মানবতার সেবার আরেক নাম আবুল কালাম আজাদ

গত ১৮ জানুয়ারী’২০২২ ইং ভোলা জেলার দৌলতখাঁন উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বিল্লাল হোসেনের ৫ বছরের শিশু সন্তান মো: রনি অটো রিক্সা দ্বারা গুরুতর দূর্ঘটনার স্বীকার হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আজ দুপুর ২.৩০ মিনিটে ভোলা ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, ঢাকা (বিডিএফ) এর পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার খোজ খবর নিতে বিডিএফ এর আহবায়ক মাহবুবুর রহমান হিরন ও সদস্য সচিব হাওলাদার হাসপাতালে যান। নেতৃবৃন্দ রোগীর সার্বিক খোজখবর নেন এবং আর্থিক সহযোগিতা করেন। বর্তমানে রোগী আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন। সবাই শিশুটির আশু সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।বিডিএফ এর আহবায়ক মাহবুবুর রহমান হিরন শিশুটির লেখা-পড়ার দায়িত্ব গ্রহন করেন।

শিক্ষা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে স্বাধীনতা শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন নিন্দা

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি’র বিরুদ্ধে একটি মহলের ষড়যন্ত্র ও কাল্পনিক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশের সর্বশ্রেণীর শিক্ষক কর্মচারীদের বৃহৎ জোট ‘স্বাধীনতা শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন’। শুক্রবার বিকালে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও স্বাধীনতা শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু। সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মোনতাজ উদ্দিন মর্তুজা,সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নুর হোসেন,বাংলাদেশ বেসরকারি কারিগরি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মোকসেদুর রহমান, স্বাধীনতা মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি আবু নাইম মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,যুগ্ম- সম্পাদক অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান,প্রধান শিক্ষক পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন,বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি’র সভাপতি কামরুজ্জামান মাসুদ,সাধারণ সম্পাদক এ কে এম ওবায়দুল্লাহ,বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন অর রশিদ,স্বাধীনতা স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম ফরায়েজি, স্বাধীনতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি এম আরজু, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, স্বাধীনতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মচারী পরিষদের সভাপতি শাহজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ,স্বাশিপ কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি প্রফেসর সাজিদুল ইসলাম,যুগ্ম-সম্পাদক সাইদুর রহমান পান্না, উপাধ্যক্ষ হরিচাঁদ মন্ডল সুমন,অধ্যক্ষ সলিম উল্লাহ সেলিম ও দপ্তর সম্পাদক ইকবাল হোসে প্রমুখ।
সভায় চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি’র বিরুদ্ধে একটি বিশেষ মহলের মনগড়া কাল্পনিক বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাধীনতা শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের জাতীয় নেতৃবৃন্দ। সভায় বক্তারা বলেন,সফল রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছেন। বক্তারা বলেন, অতিমারি করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছে শিক্ষা খাত। যে মুহূর্তে শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি চরম বিপর্যস্ত এই শিক্ষাকে একটি শক্ত ভিতের উপর দাড় করানোর জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সে মুহূর্তে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ক্রয়ের সাথে শিক্ষা মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের কোনরূপ সম্পৃক্ততা না থাকা সত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্ত ছড়িয়ে শুধু শিক্ষা মন্ত্রীই নন প্রকারন্তে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। সভায় বক্তারা এহেন মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানান এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ সহ শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে একটি টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি যে লড়াই করে যাচ্ছেন সেই লড়াইয়ে স্বাধীনতা শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন সর্বদা তাঁর পাশে থেকে সফল রাষ্ট্র নায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আমার পরিবারের কেউ কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয়: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত জায়গায় নিজ পরিবারের কারো জমি নেই বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানী হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন।

চাঁদপুরে সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের আগেই সেখানকার সাড়ে ৬২ একর জমি মৌজা দরের চেয়ে ২০ গুণ বেশি দাম দেখিয়ে দলিল করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের কাছ থেকে ৩৫৯ কোটি টাকা বাড়তি নেওয়ার এ কারসাজিতে জড়িত ব্যক্তিরা শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ঘনিষ্ঠ ও তার নিকটাত্মীয়ও রয়েছেন।

এ বিষয়ে কথা বলতেই সংবাদ সম্মেলন ডাকেন মন্ত্রী।

দীপু মনি বলেন, ‘চাঁদপুরে আমার ক্রয়সূত্রে কোনো জমি নেই। পৈত্রিক সূত্রে থাকতে পারে। আমার কাছে যা তথ্য প্রমাণ আছে, তা থেকে বলতে পারি আমার বড় ভাই অধিগ্রহণের আগেই বিক্রি করে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই জায়গায় আমার বা পরিবারের কারো জমি নেই। রাজনৈতিক কোনো সহকর্মীর জমি থাকতে পারে।’

কারসাজিতে জড়িতদের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর নিকটাত্মীয়- গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরকে উদ্দেশ্যমূলক বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের কেউ কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তবে অন্য কেউ দুর্নীতি করেছে কিনা- তা তদন্ত করে দেখা উচিত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ঢাকা ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিশতিয়াকের ডেঙ্গুতে মৃত্যু

ঢাকা ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি নিশতিয়াক আহমেদ রাখি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর গ্রিন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাখির মৃত্যু হয়। নিশতিয়াক আহমেদ রাখি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও মাদার বখ্‌শ হলের সাবেক এজিএস। সর্বশেষ তিনি ঢাকা ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিশতিয়াক আহমেদ রাখির মৃত্যুতে বিএনপি নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।

পরীমনি ইস্যুতে সিটি ব্যাংকের জিডি

সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এসেছে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে সাড়ে ৩ কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দেওয়া ব্যক্তি সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাশরুর আরেফিন। এ ঘটনায় ডিএমপির গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব মিথ্যা-বানোয়াট তথ্য প্রচারের মাধ্যমে একটি চক্র সিটি ব্যাংক থেকে চাঁদাবাজির পাঁয়তারা করছে।

মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জিডিতে ব্যাংকের হেড অব কোর্ট অপারেশন গাজী এম শওকত হাসান লিখেছেন, সিটি ব্যাংক অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছে। সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন অভিনেত্রীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দি সিটি ব্যাংক লিমিটেডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জড়িত বলে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করে। এ তথ্যকে পুঁজি করে সমাজের কিছু স্বার্থান্বেষী, প্রতারক ও চাঁদাবাজ বিভিন্নভাবে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নাজেহাল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে অথবা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

জিডিতে আরও বলা হয়, এরূপ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিবর্গ এবং একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টায় এবং ব্যাংক হতে অবৈধ পন্থায় অর্থ লাভের আশায় বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করছে এবং ভবিষ্যতে করতে পারে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে।

এছাড়াও বর্তমানে এসব নিউজের কারণে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, মানসিক উদ্বিগ্নতায় ভুগছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিডিতে বলা হয়, এসব তথ্য ছড়ানোর কারণে চাঁদাবাজির উদ্দেশে সাধারণ জনগণের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে আশঙ্কা থাকে বিধায় এরূপ চাঁদাবাজ-প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করাসহ তাদের আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

ফরমান আর চৌধুরী আবারও আল-আরাফাহ ব্যাংকের এমডি হচ্ছেন

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং সিইও হিসেবে ফরমান আর চৌধুরীকে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৮ আগস্ট) ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, আগামী ১ অক্টোবর থেকে আগামী ৪ বছরের জন্য তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ফরমান আর চৌধুরী ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর থেকে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে তিনি শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের এমডি এবং সিইও হিসেবে ৫ বছর এবং ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ৬ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।

ফরমান আর চৌধুরী আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে ১৯৮৬ সালে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন এবং ওই ব্যাংকে দীর্ঘ ১২ বছর বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যাংকিং অপারেশন বিশেষ করে ক্রেডিট এবং মার্কেটিং কার্যক্রমে তার রয়েছে অপার অভিজ্ঞতা। তিনি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বহু প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংকিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং দেশে ও বিদেশে অনুষ্ঠিত ব্যাংকিং এবং আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ কেরানীগঞ্জবাসী

রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের জনজীবন মশার উপদ্রবে বিপর্যস্ত। মশা নেই এমন জায়গা কেরানীগঞ্জে খুঁজে পাওয়া কঠিন। মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের মধ্যে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকনগুনিয়া উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও মশাবাহিত জিকা ভাইরাসের কারণে গর্ভের সন্তানের মস্তিষ্ক অপরিপক্ক এবং শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে আকারে ছোট হয়। বাংলাদেশে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে অনেক আগেই। মশার উপদ্রব বৃদ্ধি সহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন মশা নিধনের কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কেরানীগঞ্জের স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেরানীগঞ্জের কদমতলী, জিনজিরা, চুনকুটিয়া, ডাকপাড়া, আগানগর, কালীগঞ্জ সহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মশার উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। লকডাউনের কারণে সবকিছু বন্ধ থাকায় সবাই নিজ বাড়িতে অবস্থান করলেও মশার উপদ্রবে শান্তিতে ঘরে থাকতে পারছেন না কেউ। দিনের বেলাতেও মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে প্রায় প্রতিটি ঘরে। আর সন্ধ্যা হলেই মশার জ্বালায় ঘরে থাকা দায়। এ সময় দেখা যায়, দিনের বেলায় বেশ কিছু বাড়ির ঘরে কেউ কেউ মশারি টানিয়েছেন, কেউ আবার জ্বালিয়ে রেখেছেন মশার কয়েল।

ডাকপাড়া এলাকার বাসিন্দা খাদিজা বেগম বলেন, মশাবাহিত রোগের ভয়ে সন্তানদের নিয়ে বেশ চিন্তায় আছি। গেলো বছর আমার এক আত্মীয়ের ৮ বছরের মেয়ে ডেংগু রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে। সেই ভয়ে দিনের বেলায় মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখছি। কিন্তু তাতেও তেমন কাজ হচ্ছে না। আমজাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, লকডাউনের কারণে সবকিছু বন্ধ। সারাদিন বাড়িতেই থাকতে হচ্ছে। কিন্ত মশার উপদ্রবে বাড়িতে থাকাটা রিতীমত অসহনীয় হয়ে উঠছে।সারাদিন মশারীর ভেতরে বসে থাকা অসম্ভব। তাই বাধ্য হয়ে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখছি। কিন্তু মশার কয়েলে মশা কিছুটা কমলেও এর ধোঁয়ায় চোখ জ্বালাপোড়া সহ নিঃস্বাস নিতে কষ্ট হয়।
এ বিষয়ে সমাধান পেতে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সচেতন মহল বলছেন, বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাটের আশেপাশে অপরিস্কার রাখা সহ যত্রতত্র ময়লার ভাগাড়ের কারণে দিন দিন মশা বাড়ছে। তাই যতদ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে নিজেদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরী।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, মশার কামড়ে মানুষ ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া সহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। সকালে অথবা সন্ধ্যার দিকে মশা বেশি কামড়ায়। এজন্য সকলের সচেতন থাকা প্রয়োজন।এ বিষয় কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, করোনাভাইরাসের পাশাপশি মশা বিস্তার রোধে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কাজ চলছে। শীঘ্রই প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মশার বিস্তার রোধে সাধারণ মানুষকে সচেতনতার পাশাপাশি নালা, র্নদমা, ড্রেন ও বাড়ির আশেপাশে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন ওষুধ ছিটানো হবে।

কোভিড-১৯ আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসার অক্সিজেনের অপচয়ে বাড়ছে সংকট

কোভিড-১৯ আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসার অন্যতম অনুষঙ্গ অক্সিজেন। মহামারির ভয়ংকর পরিস্থিতিতে উপাদানটি আমদানি করেও চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে দিনে অপচয় হচ্ছে প্রায় ২৫ টন। এছাড়া ঘাটতি আছে ১৫ টন। সব মিলে প্রয়োজনের চেয়ে ৪০ টন কম অক্সিজেন নিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে হাসপাতালগুলোকে।

বর্তমানে দেশে মোট অক্সিজেনের চাহিদা আছে ২৪৫ টন। দেশে মেডিকেল গ্রেড অক্সিজেন প্রতিষ্ঠান দুটি, যাদের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩৫ টন। এতে দৈনিক ঘাটতির পরিমাণ ১১০ টন। দেশের দুটি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ৯৫ টন আমদানি করছে। এরপরও ঘাটতি থেকে যায় দৈনিক ১৫ টন। নানাবিধ কারণে প্রায় ১০ শতাংশ অক্সিজেন অপচয় হয়। সে হিসাবে দৈনিক প্রায় ২৫ টন অক্সিজেনে নষ্ট হচ্ছে। ফলে মুমূর্ষু রোগী সামাল দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এসব তথ্য দেশের অক্সিজেন গ্রহণ ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর বাইরেও হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলায় ব্যবহৃত অক্সিজেনের অর্ধেক অপচয় হয়ে থাকে। যা অক্সিজেন উৎপাদন বণ্টন বা অপচয়ের হিসাবে যুক্ত করা হয় না। পাশাপাশি মেডিকেল গ্রেড অক্সিজেন সরবরাহকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করোনা মহামারিকালে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি ও রিফিল করছে তারও কোনো হিসাব নেই সরকারের হাতে। এদিকে কোভিড আতঙ্কে শহরে বসবাসকারী অনেক মানুষ বাসা-বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে মজুত করে রাখছেন। একটি ছোট সিলিন্ডারে ১.৩ লিটার এবং মাঝারি সিলিন্ডারে ৬.৭ লিটার অক্সিজেন মজুত রাখা যায়। তবে সুযোগ বুঝে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী সিলিন্ডারের দাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা রাখছে। এসব সিলিন্ডার রিফিল করতে দেড়শ থেকে ৫শ টাকা রাখা হয়। ক্ষেত্র বিশেষ দ্বিগুণ-তিনগুণ দাম রাখা হয়। এ সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কারখানায় ব্যবহৃত অক্সিজেন সরবরাহ করছেন। রোগীর অসহায় স্বজনরা এ ধরনের ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। তারা অধিকাংশ সময় দামাদামি না করে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনে বাড়ি যাচ্ছেন। রাজধানী ঢাকা থেকে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিদিনই অক্সিজেনের ঘাটতি নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, কোভিড রোগী বাড়লে অক্সিজেন দ্রুত ফুরিয়ে আসে। সিলিন্ডার রিফিল করতে প্রথমে জেলায় পাঠানো হয়, সেখান থেকে ঢাকা বা চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। এতে রিফিল করে ফিরে আসতে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লেগে যায়।

দেশের এমন পরিস্থিতিতে ভারত থেকে সপ্তাহে দুইশ টন অক্সিজেন আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে লিন্ডে ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে লিন্ডে বাংলাদেশ দুইশ টন অক্সিজেন পেয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অক্সিজেনের সংকট কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে স্বাভাবিক সময়ে ৬০-৭০ টন অক্সিজেন প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে ২৭০ টন অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে। এ ঘাটতি মেটাতে আমদানির পাশাপাশি অক্সিজেন জেনারেটর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগস্টের মধ্যে দেশের ৪০টি হাসপাতালে একটি করে অক্সিজেন জেনারেটর স্থাপন করা হবে। তখন আমাদের কোনো সংকট থাকবে না।

হাসপাতালগুলো অক্সিজেনের চাহিদা মেটাতে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে সম্প্রতি স্বাস্থ অধিদপ্তরে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় লিন্ডে বাংলাদেশের প্রতিনিধি জানান, বর্তমানে দেশে ৫৯টি হাসপাতালে তাদের ভিআইই (ভ্যাকুয়াম ইনসুলেটেড এভাপরেটর) ট্যাংক রয়েছে। চাহিদার পরিমাণ প্রতিদিন ১৫০ টন। লিন্ডের প্রতিদিনের নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতা ৯০ টন। আমদানি ও স্থানীয় পর্যায়ে সংগ্রহের মাধ্যমে দিনে আরও ৪৫ টনের জোগান রয়েছে। তারপরেও প্রতিদিন ১৫ টন অক্সিজেন ঘাটতি থেকে যায়। লিন্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ সময়ে আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হবে না।

স্পেক্ট্রা প্রতিনিধি জানান, বর্তমানে ৩৯টি হাসপাতালে তাদের ভিআইই ট্যাংক রয়েছে। চাহিদার পরিমাণ প্রতিদিন ৯৫ টন। নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতা প্রতিদিন ৪৫ টন। আমদানির মাধ্যম সরবরাহ প্রতিদিন ৫০ টন। তবে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হবে না।

এ দুই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেনের পাইপলাইন পুরোনো। এতে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় মাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সমস্যা যেমন সরবরাহ লাইনে লিকেজ, ফ্লো-মিটার বন্ধ না করা ইত্যাদি কারণে ১০ শতাংশ অপচয় হয়। এছাড়া সেন্ট্রাল অক্সিজেন এবং হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা অতি ব্যবহারে আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) ও এইচডিইউতে (হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে বলেও তারা জানায়। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক পরিচালক যুগান্তরকে বলেন, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহে ক্যানোলা ব্যবহার করা হয়। এতে কোনো মাস্ক ব্যবহার করা হয় না। এতে যে ফ্লোতে অক্সিজেন নিগর্ত হয় রোগী সেই ফ্লোতে গ্রহণ করতে পারে না। এক্ষেত্রে বড় অংশ অপচয় হয়। এ অপচয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে বাইপ্যাপ বা সিপ্যাপ ব্যবহারে এ পরিমাণ অক্সিজেন অপচয় রোধ করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা ইন্টারন্যাশনাল প্রতি লিটার অক্সিজেনের দাম নেয় ৪৪ টাকা ৫০ পয়সা। প্রতি হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ করতে তারা নেয় ১৫ হাজার ৫২৫ টাকা। এছাড়া সেন্ট্রাল অক্সিজেন ট্যাংকের ভাড়া বাবদ নেয় আরও ২৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ কোনো হাসপাতালের সেন্ট্রাল ট্যাংকের ধারণ ক্ষমতা যদি ১০ হাজার টন হয়, তাহলে সেটি একবার ভরতে ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকার অক্সিজেন দরকার। এরসঙ্গে যোগ হবে সরবরাহ ব্যয় ১৫ হাজার ৫২৫ টাকা এবং এক মাসের ট্যাংক ভাড়া ২৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ১০ হাজার টন অক্সিজেনের দাম পড়ছে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ টাকা। অর্থাৎ সব খরচসহ এক লিটার অক্সিজেনের দাম পড়ছে ৪৮ টাকা ৫৫ পয়সা। অন্যদিকে লিন্ডে বাংলাদেশ প্রতি লিটার অক্সিজেনের দাম নেয় ৪৪ টাকা ৮৫ পয়সা। প্রতি হাসপাতালে ডেলিভারি সরবরাহ চার্জ নেয় ২০১২ টাকা। হাসপাতালে স্থাপিত সেন্ট্রাল স্টোরেজ ট্যাংকের ভাড়া নেয় ১৪ হাজার ৩৭৫ টাকা এবং তরল অক্সিজেন মেনিফোল্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের জন্য নেয় ১০ হাজার ৯২৫ টাকা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে লিন্ডে বাংলাদেশ স্থাপিত সেন্ট্রাল অক্সিজেন ট্যাংক রয়েছে ৫৯টি হাসপাতালে এবং স্পেক্ট্রা ইন্টারন্যাশাল স্থাপিত সেন্ট্রাল অক্সিজেন ট্যাংক রয়েছে ৩৯টি হাসপাতালে। এছাড়া সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে ২৪ হাজার ২০৫টি। হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ১৬৩০টা এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ১৬৩২টি। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলম বলেন, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে দুবার ভারত থেকে ৪০০ টন অক্সিজেন আনা যাবে। এ হিসাবে মাসে ১৬০০ টন দেশে আসবে। তখন আর অক্সিজেনের সংকট থাকবে না।
বিশেষজ্ঞরা জানান, অক্সিজেন জেনারেটর হাসপাতালে স্থাপন করা হলে ট্যাংকে সংরক্ষণের জন্য কারও ওপর নির্ভর করতে হবে না বা আমদানির প্রয়োজন পড়বে না। একটি অক্সিজেন জেনারেটর মেশিনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার লিটার অক্সিজেন উৎপাদন করা সম্ভব। তবে সমস্যা হলো, এটি পরিচালনার মতো জনবল হাসপাতালগুলোতে নেই। এক্ষেত্রে দক্ষ জনবল নিয়োগ ছাড়া এসব মেশিন স্থাপন করেও কোনো ফল পাওয়া যাবে না।

লক্ষ্মীপুরে লকডাউন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা, প্রাইভেট কারে দূরপাল্লার যাত্রীপারাপার

চলমান কঠোর লকডাউন এর এই সময়ে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও লক্ষ্মীপুরে থেমে নেই দূরপাল্লার যাত্রীপারাপার। প্রশাসনের নজরদারি ফাাঁকি দিয়ে প্রতিদিন লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকা অভিমুখে চলছে এসব যাত্রীপারাপার। স্থানীয় রেন্ট-এ কার ব্যাবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস এ করে অতিরিক্তি ভাড়া আদায় করে যাত্রীদের পার করছেন। এক্ষেত্রে লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকা জনপ্রতি ১ হাজার থেকে ১৫’শ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। প্রতিটি গাড়ীতে নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত গাদাগাদি করে যাত্রী বোঝাই করা হয়। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় যাত্রীদের নিজেদের ভেতেরেই করোনা সংক্রমনের আশংকা থেকে যায়। লক্ষ্মীপুর শহরের বাস টার্মিনাল, উত্তর স্টেশন সহ কয়েকটি স্থান থেকে এসব গাড়ী যাত্রা করে।

সরেজমিনে সোমবার(২৭জুলাই) বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের মূল ফটকের ভেতরে ঢকামুখী একাধিক যাত্রী অপেক্ষমান। যাত্রীবাহি বাস সারি সারি পার্কিং অবস্থায়। এসব বাস লকডাউনে বন্ধ রয়েছে। তবে স্টেশনের ভেতরে বাসের ফাঁকে ফাঁকে প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস পার্কিংকরে রাখা হয়েছে। এগুলো করেই নিষধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যাত্রীপারাপার করা হয়। অপেক্ষমান যাত্রীদের কাছে ওই গাড়ীগুলোর দালালরা এসে দরদাম করে ভাড়ায় মিললে তারপর তাদেরকে দুই নাম্বার গেইটের দিকে নিয়ে একটি প্রাইভেটকার অথবা মাইক্রোবাসে ্উঠানো হয়। সেখান থেকেই চুপিসারে ঢাকার দিকে রওয়ানা করা হয়।
এদিন ওইখানে অপেক্ষমান কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা বললে তারা জানায়, দালালের সাথে দরদাম চলছে। একজন জানায়,তিনি ফেরী করে মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে ভোলা থেকে লক্ষ্মীপুর আসেন। গন্তব্য তার ঢাকার সায়েদাবাদ। লক্ষ্মীপুর থেকে ওই স্থান পর্যন্ত তার কাছে ১২’শ টাকা চাওয়া হয়েছে।
আরেকজন নারী যাত্রী জানান, তিনি ঢাকার সাইনবোর্ড এলাকায় যাবেন। তার কাছে ১৫’শ টাকা ভাড়া চাওয়া হয়েছে। এসব যাত্রীরা কিছু কম ভাড়া দিয়ে যাওয়ার জন্য রাজি করানোর চেষ্টায় অপেক্ষমান আছেন।

এই প্রতিবেদক অপেক্ষমান যাত্রীদের সাথে কথা বলতে বলতে ১৫-২০ মিনিটের ভেরে সেখানে একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেট কার এসে হাজির হয়। বলতে না বলতে কারটি যাত্রী ও মালামালে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এসময় ওই কারের চালকের সাথে কথা হয়। আকাশ নামের চালকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, লকডাউনে দূরপাল্লার যত্রী পারাপার এ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সে কিভাবে যাত্রীপারাপার করছে। উত্তরে চালক জানায়, “ পেটের ক্ষিধা তো আর লকডাউন মানতে চায়না।” সড়কে পুলিশী বাধার মুখে পড়লে যাত্রী কিভাবে পৌঁছাবে। জানতে চাইলে চালক ফের জানায় , ফাঁকফোঁকর দিয়ে টেনে চলে যাওয়া যাবে। ভাড়ায় চালত তার ওই গাড়িটি স্থানীয় মিলন নামের একজনের মালিকানার।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কঠোর লকডাউনের নিষিদ্ধ এই সময় দূরপাল্লা যাত্রীপারাপার এ সকল ব্যাবস্থা করে দেয়। এরা বিচ্ছিন্নভাবে যাত্রীরসাথে দরদাম করে যাত্রী ঠিক করে। পর্যাপ্ত যাত্রী হলে পরে তারা নির্দিষ্ট গাড়ীকে লাইনে আনে। গাড়ী এসেই দ্রুত যাত্রীদের উঠিয়ে মহুর্তেই ষ্টেশন পার হয়।
জাবেদ হোসেন নামের একজন এ সিন্ডিকেটের মূল হোতা। তিনি যমুনা সার্ভিস এর চালক। এছাড়া তার সহযোগী হিসেবে রয়েছেন সবুজ,মিলন, মোরশেদ,ফারুক,জাহাঙ্গির প্রমুখ।

জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক মো.আনোয়ার হোছাইন আকন্দ মুঠোফোনে জানান, গোপনে যাত্রী পারাপারের এ বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তথাপি বিষয়টিকে আমলে নিয়ে এখনই সেখানে অভিযান করা হবে। তিনি আরও জানান, লকডাউন বাস্তবায়নে লক্ষ্মীপুরে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান ও জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুরে মৎস্য খামারীকে অর্থদন্ড

লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করায় মো. সাইফ উদ্দিন (৩৩) এবং গফুর মাঝি (৫৫) নামে দুই জনকে ৮০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অর্থদন্ডপ্রাপ্ত সাইফ উদ্দিন বালু উত্তোলন করা জমিটির মালিক ও মৎস্য খামারী এবং গফুর মাঝি ড্রেজার মেশিনের মালিক।

রোববার (২৫ জুলাই) বিকেলে তাদেরকে আটক করে উপজেলা কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম। এরআগে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের মিয়ারবেড়ী এলাকায় সাইফ উদ্দিনের খামারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ড্রেজার মেশিন জব্দ না করা হলেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে বালু সঞ্চালন পাইপ গুলো কেটে দেয়া হয়।

জানা গেছে, সাইফ উদ্দিন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের বড় আউলিয়া গ্রামের মরহুম এবিএম সিদ্দিক উল্লাহর ছেলে। তিনি প্রায় ৪ বছর আগে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের সদস্য হন। এরপর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের মিয়ারবেড়ী এলাকার পৈত্রিক সম্পত্তিতে একটি মৎস্য খামার শুরু করেন। গত বছর শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকটে মাছ মরে যাওয়ায় লোকসান গুণতে হয় এই খামারিকে।

খামারী সাইফ উদ্দিন বলেন, লোকসানের কারণে আমি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে গেছি। আগামীতে যেন পানি সংকটে লোকসানের সম্মুখীন না হতে হয়, তাই আমার খামারে পুকুর খনন করতে একটি ড্রেজার মেশিন বসাই। কিন্তু মেশিনটি বন্ধ থাকলেও স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ভুল তথ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আমাকে জরিমানা করেন। ফলে করোনার এই সংকটকালীন সময়ে আমি চরম ক্ষতির সম্মুখীন হলাম।

সাইফ উদ্দিন আরও বলেন, ভবানীগঞ্জের মিয়ারবেড়ী এলাকার ভূমিদস্যু মমিন মেস্তুরি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বেশ কয়েকদিন ধরে আমার খামারের জমিটি দখল করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এখন ড্রেজার মেশিন বসানোকে কেন্দ্র করে তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়কে ভুল তথ্য দেয় এবং তিনি আসার আগেই ড্রেজার মেশিন ও পাইপ গুলো ভাঙচুর করেছে।

এদিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুম জানান, ড্রেজার মেশিনটি অভিযানের সময় বন্ধ থাকলেও রাতে চালানো হয়েছিল। তাই বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুইজনকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন বন্ধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।