৬ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে। প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করলেন দিল্লির এক ব্যক্তি। দিল্লির বিকাশপুরী থানায় রাখি সাওয়ান্ত এবং তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় অভিযোগ। প্রতারণার অভিযোগেই এফআইআর দায়ের করা হয় রাখির বিরুদ্ধে। শৈলেশ শ্রীবাস্তব নামে ওই ব্যক্তির অভিযোগ, ২০১৭ সালে রাখি সাওয়ান্তের ভাই রাকেশ সাওয়ান্ত এবং তার এক বন্ধু রাজ খতরির সঙ্গে পরিচয় হয়। স্বঘোষিত গুরু গুরমিত রাম রহিমের জীবন নিয়ে ছবি তৈরি করবেন বলে তারা স্থির করেন। সিনেমার পাশাপাশি দিল্লির বিকাশপুরীতে একটি নাচের সংস্থা খোলা হবে বলেও তারা জানান। তাদের ওই সংস্থায় রাখিও থাকবেন বলে শৈলেশ শ্রীবাস্তবকে কথা দেন রাজ খতরিরা।
রাখির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
এইচটি ইমামের শারীরিক অবস্থার অবনতি
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে কিডনি জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতা নিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন। বর্তমানে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। তবে গতকাল থেকে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। জানা গেছে, এইচ টি ইমাম দীর্ঘদিন ধরেই কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হোসেন তৌফিক ইমাম। এরপর ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের পুলপাড়া সুইচ গেট এলাকায় এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। বুধবার (৩ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে নিজ শয়ন কক্ষে আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যাকারী ছাত্রী হল-চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মসজিদ পাড়া এলাকার মোঃ সেন্টু আলীর মেয়ে শিখা খাতুন (১৮)। শিখা কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রী।
নিহত ছাত্রীর পরিবার ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন হতে শিখা অসংলগ্ন কথা বার্তা বলে আসছিল। বুধবার সকাল ১০ টার দিকে তার মা মেয়েকে তার শয়ন কক্ষের ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে থাকতে দেখে চিৎকার দেয়। মার চিৎকারে প্রতিবেশী ছুটে আসে এবং সদর মডেল থানায় খবর দেয়। সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কবির হোসেন আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আত্মহত্যার কারণ এখনো জানতে পারেন নি। এঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে জানান ওসি তদন্ত কবির।
মাদকের বিস্তার লাগামহীন
বর্তমানে সারা দেশে সেবনকারীরা প্রতিদিন গড়ে ২০ কোটি টাকার নেশা গ্রহণ করছে। বছরের হিসাবে এর পেছনে খরচ হয় আনুমানিক ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এ ব্যবসায় জড়িত ২০০ গডফাদার ও বিক্রির নেটওয়ার্কে কাজ করে ১ লাখ ৬৫ হাজার জন। প্রতিবছরই বাড়ছে এই সংখ্যা।
মাদকদ্রব্য লেনদেনের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে বিদেশে। নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিস্তারের এই সর্বনাশা চিত্র যেভাবে আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতি করছে, সেভাবে একটি প্রজন্মের চিন্তার জগতে বন্ধ্যত্ব সৃষ্টি করছে। দীর্ঘ মেয়াদে এর ফল ভয়াবহ হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।মাদকের থাবায় নাস্তানাবুদ একটি প্রজন্ম। শহর থেকে গ্রামাঞ্চল-সর্বত্রই নেশা এখন হাতের নাগালে। এক যুগে এর বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে বিভিন্ন সংস্থা অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। তবে এই পরিমাণ দেশে ছড়িয়ে পড়া মোটের তুলনায় কোনোভাবেই ২০-২৫ শতাংশের বেশি নয় বলে মনে করছেন এ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো।
মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পাঁচটি সংস্থার ১২ বছরের (২০০৯-২০২০) উদ্ধারকৃত মাদকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে যুগান্তর। সংস্থাগুলো হলো-মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ২৫ ধরনের উল্লেখযোগ্য মাদকের মধ্যে এই পাঁচ সংস্থা সবচেয়ে বেশি উদ্ধার করে ৯ ধরনের মাদক। এগুলো হলো-ইয়াবা, হেরোইন, কোকেন, আফিম, গাঁজা, ফেনসিডিল, বিদেশি মদ, বিয়ার ও ইঞ্জেকটিং ড্রাগ।
১২ বছরে কেবল এই নয়টি মাদক যে পরিমাণে উদ্ধার হয়েছে, প্রচলিত দাম অনুযায়ী টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ দাঁড়ায় আনুমানিক ১৪ হাজার ৩১৩ কোটি ৭৯ লাখ ৬২ হাজার ১৩০ টাকা। পাঁচ সংস্থার মাদক উদ্ধারের ঘটনায় এক যুগে ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৩৮২টি মামলা হয়।
সর্বোচ্চ মামলা হয় ২০১৯ সালে ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৮টি এবং সর্বনিম্ন হয় ২০০৯ সালে ২৭ হাজার ৪৪১টি। মোট মামলায় আসামি করা হয় ১০ লাখ ১০ হাজার ৭১৮ জনকে। ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৪৭ জন আসামি হন এবং ২০০৯ সালে সর্বনিম্ন ৩৪ হাজার ৩১৫ জন আসামি হন। কথা হয় মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের উপদেষ্টা সদস্য অধ্যাপক ডা. অরূপরতন চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, মাদক উদ্ধারের চিত্র দেখলেই বিস্তারের একটা ধারণা পাওয়া যায়। যেগুলো উদ্ধার হচ্ছে সেগুলো তো কেবল যা তাদের চোখে পড়ছে। সব তো আর চোখে পড়ছে না। ঘরে ঘরে এখন ইয়াবা। যেটা ধরা পড়ে, সেটা খুবই সামান্য। বেশির ভাগই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
বিভিন্ন সংস্থা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, এখন মাদক ব্যবসায় জড়িত ২০০ গডফাদার ও ১ লাখ ৬৫ হাজার বিক্রির নেটওয়ার্ক। এদের মাধ্যমে মাদক খাতে বছরে লেনদেন হয় ৬০ হাজার কোটি টাকা। আর বেশকিছু সংস্থার তথ্যানুযায়ী অবৈধ মাদক আমদানিতে প্রতিবছর বিদেশে পাচার হচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
গত ১২ বছরে এই পাঁচ সংস্থা ইয়াবা উদ্ধার করে ২২ কোটি ৩০ লাখ ৭৪ হাজার ১৯১ পিস। সর্বোচ্চ উদ্ধার হয় ২০১৮ সালে ৫ কোটি ৩০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৮টি এবং সর্বনিম্ন উদ্ধার হয় ২০০৯ সালে ১ লাখ ৩২ হাজার ২৮৭ পিস। হেরোইন উদ্ধার হয় ২ হাজার ৫৪৫ কেজি। সর্বোচ্চ উদ্ধার হয় ২০১৮ সালে ৪৫১.৫ কেজি ও সর্বনিম্ন ২০১৪ সালে ৭৮.৩ কেজি। কোকেন উদ্ধার হয় ৪৫.৬৯ কেজি। এর মধ্যে ২০১৩ সালে সর্বোচ্চ ১১.৬২ কেজি ও ২০১১ সালে সর্বনিম্ন শূন্য দশমিক ৪৭ কেজি। ২০০৯ সালে আফিম উদ্ধারের ঘটনা না থাকলেও ২০১৪ সালে সর্বোচ্চ ৯১.২২ কেজি উদ্ধার হয়েছে। এক যুগে মোট আফিম উদ্ধার হয়েছে ২১৭.৩৯ কেজি। গাঁজা উদ্ধার হয়েছে ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯২ কেজি। ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ ৬৯ হাজার ৯৮৯ কেজি এবং ২০১৯ সালে সর্বনিম্ন ৩২ হাজার ৬৫৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়।
এই সময়ে ফেনসিডিল উদ্ধার হয় ১ কোটি ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৮৮৮ বোতল। ২০০৯ সালে সর্বোচ্চ ১১ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৪ এবং ২০১৬ সালে সর্বনিম্ন ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৫২০ বোতল উদ্ধার হয়। এর বাইরে ২২ হাজার ৪৩০ লিটারেরও বেশ ফেনসিডিল উদ্ধার হয়। বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার হয় ২১ লাখ ২৬ হাজার ১৯৭টি। ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২২ হাজার ৫৮৯ এবং ২০১০ সালে সর্বনিম্ন ১৬ হাজার ৫২৭টি উদ্ধার হয়। এর বাইরে উদ্ধার হয় ৯ হাজার ৮৭ লিটার বিদেশি মদ। এই সময়ে ইঞ্জেকটিং ড্রাগ (অ্যাম্পুল) উদ্ধার হয় ১৪ লাখ ৩১ হাজার ১১টি।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ধারাবাহিকভাবে মাদকের বিস্তার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে ইয়াবা ৪০ হাজার গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯ সালে ৫ কোটি ৩০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৮ পিস হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় মামলা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। এরপর আর তা লাখের নিচে নামেনি।জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার বলেন, প্রধান দুই মাদকের একটি ইয়াবা আসছে মিয়ানমার থেকে আর ফেনসিডিল আসছে ভারত থেকে। আমরা সব মাদকের উৎস বন্ধে কাজ করছি। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের ডিজি পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। এবার তারাও কিছুটা নমনীয়। তবে তারা যে ইয়াবা বানায়, সেটি স্বীকার করছে না। কিন্তু আসছে তো তাদের বর্ডার দিয়েই। আমরা সাতদিনের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করছি। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অধ্যাপক ডা. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, সেবনকারীরা অর্থ জোগাড়ে একসময়ে মাদক ব্যবসা করছে। এভাবে ক্রমেই এর চাহিদা বাড়ছে ও বিস্তার হচ্ছে। একজন মাদকাসক্ত দুই বছরে আরও পাঁচজন তৈরি করছে।
বিভিন্ন পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, মাদকসেবীর সংখ্যা এখন ২ কোটি হবে। এর মধ্যে দেড় কোটি নিয়মিত। ৫০ লাখের মতো অনিয়মিত। দেশে সেবনকারীরা গড়ে প্রতিদিন অন্তত ২০ কোটি টাকার মাদক সেবন করে। মাদকের মাধ্যমে শুধু টাকা পাচার হচ্ছে তা নয়। মাদক হচ্ছে অপরাধের জনক। ধর্ষণ, হত্যা, ছিনতাই, রাহাজানিসহ যত ধরনের অপরাধ হয়-সবকিছুর মূলেই এই মাদক।
মাদক উদ্ধারকারী বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় গড়ে প্রতি পিস ইয়াবা বিক্রি হয় ৩০০-৪০০ টাকা। হেরোইন প্রতি কেজি বিক্রি হয় ১৫-২০ লাখে, আসল কোকেন প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৩৫ কোটিতে। কিন্তু দেশে এটি সেভাবে পাওয়া যায় না। যেই কোকেন পাওয়া যায়, সেটার কেজি বিক্রি হয় ১৫-২০ কোটিতে। আফিমের কেজি ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা, গাঁজার কেজি ১২-১৫ হাজার টাকা, ফেনসিডিল ১০০ মিলিলিটারের বোতল বিক্রি হয় আড়াই হাজারে এবং লিটার বিক্রি হয় ২৫ হাজার টাকায়। দেশি মদ ১০০০-১২০০ টাকা লিটার। বিদেশি মদের বোতল বিক্রি হয় ৪ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। তবে ৬-১০ হাজার টাকার বোতলের বেশি পাওয়া যায়। এটি মূলত ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভর করে। লিটারের হিসাবও এমনই। ইঞ্জেকটিং ড্রাগের অ্যাম্পুল মেলে ৭০-১০০ টাকায়। তবে সবকটির দামই স্থানভেদে পরিবর্তন হয়। কখনো কখনো এর দাম দ্বিগুণ-তিনগুণও হতে পারে। আবার মূল সিন্ডিকেট থেকে সরাসরি নিতে পারলে আরও কমেও পাওয়া যায়।
প্রতি পিস ৩৫০ টাকা ধরলে এক যুগে উদ্ধারকৃত ইয়াবার আর্থিক পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৮০৭ কোটি ৫৯ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ টাকা। হেরোইন গড়ে ১৭ লাখ টাকা কেজি ধরলে এর আর্থিক মূল্য হয় ৪৩২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। কেজি ১৭ কোটি টাকা ধরলেও উদ্ধারকৃত কোকেনের আর্থিক মূল্য ৭৭৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ৮৫ হাজার টাকা কেজি ধরলে উদ্ধারকৃত আফিমের দাম ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৮ হাজার ১৫০ টাকা।
গাঁজার কেজি ১৩ হাজার টাকা ধরলে এর মূল্য দাঁড়ায় ৭১০ কোটি ৯৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ফেনসিডিলের বোতলের দাম আড়াই হাজার ধরলে উদ্ধার হয়েছে ২৭৩৬ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার টাকার। প্রতি লিটার ফেনসিডিল ২৫ হাজার টাকা হলে উদ্ধারকৃত দ্রব্যের আর্থিক মূল্য ৫৬ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিদেশি মদের বোতল গড়ে ৮ হাজার টাকা করে ধরলে ১৭০০ কোটি ৯৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকার মাদক উদ্ধার হয়েছে এক যুগে।
এর বাইরে লিটারের হিসাবে উদ্ধার হয়েছে ৭ কোটি ২৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকার বিদেশি মদ। উদ্ধার হওয়া ইঞ্জেকটিং ড্রাগের অ্যাম্পুল ৮০ টাকা করে হলেও এর দাম ১১ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৮০ টাকা। মোট হিসাবে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৩১৩ কোটি ৭৯ লাখ ৬২ হাজার ১৩০ টাকা।
মাদকের অর্থের জোগানের বিষয়ে গবেষণা চালায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের অ্যাডিকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড কেয়ার (আমিক)। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৭০ শতাংশই অভিভাবকের অর্থে মাদক কেনে। ৫৬ দশমিক এক শতাংশ ব্যয় করে নিজের অর্থ। পরিবারের সম্পদ বিক্রি করে ২০ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যের টাকা চুরি করে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। আত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মাদক কেনে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ ব্যক্তি। প্রতিবেদনের বিষয়ে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের হেলথ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, এক ব্যক্তি একাধিক উৎস থেকেও মাদকের অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। অর্থের জোগানে ভয়ংকর অপরাধেও জড়িয়ে পড়ে মাদকসেবীরা।
জানতে চাইলে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, আমাদের সমাজে মাদকের চাহিদা আছে। আর চাহিদা থাকলে জোগান বৃদ্ধি পায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চলালেও চাহিদার কারণে এর সরবরাহও বাজারে বাড়ছে। মাদক উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে সাফল্য, সেটা গর্ব করার মতো। তারপরও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এখনো সম্ভব হয়নি। আমাদের অভিযান চলমান আছে। যেসব মাদক আসছে, এর বড় অংশই ধরা পড়ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ একটা মাল্টি অর্গানাইজেশনাল টাস্ক। বিভিন্নভাবে মাদক আসছে। এটা নিয়ে আরও বেশি কাজ করতে হবে। আরও মনোযোগী হয়ে কঠোর অ্যাকশনে গেলে সম্ভব। মাদকের প্রভাবে অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। একটি প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এটা সমাজের জন্য বিষফোড়া। আগের তুলনায় গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল সবই বেশি ধরা পড়ছে। মাদক রুখতে সবার সহযোগিতা ও সচেতনতার বিকল্প নেই।
এ বছরের মধ্যে সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে: আমীর খসরু
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘এ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে।’ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বীর উত্তর খেতাব বাতিলের প্রতিবাদে আজ শনিবার বিকালে নগরীর নাসিমন ভবনের সামনে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীর খসরু বলেন, ‘আল-জাজিরা ক্ষুদ্র একটি অংশ প্রকাশ করেছে। এতেই ভয়ে কম্পন শুরু হয়েছে সরকারের। আল-জাজিরার পরবর্তী প্রতিবেদনে বহু লোকের নাম জড়িয়ে আছে। তাতে সরকারের দেশে ও দেশের বাইরে হাঁড়ি-পাতিলের খবরও বের হয়ে যাবে। চলতি বছরেই এ সরকারের বিদায় নিতে হবে। তাদের মধ্যে কম্পন শুরু হয়েছে। এসব সরকার বিদায়ের লক্ষণ।’
নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান প্রমুখ।
আন্দোলনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আমীর খসরু বলেন, ‘রোজার পর, ঈদের পর এরকম দিনক্ষণ দেখে আন্দোলন হয় না। যে কর্মসূচির মাধ্যমে এই সরকার পতন হবে, সেই কর্মসূচি আসবে। এখন প্রতিদিনই আন্দোলন। আমরা-তো নেমেই গেছি মাঠে, আর ফিরে যাব না।’
প্রেমিককে ৫ টুকরো করলো ৫০ বছর বয়স্ক প্রেমিকা
রাজধানীর ওয়ারীর স্বামীবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে সজীব হাসান নামে এক যুবকের ৫ টুকরো লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে শাহনাজ পারভীন (৫০) নামে এক নারীকে।
জানা গেছে, তিনদিন ধরে ওই নারী নিখোঁজ ছিলেন। পরে ওই নারী তার স্বামীকে ফোন করলে পুলিশ নিয়ে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পাঁচ টুকরা লাশের পাশে শাহনাজকেও পাওয়া যায়। নিহত সজীব বুটিকসের কাজ করতেন।পুলিশের দাবি, সজীবের সাথে অভিযুক্ত নারীর দীর্ঘদিন ধরে বিবাহ-বহির্ভূত প্রেম ছিলো। সম্প্রতি তার মেয়ের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়ায় সজীব। এই অবস্থায় আজ সকালে বাসায় এলে শাহনাজকে চাকু মারার চেষ্টা করে সজীব। কিন্তু সেটি কেড়ে নিয়ে উল্টো তারই পেটে ঢুকিয়ে দেয় শাহনাজ। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হলে মরদেহ ৫ টুকরো করে ফেলে সে।
পুলিশ আরও জানায়, শাহনাজের সঙ্গে সজীবের পাঁচ বছর আগে সম্পর্ক হয়। তখন শাহনাজকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সজীব কে এম দাস লেনের চতুর্থ তলায় বাসা ভাড়া নেন। শাহনাজের বাসাও একই এলাকায়। তখন থেকে সজীবের বাসায় নিয়মিত যেতেন। শাহনাজ সজীবের বাসায় বুটিকসের কাজ শিখছেন বলে তার স্বামীকে বলে যেতেন। তার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। তার দুই ছেলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং একমাত্র মেয়ে কলেজে পড়েন।
খুনের পর পালানোর কোনো চেষ্টাই করেনি শাহনাজ। ঘটনাস্থল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য সজীবের লাশ মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচন কাল: প্রস্তুত ভোটকেন্দ্র
রাত পোহালে ভোট রাঙামাটিতে। তাই আগে থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এরই মধ্যে নির্বাচন সরঞ্জামসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিয়োজিত করা হয়েছে ৯টি ওয়ার্ডের ৩১টি কেন্দ্রে। পাশাপাশি যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। একই সাথে বিজিবি সদস্যদের সাথে মাঠে থাকছে চট্টগ্রাম র্যাব-৭।
শনিবার সকালে রাঙামাটি মারি স্টেডিয়ামে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে ইভিএম, মনিটরসহ অন্যান্য ভোটসমগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
রাঙামাটি রিটার্নিং অফিসার মো. শফিকুর রহমান জানান, রাঙামাটিতে প্রথম বারের মতো ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রত্যেক কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ৩১ জন, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ২০১ জন ও পোলিং ৪০২ জন নিয়োজিত থাকবে।
এবার রাঙামাটির পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৫ জন এবং কাউন্সিলর ৪১ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাঙামাটির পৌর এলাকার ৩১টি ভোটকেন্দ্রে ৬২ হাজার ৯১৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ৩৪ হাজার ২৫২ জন পুরুষ ভোটার এবং ২৮ হাজার ৬৭১ জন নারী ভোটার রয়েছেন।
দেশের রাজনীতির কবিয়াল ওবায়দুল কাদের : রিজভী
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন কবিয়াল আছে। তার নাম হচ্ছে ওবায়দুল কাদের। তিনি কবিতার আকারে কথা বলেন, তিনি গতকাল বলেছেন আলজাজিরার পেছনে কারা কারা আছে আমরা সেটা খুঁজে পেয়েছি। আমি আগেই বলেছি, আওয়ামী লীগের ক্যারেক্টার টাই হচ্ছে সন্ত্রাসীদের মতো, মাফিয়াদের মতো।’
আজ শনিবার সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিএনপির পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। রিজভী বলেন, ‘যে লোক (জিয়াউর রহমান) রাজনীতিকে গ্রামে নিয়ে গেছেন, যে মানুষটি মিশে ছিলেন কাদা মাটি ও পলিমাটির মধ্যে। নদীর উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে যার নাম মিশে আছে, মিশে আছে জনগণের মনে। সেই নাম কোনোদিনও মুছে ফেলা যাবে না।’
এসময় প্রতিবাদ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, কৃষকদলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন, যুবদল মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু প্রমুখ।
সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ায় বাইডেনের উপ-প্রেস সচিব বরখাস্ত
সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ায় বাইডেনের উপ-প্রেস সচিব এবং হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র টিজে ডাকলোকে এক সপ্তাহের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। এসময়ে তিনি বেতন পাবেন না।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন করা এক নারী সাংবাদিককে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন।
জানা যায়, মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর রিপোর্টার তারা পালমেরিকে হুমকি দেন ওই উপ-প্রেস সচিব এবং হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র। অবশ্য গতকাল শুক্রবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জেন পাসকাই জানান, ডাকলো ক্ষমা চেয়েছেন পালমেরির কাছে। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার।
‘জিয়া নয়, ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন এম এ হান্নান’
বঙ্গবন্ধুর দেয়া স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম এম এ হান্নান পাঠ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, ২৭ মার্চ চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতারা সেনাবাহিনীর একজন অফিসারকে দিয়ে ঘোষণাটি পাঠ করানোর সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য প্রথমে মেজর রফিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি রণাঙ্গনে ব্যস্ত থাকায় পরে কালুরঘাট অতিক্রম করে পটিয়ার দিকে যাত্রাকারী মেজর জিয়াউর রহমানকে বোয়ালখালী থেকে খুঁজে এনে ঘোষণাটি পাঠের দায়িত্ব দেয়া হয়।
বিশ্ব বেতার দিবস উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বেতার সদর দপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। এসময় মন্ত্রী যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বেতারের ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলেও মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, সচিব খাজা মিয়া এবং বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক আহমেদ কামরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যারা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান শুনেছেন, তারা জানেন মুক্তিকামী এদেশের মানুষের মাঝে কি উদ্যম-উদ্দীপনা জাগাতো সে সময়ের অনুষ্ঠান। আর মানুষ কি উন্মুখ হয়ে থাকতো তা শোনার জন্য।
‘বঙ্গবন্ধুর দেয়া স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম এম এ হান্নান পাঠ করেন’ বলেন তথ্যমন্ত্রী।
এবছর ইউনেস্কো ঘোষিত দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘নতুন বিশ্ব নতুন বেতার’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী জানান, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ বেতার এখন মোবাইল অ্যাপসে শোনা যায়। এ পর্যন্ত দেশের ৮টি বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান অ্যাপসের আওতায় এসেছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান দেশব্যাপী সম্প্রচার শুরু হয়েছে।
এসময় জিয়াউর রহমানের খেতাব প্রত্যাহার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। তার কাছে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অফিসার পাকিস্তানের পক্ষে তার ভূমিকার জন্য প্রশংসা করে চিঠি লিখেছিল এবং জিয়া স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের পুনর্বাসন করেছেন। যে শাহ আজিজুর রহমান পাকিস্তানের ডেপুটি লিডার হিসেবে জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে ওকালতি করেছেন, তাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। সুতরাং ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মাবরণে প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন। তার খেতাব বাতিল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’
