রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বুয়েট

0
1005
রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বুয়েট
ছাত্রদলের কমিটির ঘোষণার বিষয়ে আইন অমান্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বুয়েট।

অনুমোদিত ক্লাব ছাড়া যে কোন ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, শনিবার পুনরায় বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট।

বুয়েট আইন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘বুয়েটে ছাত্রদলের কমিটি গঠনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কমিটির সদস্যদের তালিকা সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। আবরার হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘এর পরও যদি কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালায় তবে তাই আইনবিরোধী কাজ বলে বিবেচিত হবে। আমরা জানতে পেরেছি, নতুন কমিটির কারো কারো ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে। তবে যারা এখনো নিয়মিত ছাত্রছাত্রী, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন বলেছেন, ‘আবরার হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ছাত্রলীগ। অথচ ক্যাম্পাসে তাদের কার্যক্রম হরহামেশাই চলছে। কিন্তু সাধারণ ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলার কার্যক্রম বুয়েটে চলছে না। তাই সাধারণ ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলতেই আমাদের এ কমিটি। আমরা কখনোই ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে নই।’

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসিফ হোসেন রচিকে আহ্বায়ক এবং আলী আহমদকে সদস্য সচিব করে বুয়েট শাখা ছাত্রদলের ৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়।

ফেসবুকে দেয়া একটি স্ট্যাটাসের জের ধরে গত বছরের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। সেখানে নির্যাতনের পর ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দুইতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই ঘটনার পর উত্তাল হয়ে ওঠে বুয়েটে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ও ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।

টানা পাঁচ দিন ধরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ১১ অক্টোবর বুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়। সেদিন বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বুয়েটে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বলেছিলেন, ‘আমার নিজ ক্ষমতায় বুয়েটের সব রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি। এখন থেকে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

যদিও অন্য সব ছাত্র সংগঠন বুয়েট প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা না করে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম তখনই তুলে নিয়েছিল।

আপনার মন্তব্য জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here