মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ কেরানীগঞ্জবাসী

0
1186

রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের জনজীবন মশার উপদ্রবে বিপর্যস্ত। মশা নেই এমন জায়গা কেরানীগঞ্জে খুঁজে পাওয়া কঠিন। মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের মধ্যে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকনগুনিয়া উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও মশাবাহিত জিকা ভাইরাসের কারণে গর্ভের সন্তানের মস্তিষ্ক অপরিপক্ক এবং শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে আকারে ছোট হয়। বাংলাদেশে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে অনেক আগেই। মশার উপদ্রব বৃদ্ধি সহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন মশা নিধনের কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কেরানীগঞ্জের স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেরানীগঞ্জের কদমতলী, জিনজিরা, চুনকুটিয়া, ডাকপাড়া, আগানগর, কালীগঞ্জ সহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মশার উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। লকডাউনের কারণে সবকিছু বন্ধ থাকায় সবাই নিজ বাড়িতে অবস্থান করলেও মশার উপদ্রবে শান্তিতে ঘরে থাকতে পারছেন না কেউ। দিনের বেলাতেও মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে প্রায় প্রতিটি ঘরে। আর সন্ধ্যা হলেই মশার জ্বালায় ঘরে থাকা দায়। এ সময় দেখা যায়, দিনের বেলায় বেশ কিছু বাড়ির ঘরে কেউ কেউ মশারি টানিয়েছেন, কেউ আবার জ্বালিয়ে রেখেছেন মশার কয়েল।

ডাকপাড়া এলাকার বাসিন্দা খাদিজা বেগম বলেন, মশাবাহিত রোগের ভয়ে সন্তানদের নিয়ে বেশ চিন্তায় আছি। গেলো বছর আমার এক আত্মীয়ের ৮ বছরের মেয়ে ডেংগু রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে। সেই ভয়ে দিনের বেলায় মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখছি। কিন্তু তাতেও তেমন কাজ হচ্ছে না। আমজাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, লকডাউনের কারণে সবকিছু বন্ধ। সারাদিন বাড়িতেই থাকতে হচ্ছে। কিন্ত মশার উপদ্রবে বাড়িতে থাকাটা রিতীমত অসহনীয় হয়ে উঠছে।সারাদিন মশারীর ভেতরে বসে থাকা অসম্ভব। তাই বাধ্য হয়ে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখছি। কিন্তু মশার কয়েলে মশা কিছুটা কমলেও এর ধোঁয়ায় চোখ জ্বালাপোড়া সহ নিঃস্বাস নিতে কষ্ট হয়।
এ বিষয়ে সমাধান পেতে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সচেতন মহল বলছেন, বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাটের আশেপাশে অপরিস্কার রাখা সহ যত্রতত্র ময়লার ভাগাড়ের কারণে দিন দিন মশা বাড়ছে। তাই যতদ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে নিজেদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরী।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, মশার কামড়ে মানুষ ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া সহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। সকালে অথবা সন্ধ্যার দিকে মশা বেশি কামড়ায়। এজন্য সকলের সচেতন থাকা প্রয়োজন।এ বিষয় কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, করোনাভাইরাসের পাশাপশি মশা বিস্তার রোধে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কাজ চলছে। শীঘ্রই প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মশার বিস্তার রোধে সাধারণ মানুষকে সচেতনতার পাশাপাশি নালা, র্নদমা, ড্রেন ও বাড়ির আশেপাশে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন ওষুধ ছিটানো হবে।

আপনার মন্তব্য জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here