকাজ হয়। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী এজেডএম ওবায়দুল্লাহ খান এটির উদ্বোধন করেন। গুণগত মানসম্পন্ন রেণু ও পোনার সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং মাঠপর্যায়ে মৎস্য খাতের সঙ্গে নিয়োজিতদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে হ্যাচারিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে রায়পুরের গুরুত্বপূর্ণ এ হ্যাচারি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মৎস্য) অসীম কুমার বালা ও মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. রমজান আলী সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরে তারা ১৩টি সমস্যা চিহ্নিত করে মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে তা সমাধানের জন্য সুপারিশ করেন। কিন্তু গত তিন বছরেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

সম্ভাবনাময় এ হ্যাচারিকে উজ্জীবিত করতে তিন বছর আগে জনবলসহ ১৩টি সমস্যা চিহ্নিত করে সুপারিশ করেছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পলি জমে শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্য, পুকুরপাড়ের রাস্তাগুলো ভেঙে যাওয়া, পানি সরবরাহের সংযোগ দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় এখন ২০টি পুকুর সংস্কারের কাজ চলছে। অনেকাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংযোগ বিকল। প্রশাসনিক, আবাসিক, হ্যাচারি, গুদাম, রেস্ট হাউস ভবনগুলো জরাজীর্ণ এবং ব্যবহারের অনুপযোগী।

অনেকাংশে উঁচু সীমানাপ্রাচীর নেই। গাড়ি ও অন্যান্য সরঞ্জাম অপ্রতুল। লো-ভোল্টেজ-নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় কার্যক্রমে বেগ পেতে হচ্ছে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৯টি পুকুর সংস্কারকাজ চলছে। আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে ১১টি সংস্কার করা হবে। অন্য ৩৬টি পুকুর পলি মাটি জমাট থাকায় ব্যবহারের অনুপযোগী রয়েছে।

রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহ করতে পারছি। ১৩টি সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল। তার মধ্যে ৩৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ফাইল করোনা ও পদ্মা সেতু নির্মাণের কারণে একনেকে তা ওঠেনি।

তবে তদন্ত কমিটির সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে উৎপাদিত পোনা-রেণু দিয়ে সারা দেশে বিপ্লব ঘটানো যাবে। লোকবল নিয়োগ দিলে উৎপাদন বৃদ্ধি করে কয়েক গুণ রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব হবে।’

৪র্থ মেয়াদে আরও ৩ বছরের জন্য(ইডিসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পুনরায় নিয়োগ পেলেন প্রফেসর জগলুল

সততা আর কর্তব্যপরায়নের জন্য পুরস্কার হিসেবে ৪র্থ মেয়াদে আরও ৩ বছরের জন্য এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পুনরায় নিয়োগ পেলেন প্রফেসর জগলুল। বুধবার (৭ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুল আজিজ শামীম। এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) রাষ্ট্রের মালিকানাধীন অটোনোমাস প্রতিষ্ঠান । তিনি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউপির সুনামগঞ্জ গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। তার বাবাও দেশের প্রখ্যাত সুনামধন্য ডাক্তার ছিলেন।
প্রফেসর জগলুলের পুনরায় নিয়োগ পাওয়ার আনন্দে রায়পুর সহ পুরো জেলায় আ’লীগসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রীকেও।
এপ্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে প্রফেসর এহসানুল কবির জগলুল বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। প্রধানমন্ত্রীর আস্থা অর্জনে ও ইডিসিএলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করে আগামি দিনে আন্তর্জাতিকভাবে এ শিল্পের মাধ্যমে দেশের সুনাম অর্জন আমার লক্ষ্য।
তিনি আরো বলেন, সরকার এই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত ওষুধ ৫ ভাগ লাভে ক্রয় করে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বিতরণ করে থাকেন। বর্তমানে সারা দেশে কোম্পানির পাঁচটি প্ল্যান্ট রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ও বগুড়া প্ল্যান্টে ওষুধ, খুলনা প্ল্যান্টে পুরুষ কনডম এবং টাঙ্গাইল প্ল্যান্টে মধুপুর রাবার গাছ থেকে কনডম তৈরির কাঁচামাল উৎপাদন করে। চারটি প্রোডাকশন ইউনিট নিয়ে শিগগির উৎপাদনে যাবে গোপালগঞ্জ ইউনিট। এই প্ল্যান্টেও ওষুধ উৎপাদন হবে। ১৯৬২ সালে এটি সরকারি ফার্মাসিউটিক্যালস ল্যাবরটেরি (জিপিএল) নামে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কাজ শুরু করে। ১৯৭৯ সালে ফার্মাসিউটিক্যালস উৎপাদন ইউনিট (পিপিইউ) হিসেবে পুনঃনামকরণ করা হয়।
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে ১৯৮৩ সালের ১০ আগস্ট ইডিসিএল নামে নতুন করে যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ইডিসিএল শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন অটোনোমাস প্রতিষ্ঠান ও একমাত্র অত্যাবশ্যকীয় জীবন রক্ষাকারী ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির জন্য প্রতিষ্ঠানটি ওর‌্যাল স্যালাইন, অ্যান্টিবায়োটিক সেফালোস্পরিন, ইনজেকশন, প্যারাসিটামল, কনডমসহ ১২৬ ধরনের ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী উৎপাদন করছে। সারা দেশের সব সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং সরকারি মালিকানাধীন করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহ, এনজিও এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন ডবিøউএইচও, বিশ্বব্যাংক ও ইউনিসেফের স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করছে। এর মধ্যে দেশের সব সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকের শতভাগ ওষুধ সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ডাক্তার জগলুল বলেন,-ইডিসিএল ইতিমধ্যে মিয়ানমার, ভিয়েতনামা এবং ভুটানে ওষুধ রপ্তানি করছে। তাছাড়া শ্রীলঙ্কায় ইতিমধ্যে সরকারিভাবে ওষুধ রপ্তানি করা হয়েছে এবং চলতি অর্থবছর বিপুল পরিমাণ ওষুধ রপ্তানি করা যাবে বলে আশা করছি। যেসব বৈদেশিক ক্রেতা ইডিসিএলের ওষুধ আমদানি করতে ইচ্ছুক ইডিসিএল তাদের সন্ধান ও শনাক্ত করছে। গুণগতমান রক্ষায় ইডিসিএল কোনো ধরনের আপস করে না, যার জন্য এর উৎপাদিত ওষুধসামগ্রী সর্বত্র গ্রহণযোগ্য। গত বছর ৬৪৫ কোটি টাকার ওষুধ বিক্রি করা হয়েছে।
দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে খুলনা প্ল্যান্টে (খুলনা এসেনসিয়াল লেটেক্স প্রকল্প) পুরুষ কনডম উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদন ক্ষমতা প্রাথমিকভাবে বছরে ১৫০ মিলিয়ন পিস ইনস্টল করা হলেও এখন উৎপাদন হচ্ছে প্রতি বছরে আনুমানিক ২৪৯.৬০ মিলিয়ন পর্যন্ত। উৎপাদিত কনডম পরিবার-পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে। প্রতিষ্ঠানটি ইহার গ্রাহক বা ক্রেতার চাহিদা মোতাবেক কনডম তৈরি করতে সক্ষম। কনডমের কাঁচামাল উৎপাদন হচ্ছে টাঙ্গাইল প্ল্যান্টে। মধুপুর বনের রাবার গাছ থেকে রাবারকষ সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করার পর খুলনায় পাঠানো হয়। এর জন্য ইডিসিএল ১২৭ মিলিয়ন টাকা ব্যয়ে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরে এসেনসিয়াল ল্যাটেক্স প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। প্রাকৃতিক উৎস হতে রাবার সংগ্রহ, ল্যাটেক্স উৎপাদন ও মান নিশ্চিতকরণ এবং বহুবিধ ব্যবহার তথা দেশীয় রাবার শিল্পকে অনুপ্রাণিত করতে এই প্ল্যান্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়-দেশে বর্তমানে প্রতি বছর ৩০০ মিলিয়নের অধিক পিস কনডমের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ইডিসিএল ১৭০ মিলিয়ন পিস কনডম সরবরাহ করে। এই উৎপাদন ২৫০ মিলিয়ন পিসে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্ল্যান্ট দৈনিক প্রায় ৫ দশমিক ৫ টন ঘনীভূত ল্যাটেক্স উৎপাদন করতে সক্ষম। নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে ইএলপিপি র্কর্তৃক উৎপাদিত ঘনীভূত ল্যাটেক্স ইতিমধ্যে বসুন্ধরা পেপার মিল এবং বাংলা-জার্মান কোম্পানি লি.-এর নিকট সরবরাহ করছে।
বিশেষ করে ইডিসিএলের গোপালগঞ্জ প্ল্যান্ট নিয়ে খুবই আশাবাদী র্কর্তৃপক্ষ। ১০ একর জায়গার ওপর প্রকল্পটি হবে। শিগগির প্ল্যান্টের চারটি ইউনিটেই উৎপাদন শুরু হবে। এটি হবে দেশের সবচেয়ে বড় ওষুধ তৈরির কারখানা। জন্মনিয়ন্ত্রণ ইনজকেশন, আইভি ফ্লয়েড, পেনিসিলিন পণ্য ও জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি উৎপাদিত হবে। এই প্রকল্পের আনুমানিক খরচ ৫৯৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এখান থেকে বছরে ৩ হাজার ৩শ’ মিলিয়ন জন্মনিয়ন্ত্রণ ইনজেকশন, ৩ হাজার ২ মিলিয়ন জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, ১৮১ মিলিয়ন পেনিসিলিন ট্যাবলেট ও ২১৭ মিলিয়ন পেনিসিলিন ক্যাপসুল উৎপাদন সম্ভব হবে।
এখানে উৎপাদন হবে জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিক। এ ছাড়া আইভি ফ্লুইড, ইন্টারফেনাস ইনজেকশন, আয়রন ট্যাবলেট এবং সব ধরনের স্যালাইন উৎপাদন করা হবে। এতে দেশে ওষুধের চাহিদা অনেকটাই পূরণ হবে এবং বিদেশে রপ্তানি করা যাবে। ইডিসিএলের এই কারখানায় ৮শ লোকের কর্মসংস্থান হবে। শুধু তাই নয়, এই শিল্প কারখানাকে ঘিরে আরও ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে এই অঞ্চলে। কাঁচামাল, খাবার, প্রিন্টিং, প্যাকেজিং, আবাসিক হোটেলসহ অনেকগুলো লিংকেজ শিল্পও গড়ে উঠবে। গোপালগঞ্জসহ দক্ষিণ বাংলার আর্থ-সামাজিক অবস্থায় অনেক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে ইডিসিএল।
ইডিসিএলে উৎপাদিত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ গ্রাম পজিটিভ এবং গ্রাম নেগেটিভ অঙ্গের বিরুদ্ধে সক্রিয়। আধুনিক বিজ্ঞানে এর বিকাশ ও নমনীয়তা প্রথম জেনারেশন থেকে চতুর্থ জেনারেশন পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। একটি জীবন রক্ষাকারী ওষুধ হিসেবে এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। সিজিএমপি (কারেন্ট গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস) অনুযায়ী এই ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক একটি সম্পূর্ণ পৃথক কারখানায় উৎপাদিত হয়। এ জন্য ইডিসিএল বগুড়াতে একটি নতুন পৃথক সেফালস্পিরিন উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করেছে। এটা বাংলাদেশ সরকারের চাহিদা মিটিয়ে সরকারি ওষুধ নিয়মনীতি মেনে দেশের অন্যান্য ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য চুক্তিভিত্তিতে সেফালস্পিরিন পণ্য উৎপাদন করতে সমর্থ হবে।
নতুন ওষুধ আবিষ্কার ও উন্নয়ন গবেষণা করতে ২০১০ সালে ইডিসিএল ঢাকা প্ল্যান্টের মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগে একটি গবেষণা পরীক্ষাগার স্থাপন করা সম্প্রতি এই গবেষণাগারে বিভিন্ন জৈব পদার্থ, যেমন কাসাভা, আলু ও অন্যান্য প্রাকৃতিক জৈব পদার্থ, যা আমাদের দেশে সহজলভ্য এবং সস্তা, তা থেকে এক ধরনের স্টার্চ তৈরি করছে। এই স্টার্চ ট্যাবলেট ও ওষুধের মান বজায় রাখতে ব্যবহার করা হয়। পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ যেকোনো ওষুধ উৎপাদন কোম্পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
ইডিসিএলের ঢাকা ও বগুড়া প্ল্যান্টের পরিবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। সিজিএমপি নির্দেশনা অনুযায়ী উৎপাদন এলাকা, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, অণুজীব ল্যাবরেটরি, বিতরণ এলাকা, কাঁচামাল ও সমাপ্ত পণ্য এলাকা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিয়মিত নজর রাখা হয়।