শীঘ্রই ৮৫৩৪ জন নার্স নেবে সরকার ।

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন
(বিপিএসসি) এর মাধ্যমে ৮৫৩৪ জন নার্স নেবে সরকার। চলমান করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে সরকারি হাসপাতালে সেবা বাড়াতে আরও নার্স নিতে চায় সরকার। তবে এ জন্য কম সময়ে আলাদা বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) বিদ্যমান নার্স নিয়োগে প্রাথমিক বাছাই করা প্রার্থীদের মধ্য থেকেই এসব নার্স নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পিএসসি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বছরের ১ মার্চে ২৫০০ জন সিনিয়র ষ্টাফ নার্স পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল সরকার। করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সেই বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করা প্রার্থীদের মধ্য থেকে চার হাজার নার্স নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। করোনা পরিস্থিতি আরও নাজুক হলে সরকার সম্প্রতি আরও বেশি নার্স নেওয়ার তাগিদ দেয়। এরই অংশ হিসেবে সরকার পিএসসিকে এই আবেদনকৃত প্রার্থীদের মধ্য থেকে ৮ হাজার ৫৩৪ জন নার্স নিয়োগের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে। গতকাল বুধবার সেই চাহিদাপত্র পিএসসিতে এসেছে।

পিএসসি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘নার্স ও চিকিৎসক নিয়োগে সরকারের বিশেষ তাগিদ রয়েছে। এ জন্য আমরা এটিকে সবোর্চ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। সরকার যতজন নার্স নিয়োগ করতে চাইবে, পিএসসির কাছে যদি সে পরিমাণ যোগ্য প্রার্থী থাকে, তাহলে নিয়োগ দিতে কোনো সমস্যা নেই।গতমাসে ২৫০০ জন সিনিয়র ষ্টাফ নার্স পদে নিয়োগের জন্য ১৫০০০ এর অধিক নার্স লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ফলাফলের জন্য অপেক্ষায় আছেন। ধারণা করা হচ্ছে তাদের থেকেই নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন ৮৫৩৪ জন নার্স।

বিয়ের ছয় মাসের মাথায় বাবা হলেন হাবিব

বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন খবর দিলেন হাবিব। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি হঠাৎই তৃতীয় বিয়ের খবর দিয়েছিলেন জনপ্রিয় এ সংগীতশিল্পী। পাত্রীর নাম আফসানা চৌধুরী, ডাকনাম শিফা। এদিকে বিয়ের মাত্র ছ’মাসের মাথায় গত কাল (৭ জুলাই) পুত্র সন্তানের বাবা হয়েছেন তিনি।জানা গেছে, ৭ জুলাই সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে এই দম্পতির কোলজুড়ে আসে পুত্র সন্তান। হাবিব তার ছেলের নাম ‌রেখেছেন আয়াত। আর খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে হাবিব ওয়াহিদের পরিবার।উল্লেখ্য, হাবিবের বর্তমান স্ত্রী শিফাও শোবিজের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। কাজ করেন মডেল হিসেবে। হাবিব ২০০৩ সালে প্রথম বিয়ে করেন লুবায়না নামের একজনকে। প্রেমের সেই বিয়ের সংসারে মনের অমিলের কারণে বিচ্ছেদ ঘটে অল্প সময়ের ব্যবধানে।এরপর ২০১১ সালের ১২ অক্টোবর পারিবারিক পছন্দে হাবিব বিয়ে করেন চট্টগ্রামের মেয়ে রেহানকে। সে সংসারও ভেঙে যায় ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি।

ঢাকায় একদিনে ৩৬ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

সারাদেশে তাণ্ডব চালানো করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা সামলে না উঠেতেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন ৩৬ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের সবাই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারে দায়িত্বরত স্বাস্থ্য তথ্য ইউনিটের (এমআইএস) সহকারী পরিচালক ডা. মােহাম্মদ কামরুল কিবরিয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৩৬ জনের মধ্যে ৫ জন সরকারি হাসপাতাল এবং বাকি ৩১ জন বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা দুই জন ঢাকা শিশু হাসপাতাল এবং তিনজন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৫১ জন রোগী। তাদের মধ্যে রাজধানী ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি ৪১টি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৪৯ জন। আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন দুই জন।

এতে বলা হয়, চলতি বছর মোট ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়া ৬০১ জনের মধ্যে কেবল জুলাই মাসের ৮ জুলাই পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ২৩০ জন।এর আগে বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতর রাজধানীতে একদিনে নতুন করে ২৪ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের খবর জানিয়েছিল। আজ নতুন করে আরও ৩৬ জনের ডেঙ্গুতে আক্রান্তের খবর জানানো হয়। দেশে করোনার এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এভাবে বাড়লে সংক্রমণ পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অধিদফতরের মুখপাত্র ডা. নাজমুল ইসলাম।

ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, দেশে এখন করোনার দিকে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ডেঙ্গুকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। বৃষ্টিতে পানি জমে থাকছে। এ কারণে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা কিছুটা বাড়ছে। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, এডিসের লার্ভা বেশি পাওয়া যায় নির্মাণাধীন ভবনের জমে থাকা পানি, প্লাস্টিকের ড্রাম, বালতি, পানির ট্যাংক, বাড়ি করার জন্য নির্মিত গর্ত, টব, বোতল ও লিফটের গর্তে। আর এই প্রকোপে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শনাক্ত হয়েছেন ৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৯ জন, মার্চে ১৩ জন, এপ্রিলে তিন জন, মে মাসে ৪৩ জন, আর জুন মাসে ২৭১ জন ।

লকডাউনে বাইরে বের হওয়ায় রাজধানীতে আরও সহস্রাধিক গ্রেফতার

সারাদেশে তাণ্ডব চালানো করোনাভাইরাস রোধে সরকারঘোষিত বিধিনিষেধ ‍উপেক্ষা করে বাইরে বের হওয়ায় লকডাউনের সপ্তম দিনে এক হাজার ৭৭ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পাশাপাশি ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ৩১৮ জনকে জরিমানা করা হয়েছে ১৬০০৭৯০ টাকা।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম। এছাড়া ট্রাফিক বিভাগ ৯৩৭টি গাড়িকে ২১ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে।

অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বলেন, করোনার উদ্বেগজনক বিস্তার ঠেকাতে সরকারঘোষিত চলমান বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে আজ সপ্তম দিনেও রাজধানীজুড়েই সক্রিয় ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীতে সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে অকারণে ও নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হওয়ায় এসব ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও জরিমানা করা হয়।

বিনা প্রয়োজনে কেউ বাইরে বের হবেন না: আইজিপি

করোনা পরিস্থিতে বিনা প্রয়োজনে সকলকে ঘরের বাইরে বের না হতে অনুরোধ জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা ক‌ঠিন বাস্তবতার মধ্য দি‌য়ে যা‌চ্ছি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হবেন না।

তিনি আরও বলেন, জরুরি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হতে হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করবেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। কোনো জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ রাস্তায় নামবেন না।বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মাঝে খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, মানু‌ষের জীবন এবং জীবিকা দুটিই যেন সচল থাকে এজন্য অহর্নিশ কাজ করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষকেও অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে হবে।

করোনাকালে সবাইকে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা শহরে প্রায় ৪০ লাখ পরিবার বসবাস করে। প্রত্যেক পরিবার থেকে যদি এক প্লেট করেও খাবার দেয়া হয় তাহলে ৪০ লাখ মানুষ খাবার পা‌বে। ক‌রোনা পরিস্থি‌তি‌তে অসহায় মানুষগুলো আমাদেরই কমিউনিটির অংশ। তা‌দের‌কে সা‌থে নি‌য়েই বাঁচ‌তে হ‌বে। তাই এই সংকটকালে সবাইকে অসহাদের প্রতি আরও মানবিক হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

যতদিন মহামারি থাকবে মানুষের পাশে থাকবে যুবলীগ : আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল

যতদিন এই মহামারি থাকবে ততদিন যুবলীগ মানুষের পাশে থেকে সেবা করে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

বুধবার (৭ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশের নির্দেশে করোনায় সংকটকালীন সময়ে অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশের নির্দেশে আমরা সারাদেশে ৬০ লাখ লোকের মাঝে খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। আমরা স্বাস্থ্যসেবা, টেলিমেডিসিন সেবা, অক্সিজেন সেবা দিয়ে যাচ্ছি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বর্ষার এই মৌসুমে আমরা বৃক্ষরোপণ করছি। যতদিন শেখ হাসিনার হাতে এই দেশ থাকবে, ততদিন এই দেশের একটি মানুষও অনাহারে থাকবে না। নেত্রীর সুদৃঢ় নেতৃত্বের বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছয় নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী আগামী ১৪ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন এখানে এক হাজার লোকের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এড. মামুনুর রশীদ, দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, তথ্য ও যোগাযোগ (আইটি) সম্পাদক মো. শামছুল আলম অনিক, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন পাভেল, উপ-ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য এড. শওকত হায়াত, ইঞ্জিনিয়ার মো. মুক্তার হোসেন চৌধুরী কামাল, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেনসহ কেন্দ্রীয় মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।

আমার ১০ কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ি নেই : পরীমনি

ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আবাসন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ছয়জনের নামে মামলা করার পর থেকেই আলোচনায় রয়েছেন ঢাকাই সিনেমার নায়িকা পরীমনি। আজ বুধবার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সমালোচনাকারীদের জবাব দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরীমনি লেখেন, ‘আজ এসব নিয়েও লিখতে হচ্ছে, ভাবতে কষ্ট হচ্ছে সত্যি। যখন বড় বড় সম্মানিত শিল্পীরাও পিছে রটানো গসিপ নিয়ে আমার দিকে আঙুল তুলতেও ছাড়লেন না আজ! একবার একটু জেনে নিতেই পারতেন চাইলে। যাইহোক, এসব এর একটু পরিত্রাণ দরকার এবার।‘

ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন জানিয়ে পরীমনি লেখেন, ‘আমার একটি মাত্র হ্যারিয়ার গাড়ি। যেটি ব্যাংক লোনে চলছে। আমি একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে থাকি। আমি আমার আয়ের হিসেব সরকারের কাছে অবশ্যই প্রদান করি। আমি নিয়মিত একজন করদাতা।‘পরীমনি আরও লেখেন, ‘আমার কোনো ১০ কোটি টাকার বাড়ি বা ৫/৪/৩ কোটি (যেমন টা আপনারা বানালেন আরকি) টাকার গাড়িও নেই। আপনারা দোয়া করবেন, আমাকে নিয়ে আপনাদের এই মহান উচ্চ আশা পূরণ করব ইনশাআল্লাহ। মিথ্যা বা গুজব ছড়ানোর জন্য আপনারা কতটুকু জয়ী হলেন, ভেবে দেখবেন প্লিজ।’

১/১১’র ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে : বিএনপি

দেশে ১/১১’র ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। রাজনৈতিক দলটির নেতারা বলছেন, দেশে গণতন্ত্র ও বিএনপি’র নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আর ষড়যন্ত্র হবে এবং তা মোকাবিলা করতে হবে। আজ শুক্রবার বিকেলে ‘মুক্তিযুদ্ধকালে পাক হানাদারবাহিনী কর্তৃক খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানের বন্দি দিবস’ শীর্ষক একটি অনলাইন আলোচনায় এ কথা বলেন দলটির নেতারা। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন ও তার ছেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলে কোনো কোনো সমস্যা নেই বলেও মন্তব্য করেন তারা।

১৯৭১ সালে ২ জুলাই সন্তানসহ বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানী ঢাকার একটি বাসা থেকে পাকিস্তানী বাহিনী গ্রেপ্তার করে, বিজয় দিবসে তিনি মুক্ত হন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটি কমিটির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরোচনায় বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকট আব্দুস সালাম।

সভায় বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশকে যদি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই, স্বাধীনতার স্বপ্ন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পুরণ করতে চাই, শহীদ জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ যদি বাস্তবায়ন করতে চাই এবং দেশের মানুষের অধিকার যদি ফিরিয়ে আনতে চাই আন্দোলন, আন্দোলন, আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নাই। তরুণদেরকে বলব, সামনে এগিয়ে আসুন। আর সময় নেই। এখন জেগে উঠতে হবে। জেগে উঠতে হবে এবং দেশকে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। এই আন্দোলন সংগ্রাম কোনো ব্যক্তির জন্য নয়, এই আন্দোলন এই সংগ্রাম কোনো দলের জন্য নয়। এই আন্দোলন দেশের মানুষের জন্য, জাতির জন্যে।’

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যেখানে ব্যর্থ জিয়াউর রহমান সেখানে সফল। যার কারণে ষড়যন্ত্র হয় জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি শাহাদাত বরণ করেন, ষড়যন্ত্রকারীরা মনে করেছিল বিএনপি শূন্য হয়ে যাবে। জিয়াউর রহমানের উত্তরসুরী খালেদা জিয়া দুর্দিনে বিএনপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন এবং দলকে সবচেয়ে জনপ্রিয় দলে পরিণত করেছেন। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তাদের দুই জনের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানকে নিয়ে ভয়। এ জন্য তারা একের পর এক ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করছে।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় বেগম খালেদা জিয়া পাকিস্তানের হাতে বন্দী ছিলেন, এখন তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে বন্দী। ১/১১’য় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চলে যাওয়ার জন্য বারবার প্রলুব্ধ করা হয়েছে। কিন্তু দেশের মাটি ও মানুষকে ছেড়ে তিনি যাননি। ২০০৮ সালে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ওয়ান ইলেভেনে ১৩টি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল- তা মেনে নিলে ম্যাডামকে মুক্ত ও বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানো হবে। প্রতিটি প্রস্তাবই ছিল দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে, স্বাধীনতা ও সার্বোভৌমত্বের বিরুদ্ধে যার কারণে তা মেনে নেননি। হ্যাঁ, একটা জায়গায় সমঝোতা করতে হয়েছিল, তা ছাড়া তোমাদের জীবিত বের করতে পারতাম না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকে থামাতে ১৯৭১ সালে ২ জুলাই বেগম খালেদা জিয়াকে দুই শিশু সন্তানসহ (তারেক ও কোকো) আটক করা হয়েছিল। তেমনি ওয়ান ইলেভেন সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে থামাতে দুই সন্তানসহ (তারেক ও কোকো) তাকে আটক করা হয়েছিল। এর আগে দরকষাকষি হয়েছিল। তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া অথবা ম্যাডামকে বিদেশে চলে যেতে হবে, নেত্রীর মুখে শুনেছি। ওইদিন আমাদের নেতা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছিলেন, আমি কোনো অন্যায় করিনি, কেন আমাকে বিদেশ যেতে হবে? আমার যদি কোনো অন্যায় থাকে বিচার করুক। বিচার তো করতে পারলো না, তারা নির্যাতন করল।’
সেদিনও খালেদা জিয়া মাতৃত্ব নয়, দেশ ও দেশের মানুষে বেছে নিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। গণতন্ত্র ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র আমাদের সামনে আরও আছে। আমরা এখনো নেত্রীকে মুক্ত করতে পারলাম না।’
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ও প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে ইঙ্গিত করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কিছু সুধীজন আমাদের মাঝে মাঝে কিছু উপদেশ দিয়ে থাকেন। আমাদের নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলতে থাকেন। তাদেরকে সবিনয়ে বলব, এই কথাগুলো প্রকারন্তরে ফ্যাসিবাদকে উৎসাহীত করে। যারা ক্ষমতায় আছে তাদের ক্ষমতায় থাকার পথকে প্রসস্থ করে। আমাদের নেতৃত্ব নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না। সমস্যা দেশে গণতন্ত্র নেই, আইনের শাসন নেই। আমাদের নেতৃত্ব পদে পদে পরীক্ষিত এবং পরীক্ষায় তারা উত্তীর্ণ।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের নেতৃত্ব যারা দেন তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরণের ষড়যন্ত্র হবে, অপপ্রচার চালানো হবে, আমরা যেন কোনোভাবে বিভ্রান্ত না হই। সেদিকে কান না দিয়ে আমাদের কৌশল আমরাই নির্ণয় করি। এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার ক্ষেত্রে বর্তমান নেতৃত্বকে তার পাশে থেকে সাহসী করি এবং আমরা যেন আমাদের কাজটি সততার সাথে করি। এই সরকার সম্ভবত পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকবে না। সেক্ষেত্রে সরকার আরেকটি পাতানো নির্বাচন করতে পারে। এই সময়ে আমাদের ওপর চাপ আসতে পারে। সেই চাপে যদি আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নত না হয়, আমাদের নেতা তারেক রহমান নত না হয়, আপোসহীন নেত্রীর কর্মী হিসেবে আমাদের ক্লান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপোসহীন থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে পারি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

কারাগারে বসে জুমে মিটিং করেন ডেসটিনির রফিকুল

ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রফিকুল আমীন কারা অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, কারাবন্দিদের মাঝে-মধ্যেই মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু হাসপাতালে বসে রীতিমতো ইন্টারনেট ব্যবহার করে জুম মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার বিষয়টিতে কারা কর্তৃপক্ষ বিব্রত হয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মোমিন দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এরপর কারা অধিদফতর থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা বিভাগীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শক তৌহিদুল ইসলামকে। এছাড়া সদস্য সচিব হিসেবে নারায়ণগঞ্জের জেলার শাহ রফিকুল ইসলাম ও সদস্য হিসেবে মুন্সীগঞ্জের জেল সুপার নুরনবী ভুঁইয়া রয়েছেন। কমিটিকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
কারা সূত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে যেসব কারারক্ষী পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করতেন, তাদের মধ্যে ১৭ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা প্রশাসন। বাকি ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।যারা সাময়িক বরখাস্ত:প্রধান কারারক্ষী নম্বর- ১১৫৫১- ইউনুস আলী মোল্লা, প্রধান কারারক্ষী নম্বর-১১৪৭৪- মীর বদিউজ্জামান, প্রধান কারারক্ষী নম্বর-১১৪৪৮- আব্দুস সালাম, প্রধান কারারক্ষী নম্বর- ১১৫২৪- আনোয়ার হোসেন।যাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা সহ-প্রধান কারারক্ষী নম্বর- ১২০১৮- জসিম উদ্দিন, সহ-প্রধান কারারক্ষী নম্বর-১২০০১- সাইদুল হক খান, সহ-প্রধান কারারক্ষী নম্বর-১১৬১৬- বিল্লাল হোসেন, সহ-প্রধান কারারক্ষী নম্বর-১১৯৭৫- ইব্রাহিম খলিল, সহ-প্রধান কারারক্ষী নম্বর-১১৯৮৭- বরকত উল্লাহ, সহ-প্রধান কারারক্ষী নম্বর-১২১২১- এনামুল হক, সহ-প্রধান কারারক্ষী নম্বর-১১৬৩২- সরোয়ার হোসেন, কারারক্ষী নম্বর-১২৫৩৬- মোজাম্মেল হক, কারারক্ষী নম্বর-১৪৯৭৪- জাহিদুল ইসলাম, কারারক্ষী নম্বর-২২১৫৯- আমির হোসেন, কারারক্ষী নম্বর-১২৩৮২- কামরুল ইসলাম, কারারক্ষী নম্বর-১৫০৩৫- শাকিল মিয়া, নবীন কারারক্ষী- আব্দুল আলীম। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক সুভাষ কুমার ঘোষ বলেছেন, যাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে তারা সবাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) দায়িত্বরত ছিলেন।

মৃত মায়ের বুকে শিশুর দুগ্ধপানের চেষ্টার ছবি ভাইরাল

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নয় মাসের কন্যাশিশু রেখে মারা গেছেন ঘরনী সুমী বেগম। হাসপাতাল শয্যায় মৃত মায়ের বুকে দুধ পানের চেষ্টা করছে শিশুটি।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন ছবি অনেকেই শেয়ার করছেন। মন্তব্য করে অনেকে সমবেদনা জানাচ্ছেন, কেউ কেউ হাসপাতালের চিকিৎসক সেবিকাদের অবহেলার অভিযোগ এনে দোষারোপ করছেন। তবে হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি ওই নারীর যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।৩০ জুন (বুধবার) তীব্র পেটব্যথা নিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন ২৫ বছর বয়সী সুমি বেগম। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি মারা যান। সুমি বেগম কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের মন্নান মিয়ার মেয়ে।মৃত নারীর ভাই পারভেজ মিয়া জানান, সুমির স্বামীর বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের সরকারবাজার এলাকায়। সপ্তাহখানেক আগে তিনি বাবার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। এরমধ্যে পেটব্যথার সমস্যা নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পারভেজ মিয়া অভিযোগ করেন হাসপাতালের খামখেয়ালির। তিনি বলেন, চিকিৎসক সেবিকারা রোগীকে গুরুত্ব দেননি। এখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকলে তারা রোগীকে উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দিতে পারতেন। তা না করায় তিনি মারাই গেলেন।এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এম মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি অবগত হবার পর আমি ওই রোগীর ফাইল তলব করে দেখেছি। চিকিৎসায় কোনো অসঙ্গতি মনে হয়নি। তারপর বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখবো। হাসপাতালের কারো গাফিলতির প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেবো।