ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোট ২১৮টি আসনে বিজয় অর্জন করেছে, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ জোট ৭৩টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থী ৮টি আসনে সফল হয়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে জামায়াতে ইসলামী দলের অসাধারণ নির্বাচন অভিযান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারা এই নির্বাচনে “অসম্ভবকে সম্ভব” করেছেন। দলটি অব্যাহত পরিশ্রম, প্রচুর অর্থ ব্যয় এবং নৈতিক ও অনৈতিক নানা পদ্ধতির সমন্বয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি বিএনপি এবং অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা জামায়াতে ইসলামী দলের মত পরিশ্রমী এবং উদ্যোগী হত, তাহলে এই নির্বাচনেই তারা ২৫০ আসনের বেশি জয়ী হতে পারতেন। কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি, যা বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দুর্বলতা ও অপর্যাপ্ত প্রস্তুতির প্রতিফলন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, দেশের রাজনীতির মূল নীতি হওয়া উচিত ন্যায়পরায়ণতা, সমন্বয় এবং সর্বজনীন কল্যাণে অঙ্গীকার। তবে বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, আদর্শের আড়ালে হিংসা, বিদ্বেষ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রাধান্য বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিবিদরা যদি সচেতন না হন, তাহলে এই মনোভাব দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের সেবা, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন।”
বিশেষজ্ঞ সুফি সামস্ বলেন, দেশের রাজনীতির মূল নীতিকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন রাজনৈতিক নেতাদের আন্তরিক প্রতিশ্রুতি এবং কর্মীদের মানসিকতার পরিবর্তন। তিনি যোগ করেছেন, ন্যায্য ও দায়িত্বশীল রাজনীতিই বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি হতে পারে।
নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করলো, রাজনৈতিক দল ও নেতাদের পরিশ্রম, সততা এবং ন্যায্য প্রক্রিয়া ছাড়া জয়ী হওয়া সহজ নয়। এটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।















