নোবেলকে মদ্যপ অবস্থায় মধুমতি নদীর পাড়ে পাওয়া যায়

সা রে গা মা পা’ খ্যাত বিতর্কিত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল মদ্যপ অবস্থায় মটরসাইকেল চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কালিয়া উপজেলার বড়দিয়া বিদ্যুৎ অফিস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে গেলে তার মাতালামি দেখে ভিডিও ধারণ করেন।

শুক্রবার (১৮ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নোবেলের মাতলামির কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তার এমন কর্মকাণ্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে নিন্দার ঝড়।
নোবেল মদ্যপ অবস্থায় অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন এবং স্থানীয়দের তাচ্ছিল্য করে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন।

পরে স্থানীয়রা নোবেলকে প্রাথমিক সেবা দিয়ে কিছুটা স্বাভাবিক করে তার বন্ধুদের সঙ্গে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেন।

একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন নোবেল। অগ্রিম টাকা নিয়ে অনুষ্ঠানে না গিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গায়ক নোবেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ব্যাচ ২০১৬ এর প্রতিনিধি মো. সাফায়েত ইসলাম। ২২ মে প্রতারণার মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিন ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় গায়ক নোবেলের জামিন মঞ্জুর করেন।

এদিকে জামিনে বের হওয়ার পর একাধিক গণমাধ্যমে নোবেলের উদ্ধৃতি দিয়ে ‘পেছনের সব ভুল শুধরে আগের নোবেলে ফিরে যেতে চাই’ এমন খবরে তার ভক্তরা যেন কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল।
তবে কিছুদিন না যেতেই নিজের ওয়াদা ভুলে নড়াইলে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে এসে মদ্যপ অবস্থায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন নোবেল।

স্থানীয় খাশিয়াল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএম বরকতুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নোবেলকে মদ্যপ অবস্থায় মধুমতি নদীর পাড়ে পাওয়া যায়। তাকে ওই অবস্থায় স্থানীয়রা পানি ঢেলে কোনো রকম সুস্থ করে তার বন্ধুদের সঙ্গে পাঠিয়ে দেয়।

সর্বজনীন পেনশন স্কিম যেভাবে খোলা যাবে

দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগণকে পেনশনের আওতায় আনার উদ্দেশ্যে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। গত ১৭ আগস্ট এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চার কর্মসূচির স্কিমগুলো হলো- প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা। আরও দুটি স্কিম পরে সুবিধাজনক সময়ে চালু করা হবে।
১৮ বছরের বেশি বয়সী থেকে শুরু করে অনুর্ধ্ব ৫০ বছর বয়সী প্রবাসীরা চাঁদা দিয়ে পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারবেন। যাদের বয়স ৫০ পেরিয়ে গেছে তারাও সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তিনি পেনশন পাবেন টানা ১০ বছর চাঁদা দিয়ে যাওয়ার পর। অর্থাৎ স্কিম অনুযায়ী ব্যক্তির বয়স ৬০ বছর হলেই তিনি সরকার থেকে পেনশন পেতে শুরু করবেন, তাঁকে আর চাঁদা দিতে হবে না। কিন্তু কেউ যদি ৫৫ বছর বয়সে এসে স্কিমে অংশ নেন তাহলে ৬৫ বয়স বয়স থেকে তিনি পেনশন পেতে শুরু করবেন।

স্কিম যেভাবে খোলা যাবে

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধনের জন্য এই ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে ব্যক্তি তার জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল দিয়ে কয়েকটি ধাপে এতে নিবন্ধন করবেন। এসময় ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দরকার হবে। কেউ চাইলে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে নমিনি করতে পারবে।

প্রবাসী বাংলাদেশি, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তাঁরা চাইলে পাসপোর্ট দিয়েও নিবন্ধন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তার কপি জমা দিতে হবে।

মাসিক চাঁদা ছাড়াও কেউ চাইলে তিন মাস পরপর বা বছরে একবার পুরো চাঁদা দিয়ে দিতে পারবে। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে চাঁদা দিতে ব্যর্থ হলে তার পরের এক মাস পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া চাঁদা পরিশোধ করা যাবে। এরপর থেকে প্রতি দিনের জন্য ১% বিলম্ব ফি যুক্ত হবে। কেউ টানা ৩ কিস্তি পরিশোধ না করলে তার অ্যাকাউন্টটি স্থগিত হয়ে যাবে। তবে কেউ যদি নিজেকে অসচ্ছল ঘোষণা করে তাহলে ১২ মাস পর্যন্ত চাঁদা না দিলেও অ্যাকাউন্টটি স্থগিত হবে না।

অনলাইন ও যে কোনো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে চাঁদা পরিশোধ করা যাবে। আপাতত শুধুমাত্র সোনালী ব্যাংকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের হিসাব খোলা হয়েছে। কেউ চাইলে সরাসরি সোনালী ব্যাংকে গিয়েও নিবন্ধন করতে পারবেন ও চাঁদা দিতে পারবেন।

পেনশনে যেমন সুবিধা মিলবে

পেনশনাররা আজীবন অর্থাৎ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তবে কেউ যদি ৭৫ বছর বয়স পূরণ হবার আগেই মারা যান তাহলে তার নমিনি পেনশনারের বয়স ৭৫ হওয়া পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন।
আর যদি পেনশনার ১০ বছর চাঁদা দেবার আগেই মারা যান তাহলে তার জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ তার নমিনিকে ফেরত দেওয়া হবে।

কারো যদি পেনশনে জমাকৃত অর্থ কোনো এক পর্যায়ে উত্তোলনের দরকার হয় তাহলে সেই সুযোগও থাকছে। তাঁর মোট জমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ অর্থ তিনি আবেদনের প্রেক্ষিতে ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন।

পেনশনের জন্য প্রতিমাসে জমা দেওয়া চাঁদা বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে এবং সেই অর্থ কর রেয়াতের জন্য বিবেচিত হবে। আর মাসিক পেনশন বাবদ প্রাপ্ত অর্থ হবে আয়কর মুক্ত।

Online News of BD in Bangla & English

তত্ত্বাবধায়কের দাবি ছাড়ুন নয়তো পাকিস্তান চলে যান: বিএনপিকে কাদের

বিএনপিকে তত্ত্বাবধায়কের দাবি ছেড়ে নির্বাচনের পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। নতুবা দলটির নেতাদের পাকিস্তান চলে যাওয়ার পরামর্শ তার। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ১৭ আগষ্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘প্রতিদিনই এক কথা, এক বুলি তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আমি বিএনপি নেতাদের বলি, পৃথিবীতে এখন একটা দেশ আছে, সেই দেশে তত্ত্বাবধায়ক আছে, আমি ফখরুল সাহেবকে বলি, দলবল নিয়ে পাকিস্তানে চলে যান। সেখানে তত্ত্বাবধায়ক পাবেন। আর দুনিয়ার কোথাও তত্ত্বাবধায়কের হদিস নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনার শিকড় বাংলার মাটির অনেক গভীরে। আল্লাহ যাকে রাখবে বান্দা তাকে মারতে পারে না। শেখ হাসিনার উপর আল্লাহর রহমত আছে।’ 

তারেক রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এক সময় তার বাবা অহংকারে বলত, মানি ইজ নো প্রবলেম। যেমন পিতা, তেমন সন্তান। তার ছেলেও বলে, আন্দোলন করো, টাকার অভাব হবে না। কোথা থেকে আসে এই টাকা? বিএনপি এখনো সন্ত্রাসের রাজনীতি করে। যে জেএমবি সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছে, তাদের বিশ্বস্ত ঠিকানা হচ্ছে বিএনপি।’

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য ৫০০ লোকের একটা মিছিল করতে পারেন নাই। এখন চোখের পানি ফেলছেন। আমির খসরু, মির্জা আজমের চোখমুখ শুকিয়ে গেছে। আজকে অবাক লাগে মির্জা ফখরুল যখন বলে আওয়ামী লীগ নাকি জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করছে৷ দিনের আলোতে সবার চোখের সামনে চক্ষুলজ্জা যাদের নেই, তারা এই কথা বলতে পারে। ফখরুল সাহেব ভুলে গেছেন ইতিহাস? তখন কি আপনার জন্ম হয় নাই?
পুরো বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছেন। রক্তে ভেসে গেছে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি। সে রক্ত কাদের হাতে? সে রক্ত বিএনপির অনুসারীদের হাতে।

সরকারের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে কোথায় থেকে কোথায় নিয়ে গেছেন৷ ১৫ বছর আগের বাংলাদেশ, ১৫ বছর পরের আজকের বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা এই দেশকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে গেছেন।

বিএনপি আন্দোলনের বেলুন আর ফোলাতে পারছে না: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি আন্দোলনের বেলুন আর ফোলাতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এলজিইডি মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম এ সালাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশিরা বিএনপির দাবি করা তত্ত্বাবধায়ক সরকার, তথাকথিত নিরপেক্ষ সরকার, এগুলোর প্রতি কোনো সমর্থন জানায় নাই। সেজন্য বিএনপি আর তাদের আন্দোলনের বেলুন ফোলাতে পারছে না। সেখানে একটু বাতাস ঢোকে, আবার বেরিয়ে যায়-এই হচ্ছে বিএনপি’র দশা।

হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছিল, অর্থাৎ আন্দোলনের বেলুনটা ফুলেছিল। পরদিন আবার ঢাকার প্রবেশমুখ অবরোধ দিয়েছিল। কিন্তু এরপরই দেখা গেল, সেই আন্দোলনের বেলুন ফেটে গেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির কর্মীরাও জেনে গেছে বিদেশিদের পদলেহন করে তাদের কোনো লাভ হয় নাই। বিএনপিও বুঝতে পেরেছে, শেখ হাসিনাকে সরানো তাদের পক্ষে সম্ভবপর নয়। সেজন্য বেলুন ফোলানোর পর আস্তে আস্তে বাতাস কমে যাচ্ছে। ফলে এখন তাদের শুধু লিফলেট বিতরণ আর পদযাত্রা, মানে হাঁটা কর্মসূচি। কয়দিন হাঁটা, কয়দিন বসা, আবার কয়দিন দৌড়ানো কর্মসূচি দিয়ে তারা কর্মীদের চাঙা রাখার চেষ্টা করছে মাত্র।

তারেক রহমান বিএনপিকে তার একটি লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করতে চান উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, তাদের নেতাদের কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিতে চান না। নির্বাচনে গেলে তাদের কোনো সম্ভাবনা নাই। এজন্য নির্বাচন বানচাল করার পথ বেছে নিয়েছে তারা।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্মরণ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পেছনে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, বিদেশি ষড়যন্ত্র ও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক বিরোধীপক্ষও জড়িত ছিল। খুনীরা বলেছিল, তিনি এত জনপ্রিয় মানুষ ছিলেন, মানুষকে এত উজ্জীবিত করতে পারতেন, তাকে হত্যা করা ছাড়া উপায় ছিল না। খুনিদের বিচার হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কুশীলব কারা ছিল, ইতিহাসের স্বার্থে সেটিও উন্মোচিত হওয়া প্রয়োজন।

শেখ হাসিনাকে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমেরিকার আইআরআই-এর জরিপে দেখা গেছে, দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার যে কাজ সেটাকে ৭০ শতাংশ মানুষ সমর্থন করে। এতে অনেকের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এত অপপ্রচার, লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করে মিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার খরচ করে, সপ্তাহে কয়েকদিন বিভিন্ন এম্বেসিতে ধরনা-পদলেহন করেও লাভ হয়নি। জনপ্রিয়তা কমানো যায়নি শেখ হাসিনার। এতে বিএনপির মাথাটা খুব খারাপ হয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পালিতের সঞ্চালনায় সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, সহসভাপতি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, অধ্যাপক মঈনুদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম প্রমুখ সভায় বক্তব্য দেন।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে স্বকর্মে নিয়োজিতরা যেভাবে সুবিধা পাবেন

দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগণকে পেনশনের আওতায় আনার উদ্দেশ্যে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। গত ১৭ আগস্ট এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চাকরি করেন না এমন স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিরা এ স্কিমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। তাঁদের স্কিমের নাম ‘সুরক্ষা’। চার কর্মসূচির অন্য তিনটি স্কিম হলো- প্রবাস, প্রগতি ও সমতা। আরও দুটি স্কিম পরে সুবিধাজনক সময়ে চালু করা হবে।

সরকারি চাকরিজীবী ছাড়া ১৮ বছরের বেশি বয়সী থেকে শুরু করে অনুর্ধ্ব ৫০ বছর বয়সী যে কেউ চাঁদা দিয়ে পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারবেন। যাদের বয়স ৫০ পেরিয়ে গেছে তারাও সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তিনি পেনশন পাবেন টানা ১০ বছর চাঁদা দিয়ে যাওয়ার পর। অর্থাৎ স্কিম অনুযায়ী ব্যক্তির বয়স ৬০ বছর হলেই তিনি সরকার থেকে পেনশন পেতে শুরু করবেন, তাঁকে আর চাঁদা দিতে হবে না। কিন্তু কেউ যদি ৫৫ বছর বয়সে এসে স্কিমে অংশ নেন তাহলে ৬৫ বয়স বয়স থেকে তিনি পেনশন পেতে শুরু করবেন।

স্বকর্মে নিয়োজিতদের পেনশন স্কিম কি সুবিধা দেবে

চাকরি করে না এমন স্বকর্মে নিয়োজিত স্বনির্ভর ব্যক্তির জন্য সুরক্ষা স্কিম। অর্থাৎ কেউ কোথাও চাকরি করছেন না কিন্তু নিজে উপার্জন করতে পারেন, তারা সুরক্ষা স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার, কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতিসহ সব ধরনের অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিরা এ স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। এই স্কিমে চাঁদার হার চার রকম- মাসে এক হাজার, দুই হাজার, তিন হাজার ও পাঁচ হাজার টাকা করে। সুরক্ষা স্কিমে ৪২ বছর ধরে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা দিয়ে ৬০ বছর বয়স থেকে মাসে ৩৪ হাজার ৪৬৫ টাকা করে পেনশন পাওয়া যাবে। একই মেয়াদে ২ হাজার টাকা করে চাঁদা দিলে ৬০ বছর বয়স থেকে প্রতি মাসে ৬৮ হাজার ৯৩১ টাকার পেনশন পাওয়া যাবে। প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা চাঁদা দিলে আজীবন মাসিক ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ টাকা এবং প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দিলে আজীবন মাসিক ১ লাখ ৭২ হাজার ৩২৭ টাকা করে পেনশন পাবেন। এভাবে ১৫, ২০, ২৫, ৩০, ৩৫ ও ৪০ বছর মেয়াদে চাঁদা দিয়ে বিভিন্ন পরিমাণে পেনশন সুবিধা নেওয়া যাবে।

এ বিষয়ে স্থপতি তানজীম হাসান সেলিম বলেন, উন্নত বিশ্বে নাগরিকদের জন্য পেনশন স্কিম রয়েছে। আমাদের দেশে সরকারি চাকরিজীবীদের বাইরে নানা শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অবশ্যই বড় সুখবর। এটা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হলে সবাই উপকৃত হবে।

সাঈদীর জানাজায় ছেলে মাসুদ সাঈদীকে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

পিরোজপুর প্রতিনিধি : মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ও পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে দাফন করা হয়েছে। বড় ছেলের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। এদিকে সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ সাঈদীকে পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তার নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত সাঈদী ফাউন্ডেশনে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে বড় ছেলে মাওলানা রফিক বিন সাঈদীর পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে সাঈদী ফাউন্ডেশনের মাঠে হাজার হাজার ভক্ত-অনুসারীদের উপস্থিতিতে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মজিবর রহমান জানাজায় ইমামতি করেন।

জানাজার আগে এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মজিবর রহমান বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়। আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে।

এ সময় তিনি উপস্থিত জনতার সামনে আগামী সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ সাঈদীকে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা করেন এবং সবার ভোট প্রার্থনা করেন।

মাসুদ বিন সাঈদী বলেন, রোববার তার পিতা অসুস্থ হলেও তাদের জানানো হয় পিজি হাসপাতালে ভর্তির পর। তারপরও সোমবার সারা দিন অনেক অনুরোধ করার পরও কর্তৃপক্ষ তাদের পরিবারের কাউকেই তাদের পিতাকে দেখতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জানাজায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি (ভারপ্রাপ্ত) এটিএম মাসুম, ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাজিউর রহমান পলাশ, সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার সভাপতি-সম্পাদকরা।

২০০৬ সালে পিরোজপুর-১ আসন থেকে জামায়াত এবং ২০০১ সালে পুনরায় চার দলীয় ঐক্যজোট থেকে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সোমবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যু হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ২৯ জুন রাজধানীর শাহীনবাগের বাসা থেকে গ্রেফতার হন সাঈদী। পরে ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা


অনলাইন ডেস্ক : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় হেলিকপ্টারযোগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান তিনি।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শেখ হাসিনা টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করবেন। ওই কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, গোপালগঞ্জ জেলা ও টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারাও অংশ নেবেন।

এর আগে ভোর সাড়ে ৬টায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। সে সময় বিউগলে করুন সুর বাজানো হয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত চৌকস দল জাতির পিতাকে গার্ড অব অনার দেয়। সেসময় ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাতও করা হয়।

পরে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সকাল ৭টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ই আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানেও ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল হয়।

গায়ের রং নিয়ে কটাক্ষের শিকার শাহরুখ কন্যা সুহানা খান

অনলাইন ডেস্ক ::: বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের মেয়ে সুহানা খানের এখনো কোনো ছবি মুক্তি পায়নি। তবুও মাঝে মধ্যে বেশ আলোচনায় এসেছেন সুহানা খান। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক এক প্রসাধনী সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন সুহানা।

এতে প্রথম সাফল্যের স্বাদ পেলেন তিনি। তবে প্রথম কাজেই সমালোচনার মুখে সুহানা। এখানেই শেষ নয়। লোকে আবার সুহানার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী অঙ্কিতা লোখন্ডেকে।

সম্প্রতি সুহানাকে ওই আন্তর্জাতিক প্রসাধনী সংস্থার লিপস্টিকের বিজ্ঞাপনে দেখা মাত্রই ধেয়ে এসেছে কটাক্ষ। ঠোঁটে লাল রং, গায়ের রং যেন ফেটে পড়ছে সুহানার। পোস্টারে দেখা যাচ্ছে, চিৎকার করার ভঙ্গি করছেন শাহরুখ-কন্যা। তার গায়ের রঙে এমন বদল দেখে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কেউ লিখেছেন, সুহানা খান আসলে কালার কারেক্টেড প্রো ম্যাক্স।

কেউ লিখেছেন, ‘ওকে অঙ্কিতা লোখান্ডের মতো দেখতে লাগছে।’ কেউ কেউ প্রায় গর্জে উঠে লেখেন, ‘অনায়াসেই সুহানার নিজস্ব স্কিন টোন ব্যবহার করা যেত। অন্য কোনো শেডের লিপস্টিক পরানো যেত তাকে। কোনো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কাছ থেকে তো এমনটাই আশা করা উচিত, তাই না?’ কেউ লিখেছেন, ‘সুহানার মুখে প্যানকেক মেকআপ ব্যবহার করে ওর আসল রংটা নষ্ট করার কোনো দরকার ছিল কি?’ কারও সোজাসাপটা প্রশ্ন, ‘তার গায়ের রং ফর্সা করার কী দরকার

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকালের সেরা বাঙালি: কাদের

অনলাইন ডেস্ক ::: সর্বকালের সেরা বাঙালি আমাদের আদর্শ পিতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অমর স্মৃতি অবনত চিত্তে স্মরণ করছি আজকের এই ১৫ আগস্টে। এই রক্তাক্ত বিদায় বাংলাদেশকে অনেক পেছনে ঠেলে দিয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় শোক দিবসে ধানমন্ডি ৩২ এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা যারা আজকে বিএনপির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে স্বাধীনতাকে আরেক বার আঘাত করার জন্য, মুক্তিযুদ্ধকে আঘাত করার জন্য। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আজকে লড়াই পরিচালনা করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তি ঐক্যবদ্ধ হবো, এদের প্রতিহত করবো, পরাজিত করবো।

তিনি আরও বলেন, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে ৫০ বছর অর্জন ও উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর এ হত্যাকাণ্ড সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনার ওপর চরম আঘাত। সেদিন শুধু বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে বঙ্গমাতা এবং পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়নি, সেদিন তারা হত্যা করেছিল বাংলাদেশের মহান গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধকে।

কাদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল তাদের টার্গেট। আমাদের রণধ্বনি জয় বাংলা, স্বাধীনতার আদর্শ ছিল তাদের টার্গেট। সেটা পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কারাগারের অভ্যন্তরে জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড এবং সবশেষ ২১ আগস্টে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে প্রাইম টার্গেট করে যে হামলা পরিচালিত হয়-সবই আসলে একই সূত্রে গাথা, একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশ আজও ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি পায়নি। বঙ্গবন্ধুকে যদি না হারাতাম তাহলে এতদিনে বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে সারাবিশ্বে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত হতো। কিন্তু বঙ্গবন্ধু আমাদের যে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, যে উত্তরাধিকার দিয়েছেন এই জনপদে কোনদিনও তার মৃত্যু হবে না। এরপর বঙ্গবন্ধুর সৌভাগ্যক্রমে যে অসমাপ্ত কাজ, বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ সৃষ্টির নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অসীম সাহসী কাণ্ডারী হিসেবে আমাদের দেশকে উন্নয়নে-অর্জনে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের শত্রু, স্বাধীনতার শত্রুরা, মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা। এখনও ষড়যন্ত্র চলছে। চক্রান্ত চলছে। এখনও এ বাংলার মাটিতে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি আমাদের অর্জন-উন্নয়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করছে। কাজেই আজকে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের আমাদের সবাইকে এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী, স্বাধীনতার মূল্যবোধবিরোধী যে শক্তি এরা আমাদের স্বাধীনতার সপক্ষের সবার অভিন্ন শত্রু।

সাঈদীর গায়েবানা জানাজা শেষে সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ১

অনলাইন ডেস্ক ::: মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজার পর কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। জানাজায় অংশ নেওয়া লোকজনের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওসি, ইউএনও, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, এসিল্যান্ডসহ অন্য সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি। সহিংসতার একপর্যায়ে করা গুলিতে নিহত হয়েছেন একজন। এসময় দুই থানার ওসিসহ ২০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চকরিয়ার চিরিঙ্গা পুরাতন জামে মসজিদে এলাকা ও পেকুয়ার বারবাকিয়া বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহমুদ ও পেকুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ওমর হায়দার এ তথ্য জানিয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যদের পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গুলিতে নিহত ফোরকানুল ইসলাম (৬০) চকরিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল বারিপাড়ার বাসিন্দা। তিনি চিরিঙ্গা রাস্তার মাথা এলাকায় চায়ের দোকান চালাতেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাতে মারা যাওয়া সাঈদীর গায়েবানা জানাজা মঙ্গলবার বিকেলে পড়ার ঘোষণা দিয়েছিল কক্সবাজার জেলা জামায়াত। সেই সূত্র ধরে চকরিয়া পাইলট স্কুল মাঠে জানাজা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জেলা জামায়াত তাদের সিদ্ধান্ত পাল্টে মসজিদে ওয়াক্তিয়া নামাজ শেষে শুধু দোয়া করার সিদ্ধান্তের কথা প্রচার করে দুপুরে। এরপরও চকরিয়া পাইলট স্কুল মাঠে জামায়াত ও সাঈদীর অনুসারীরা বিকেল ৩টার দিকে জড়ো হতে থাকেন। সেখান থেকে তারা চিরিঙ্গা পুরাতন জামে মসজিদে এসে দোয়ায় শরিক হন।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা মসজিদ থেকে বের হন। এসময় সদ্য বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় সিকলঘাট এলাকায় ত্রাণ দিয়ে নিজ নিজ গাড়িতে ফিরছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), চকরিয়া থানার ওসি, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তাদের গাড়ি লামার চিরিঙ্গা এলাকায় পৌঁছামাত্র গায়েবানা দোয়া থেকে ফেরা লোকজনের সামনে পড়ে। কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা প্রশাসনের গাড়িতে হামলা শুরু করেন। ইউএনওর গাড়ি দ্রুত চালিয়ে আক্রান্ত হওয়া থেকে পার পেলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ওসির গাড়ি ভাঙচুরের কবলে পড়ে। এসময় গুলিতে একজন নিহত হন।

চকরিয়া থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ বলেন, অকস্মাৎ দুর্বৃত্তরা আমাদের গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। হামলায় আমিসহ পাঁচজন আহত হয়েছি। চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুলিশভ্যান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শোভন দত্তকে বহন করা গাড়ি। ঘটনাস্থল থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে পেকুয়ার বারবাকিয়া বাজার এলাকায় গায়েবানা জানাজা শেষে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ওসিসহ আহত হয়েছেন ১৫ পুলিশ সদস্য। হামলাকারীদের ইট-পাটকেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউএনও এবং সহকারী কমিশনারের (এসিল্যান্ড) গাড়ি।

হামলায় আহতরা হলেন, পেকুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ওমর হায়দার, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম, অমর চদ্র বিশ্বাস, মফিজুল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. জসিম উদ্দিন, কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রদীপ কুমার দে, মো. সবুর মিয়া, রবি উল্লাহ, ইমরান হোসেন, রামকৃষ্ণ দাশ, তৌহিদুল ইসলাম, রিপন মিয়া, রিয়াজুল ইসলাম। পেকুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ওমর হায়দার বলেন, বারবাকিয়া বাজারে সাঈদীর গায়েবানা জানাজা পড়া হয়। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাজারে টহলে ছিল পুলিশের একটি টিম। নামাজ শেষে লোকজন অকস্মাৎ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। এসময় আমাদের ওপরও হামলা করা হয়। এতে আমিসহ ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছি। খবর পেয়ে ইউএনও, এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে গেলে তাদের গাড়িতেও ইট-পাটকেল মারা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পেকুয়ার ইউএনও পূর্বিতা চাকমা বলেন, গায়েবানা জানাজা শেষে লোকজন পুলিশের গাড়িতে হামলা করেছে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই আমরা। এসময় কে বা কারা আমাদের গাড়িতেও ইট-পাটকেল মেরেছে। আমার গাড়ির পেছনের লাইটে আঘাত লেগেছে। এসিল্যান্ডের গাড়িতে একটু বেশি ক্ষতি হয়েছে জেনেছি। অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, অসাধু লোকজন হামলায় কিশোর বা শিশুদের ব্যবহার করেছে।